ঢাকা, রবিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১২ ফাল্গুন ১৪৩০

এবার মিডিয়াকে ধুয়ে দিলেন, কাজী সালাউদ্দিন

খেলা ডেস্ক . ২৪আপডেট নিউজ
২০২৩ ডিসেম্বর ০৯ ১২:৪২:৩৯
এবার মিডিয়াকে ধুয়ে দিলেন, কাজী সালাউদ্দিন

প্রতি মৌসুমেই ঘরোয়া প্রতিযোগিতায় রেফারি নিয়ে অভিযোগ থাকে। এগুলো সমাধানে ভিএআর প্রযুক্তি চালুর কথা অনেক আগেই বলেছিলেন বাফুফে সভাপতি কাজী সালাহউদ্দিন। টাকা পেলে শীঘ্রই এই প্রযুক্তি নিয়ে আসার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। মিডিয়ার চাপে বিসিবি সভাপতির সঙ্গে সাম্প্রতিক বাকযুদ্ধ। প্রিমিয়ার লিগে না খেলা গোপালগঞ্জ স্পোর্টিং ক্লাব এবং ফুটবল ছেড়ে দেওয়া সাইফ স্পোর্টিং ক্লাবের ফেডারেশন কার্যালয়ে বুধবার সমকালের সঙ্গে কথা বলেন কাজী সালাউদ্দিন। শুনলেন সাখাওয়াত হোসেন জয় (দ্বিতীয় পর্ব)। কাজী সালাহউদ্দিনের সাক্ষাৎকারের প্রথম পর্বটি দেখুন এখানে।

ফুটবলে জাতীয় দলের দারুণ একটা বছর কাটল। বাফুফে সভাপতি হিসেবে আপনার কেমন লাগছে?

কাজী সালাউদ্দিন : অবশ্যই বাংলাদেশের ফুটবলের জন্য এটা দারুণ একটা বছর। এটা তো এক বছরে হয়নি, ধারাবাহিক কাজের ফসল। সিঙ্গাপুরের কাছে ২০১৭তে ৩ গোলে হেরেছিল মেয়েরা। তার পর মেয়েরা ট্রেনিং করে সাফ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। সিঙ্গাপুরকে ৮ গোল দিয়েছে। সবকিছুই কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় হয়েছে। সঠিক ট্রেনিং, সঠিক কোচিং ম্যানেজমেন্ট, সঠিক পরিকল্পনা– সবকিছুই সুন্দরভাবে হওয়াতেই কিন্তু মেয়েদের ফুটবল ভালো করেছে। ছেলেদেরটাতেও অনেক দিন ধরে মিক্সড রেজাল্ট হচ্ছিল। এখন ছেলেদের দল একটা পর্যায়ে চলে এসেছে।

ঘরোয়া ফুটবলে সব সময় রেফারিং নিয়ে সমালোচনা হয়ে আসছে। যে কারণে আপনি ভিএআর আনার কথা বলেছিলেন। কিন্তু সেটা তো বাস্তবায়ন করেননি।

কাজী সালাউদ্দিন : ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) তো আমি আজকেই আনতে চায়। কিন্তু আমাকে দুই মিলিয়ন ডলার কে দেবে? অর্থের জোগাড় না হলে ইচ্ছা করলেই তো সবকিছু করা যায় না। তবে আমি এটুকু বলতে পারি, খুব শিগগির বাংলাদেশে ভিএআর আসবে। আজকাল কিংবা পরশু আসবেই। তবে নতুন মৌসুমে আসবে কিনা, সেটার নিশ্চয়তা আমি দিতে পারব না। কারণ, আমার ওই রকম ফান্ড নেই।

সাম্প্রতিক সময়ে বিসিবি সভাপতির সঙ্গে আপনার একটা মনস্তাত্ত্বিক লড়াই হয়েছিল। এটা নিয়ে কী বলবেন?

