ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২৬ মাঘ ১৪২৯

শেষ ৬০ বল থেকে জয়ে জন্য ভারতের প্রয়োজন আরও

২০২২ ডিসেম্বর ০৭ ১৯:২৯:০৩
শেষ ৬০ বল থেকে জয়ে জন্য ভারতের প্রয়োজন আরও

এনামুলের হক বিজয়ের ক্যাচ ধরতে গিয়ে বাঁহাতের বুড়ো আঙুলে চোট পেয়েছেন রোহিত শর্মা। যে কারণে শিখর ধাওয়ানের সঙ্গে ওপেনিংয়ে দেখা যায়নি তাকে। এদিন ধাওয়ানের সঙ্গে ইনিংস ওপেন করেছেন বিরাট কোহলি। তবে প্রথম ম্যাচের মতো এদিন ব্যর্থ হয়েছেন তিনি। এবাদত হোসেনের অফ স্টাম্পের বাইরের শর্ট বল খেলতে গিয়ে ইনসাইড এজ হয়ে বোল্ড হয়েছেন কোহলি। সময়ের অন্যতম সেরা এই ব্যাটার আউট হয়েছেন ব্যাক্তিগত ৫ রানে।

কোহলি আউট হওয়ার পরের ওভারে সাজঘরে ফিরেছেন ধাওয়ানও। মুস্তাফিজুর রহমানের বুক বরাবর বাউন্সারে মেহেদি হাসান মিরাজকে ক্যাচ দিয়েছেন বাঁহাতি এই ওপেনার। ধাওয়ান আউট হয়েছেন মাত্র ৮ রানে। এরপর জুটি গড়ার চেষ্টা করেন শ্রেয়াস আইয়ার এবং ওয়াশিংটন সুন্দর। তবে সেটা বড় করতে দেননি সাকিব আল হাসান।

পাওয়ার প্লের শেষ এবং নিজের প্রথম ওভারে বোলিংয়ে এসেই ওয়াশিংটনকে ফিরিয়েছেন বাঁহাতি এই স্পিনার। সাকিবের অফ স্টাম্পের বাইরের বল মিড উইকেটে খেলতে গিয়ে লিটন দাসের হাতে ক্যাচ দিয়েছেন ১৯ বলে ১১ রান করা ওয়াশিংটন।

তার বিদায়ে ক্রিজে নেমে আইয়ারের সঙ্গে জুটি বাঁধতে শুরু করেন লোকেশ রাহুল। দলকে ৫০'র ওপর নিয়ে গেলেও দলীয় ৬৫ রানে মেহেদি হাসান মিরাজের সোজা বল লাইনের বিপক্ষে খেলতে গিয়ে লেগ বিফরের ফাঁদে পড়েন এই ব্যাটার। ২৮ বলে ১৪ করে ফেরেন তিনি।

মেহেদির সেঞ্চুরিতে বাংলাদেশের বড় পুঁজি

৬৯ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে শঙ্কা জেগেছিল ১০০'র নিচে গুটিয়ে যাওয়ার। তবে বাংলাদেশের হাল ধরেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ-মেহেদি হাসান মিরাজ। বরং ভারতীয় বোলারদের মাথায় ঘাম পায়ে ফেলে লাল-সবুজের দলকে এনে দিয়েছেন ২৭১ রানের পুঁজি। খাঁদের কিনারা থেকে দলকে টেনে নিয়ে ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি পূরণ করেন মিরাজ। ১০০ রানে তিনি অপরাজিত থাকলেও মাহমুদউল্লাহ করেন ৭৬ রান। তাদের জুটি ১৪৮ রানের।

টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে প্রথম ওভারে সাবধানী শুরু, পরের ওভারে টানা দুটি চার। এনামুল হক বিজয় আশা দেখাচ্ছিলেন ভালো কিছুরই। কিন্তু সেই ওভারেই মোহাম্মদ সিরাজের গতি সামাল দিতে না পেরে লেগ বিফরের ফাঁদে পড়ে প্যাভিলিয়নে ফিরেছেন এই ওপেনার।

৯ বলে ১১ রান করা এই ব্যাটার আউট হওয়ার আগের বলেই স্লিপে রোহিত শর্মার হাতে জীবনও পেয়েছিলেন। কিন্তু পরের বলেই তাকে ফিরতে হয় প্যাভিলিয়নে। সঙ্গী হারালেও নাজমুল হোসেন শান্তকে সঙ্গে নিয়ে লড়াই চালাতে থাকেন লিটন।

তিনে নামা নাজমুল হোসেন শান্ত রানের চাকা সচল রাখলেও লিটন ধীরগতিতে ব্যাট করতে থাকেন। তবে ৪ রান রেটে রান তুলে গেলেও ইনিংসের দশম ওভারে এসে বিপদে আরেকটি উইকেট হারায় বাংলাদেশ।

এবারও উইকেট শিকারি সিরাজ। ফুল লেন্থে ফেলা সিরাজের ভেতরে আসা বল বুঝতে না পারায় স্টাম্প ভেঙে যায় লিটনের। ২৩ বলে ৭ রান করে সাজঘরে ফেরেন বাংলাদেশের অধিনায়ক। এরপর শান্তকে সঙ্গ দিতে ক্রিজে আসেন সাকিব আল হাসান।

