ঢাকা, বুধবার, ১৪ এপ্রিল ২০২১, ৩০ চৈত্র ১৪২৭

সেরাদের সেরা বাংলাদেশের গর্ব জাহানারা

২০২১ মার্চ ০৭ ২২:৫৮:৩০
সেরাদের সেরা বাংলাদেশের গর্ব জাহানারা

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে যেকোনো নারীর জন্য খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে নেয়া অনেক বড় চ্যালেঞ্জ। সেই চ্যালেঞ্জে জয়ী হয়ে দেশবাসীর জন্য গৌরব বয়ে আনা আরও বেশি কঠিন। আর এ কাজটি এখনও পর্যন্ত সফলতার সঙ্গেই করে চলেছেন বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের পেস বোলিং অলরাউন্ডার জাহানারা আলম।

২০১৮ সালে ক্রিকেটে প্রথম কোনো শিরোপা জিতেছিল বাংলাদেশ। এশিয়া কাপের ফাইনালে শক্তিশালী ভারতকে ৩ উইকেটে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল। সেই ম্যাচের শেষ বলে ২ রান নিয়ে দলকে শ্বাসরুদ্ধকর এক জয় এনে দেন জাহানারা।

এই চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পথে ক্রিকেটকে নিজের সবকিছু বানানোর যাত্রাটা মোটেও সহজ ছিল না জাহানারার। শিশু বয়সে ভলিবল-হ্যান্ডবল দিয়ে নাম লেখান খেলাধুলায়। সেখান থেকে ভাগ্যের লিখন তাকে নিয়ে আসে ক্রিকেটে। আর পরে এই ক্রিকেট দিয়েই তিনি এখন দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্ব নারী ক্রিকেটের পরিচিত এক মুখ।

ছোটবেলা থেকে খেলাধুলায় নাম লেখানোয় পরিবার ছাড়া আর কারও ন্যুনতম সমর্থন পাননি জাহানারা। আশপাশের মানুষ পেছনে বলেছে নানান কথা, পরিবারকে শুনিয়েছে অনেক বাজে মন্তব্য। সেসবের সঙ্গে রীতিমতো লড়াই করেই এখন সফল নারী ক্রীড়াবিদ জাহানারা।

বাংলাদেশের হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তার যাত্রা শুরু হয়েছে ২০১১ সালে। তবে এরও প্রায় তিন বছর আগে থেকেই ছিলেন জাতীয় দলের সঙ্গে। একজন পেশাদার ক্রীড়াবিদ হিসেবে দীর্ঘ এই দেড় দশকের যাত্রায় অনেক কিছুরই মোকাবিলা করতে হয়েছে জাহানারাকে।

নারী দিবসে জাগো নিউজের বিশেষ আয়োজনে তিনি কথা বলেছেন সেসব বিষয়ে। একইসঙ্গে সমাজের সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, দৃষ্টিভঙ্গি বদলে নারীদের প্রাপ্য সম্মান দিতে। এতে করে নারীরাও দেশের উন্নতিতে সমান অবদান রাখতে পারবে।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে আজ থেকে প্রায় ১৫-১৬ বছর আগে একজন নারী হিসেবে ক্রিকেট তথা খেলাধুলায় আসা কতটা কঠিন ছিল? আশপাশের প্রতিক্রিয়া কেমন ছিল?

জাহানারাঃ তখন তো আসলে ওভাবে তেমন সমর্থনই পাইনি। যদি বলেন সমর্থনের কথা, পরিবারের কাছ থেকে সমর্থনটা ছিল। এর বাইরে আশপাশের কোনো সমর্থনই আমি পাইনি। খুলনার টুটপাড়ায় আমি থাকতাম। ওখানের আশেপাশের মানুষরা আমার বাবাকে বলতেন যে, মেয়েকে খেলাধুলায় কেন দিচ্ছো? মেয়ে বড় হচ্ছে!

