ঢাকা, বুধবার, ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ১৮ মাঘ ১৪২৯

রাতের পর দিন আসে, শ্রমবাজারে সুদিন আসবে শিগগিরই

২০২০ সেপ্টেম্বর ১০ ২১:১৯:০৩
রাতের পর দিন আসে, শ্রমবাজারে সুদিন আসবে শিগগিরই

"করোনা ভাইরাস মহামারী ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার কারণে বিশ্বব্যাপী শ্রমবাজার হুমকির মুখে। অন্যতম কর্মী প্রেরণকারী দেশ হিসেবে বাংলাদেশের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ দেখা দিয়েছে।" এমন টা জানিয়েছেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী ইমরান আহমেদ।

“এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ একটি চ্যালেঞ্জ। তার পরও আমরা আশাবাদী। আমরা জানি রাতের পর দিন আসে এবং ওই দিনটা খুব শিগগিরই আসবে।” জাতীয় সংসদে গতকাল বুধবার কার্যপ্রণালী বিধির ৩০০ বিধিতে বিবৃতি প্রদানকালে মন্ত্রী এ কথা বলেন।

ইমরান আহমদ বলেন, শ্রমবাজার নিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে নানা ধরনের সংবাদ পরিবেশন হওয়ায় এ সম্পর্কিত বিভ্রান্তি দূর করতে এবং শ্রমবাজারের সর্বশেষ তথ্য তুলে ধরতেই এ বিবৃতি।

“আমরা দক্ষ শ্রমশক্তি প্রস্তুত রাখতে নানামুখী পদক্ষেপ নিয়েছি। যাতে অর্থনৈতিক মন্দা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এবং বাজার খোলার সঙ্গে সঙ্গে ওদের বিদেশে পাঠাতে পারি। এ লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি। যদি কোভিড-১৯ পরবর্তী বাজারের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ দক্ষ জনশক্তি তৈরি করতে পারি, তা হলে আমাদের বৈদেশিক প্রবাসী আয় প্রবাহ অব্যাহত থাকবে।”

শ্রমবাজারের সর্বশেষ পরিসংখ্যান তুলে ধরে বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী বলেন, বিগত বছরগুলোর হিসাব অনুযায়ী বাংলাদেশ থেকে প্রায় প্রতি মাসে ৬০ হাজার কর্মী বিদেশে গেছে। ২০১৯ সালের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত বিদেশ গেছে ৪ লাখ ৬০ হাজার কর্মী।

“কিন্তু ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত মাত্র ১ লাখ ৭০ হাজার কর্মী বিদেশ যেতে পেরেছে। এর মধ্যে এপ্রিল থেকে আগস্ট পর্যন্ত কোনো কর্মী যেতে পারেনি বললেই চলে। অন্যদিকে করোনার কারণে বিভিন্ন দেশের অভিবাসন সেক্টরের টাকা অনিয়মিত হওয়ায় নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর কারণে আমাদের কর্মীদের একটি ক্ষুদ্র অংশ দেশে ফিরে এসেছে।”

প্রবাসীকল্যাণ ডেস্কের তথ্যানুযায়ী, গত ১ এপ্রিল থেকে ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১ লাখ ১১ হাজার ১১১ প্রবাসীকর্মী দেশে ফেরত এসেছে। তাদের অনেকে কাজের মেয়াদ শেষে বা কাজ না থাকায় দেশে ফেরত আসেন। যদিও আশঙ্কা করা হয়েছিল অর্থনৈতিক মন্দা এবং করোনার প্রভাবে প্রধানকর্মী নিয়োগকারী দেশগুলোর শ্রমবাজার বিপর্যস্ত হবে, যার কারণে অনেক বিদেশিকর্মী বেকার হয়ে পড়বেন। আশার কথা এই যে, এখন পর্যন্ত ফেরত আসা কর্মীর সংখ্যা আশঙ্কাজনক হয়ে ওঠেনি। এ ক্ষেত্রে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিদেশে মিশন ও দূতাবাসে একযোগে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করায় তা সামাল দেওয়া গেছে।

করোনাকালে প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের কর্মকা- তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন- যেসব কর্মী ফেরত এসেছেন বা আসবেন, তাদের অর্থনৈতিকভাবে পুনর্বাসন এবং পুনঃকর্মসংস্থানের প্রয়োজনী উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। করোনা সংকট মোকাবিলায় প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের জন্য ১৩ কোটি টাকা জরুরি ত্রাণ ও আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। তা ছাড়া বিপদগ্রস্ত কর্মীদের দেশে আনা এবং বিদেশফেরত কর্মীদের পুনর্বাসনের জন্য এবং সময়পযোগী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত কর্মীদের অথবা মৃতদের পরিবারকে নিজ জেলা থেকে প্রবাসীকল্যাণ ব্যাংকের মাধ্যমে সহজ শর্তে মাত্র ৪ শতাংশ সরল সুদে ৫ বছর মেয়াদি ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ দেওয়া হচ্ছে। বিদেশফেরত কর্মীদের ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী আরও ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছেন। এ ছাড়া তাদের সামগ্রিক কল্যাণ ও বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় ৪২৫ কোটি টাকার প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের হার তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, অর্থনীতির অন্যতম চালিকা শক্তি রাজস্ব। ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে রেমিট্যান্স ছিল ১৬ দশমিক ৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। আর ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে ১৮ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার, যা বিগত বছরের তুলনায় ১১ শতাংশ বেশি। তবে ২০২০-২০২১ অর্থবছরের জুলাই-আগস্টে রেমিট্যান্স এসেছে ৪ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন ডলার। গত অর্থবছরের তুলনায় যা ১ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার বেশি। রেমিট্যান্স পাঠানোর ওপর ২ শতাংশ প্রণোদনা দেওয়ায় এ প্রবাহ বৃদ্ধি পেয়েছে।

পাঠকের মতামত:

প্রবাসী এর সর্বশেষ খবর

প্রবাসী - এর সব খবর



রে