তবে সাকিবকে বেশিক্ষণ সঙ্গ দেয়া হয়নি শান্তর। দলীয় ৫০ পূরণের পরই উমরান মালিকের গতিময় বলে উড়ে যায় শান্তর স্টাম্প। ৩৫ বলে ২১ রান করে বিদায় নেন তিনি।

দলীয় ৬৬ রানে বিদায় নেন সাকিব আল হাসানও। ওয়াশিংটন সুন্দরের বল স্লগ সুইপ করতে গিয়ে একটু দ্রুত খেলে ফেলেন সাকিব। যার কারণে ক্যাচ উঠে যায় উপরে। স্লিপে দাঁড়ানো শিখর ধাওয়ান ক্যাচটি লুফে নেন। যদিও স্বাচ্ছন্দ্যের সঙ্গে ক্যাচটি নিতে পারেননি ধাওয়ান।

মুশফিক বিদায় নেয়ার পরের বলে ক্রিজে নেমেই আউট হন আফিফ হোসেন। ০ রানে তাকে বিদায় করেন সুন্দর। তবে ৬৯ রানে ৬ উইকেট হারানো বাংলাদেশের ত্রাতা হয়ে দাঁড়ান মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ও মেহেদি হাসান মিরাজ। তাদের ব্যাটে দলীয় ১০০ পার করে বাংলাদেশ।

শুধু ১০০ই না, এই জুটি মিলে ভারতের বোলারদের দাপটের সুঙ্গে খেলে দলকে নিয়ে যান ভালো অবস্থানে। তাদের ব্যাটে দলীয় ১৫০'র ঘরেও পৌঁছে যায় বাংলাদেশ। সেই সঙ্গে টানা দুই ম্যাচে দলের বিপদে পাশে দাঁড়িয়ে এই ম্যাচে হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেন মেহেদি হাসান মিরাজ।

হাফ সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে মিরাজ ছুটে চলেন নিজ গতিতে। তার সঙ্গী মাহমুদউল্লাহও তুলে নেন ৭৪ বলে হাফ সেঞ্চুরি। মাইলফলকে পৌঁছে দ্রুত গতিতে রান তুলতে থাকেন এই অভিজ্ঞ ক্রিকেটার। মাঠের চারদিকেই রান নেয়ার চেষ্টায় ছিলেন তিনি। তবে উমরান মালিকের বাউন্সারে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে বসেন মাহমুদউল্লাহ।

৭৬ বলে ৭৫ রান করে মাহমুদউল্লাহ বিদায় নিলেও নাসুম আহমেদকে নিয়ে দলকে ২৫০'র ঘরে নিয়ে যান মিরাজ। মাঠের চারদিকে রান তোলার সঙ্গে নিয়মিত বাউন্ডারি হাঁকাতে থাকেন। শেষ ওভারে দলীয় রান গিয়ে দাঁড়ায় ২৫৫, মিরাজ অপরাজিত ৮৫। সেঞ্চুরির সুযোগ থাকলেও পরিস্থিতি কঠিন ছিল তার জন্য।

ইনিংসের দ্বিতীয় বলে ছক্কা হাঁকিয়ে নব্বইয়ের ঘরে পা রাখেন মিরাজ। ৪ বলে সেঞ্চুরি পূরণ করতে তার প্রয়োজন ছিল ৯ রানের। তৃতীয় বল মিস করলেও চতুর্থ বলে আবারও ছক্কা হাঁকিয়ে ৯৭ রানে পৌঁছে যান তিনি। ২ বলে সেঞ্চুরি পূরণ করতে ৩ রান।

পঞ্চম বলে ২ রান নিয়ে ৯৯ রানে পৌঁছে যান এই অলরাউন্ডার। শেষ বলে সিঙ্গেল নিয়ে দলকে ২৭১ রানের পুঁজি এনে দেয়ার সঙ্গে ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি পূরণ করেন মিরাজ। ৮৩ বলে ৮ চার ও ৪ ছক্কায় তিনি অপরাজিত থাকেন ১০০ রানে। শেষ ৪ ওভারে বাংলাদেশ দলের স্কোরবোর্ডে যোগ হয় ৬৮ রান। এই জুটিতে ২৩ বলে ৫৫ রান যোগ করেন নাসুম-মিরাজ। নাসুম অপরাজিত থাকেন ১৮ রানে।

বাংলাদেশ: ২৭১/৭ (৫০ ওভার) (মিরাজ ১০০*, মাহমুদউল্লাহ ৭৬, শান্ত ২১, নাসুম ১৮*; ওয়াশিংটন ৩/৩৭, উমরান ২/৫৮)

ভারত- ১৯৩/৬ (৪০ ওভার) শেষ ৬০ বল থেকে জয়ের জন্য ভারতের প্রয়োজন ৭৯ রান।

পাঠকের মতামত:

খেলা এর সর্বশেষ খবর

খেলা - এর সব খবর



রে