আমি যখন খেলাধুলায় নাম লেখাই, আমার বয়স নয় বছর। তখন আমি হ্যান্ডবল-ভলিবল খেলি। যখন ক্রিকেটে এলাম, তখন আমার বয়স ১৪ বছর। শুরুতে তো তখন অনেক ছোট। আস্তে আস্তে যখন বড় হয়েছি, তখন শুনতে হয়েছে যে মেয়ে বড় হচ্ছে, মেয়েকে কেন এভাবে ছেলেদের পোশাক পরিয়ে খেলতে দিচ্ছেন? এগুলো ঠিক না। আমাকে এটাও শুনতে হয়েছে যে, মেয়ের চেহারা নষ্ট হয়ে যাবে, পরে তো বিয়ে দিতে পারবেন না। আবার এমনও কথা হয়েছে যে, ছেলেদের সঙ্গে ক্রিকেট খেলছে। এটা তো সমাজবিরোধী।

আমার বাবা শুধু একটা কথাই বলেছেন, সে এমন কোনো কাজ করছে না যেটা অসম্মানজনক। সে খেলতে চাচ্ছে, খেলতে দাও। আমার কাছে মনে হচ্ছে এটা সম্মানজনক কাজ, তাকে খেলতে দাও। এই যে পরিবারের কাছ থেকে যে সমর্থনটা পেয়েছি, এখনও পর্যন্ত পাচ্ছি। এখন আমি যে অবস্থানে দাঁড়িয়ে আছি, এটা আমার পরিবারেরই অবদান।

পরবর্তীতে আসলে হয় কী, পৃথিবীতে সবাই সাফল্যের পাগল। লাভ ছাড়া কেউ বিনিয়োগ করতে চায় না। আমি যখন সাফল্য নিয়ে এলাম, ২০০৮ সালে জাতীয় দলে ঢুকলাম এবং হংকংয়ের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডে ম্যাচে আনঅফিসিয়াল হ্যাটট্রিক করলাম। তখন দেশের শীর্ষস্থানীয় এক দৈনিকে আমার বড় একটি ছবি ছাপা হয়। তখন আস্তে আস্তে মানুষ জানতে পারল।

তারপর যখন আমি শ্রীলঙ্কা সফর করলাম, এক কথায় প্রথমবার যখন বিদেশ সফর করলাম। তখন আমার এলাকার মানুষের খুশি আর দেখে কে! পুরো বাধভাঙা খুশি যে, তাদের এলাকার একটা খেলতে বিদেশ যাচ্ছে এবং পত্রিকায়, টিভিতে, খবরে তাকে দেখা যায়।

এই যে সাফল্য আনার পর যে বিশাল সমর্থনটা, এটা বলতে পারেন যে আমাদের সমাজের একটা বৈশিষ্ট্য। এখান থেকে যদি আমরা বের হয়ে আসতে পারি, তাহলে আমার মনে হয় যে সমাজব্যবস্থাটা আরও সুন্দরভাবে এগোতে পারবে। আমাদের দৃষ্টিভঙ্গিও যদি একটু বদলাতে পারি, তাহলে আমাদের কাজগুলো আরও সহজ হয়ে যায়। এ জিনিসটা আসলে কাউকে জোর দিয়ে করা যায় না। এটা যার যার অবস্থান থেকে তার ভেতর থেকে আসতে হবে।

আমরা যদি অনেক বড় চিন্তা না করে, ছোট ছোট ক্ষেত্র ধরেই চিন্তা করি যে, আমার পরিবার থেকেই শুরু হোক বিষয়টা। বাইরের কথা চিন্তা না করে যদি আমি চিন্তা করি আমার ঘরে একটা বোন আছে, মা আছে বা ভাবী আছে- বা যেই হোক, তাদেরকে যদি ঐভাবে সম্মান করা হয়... এমন না যে শুধুমাত্র খেলাধুলায়, আমি প্রত্যেকটা সেক্টরের কথাই বলছি। বাংলাদেশে এখন বিভিন্ন সেক্টরেই নারীদের অবদান অপরিসীম। শুধু বাংলাদেশেই নয়, সারাবিশ্বেই এটা বিদ্যমান।

