ঢাকা, রবিবার, ২৬ মে ২০২৪, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

কুইন্টন ডি'কক, মহম্মদ শাহজাদকে পেছনে ফেলে নতুন বিশ্ব রেকর্ড গড়লেন লিটন

খেলা ডেস্ক . ২৪আপডেট নিউজ
২০২৩ মার্চ ৩০ ১৫:৫৭:৩১
কুইন্টন ডি'কক, মহম্মদ শাহজাদকে পেছনে ফেলে নতুন বিশ্ব রেকর্ড গড়লেন লিটন

মাত্র ৫০ লাখ টাকায় কি সবথেকে দামি খেলোয়াড়কে পেয়ে গিয়েছে কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর)? বাংলাদেশের তারকা লিটন দাসের লাগাতার ভালো পারফরম্যান্সের পর এমনই মনে করছেন অনেকে। সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল যে ২০২২ সালের আইপিএলের পাওয়ার প্লে'তে কেকেআরের যে ‘রোগ’ দেখা গিয়েছিল, তা সারানোর দাওয়াই আছে ‘ডক্টর’ লিটনের কাছে। কিন্তু কী লিটনের কাছে এমন জরিবুটি আছে? পরিসংখ্যান বলছে, পুরুষদের আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে পাওয়ার প্লে'তে সবথেকে দ্রুত রান করেছেন। ক্রিকেটের পরিভাষায় পাওয়ার প্লে'তে সেরা স্ট্রাইক রেটের তালিকার শীর্ষে আছেন লিটন।

পুরুষদের আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে পাওয়ার প্লে'তে সেরা স্ট্রাইক রেট (ন্যূনতম)

লিটন দাস (বাংলাদেশ): ৬৪ টি ইনিংসে বাংলাদেশের তারকার স্ট্রাইক রেট ১৪২.৫৭। হাঁকিয়েছেন মোট ৩৮ টি ছক্কা।

কুইন্টন ডি'কক (দক্ষিণ আফ্রিকা): প্রোটিয়া তারকার স্ট্রাইক রেট ১৪১.৫১। ৭৮ টি ইনিংসে মোট ৫৮ টি ছক্কা হাঁকিয়েছেন।

মহম্মদ শাহজাদ (আফগানিস্তান): মোট ৬৩ টি ইনিংস খেলেছেন বিস্ফোরক ওপেনার। স্ট্রাইক রেট ১৪০.৪৭। মেরেছেন মোট ৪০ টি ছক্কা।

২০২২ সালের আইপিএলের পাওয়ার প্লে'তে কেকেআরের পারফরম্যান্স

বনাম চেন্নাই সুপার কিংস: বিনা উইকেটে ৪৩ রান।

বনাম রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোর: তিন উইকেটে ৪৪ রান।

বনাম পঞ্জাব কিংস: দুই উইকেটে ৫১ রান।

বনাম মুম্বই ইন্ডিয়ান্স: দুই উইকেটে ৩৫ রান।

বনাম দিল্লি ক্যাপিটালস: দুই উইকেটে ৪৩ রান।

বনাম সানরাইজার্স হায়দরাবাদ: তিন উইকেটে ৩৮ রান।

বনাম রাজস্থান রয়্যালস: এক উইকেটে ৫৭ রান।

বনাম গুজরাট টাইটানস: তিন উইকেটে ৩৪ রান।

বনাম দিল্লি ক্যাপিটালস: দুই উইকেটে ২৯ রান।

বনাম রাজস্থান রয়্যালস: দুই উইকেটে ৩২ রান।

বনাম লখনউ সুপার জায়েন্টস: তিন উইকেটে ২৫ রান।

বনাম মুম্বই ইন্ডিয়ান্স: এক উইকেটে ৬৪ রান।

বনাম সানরাইজার্স হায়দরাবাদ: এক উইকেটে ৫৫ রান।

বনাম লখনউ সুপার জায়েন্টস: দুই উইকেটে ৬০ রান।

গতবার আইপিএলে যে বিষয়গুলি কেকেআরকে ডুবিয়েছিল, সেটার মধ্যে অন্যতম ছিল পাওয়ার প্লে। প্রথম ছয় ওভারে কেকেআর এমনই ঝিমিয়ে ব্যাটিং করত যে ম্যাচটা কার্যত সেখানেই শেষ হয়ে যেত। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২২ সালের আইপিএলে ব্যাটিং পাওয়ার প্লে'তে ৫০৪ বলে মোট ৫১০ রান করেছিল কেকেআর। অর্থাৎ স্ট্রাইক রেট ছিল মাত্র ১১৯.৬। যা আধুনিক টি-টোয়েন্টির যুগে একেবারেই জঘন্য।

আর ঠিক সেখানেই কেকেআরের কাছে ‘জিনি’ হতে পারেন লিটন। কারণ পাওয়ার প্লে'তে যে ওরকম ঠুকঠুক করে খেলবেন না বাংলাদেশ তারকা, তা তাঁর স্ট্রাইক রেটের দিকে চোখ রাখলেই পরিষ্কার হয়ে যাবে। তাতে পাওয়ার প্লে'তে রান বেশি উঠবে কেকেআরের। ইনিংসের শেষের দিকে রানের গতি আরও বাড়িয়ে দলের মোট রানটা বাড়ানো যাবে। সেইসঙ্গে লিটনের মারকুটে মনোভাবের কারণে বিপক্ষ চাপে পড়ে যাবে। তাতে আক্রমণাত্মক ফিল্ডিংয়ের পরিবর্তে রক্ষণাত্মক ফিল্ডিং সাজানোর প্রবণতা বাড়বে। ফায়দা পাবেন অন্য ব্যাটাররা।

তবে লিটন যে খেলাটা খেলবেন, তাতে একটা ঝুঁকির জায়গা বা রিস্ক ফ্যাক্টর থাকবেই। মারতে গিয়ে কোনওদিন কম রানেই আউট হয়ে যেতে পারেন। কিন্তু সেটা ভেয়ে খোলসের ভিতরে ঢুকে খেললে কোনও লাভ হবে না। শেষে গিয়ে হারতেও হবে। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, লিটন বিধ্বংসী খেললে আন্দ্রে রাসেলের উপরও চাপ কমবে। বিশেষত বড় রান তাড়া করার ক্ষেত্রে সব চাপ তাঁর উপর এসে পড়বে না।

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



রে