ঢাকা, শনিবার, ২৮ নভেম্বর ২০২০, ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

বৃষ্টিপাতের সর্বশেষ অবস্থা

২০২০ অক্টোবর ২৩ ১৩:১২:২৫
বৃষ্টিপাতের সর্বশেষ অবস্থা

বঙ্গোপসাগরে গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে চট্টগ্রামে ভারি বর্ষণ হচ্ছে। রাতের ভারি বৃষ্টিতে নগরীর নিম্নাঞ্চলে পানি জমেছে। বিশেষ করে নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রকল্পের কাজ চলমান থাকার স্থানগুলোতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে বেশি।

বৃষ্টির কারণে নগরীর অধিকাংশ সড়ক কর্দমাক্ত হয়ে গেছে। সড়কে পরিবহন কম থাকায় দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রীরা।

এদিকে, নগরীতে পাহাড়ধসের আশঙ্কায় ঝুঁকিপূর্ণভাবে পাহাড়ে বসবাসরতদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে মাইকিং করছে জেলা প্রশাসন। এ ছাড়া কাট্টলী, আগ্রাবাদ ও বাকলিয়া এলাকায় বিভিন্ন স্কুলে ১৫টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে।

চট্টগ্রাম আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ শেখ ফরিদ আহমদ জানান, আজ সকাল ৯টা পর্যন্ত চট্টগ্রামে ১৭৪ দশমিক ২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। থেমে থেমে ও হালকা বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর আজ শুক্রবার এক পূর্বাভাসে জানিয়েছে, গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংগ্ন এলাকায় সাগর উত্তাল রয়েছে।

পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত গভীর নিম্নচাপটি আরো উত্তর-পূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে আজ শুক্রবার সকাল ৬টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৪৪৫ কিলোমিটার পশ্চিম অথবা দক্ষিণ-পশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৪৪৫ কিলোমিটার পশ্চিম অথবা দক্ষিণ-পশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ২৪০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ২৮০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছিল। এটি আরো উত্তর-পূর্ব দিকে অগ্রসর হতে পারে।

পূর্বাভাসে বলা হয়, বঙ্গোপসাগরে গভীর নিম্নচাপটি কেন্দ্রের ৪৮ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বাধিক গতিবেগ ঘণ্টায় ৫০ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়ার আকারে ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। গভীর নিম্নচাপ কেন্দ্রের কাছে সাগর উত্তাল রয়েছে।

চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৪ নম্বর স্থানীয় হুঁশিয়ারি সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

পূর্বাভাসে আরো বলা হয়, গভীর নিম্নচাপটির প্রভাবে উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, নোয়াখালী, ফেনী ও চট্টগ্রাম এবং এসব এলাকার অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরের নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে তিন থেকে পাঁচ ফুট অধিক উচ্চতার বায়ুতাড়িত জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে।

এদিকে, আবহাওয়া অধিদপ্তর আজ ভোর সাড়ে ৪টা থেকে থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য আবহাওয়ার পূর্বাভাসে জানিয়েছে, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, ঢাকা, ফরিদপুর, মাদারীপুর, যশোর, কুষ্টিয়া, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ অথবা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৮০ কিলোমিটার বেগে বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টিসহ অস্থায়ীভাবে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দরকে ২ নম্বর নৌ-হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

এ ছাড়া উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থান করা সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে। সেইসঙ্গে তাদের গভীর সাগরে বিচরণ না করতে বলা হয়েছে।

এ ছাড়া পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, দেশের অন্যান্য অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ অথবা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টিসহ অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দরকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

এদিকে, আজ সকাল ৭টা থেকে পরবর্তী ছয় ঘণ্টায় ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আকাশ আংশিক মেঘলা থেকে মেঘাচ্ছন্ন থাকতে পারে। এ সময় বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে এবং দক্ষিণ অথবা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার বেগে এবং অস্থায়ীভাবে ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার দমকা হাওয়া বইতে পারে। এ ছাড়া দিনের তাপমাত্রা সামান্য হ্রাস পেতে পারে।

পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় ৪৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।

পাঠকের মতামত:

সারাদেশ এর সর্বশেষ খবর

সারাদেশ - এর সব খবর



রে