কিন্তু আমরা এখনও পুরুষশাষিত সমাজে বসবাস করছি। যদিও আমাদের প্রধানমন্ত্রী একজন নারী, তবু আমার কাছে মনে হয় যে আমরা পুরুষশাষিত সমাজেই বাস করছি। কিছু ঘটনার প্রেক্ষিতে বলছি, অনেক সময় দেখা যায় যে, অনেক পরিবারে মেয়েরা তাদের প্রতিভার বিকাশ ঘটাতে পারছে না। এমন না যে তারা খারাপ কিছু চাইছে, তারা ভালো কাজই করতে চায়। কখনও কখনও তারা পড়তে চায় কিন্তু পড়তে দেয়া হচ্ছে না, খেলাধুলা করতে চায় কিন্তু সেটা করতে দেয়া হচ্ছে না বা চাকরি করতে চাইলে সেখানেও সমর্থন পাচ্ছে না।

আপনি চিন্তা করুন, একজন শিক্ষিত নারীর বিয়ে হলো এবং তিনি চাকরি করতে পারছে না। যদি তার স্বামীর বাড়িতে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত বিপদে পড়ে, তাহলে কিন্তু তার সামনে আর কোনো পথ খোলা থাকছে না। আমি এক্ষেত্রে দেখেছি যে, অনেক পরিবার কিন্তু মুখ ফিরিয়ে নেয় যে, আমরা কিছু জানি না, শ্বশুড়বাড়ি গিয়েছ তো ওখানেই থাকো।

নারী দিবস দেখে আসলে এসব কথা বলছি। শুধু ইতিবাচক বললে অন্য বিষয়গুলো সামনে আসবে না। তো আমি শুধু এটাই বলবো যে, আমরা যদি দৃষ্টিভঙ্গিটা বদলাই, সেখান থেকে নারীদের সম্মান করতে শিখি... আমাদের মূল বিষয় হওয়া উচিত সম্মান দেয়া, এটা সবার আগে আসা উচিত।

আমার বিশ্বাস, যদি আমরা একটু সম্মান দেখাই, নারীদের প্রাপ্য সম্মান দেই এবং নিজের দৃষ্টিভঙ্গি বদলাই তাহলে নারীরা যে অবদান রাখছে এবং যে নারীরা ঘরের কোণে পড়ে আছে, তাদের প্রতিভা ধামাচাপা পড়ে আছে, সেগুলো কিন্তু আরও সুন্দরভাবে সামনে আসবে। আমার বিশ্বাস, বাংলাদেশের উন্নয়নে অবদান রাখবে এই নারীরা, ছেলেদের পাশাপাশি।

ভলিবল-হ্যান্ডবল দিয়ে শুরু করলেও পরে ক্রিকেটে আসার পেছনের গল্পটা কী?

জাহানারাঃ অনেকেই জিজ্ঞেস করে যে, আমার খেলাধুলায় আসার পেছনে কার অবদান বেশি? একজন নারী হিসেবে আল্লাহ্‌র রহমতে নিজেকে সফল মনে করি। এ কারণে মনে করি যে, আমার যে পেশা ক্রিকেট... এর মাধ্যমে যে উপার্জনটা আমি করি, সম্পূর্ণ সৎ উপায়ে কষ্ট দিয়ে আয় করি। পরিশ্রম করে নিজের উপার্জন দিয়ে নিজে চলতে পারি। তাই আমি বলতে পারি যে, আমি পেশাদার ক্রিকেটার। তো এইক্ষেত্রে নিজেকে মোটামুটি সফল বলি আমি। ক্রিকেটে অনেক সাফল্য হয়তো পেয়েছি, সেগুলোর কথা বলছি না।