কাজী সালাউদ্দিন : আমি বলব, যা হয়েছে এগুলো মিডিয়ার সৃষ্টি। আমি তো কিছুই বলিনি। আপনারা বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আপনি কথা বলেন না কেন? আমি তো প্রাইম মিনিস্টারকে আপনাদের সামনে দেখিয়ে কথা বলব না। এটাই আমি বলেছিলাম। আমি তো কাউকে ছোট করার জন্য বলিনি। তার পরও তো তারা অনেক কথা বলেছিলেন। আমি তো উত্তর দিইনি। স্পটে আপনারা আমাকে খোঁচা দিয়ে দুইটা কথা বলাই দিয়েছেন। আর মন্ত্রী তো না বুঝে, না জেনে অনেক কথা বলেছেন।

নির্বাহী কমিটির অনেকেরই অভিযোগ– আপনি নাকি সবার অগোচরে একাই অনেক সিদ্ধান্ত নেন।

কাজী সালাউদ্দিন : আমি যে ইমরুল হাসানকে লিগ কমিটির চেয়ারম্যান করেছি, সেটা তো বোর্ড মিটিং ছাড়াই করেছি। আমাকে বোর্ড ম্যান্ডেড দিয়েছে। আমি বলি, বোর্ডে যখন আমি একেকটা কমিটি বানাই, চেয়ারম্যান বানাইও আমি। আমাকে বোর্ড ম্যান্ডেড দিয়েছে– আপনি বানাই দেন। ইমরুলের কথা উঠেছে; কিন্তু সালাম মুর্শেদীকে যখন বানাইছি, সেটা তো একইভাবে। কাজী নাবিল আহমেদ আজকে যে জাতীয় দল ব্যবস্থাপনা কমিটির চেয়ারম্যান, সেগুলো একইভাবে। তাহলে এখানে কেন সমস্যা হবে?

তাহলে বোর্ডের সদস্যরা কেন বাইরে গিয়ে সমালোচনা করে?

কাজী সালাউদ্দিন : এখানে নিয়মটা হলো বানানোর পরই ইসি সদস্যরা জানবে। নির্বাহী সদস্যদের আপনারা খোঁচাই করাইছেন। আমি তো নিয়মের বাইরে কাজ করিনি। আজকে যিনি যে পোস্টে আছেন, সবাই তো এভাবেই হয়েছেন।

বিসিএল থেকে প্রিমিয়ার লিগে উঠেও খেলছে না গোপালগঞ্জ স্পোর্টিং ক্লাব।

কাজী সালাউদ্দিন : তাদেরই জিজ্ঞেস করেন। অর্থ নাই বলে সাইফ পাওয়ার তো চলে গেছে। খালি গোপালগঞ্জ বলেন কেন? সাইফ পাওয়ার তো একই কাজ করেছে। যারা এসে চলে যায়, তাদের অবশ্যই ফুটবল থেকে নিষিদ্ধ করা উচিত। সাইফ পাওয়ার একসময় ফুটবলে অনেক প্রেম দেখাইছে। লিগের মধ্য থেকেই চলে গেছে। এসে চলে যাওয়ার মানেই হলো ফুটবলের প্রতি আবেগ আর ভালোবাসা নাই। আমি এখানে বসে রয়েছি কেন। আমি স্বাধীনতা যুদ্ধ করে আসছি। ইতিহাসের পৃষ্ঠাগুলোতে আমার নাম এসেছে। আমি জাতীয় দলে খেলে আসছি, কোচিং করিয়েছি। বাংলাদেশের এমন কোনো ট্রফি নেই, যেটা আমি জিতিনি। আপনারা আমাকে গালাগাল করেন। অথচ আমি ১৫-১৬ বছর ধরে সাউথ এশিয়ার সভাপতি হিসেবে আছি। নির্বাচনের আগে ভারত প্রস্তাব দেয়, তার পর পাকিস্তান দেয়। আপনাদের কাছে পেপার আর টেলিভিশনে আমি খারাপ। তাহলে ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, মালদ্বীপের মানুষের কাছে আমি কেন এতটা জনপ্রিয়? আমার মধ্যে কিছু আছে বলেই তো তারা বারবার চায়।

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ



রে