ঢাকা, রবিবার, ২৪ জানুয়ারি ২০২১, ১১ মাঘ ১৪২৭

ওপেনিং জুটিতে জমিয়ে তুলেছে সৌম্য-লিটন

২০২০ ডিসেম্বর ০৪ ১২:৫৫:২২
ওপেনিং জুটিতে জমিয়ে তুলেছে সৌম্য-লিটন

লিটনের সঙ্গে জাতীয় দলের ম্যাচে কখনও ব্যাটিং ওপেন করেছেন কিনা মনে করতে পারলেন না সৌম্য। জাতীয় দলের তিন সংস্করণে নিয়মিত ওপেনার তামিম থাকায় লিটন-সৌম্যর সে সুযোগ হওয়ার কথা নয়। নির্বাচকদের তাই লিটন-সৌম্যর ওপেনিং জুটি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দেখার সুযোগও হয়নি। গাজী গ্রুপ চট্টগ্রাম সম্ভাবনার সে দ্বার খুলে দিয়েছে বঙ্গবন্ধু টি২০ কাপে। বিসিবির এই টুর্নামেন্টে টানা চার ম্যাচে লিটন-সৌম্যর ওপেনিং জুটি দৃষ্টি কেড়েছে ম্যানেজমেন্টের। টাইগার প্রধান কোচ রাসেল ডমিঙ্গোও এ দুই ব্যাটসম্যান পারফরম্যান্সে খুশি।

টুর্নামেন্টের প্রথম লেগের চার ম্যাচ শেষে ২০০ রান নিয়ে টেবিলের শীর্ষে লিটন। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৫৫ রান জাতীয় দলের মূল ওপেনার ফরচুন বরিশালের অধিনায়ক তামিমের। চট্টগ্রামের চার ম্যাচেই দারুণ ব্যাটিং করেছেন লিটন। বেক্সিমকো ঢাকার বিপক্ষে ৩৪, খুলনার বিপরীতে হার না মানা ৫৩, বরিশালের ম্যাচে ৩৫ আর রাজশাহীর বিরুদ্ধে অপরাজিত ছিলেন ৭৮ রানে। উইকেটরক্ষক এ ব্যাটসম্যানের সর্বশেষ ম্যাচের পারফরম্যান্স দেখে উচ্ছ্বসিত প্রশংসায় ভাসিয়েছেন জাতীয় দলের তারকা মুশফিক। নিজের টুইটার অ্যাকাউন্টে তিনি লিখেছেন, 'কী দারুণ খেলা। মিলিয়ন ডলার মূল্য। তোমার খেলা দেখে মুগ্ধ। আমি এমন প্রতিভা ও

ক্লাস ব্যাটসম্যান কখনও দেখিনি। সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা থাকবে, অদূর ভবিষ্যতে দেশের হয়েও এই ছন্দ দেখাও।'

রাজশাহীর বিপক্ষে ৫৩ বলে ৭৮ রানের ইনিংসটি খেলেছেন ২৬ বছর বয়সী টাইগার ওপেনার। ব্যক্তিগত ইনিংসের চেয়েও লিটন-সৌম্য জুটি গড়ে তোলায় লাভ বেশি হচ্ছে চট্টগ্রামের। চার ম্যাচের তিনটিতেই পঞ্চাশোর্ধ (৭৯, ৭৩ ও ৬২) জুটি দু'জনের। বরিশালের বিপক্ষে কেবল ২২ রানে বিচ্ছেদ ঘটেছিল তাদের।

লিটন-সৌম্যর এই পারফরম্যান্স স্টেডিয়ামে বসে দেখা প্রধান কোচ ডমিঙ্গো যেমন বললেন, 'ওদের ছন্দে দেখে ভালো লাগছে। তারা দু'জনই জাতীয় দলের খেলোয়াড়। ভালো দিক ঘরোয়া ক্রিকেটে রান করছে তারা। তবে আন্তর্জাতিক আর ঘরোয়া ক্রিকেটের মধ্যে অনেক পার্থক্য। তাই ছন্দটা ধরে রাখা জরুরি।'

সৌম্য-লিটনের বোঝাপড়া ভালো। একজন আক্রমণাত্মক হলে অন্যজন ধরে খেলেন। এক ম্যাচে লিটন চড়াও হলে পরের ম্যাচে সৌম্যকে লিডিং রোল নিতে হয়। এতে করে দল উপকৃত হচ্ছে বেশি। পাওয়ার প্লের ছয় ওভারে রানের গতি থাকছে সাতের ওপরে। বিসিবির প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নুর চোখে পড়েছে এই রান তোলার গতি, 'ওরা ভালো করছে। লিটনের প্রতিভা মুগ্ধ করে আমাকে। জাতীয় দলে তিন সংস্করণেই নিয়মিত ওপেনার লিটন। তামিমের সঙ্গে লিটন খেলে। সে ছন্দে থাকলে টিম ম্যানেজমেন্টের কাজ সহজ হয়ে যায়। আর সৌম্য মাঝে ছন্দে ছিল না। এই টুর্নামেন্টে রান পাচ্ছে। সে ইনিংস লম্বা করলে ভালো করবে।'

চার ম্যাচে সৌম্যর রান ১০৯। ৪৪, ২৬, ৫ ও ৩৪ রান এসেছে তার ব্যাট থেকে। নিউ নরমাল সময়ে চলমান বঙ্গবন্ধু টি২০ কাপে যেখানে জাতীয় দলের বেশিরভাগ ক্রিকেটার রানে নেই সেখানে তামিম, লিটন, সৌম্যর রান করা দারুণ ব্যাপার। জানুয়ারিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে হোম সিরিজে চাঙ্গা থেকে খেলতে পারবেন তারা। এ ছাড়াও সৌম্য-লিটনের ওপেনিং জুটি পরীক্ষিত হয়ে গেলে তামিম-উত্তর জাতীয় দলের কাজে দেবে। দেশের ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ তারকা তো তারাই।

পাঠকের মতামত:

খেলা এর সর্বশেষ খবর

খেলা - এর সব খবর



রে