তো এর পেছনে কার অবদান বেশি? কার অনুপ্রেরণায় আসলাম? আমি যখন ক্লাস ফাইভ থেকে সিক্সে উঠব তখন আমার বয়স নয় বছর, নয় থেকে দশে পা দিবো। খুলনার পাইওনিয়ার গার্লস হাই স্কুলে পড়তাম। তখনকার সময়ে খেলাধুলার জন্য খুব জনপ্রিয় ছিল। টিফিনের বিরতির সময় দেখলাম বড় আপুরা অনুশীলন করছে। আমার খুব ইচ্ছে হলো। আমি চলে গেলাম এবং বললাম, আমাকে একটু খেলতে নেবেন? উনারা সানন্দে নিয়ে নিলেন। সেই প্রথম আমার ভলিবলে হাতেখড়ি। আমার রিসিভ করা দেখে ক্রীড়া শিক্ষকের পছন্দ হয়ে গেল। উনি আমাকে বললেন, এখন থেকে নিয়মিত অনুশীলনে আসবে।

তারপর থেকে আমাকে আর পায় কে! মানে লেখাপড়ায় ফাঁকি দেয়ার চূড়ান্ত করে ফেলি। স্কুলে ক্লাস করতাম শুধু চারটা। টিফিনের বিরতির পর থেকে অনুশীলন শুরু। তখন থেকে এখন পর্যন্ত আমি লেখাপড়াটা কম করেছি। তবে এই ফাঁকে আমি সবাইকে বলে রাখতে চাই, অবশ্যই পড়াশোনাকে সমান গুরুত্ব দিতে হবে। প্যাশন বা শখ যাই হোক না কেন, পড়াশোনাকেও সমান তালে চালিয়ে নিতে হবে।

আমি আসলে খেলাধুলার দিকে বেশিই পাগল ছিলাম। তখন বাসায় শুধু বললাম যে, কালকে থেকে অনুশীলন করব। বাসায় বললো, ওকে ঠিক আছে। কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু এটা নিশ্চিত করতে হবে যে, সন্ধ্যার আজানের আগে বাসায় ঢুকবে। তো এই নিয়মটুকু মানতে হবে। পরে যখন ক্রিকেট অনুশীলন শুরু করি, তখন সময়ের বাধটা আরেকটু বাড়তে থাকে।

আমার স্কুলের ঠিক বিপরীতেই থাকতেন প্রয়াত কোচ শ্রদ্ধেয় শেখ সালাউদ্দিন স্যার। ক্রিকেট বোর্ডের কোচ ছিলেন তিনি। তখন সারা বাংলাদেশে নারী ক্রিকেটের একটা টুর্নামেন্ট আয়োজনের কথা চলছিল। সেজন্য প্রতি ডিভিশন থেকে একটি করে দল বানানোর কথা হয়। তো সালাউদ্দিন স্যার এজন্য খেলোয়াড় খুঁজছিলেন। আমাকে ট্র্যাকস্যুট, ট্রাউজার পরিহিত অবস্থায় স্কুলের সামনে দেখে জিজ্ঞেস করলেন ক্রিকেট খেলব কি না? আমি একবাক্যে রাজি হয়ে বললাম যে, হ্যাঁ অবশ্যই খেলব। তবে আগে আমার ক্রীড়া শিক্ষকের অনুমতি নিতে হবে। এক্ষেত্রে আমি বাসায়ও বলিনি। আগে ক্রীড়া শিক্ষকের অনুমতিটা নেই। আমার ক্রীড়া শিক্ষককে এটা বলতেই উনি বেজায় খুশি। আমরা একঝাঁক শিক্ষার্থী ক্রিকেটের ট্রায়ালের জন্য চলে যাই।

ট্রায়ালের দিন হলো মজা। আমি কিছুই পারিনি। বোলিং, ব্যাটিং, ফিল্ডিং কোনোটাই পারিনি। তাই আমাকে ব্যাটিং সাইডে রাখা হলো যে, কিছু পারে না, ব্যাট হাতে দাঁড়িয়ে থাকতে পারবে। এক মাস পর আমি নিজেকে পেস বোলার হিসেবে আবিষ্কার করলাম। আমার ফিটনেসটা ভালো ছিল। আমার একটা অভ্যাস ছিল হ্যান্ডবল-ভলিবলের অনুশীলনে সবসময় আধঘণ্টা বা এক ঘণ্টা আগে চলে যেতাম। গিয়ে একা একা অনুশীলন করতাম। এটা আমার একটা অভ্যাস, যা এখনও রয়ে গিয়েছে। তো এজন্য বাড়তি কষ্ট করতাম, ছোটাছুটি দৌড়াদৌড়ি। এ কারণে ফিটনেসটা ভালো ছিল। হয়তো এজন্যই আমার পেস বোলিংয়ে আসা। খুলনায় সবার চেয়ে জোরে বোলিং করতাম, ঐ সময় থেকে ভালো সুইংও করতাম।

