ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২৬ মাঘ ১৪২৯

নিজের চেনা ছন্দে ফিরেছেন কাটার মাস্টার ফিজ

২০২২ ডিসেম্বর ০৫ ১৭:৫৯:০৭
নিজের চেনা ছন্দে ফিরেছেন কাটার মাস্টার ফিজ

আলমের খান: ভারতের বিপক্ষে দুর্দান্ত এক জয় দিয়ে ওয়ানডে সিরিজ শুরু করেছে টাইগাররা। প্রথম ওয়ানডেতে বেশ কিছু দুর্দান্ত পারফর্মারদের দেখা মিলেছে। সাকিব আল হাসানের ৫ উইকেট এবং ব্যাট হাতে ২৯ রানের ঝলমলে ইনিংস, লিটন কুমার দাসের ৬২ বলে ৪১ রানের দায়িত্বশীল ইনিংস, ইবাদত হোসেনের চার উইকেট এবং সর্বশেষ মেহেদী হাসান মিরাজের সেই অলৌকিক ইনিংস।

যেটার মহাত্ম্য বোধ হয় ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়। সব মিলিয়ে বেশ কয়েকজন ক্রিকেটার ভালো পারফর্ম করেছেন। তবে এতসব পারফর্মারদের ভিড়ে ঢাকা পড়েছে মুস্তাফিজুর রহমানের দুর্দান্ত বোলিং। অনেকে হয়তো এই ম্যাচে মুস্তাফিজের বোলিং পারফরমেন্সকে গড়পরতা হিসেবে বিবেচনা করবে। তবে ক্রিকেট একটি কথা প্রচলিত, পরিসংখ্যান সবসময় সত্য কথা বলে না। হয়তো এই ম্যাচে সাকিব,এবাদত এর মতো অনেকগুলো উইকেট পাননি তিনি।

তবে বোলিংয়ে রীতিমতো জাদু দেখিয়েছেন কাটার মাস্টার। নিজের করা সাত ওভারে মাত্র ১৯ রান দিয়েছেন ফিজ। তার মধ্যে একটি ওভার ছিল মেইডেন। নিজের করা ৪২ বলের মধ্যে ২৯টিই ডট দিয়েছেন মুস্তাফিজ। অর্থাৎ ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের প্রবল চাপের মধ্যে রেখেছেন তিনি। সারা বিশ্বেই ভয়ঙ্কর বোলার হিসেবে পরিচিত মুস্তাফিজ।

তাই ভারতীয় ব্যাটসম্যানরা শুরু থেকেই তাকে দেখে খেলছিলেন। ফলে উইকেট বের করতে পারেননি এই ক্রিকেটার। তবে মুস্তাফিজের ওভার গুলোতে অতিরিক্ত ডট বল খেলায়, অপর প্রান্তের বোলারের উপর আক্রমণ করার চেষ্টা করে ভারতীয় ব্যাটসম্যানরা। ফলস্রুতিতে অপরপ্রান্ত থেকে সাকিব আল হাসান এবং এবাদত হোসেন একের পর এক উইকেট চটকাতে শুরু করেন। দিনশেষে এত সব পারফর্মারদের ভিড়ে মুস্তাফিজ কিছুটা আড়ালেই রয়ে গেল।

তবে তাতে তার খুব একটা ক্ষতি বোধ হয় হয়নি। দিনশেষে দলের জন্য অবদান রাখতে পেরেছেন এটাই মূল কথা। এছাড়াও ২০২২ বিশ্বকাপের আগে বেশ বাজে ফর্মে ছিলেন মুস্তাফিজ। বড় মঞ্চে ধীরে ধীরে নিজের চেনা ছন্দে ফিরতে থাকেন এই ক্রিকেটার। ভালো বোলিং এর ধারা এই ম্যাচেও অব্যাহত রাখায় নিজেকে কিছুটা বাহবা দিতেই পারেন ফিজ।

২০২৩ বিশ্বকাপে বাংলাদেশ কেমন পারফর্ম করবে তা অনেকটুকুই নির্ভর করবে মুস্তাফিজের ফর্মের উপর। তাই এখন থেকেই নিজেকে সেরা ছন্দে রাখতে হবে এই ক্রিকেটারের। বিশ্বকাপ যেহেতু ভারতে, তাই মুস্তাফিজের কাটার সেখানে আরো বেশি ধারালো হয়ে যাবে। ভারতের মাটিতে আইপিএলে যা বেশ কয়েকবার চোখে পড়েছে।

অর্থাৎ বিশ্বকাপ ভারতে হওয়ায় মুস্তাফিজ এবং বাংলাদেশ উভয় পক্ষের জন্যই কিছুটা সুবিধাজনক। এভাবেই একের পর এক ম্যাচে দুর্দান্ত বোলিং করে সেই আগের মুস্তাফিজের প্রত্যাবর্তন ঘটুক এমনটি রইলো প্রত্যাশা।

পাঠকের মতামত:

খেলা এর সর্বশেষ খবর

খেলা - এর সব খবর



রে