ঢাকা, বুধবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১৬ ফাল্গুন ১৪৩০

অবহেলিত ক্রিকেটারই এবার ভারতকে জেতালেন

খেলা ডেস্ক . ২৪আপডেট নিউজ
২০২৩ ডিসেম্বর ০৪ ১০:১৩:২০
অবহেলিত ক্রিকেটারই এবার ভারতকে জেতালেন

শেষ ওভারে দরকার ছিল১০ রান। ভারতের পেস আক্রমণের নতুন মুখ আরশদীপ সিংকে ২০২২ এশিয়া কাপে পাকিস্তান এবং শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে এই রান থামানোর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। সেবার করতে পারেননি পাঞ্জাবের ওই পেসার। ভারত সুপার ফোরে ওই দুটি ম্যাচ হেরে ফাইনালেও উঠতে পারেনি। সেই সময়ে ডেথ ওভারে আরশদীপ কতটা কার্যকর ছিল তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেননি এমন মানুষ খুব কমই আছে।

সেই আরশদীপ গতকাল রবিবার নিজের অন্য দিকটা দেখালেন। জীবন মানেই ভুল থেকে শেখা। আর আরশদীপ সেই জীবন পরীক্ষায় পাসিং নম্বর পেয়েছিলেন। অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে সিরিজের ৫তম ম্যাচে, তিনি শেষ ওভারে ৪ ইয়র্কার লেন্থ বল করে ভারতকে একটি দুর্দান্ত জয় এনে দেন। বেঙ্গালুরুতে ম্যাচ জিতে ভারত ৪-১ ব্যবধানে সিরিজ জিতে নেয়।

শেষ ওভারে জিততে অস্ট্রেলিয়ার দরকার ছিল ১০ রান। টি-টোয়েন্টি যুগে এমন পরিস্থিতিতে ব্যাটসম্যানই ফেভারিট। কিন্তু গতকাল বোলিংয়ে কারিশমা দেখালেন আরশদীপ। শেষ ওভারের প্রথম তিন বলে কোনো রান করতে পারেননি অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক ম্যাথিউ ওয়েড। প্রথম দুই বলে ডট করার পর তৃতীয় বলে চার মারতে চাইছিলেন ওয়েড। ওটা তুলতে গিয়েই সে বেরিয়ে গেল।

শেষ তিন বলে তিনটি সিঙ্গেল নিতে পারেন নাথান এলিস ও জেসন বেহরেনডর্ফ। ইয়র্কারদের চার ওভারেই বোলিং করা হয়েছিল। তাই ভারত ৬ রানে জিতেছে।

সিরিজের বাকি সব ম্যাচেই রান ছড়িয়েছিল কিন্তু শেষ ম্যাচে ব্যাঙ্গালোরের হয়ে বেশি রান হয়নি। আগের ম্যাচে দুই ওপেনারই দারুণ সূচনা দিলেও আজ বিশেষ কিছু করতে পারেননি জয়সওয়াল ও ঋতুরাজ। নিয়মিত বিরতিতে পড়তে থাকে স্বাগতিক দলের উইকেট। মাত্র ৫৫ রানে ৪ উইকেট পড়ে যায়।

এরপর পঞ্চম উইকেটে জিতেশ শর্মাইয়ের সঙ্গে ৪২ রানের জুটি গড়েন শ্রেয়াস আইয়ার। এরপর অক্ষর প্যাটেলের সঙ্গে ৪৬ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। এর সঙ্গে ভারত ছুঁয়েছে ১৬০-এর অঙ্ক। আইয়ার তার ক্যারিয়ারের অষ্টম টি-টোয়েন্টি ফিফটি করেন। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে দুটি করে উইকেট নেন বেন ডরশুইস ও জেসন বেহরেনডর্ফ।

লক্ষ্য তাড়া করতে গিয়ে অস্ট্রেলিয়ার উইকেটও পড়ে যায় দ্রুত। তৃতীয় ওভারে মুকেশ কুমারের বলে আউট হন জশ ফিলিপ। এরপর প্রথম দুই ওভারে হেড ও অ্যারন হার্ডিকে ফিরিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে চাপে ফেলেন লেগ স্পিনার রবি বিষ্ণাই। তবে ট্র্যাভিস হেড তার নিজের অবস্থানে ছিলেন। প্রথম ছয় ওভারে অজিদের স্বস্তি দেয়।

হেড ফিরে গেলে বেন ম্যাকডারমট টিম ডেভিডের সাথে ৪৭ রানের জুটি গড়েন। অজিদের পথ দেখাতে থাকে এই জুটি। ১৪তম ওভারে ব্যক্তিগত ১৭ রানে অক্ষর প্যাটেলের বলে আউট হন ডেভিড। কিছুক্ষণ পর আরশদীপ ম্যাকডারমটকে (৫৪) ফেরত পাঠালেন।

১৭তম ওভারে, মুকেশ কুমার পরপর দুটি বলে ম্যাথু শর্ট এবং ডরশুইসের উইকেট নেন এবং ম্যাচটি ভারতের নাগালের মধ্যে চলে আসে। কিন্তু মাঠে ছিলেন ম্যাথু ওয়েড। আবেশ খানকে ওই ওভারে পরপর তিনটি চার মারলে ম্যাচ আবারও অস্ট্রেলিয়ার দিকে মোড় নেয়।

শেষ ২ ওভারে জিততে অস্ট্রেলিয়ার দরকার ছিল ১৭ রান। ১৯তম ওভারে ৭ রান দেন মুকেশ। শেষ ওভারে আরশদীপের লক্ষ্য ছিল ১০ রান। চারটি চমৎকার ইয়র্কার দিয়েই যথেষ্ট করেছেন এই ফাস্ট বোলার।

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ



রে