ঢাকা, মঙ্গলবার, ২ মার্চ ২০২১, ১৮ ফাল্গুন ১৪২৭

ব্রেকিং নিউজ: বাংলাদেশী কর্মী নিয়োগে নতুন নিয়োম এনেছে মালয়েশিয়া সরকার

২০২১ ফেব্রুয়ারি ২১ ১৯:০৮:৩৪
ব্রেকিং নিউজ: বাংলাদেশী কর্মী নিয়োগে নতুন নিয়োম এনেছে মালয়েশিয়া সরকার

মালয়েশিয়া সরকার বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে বেশ কিছু পরিবর্তন এনেছে। যেমন রিক্রটিং এজেন্সিগুলোকে অটো সিলেক্ট করা এবং ডিমান্ড লেটার ও পাওয়ার অব অ্যাটর্নি দেয়া। ফলে আগে থেকেই এজেন্সিগুলোর ভিসা সংগ্রহ করার প্রয়োজন হবে না। এতে অভিবাসন খরচ কমে যাবে বলে এজেন্সিগুলো দাবি।

এ কারণে সকল এজেন্সি কর্মী পাঠানোর জন্য আন্দোলন করছে। আইনত কোনো অপরাধ ছাড়া লাইসেন্সপ্রাপ্ত এজেন্সিকে কর্মী প্রেরণ করা থেকে বিরত রাখার সুযোগ নেই। তবে অবশ্যই মালয়েশিয়া সরকারের নিয়ম-কানুনের মধ্যে হতে হবে। বাংলাদেশ সরকারের কাছ থেকে মালয়েশিয়া নিশ্চয়তা চায় যে রিক্রটিং এজেন্সি উভয় দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকে বর্ণিত দায় দায়িত্ব পালন করবে।

বাংলাদেশি নাগরিকদের বৈদেশিক কর্মসংস্থানের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে রয়েছে বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সি। বৈধ এজেন্সির পাশাপাশি দেশে এবং বিদেশে রয়েছে দালাল, মিডলম্যান বা মধ্যস্বত্বভোগী।

বাংলাদেশ সরকার অভিবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান আইন, বিধি ইত্যাদি করেছে যা প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং অধীন দফতর বাস্তবায়ন করে। আইন অনুযায়ী রিক্রটিং এজেন্সির মাধ্যমেই বৈদেশিক কর্মসংস্থান হতে হবে। এছাড়াও উচ্চতর পেশার ক্ষেত্রে ব্যক্তি নিজেই ভিসা সংগ্রহ করে। বৈধ বা অবৈধ যে উপায়ে যাক না কেন সুনির্দিষ্ট নিয়ম-কানুনের মধ্য দিয়েই যেতে হয় এবং সে সব নিয়ম-কানুন পরিপালনের ক্ষেত্রে অজ্ঞতা থাকায় দালালের কাছে যেতে হয় একজন অভিবাসন প্রত্যাশীর।

অর্থাৎ কোন দেশে, কোন কাজের জন্য, বেতন ও সুযোগ-সুবিধা কেমন, নিজ দেশে পাসপোর্ট, মেডিকেল, ইমিগ্রেশন ক্লিয়ারেন্স, ভিসা নেয়া, বিমান টিকিট এবং বিমানবন্দরে যাওয়া ইত্যাদি সম্পর্কে দালালের কাছে থেকেই খুব সহজে ধারণা পায়। পাচারকারীদের কাছে থেকেও লোভনীয় ধারণা পায়। এভাবেই অধিকাংশ অভিবাসন প্রত্যাশী সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে।

এই সেবা ঘাটতি থেকেই দালাল বা মধ্যস্বত্বভোগী বা পাচারকারীর আবির্ভাব হয়েছে। এই সার্ভিসের স্বীকৃতি দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, তাহলে প্রতারণা প্রতিরোধ হবে। অভিবাসন প্রত্যাশীর খরচ ব্যাপক প্রশ্ন হিসেবে দেখা দিয়েছে। ধার-দেনা করে সংগ্রহ করা বিপুল পরিমাণ টাকা তোলার জন্যই সে অভিবাসী বিদেশে অবস্থান করে।

আন্তর্জাতিক অভিবাসী সংস্থার এক রিপোর্টে দেখা গেছে, যে অভিবাসী যা আয় করে সব ধার-দেনা শোধ এবং পরিবারের লোকজন খেয়ে ফেলে, সঞ্চয় থাকে না বা আয় বর্ধক কাজে লাগানো হয় না। অভিবাসন ব্যয় যৌক্তিক করার দাবি শুধু আন্তর্জাতিক সংস্থা বা দেশীয় এনজিও বা অভিবাসীর নয় এটি সরকারের অন্যতম এজেন্ডাও বটে। অভিবাসীদের নিয়ে গবেষণা করছেন বাংলা ভিশনের অভিবাসন বিষয়ক সাংবাদিক মিরাজ হোসেন গাজী। তিনি বলেন, ‘বাস্তবতা হচ্ছে, একজন অভিবাসী চাকরি নিয়েই বিদেশে আসেন। কিন্তু তার এ অর্থ বিনিয়োগের রিটার্ন বড়ই করুণ।’

বিদেশে যাওয়ার পরে-বেতন নাই, যে কাজ দেয়ার কথা সে কাজ দেয়নি, থাকার দজায়গা ভালো না, মালিক ভালো না, এখন ধারের টাকা শোধ হয়নি ইত্যাদি অভিযোগগুলো শোনা যায়। এ কারণে কর্মস্থল থেকে পালিয়ে যায়, অবৈধ হয় এবং জেল জরিমানা শেষে দেশে ফেরত পাঠিয়ে দেয় সংশ্লিষ্ট দেশ। অবস্থানকারী দেশে এমন কিছু স্বদেশি থাকেন যারা চাকরি ও ভিসার ব্যবস্থা করে থাকেন। এতে কিছুটা হলেও আয়ের উপায় হয়। এসবই ঘটে বিদেশে যাত্রা করার আগের অবস্থা ও আবেগের ফলে।

বৈদেশিক কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে রিসিভিং কান্ট্রি অর্থাৎ যে দেশ চাকরি দেয় সে দেশের নিয়ম-কানুন এবং চাহিদা অন্যতম বিষয়। বাংলাদেশের ব্যুরো অব ম্যানপাওয়ার, এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড ট্রেনিংয়ে বিদেশে চাকরির সুযোগ সম্পর্কে হালনাগাদ তথ্য আছে এবং তাদের প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলো সে অনুযায়ী তৈরি করে।সরকারও একই তথ্যের উপর ভিত্তি করে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে চুক্তি করে। যার উপর ভিত্তি করে বাংলাদেশের রিক্রটিং এজেন্সি লোক প্রেরণ করে। রিক্রটিং এজেন্সিগুলো নিয়োগকারী দেশের শ্রম বাজারের হালহকিকত সবচেয়ে ভালো জানে কারণ তাদের সে বাজারের সাথেই প্রতিযোগিতা করতে হয়।

পাঠকের মতামত:

বিশ্ব এর সর্বশেষ খবর

বিশ্ব - এর সব খবর



রে