২০০৭ সালে ঢাকার বেশ কয়েকটি মাঠ মিলিয়ে আমাদের যে প্রথম ওপেন টুর্নামেন্ট হলো, সেখানে আমি সর্বোচ্চ উইকেট নিয়েছিলাম, ১৩টা। বলতে পারেন যে, সর্বোচ্চ উইকেটশিকারী হিসেবেই জাতীয় দলের ক্যাম্পে ঢোকা আমার। তবে আমি দলে সুযোগ পাইনি। ২০০৭ সালে ক্যাম্প করেছি, দলের সঙ্গে ছিলাম। পরে ২০০৮ সালে জাতীয় দলে ঢুকি। এভাবেই আমার শুরু। সেই ২০০৮ থেকে সবার দোয়ায় এখনও চলছে।

ক্রিকেটে প্রায় এক যুগের যাত্রা আপনার। যেখানে ইতিবাচক অনেক স্মৃতি আছে। তবে এমন কোনো স্মৃতির কথা কী মনে পড়ে যেটার কারণে মনে হয়েছে যে, এখন দেখিয়ে দিতে হবে বা ভালো করতেই হবে?

জাহানারাঃ এমন তো আসলে অনেক অনেক ঘটনা আছে। কিন্তু এখন সেগুলো সবাইকে বলার মতো সময় হয়নি আমার মতে। আরও কয়েকদিন যাক। তারপর না হয় এগুলো নিয়ে বলা যাবে।

তাহলে স্মরণীয় স্মৃতির দিকেই ফেরা যাক। আপনার শেষ শটেই ২০১৮ সালের নারী এশিয়া কাপ জিতেছিল বাংলাদেশ। সেই ম্যাচের পর ক্রিকেট বিশ্বের কাছ থেকে কেমন অভিনন্দন বা শুভেচ্ছাবার্তা পেয়েছেন?

জাহানারাঃ অনেক! অনেক বেশি প্রশংসা পেয়েছি। আল্লাহর রহমত, আমি আল্লাহ্‌র প্রতি অসংখ্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি। তার দয়া ও রহমতে শুধু বাংলাদেশ না আমার অনুসারী সারা বিশ্বেই আছে। প্রায় সব ক্রিকেট খেলুড়ে দেশেই আমার অনুসারী আছে। তারা যে শুধু নামেই অনুসারী, এমনটা নয়। নিয়মিত খেলার খোঁজখবরও রাখেন। আমার সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেক বার্তা আসে। এর বাইরেও যখন বাইরে ট্যুর করি, তখন বিদেশি খেলোয়াড় বা দর্শকদের কাছ থেকেও অনেক প্রশংসা পাই। এতে বুঝতে পারি যে তারা আমার খেলা পছন্দ করে। আমার জন্য সবসময় শুভকামনা জানায়।

বেশিরভাগ ভক্ত বা অনুসারী ভারতের। পুরো ভারতেই... কলকাতা, মুম্বাই বা হায়দরাবাদ... এটা আমি বেশি অনুভব করতে পেরেছি দুইবার আইপিএল খেলার ফলে। প্রথমবার ভারতে খেলার সময় বুঝতে পেরেছি। দ্বিতীয়বার দুবাইয়ে খেলতে গিয়েও খেলোয়াড়দের মাধ্যমে আমি অনেক শুভকামনা পেয়েছি। পরবর্তীতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা, আয়ারল্যান্ডসহ প্রায় সব ক্রিকেটখেলুড়ে দেশ থেকেই শুভকামনা পেয়েছি। আলহামদুলিল্লাহ্‌। আমি চাই, এই মানুষের ভালোবাসা যেন সারাজীবন থাকে এবং আমি যেন এমন কিছু করে যেতে পারি যেন মানুষ আমাকে মনে রাখে।

একদম শেষের দিকে আমরা। একটু ক্রিকেটের বাইরে যাওয়া যাক। ২০২০ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে গিয়ে 'বিশ্বকাপের ক্রাশ' হয়ে গেলেন আপনি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এটি ছড়িয়ে পড়েছিল। খেলার বাইরে যে এই অন্যরকম খ্যাতি, এটা কেমন উপভোগ করেন?

