ঢাকা, রবিবার, ২৪ জানুয়ারি ২০২১, ১১ মাঘ ১৪২৭

বরিশাল ও খুলনার ম্যাচ শেষে দেখেনিন সর্বশেষ পয়েন্ট টেবিল

২০২০ ডিসেম্বর ০৪ ১৬:২৬:২৬
বরিশাল ও খুলনার ম্যাচ শেষে দেখেনিন সর্বশেষ পয়েন্ট টেবিল

প্রথম দিকেই ছন্দ হারিয়ে ফেলে বরিশাল। তামিম-ইমনের সুন্দর একটা জুটির বিদায়ের পর মিডল অর্ডারে আশা জাগিয়েও ধরে রাখতে পারেনি তৌহিদ হৃদয়। কিন্তু খুলনার বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে আর পেরে উঠেনি ফরচুন বরিশাল। উল্টো তামিমদের উড়িয়ে শুক্রবার বঙ্গবন্ধু টি-২০ কাপে ৪৮ রানের দারুণ জয় পেয়েছে জেমকন খুলনা।

মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে আগে ব্যাট করতে নেমে খুলনা করে ৬ উইকেটে ১৭৩ রান। জবাবে বরিশাল অলআউট এক বল বাকি থাকতে ১২৫ রানে। ৫ ম্যাচে তিন জয়ে ছয় পয়েন্ট নিয়ে তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে সাকিব-মাহমুদ্ল্লাহরা। ৮ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে চট্টগ্রাম। অন্যদিকে পাঁচ ম্যাচে চতুর্থ হারে চতুর্থ স্থানে ফরচুন বরিশাল।

বড় লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা দারুণ ছিল ফরচুন বরিশালের। তামিমের সঙ্গে ইমনের জুটি সাবলিল ঢঙে রান তোলা শুরু করেছিল। দলীয় অষ্টম ওভারে খুলনার হয়ে ব্রেক থ্রু এনে দেন শুভাগত হোম। এক ওভারেই তিনি ফেরান বরিশালের দুই ওপেনারকে। ৭.২ ওভারে ব্যাট চালাতে গিয়ে স্টাম্পে বল টেনে আনেন ২৬ বলে ১৯ রান করা ইমন। ওভারের শেষ বলে ডাউন দ্য উইকেটে ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে বাউন্ডারি লাইনে জহুরুলের তালুবন্দী হন তামিম ইকবাল। ২১ বলে ৩২ রানের ইনিংসে বরিশাল অধিনায়ক চার হাঁকান চারটি, ছক্কা একটি।

পরের ওভারে দলীয় স্কোরে দুই রান যোগ হওয়ার পর বিদায় নেন আফিফ হোসেনও। তিন বলে তিন রান করা আফিফ হন রান আউট। ৬০ রানে তিন উইকেট হারানো বরিশালকে এগিয়ে নিতে থাকেন চতুর্থ উইকেট জুটিতে তৌহিদ হৃদয় ও ইরফান শুক্কর।

দলীয় ৯১ রানের মাথায় শুক্করকে (১৬) ফেরান সাকিব। অপর প্রান্তে হৃদয় ছিলেন ছন্দে। তার ব্যাটেই রান আসতে থাকে। কিন্তু শেষের দিকে বলের চেয়ে আস্কিং রান রেট ছিল অনেক বেশি। দরকার ছিল ঝড়ো ব্যাটিংয়ের। বরিশালের কোন ব্যাটসম্যান সেই কাজটি করতে পারেনি। ২৭ বলে ৩৩ রান করে তৌহিদ হৃদয় সাজঘরে ফিরলে আরও ঝিমিয়ে পড়ে বরিশাল। হৃদয়ের আউট হওয়ার আগেই হাসান মাহমুদের বলে নেন অঙ্কন (১০)। মিরাজ আউট ১ রানে।

বল হাতে খুলনার হয়ে চমক দেখান হাসান মাহমুদ। ৪ ওভারে ১৮ রানে তিনি নেন চার উইকেট। শহিদুল ও শুভাগত দুটি, সাকিব ও আল আমিন নেন একটি করে উইকেট।

এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুতে উইকেট হারালেও চ্যালেঞ্জিং স্কোর গড়ে জেমকন খুলনা। দলীয় ১৯ রানের মাথায় বিদায় নেন জহুরুল ইসলাম তাসকিনের বলে বোল্ড হয়ে। ১০ বলে দুই রান জহুরুলের।

দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে অবশ্য খুলনার মুখে হাসি ফোটান জাকির আলী ও ইমরুল কায়েস। এই জুটি দলকে টেনে নিয়ে যান ১০৯ রান অবধি। অনেকটা ওয়ানডে স্টাইলে খেলা ইমরুল কায়েসকে ফিরিয়ে জুটি বিচ্ছিন্ন করেন কামরুল ইসলাম রাব্বি। ৩৪ বলে ৩৭ রান করে ফেরেন ইমরুল। দুটি চারের সঙ্গে ছক্কা হাঁকান একটি।

ইমরুল ফিফটি না পেলেও জাকির পেরেছেন। ৪২ বলে ৬৩ রানের দারুণ ইনিংস খেলে তিনি তাসকিনের শিকার। ১০টি চার বাউন্ডারি ছিল তার ইনিংসে, নেই কোন ছক্কা। টু ডাউনে নামা সাকিব বরাবরের মতো ব্যর্থ। দুই চারে আশা জাগালেও বড় হয়নি ইনিংস। ১০ বলে ১৪ রানে তিনি ফেরেন তানবিরের বলে হৃদয়ের হাতে ক্যাচ দিয়ে। পাচ ম্যাচে সাকিবের রান ৫৫, কোন ম্যাচে টপকাতে পারেননি ১৫ রানের দেয়াল।

অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ১৪ বলে খেলেন ২৪ রানের খণ্ড ঝড়ো ইনিংস। ছক্কা না পেলেও হাঁকিয়েছেন চারটি চার। শেষের দিকে একটি বল খেলার সুযোগ হাতছাড়া করেননি আরিফুল, হাঁকান ছক্কা। বিশ ওভারে খুলনার সংগ্রহ দাড়ায় ৬ উইকেটে ১৭৩ রান।

বল হাতে বরিশালের হয়ে সবচেয়ে সফল কামরুল ইসলাম রাব্বি। ৪ ওভারে ৩৩ রানে তিনি তুলে নেন তিন উইকেট। তাসকিন দুটি, তানবির নেন একটি করে উইকেট।

পাঠকের মতামত:

খেলা এর সর্বশেষ খবর

খেলা - এর সব খবর



রে