ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ১৯ মাঘ ১৪২৯

স্পেন-মরক্কো ম্যাচে কিছুটা এগিয়ে থাকবে মরক্কো

২০২২ ডিসেম্বর ০৬ ১৪:২২:৩৫
স্পেন-মরক্কো ম্যাচে কিছুটা এগিয়ে থাকবে মরক্কো

আলমের খান: ফুটবল উন্মাদনায় মেতে উঠেছে সারা বিশ্ব। অন্যান্য বারের তুলনায় মধ্যপ্রাচ্যে এবারের বিশ্বকাপের উন্মাদনা যেন সবচেয়ে বেশি। বিশ্বকাপের শুরুতে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সৌদি আরব ফুটবল জায়ান্ট আর্জেন্টিনা কে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে নিজেদের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করে। মধ্যপ্রাচ্যের আরেক দল মরক্কো বিগত আসরের ফাইনালিস্ট বেলজিয়ামকে হারায় ২-০ ব্যবধানে।

মরক্কানরা শুধু বেলজিয়ামের বিপক্ষে অঘটন ঘটিয়েই সন্তুষ্ট থাকেননি, বিশ্বকাপের রাউন্ড অফ সিক্সটিনও নিশ্চিত করেছে। কাল বাংলাদেশ সময় রাত ৯ টায় স্পেনের মুখোমুখি হবে মরক্কো। শক্তি, সামর্থ্য ফুটবল ঐতিহ্য সবকিছুতেই মরক্কানদের চেয়ে যোজন ব্যবধানে এগিয়ে স্প্যানিশরা। স্পেনের টিকি টাকার বিপরীতে বেশ সংগ্রাম করতে হবে মরক্কোর।

বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে কোস্টারিকার জালে সাতটি গোল দিয়েছে স্পেন। গোল দেওয়ার পাশাপাশি ম্যাচের প্রায় ৭০ শতাংশ সময়ই বল নিজেদের দখলে রাখে স্প্যানিশরা। বলের উপর অতিরিক্ত দখলটাই স্পেনের মূল শক্তি। ছোট ছোট পাসের মাধ্যমে প্রতিপক্ষ রক্ষণে একের পর এক আক্রমণ করতে থাকেন স্প্যানিশ স্ট্রাইকাররা।

ফলশ্রুতিতে প্রতিপক্ষ সব সময়ই একটা আতঙ্কের মধ্যে থাকে। তবে দুর্বার এই স্প্যানিশ দলেও রয়েছে কিছু দুর্বলতা। জাপানের বিপক্ষে নিজেদের শেষ ম্যাচে সেই দুর্বলতা প্রবলভাবে ফুটে উঠেছে। জাপানের বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানে হারতে হয় স্পেনের। জাপানের বিপক্ষে ম্যাচে ৮৩ শতাংশ সময়ে বল দখলে ছিল স্পেনের। জাপানের দখলে বল ছিল মাত্র ১৭ শতাংশ সময়। জাপানের ২২৮ টি পাসের বিপরীতে ১০৫৮টি পাশ দিয়েছেন স্প্যানিশ খেলোয়াড়েরা।

স্পেনের পাস একুরেসিও ছিল ৯১ শতাংশ। ছোট ছোট পাসে খেলা স্পেনের অন্যতম শক্তি হলেও মাঝেমধ্যে এটি দুর্বলতাও হয়ে বসে। ম্যাচের কিছু সময় লম্বা পাসে খেলাটা আবশ্যক হয়ে পড়ে। তবে লম্বা পাসে খেলার অভ্যাস না থাকায় স্প্যানিশরা পিছিয়ে পড়ে। এছাড়াও ছোট ছোট পাসে খেলে গোল করতে সময় লাগে বেশি। ম্যাচের শেষ দিকে দ্রুত খেলার প্রয়োজন হয়, সে সময় লম্বা পাসের কোনো বিকল্প নেই।

লম্বা পাসে খেলায় অভ্যস্ত না থাকায় সেই সময় পিছিয়ে পড়ে স্প্যানিশরা। জাপানের বিপক্ষেও একই ঘটনাই ঘটেছে। পুরো ম্যাচ জুড়ে স্পেন বল দখলে রাখলেও দুটি গোল করে ম্যাচ শেষে জাপানিজরাই শেষ হাসি এসেছে। স্পেনের এই দুর্বলতাকেই কাজে লাগাতে চাইবে মরক্কো। স্বভাবতই একটু রুক্ষ ফুটবল খেলে থাকে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো।

মরক্কোও এর ব্যতিক্রমী নয়। বরং কিছু অংশে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশগুলোর তুলনায় বেশি রুক্ষ ফুটবল খেলে মরক্কানরা। স্পেনের ছোট ছোট পাসের ছন্দময়ী খেলার ছন্দ অনায়াসেই ভঙ্গ করে দিতে পারে মরক্কোর রুক্ষ একটি ট্যাকেল। ফলে নিজেদের প্রথাগত খেলা টিকি টাকা মরক্কোর বিপক্ষে খেলতে বেশ সংগ্রাম করতে হবে স্পেনের।

এছাড়াও মরক্কোর স্ট্রাইকাররা বেশ দুর্দান্ত। গ্রুপ পর্বে নিজেদের ম্যাচগুলোতে সঠিক সময় গোলের দেখা ঠিকই পেয়েছেন মরক্কানরা। নিজেদের প্রথম ম্যাচে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র। পরবর্তীতে কানাডা এবং বেলজিয়ামের বিপক্ষে যথারীতি ২-১ এবং ২-০ ব্যবধানে জয়। অর্থাৎ এই বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত না হারা দলগুলোর এলিট লিস্টেও নিজেদের জায়গা করে নিয়েছে মরক্কানরা। নিজেদের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোয়ার্টার ফাইনাল খেলার হাতছানি মরক্কোর। নিজেদের সেরা ফুটবলটি খেললে হয়তো যে কোনো কিছুই সম্ভব। তাই মাঠের খেলার হিসেব করা হলে স্পেন-মরক্কো ম্যাচে হয়তো মরক্কানরা কিছুটা এগিয়েই থাকবে।

পাঠকের মতামত:

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

খেলা এর সর্বশেষ খবর

খেলা - এর সব খবর



রে