ঢাকা, বুধবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১৬ ফাল্গুন ১৪৩০

একাকীত্ব নাকি ধূমপান, কোন টা বেশি ক্ষতিকর, গবেষকরা যা বলছেন

বিনোদন ডেস্ক . ২৪আপডেট নিউজ
২০২৩ নভেম্বর ২১ ২২:৪৩:০২
একাকীত্ব নাকি ধূমপান, কোন টা বেশি ক্ষতিকর, গবেষকরা যা বলছেন

একাকীত্বের ক্ষতিকারক প্রভাব রয়েছে দিনে ১৫টি সিগারেট খাওয়ার মতো। নতুন এক গবেষণায় এমন তথ্য উঠে এসেছে। সম্প্রতি মার্কিন স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগ পরিচালিত 'আওয়ার এপিডেমিক অফ লোনলিনেস অ্যান্ড আইসোলেশন' শীর্ষক এক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, করোনাভাইরাস মহামারির পর থেকে বিশ্বে নিঃসঙ্গতা আর একাকিত্ব চরম মাত্রায় পৌঁছে যায়। মহামারির সময় লকডাউন, কোভিড আক্রান্ত ব্যক্তির আইসলেসনে নিভৃতবাস, সামাজিক দূরত্ববিধি সব মিলিয়ে একা থাকাটা যেন জীবনের অঙ্গ হয়ে উঠেছিল। প্রায় দুই বছর পর কোভিডের তীব্রতা কমে যায়। কিন্তু রয়ে গেছে একাকিত্বের অবসাদ। আর একা থাকার এই অবসাদ থেকেই বাড়ছে হৃদরোগ, ডিমেনশিয়া, উচ্চ রক্তচাপ, মুটিয়ে যাওয়ার মতো রোগের প্রভাব।

এই প্রতিযোগিতামূলক ও যান্ত্রিক জীবনে একাকীত্ব সঙ্গী হয়ে উঠেছে। সারাদিন অনেক কাজে নিজেকে ব্যস্ত রাখলেও দিন শেষে একাকীত্ব অনুভব করেন অনেকে। কেউ স্বেচ্ছায় একা, কেউ জোর করে। কিন্তু উভয় ক্ষেত্রেই নিঃসঙ্গতা দ্রুত বাড়ছে। একা থাকার এই একঘেয়েমি শুধু মনেই চাপ সৃষ্টি করে না, শরীরকেও প্রভাবিত করে। আমেরিকান বিশেষজ্ঞদের মতে, একাকীত্ব দিনে ১৫টি সিগারেট খাওয়ার মতো ক্ষতি করতে পারে।

মার্কিন সার্জন জেনারেল ডা. বিবেক মূর্তি জানিয়েছেন, নিঃসঙ্গতা আর একাকিত্বে ভোগা দিনে ১৫টি সিগারেট খাওয়ার মতোই ক্ষতিকর। স্থূলতা এবং শারীরিকভাবে নিষ্ক্রিয় থাকা লোকদের জন্য এর স্বাস্থ্যঝুঁকি আরও বেশি।

আফ্রিকান ইউনিয়নের যুব প্রতিনিধি চিডো এমপেম্বা বলেন, একাকিত্ব আজ সীমানা পেরিয়ে এবং স্বাস্থ্য, সুস্থতা ও উন্নয়নের প্রতিটি দিককে প্রভাবিত করে বিশ্বব্যাপী জনস্বাস্থ্য উদ্বেগ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তার কথায়, সামাজিক বিচ্ছিন্নতা কোনো বয়স বা সীমানা মানে না।

সমীক্ষা অনুসারে, একাকীত্ব ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি ৫০ শতাংশ এবং করোনারি আর্টারি ডিজিজ বা স্ট্রোকের ঝুঁকি ৩০ শতাংশ বাড়িয়ে দেয়।

একাকীত্ব তরুণদের জীবনকেও ধ্বংস করে দিতে পারে। পরিসংখ্যান দেখায় যে বিশ্বব্যাপী ৫ থেকে ১৫ শতাংশ কিশোর একাকীত্বে ভোগে। বাস্তবে এই সংখ্যা অনেক বেশি বলে মনে করা হচ্ছে।

এদিকে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মতে, সময়ের সাথে সাথে সমস্যাটি ধীরে ধীরে আরও খারাপ হবে। তাই এই সংকট মোকাবেলায় ডব্লিউএইচও একটি আন্তর্জাতিক কমিশন গঠন করেছে। এই কমিশনের চেয়ারপার্সন হলেন ডঃ বিবেক মূর্তি এবং চিদো এমপেম্বা। তিনি বলেন, এখন থেকে একাকীত্ব ও বিচ্ছিন্নতা রোধ করা প্রয়োজন। এমন বিষণ্নতা মনের মধ্যে বসতে দেওয়া যায় না। সুস্থ ও প্রাণবন্ত জীবন যাপনের প্রধান শর্ত হিসেবে এই ধরনের বিষণ্ণতাকে পুরোপুরি কাটিয়ে ওঠার পরামর্শও দেন তিনি।

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ



রে