জাহানারাঃ ভালো জিনিস তো সবসময়ই ভালো লাগে। এগুলো বলতে পারেন যে, আমার একটা অনুপ্রেরণা। ক্রিকেটার হিসেবে যখন কেউ ভালো কিছু বলে, ওটাও আমার অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করে। স্মার্ট ক্রিকেটার বা সুন্দরী ক্রিকেটার- যে যেভাবেই আখ্যায়িত করুক ভালো লাগে। এজন্য যে আমি যদি নিজেকে গুছিয়ে রেখে চলতে পারি, তাহলে অন্য কারও জন্য আমি একজন রোল মডেল হতে পারব।

কেউ যদি আমার মতো চিন্তা করে বা আমাকে অনুসরণ করে... আমি মনে করি যে, আমি শৃঙ্খলাবদ্ধ জীবন কাটাই, আলহামদুলিল্লাহ্‌। আমি চেষ্টা করি, যতসম্ভব ইতিবাচক থেকে চলা যায়। অনেকে হয়তো আমাকে রোল মডেল হিসেবে চিন্তা করে। আমার মাথায় যখন এটা এসেছে, তখন আমি নিজেকে আরও গুছিয়ে চলার চিন্তা করছি। যেন আমার নেতিবাচক কিছু তাদের চোখে না পড়ে এবং ইতিবাচকটাই তারা নিতে পারে। এটা হলে ভবিষ্যতে তারা ক্রিকেটের পাশাপাশি ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে উঠবে।

আপনি যে কাজই করেন না কেন, সেখান থেকে ভালো একটা ফিডব্যাক পেতে হলে, আগে আপনাকে ভালো মানুষ হতে হবে। তাহলে আপনি আপনার কাজের ক্ষেত্রে শতভাগ এফোর্ট দিতে পারবেন। এজন্য আমার মনে হয় যে, কেউ যদি আমাকে অনুসরণ করে, আগে আমার ভালো জিনিসটাই যেন তার চোখে পড়ে। প্রশংসা তো সব ভালো জিনিসের জন্যই হয়। তো আমার বিশ্বাস, যারা আমাকে অনুসরণ করে তারা আমার থেকে ভালো কিছু নেবেন এবং এই ভালো কিছু দেয়ার মধ্যে সবসময়ই অন্যরকম শান্তি।

নারী দিবসে সমাজের নারীদের জন্য বার্তা?

জাহানারাঃ সব দিনই নারীদের। আমার কাছে প্রতিদিনই নারী দিবস। শুধু একটা দিন (৮ মার্চ) হলো যে একটু আলাদা করে বিশেষভাবে সম্মান দেয়া, অন্যভাবে চিন্তা করা- এটাই হয়তো নারী দিবস। এটা জাস্ট আলাদা একটা সম্মান যে, প্রত্যেকটা দিবস এমনভাবে পালন করা হয়। তবে আমার কাছে মনে হয় যে প্রত্যেকটা দিনই আসলে নারীদের। নারীরা যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে, সামনেও আরও এগোবে ইনশাআল্লাহ্‌।

আমি বিশ্বাস করি, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে পুরুষদের পাশাপাশি নারীরাও যদি সমানভাবে এগিয়ে যায় এবং প্রত্যেকটা ভালো কাজে সমান অবদান রাখতে পারে- তাহলে এটা বাংলাদেশের উন্নতিতে আরও সাহায্য করবে এবং দেশকে বহির্বিশ্বে আরও ভালোভাবে তুলে ধরবে।

পাঠকের মতামত:

খেলা এর সর্বশেষ খবর

খেলা - এর সব খবর



রে