ঢাকা, রবিবার, ১৬ মে ২০২১, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮

ব্রেকিং নিউজ: ৭ দিন নয় হতে পারে ১৪ দিনের কঠোর লকডাউন

২০২১ এপ্রিল ১০ ২১:০৬:০১
ব্রেকিং নিউজ: ৭ দিন নয় হতে পারে ১৪ দিনের কঠোর লকডাউন

করোনার সংক্রমণ মোকাবেলায় বিধিনিষেধ বা লকডাউনের সময়সীমা শেষ হচ্ছে রোববার (১১ এপ্রিল) রাত ১২টায়। এরপর বুধবার (১৪ এপ্রিল) থেকে এক সপ্তাহের সর্বাত্মক লকডাউনের ঘোষণা দিয়ে রেখেছে সরকার। তাহলে মাঝের সোম (১২ এপ্রিল) ও মঙ্গলবার (১৩ এপ্রিল) কী হবে? এই দুই দিন কি সবকিছু স্বাভাবিক থাকবে? এটা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

শনিবার সন্ধ্যায় জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বলেন, ’১১ তারিখ রাত ১২টায় শেষ হবে এই সপ্তাহের বিধিনিষেধের সময়সীমা। আবার ১৪ তারিখ থেকে এক সপ্তাহের লকডাউন আসছে। এই অবস্থার মাঝের সময়ে কী হবে সেটা আমি এই মুহূর্তে জানি না। তবে আশা করি রোববার এ বিষয়ে একটি সিদ্ধান্ত আসবে।’

নতুন কোনো সিদ্ধান্ত আসার সম্ভাবনা আছে কি না-এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘যে অবস্থায় আছি সেখান থেকে তো পেছনে ফেরার সুযোগ নেই। আমার মনে হয় এখন যেভাবে চলছে আপাতত সামনের দুই দিন সেভাবেই চলতে পারে।’

অবশ্য এই দুদিনের ব্যাপারে বিশেষজ্ঞরা দুই ধরনের পরামর্শ দিয়েছেন। তাদের মতে, সরকারের উচিত চলমান বিধিনিষেধ আরও এক সপ্তাহ অব্যাহত রাখা। তাহলে সংক্রমণের পরিস্থিতি বোঝা যাবে এবং মাঝখানের দুদিনে সংক্রমণ বাড়ার ঝুঁকিও থাকবে না। তবে তারা এমনও বলেছেন, সরকার সর্বাত্মক লকডাউন সফল করার জন্য গার্মেন্টসসহ নিম্ন আয়ের মানুষদের চলে যেতে দিতে চায়। যাতে প্রয়োজন হলে পরবর্তী লকডাউন বাড়াতে পারে।

মার্চের শুরুর থেকে নতুন করে সংক্রমণ বাড়তে থাকায় গত রবিবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ১১ দফা নির্দেশনা দিয়ে ৭ থেকে ১১ এপ্রিল পর্যন্ত গণপরিবহন বন্ধসহ বিভিন্ন বিধিনিষেধ ঘোষণা কর। শহরের ভেতরে চলা বাস, অটোরিকশার সঙ্গে তখন নৌ, রেল ও অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটও স্থগিতের কথা ঘোষণা করা হয়। পরে ৬ এপ্রিল সেই সিদ্ধান্ত থেকে কিছুটা সরে এসে ঢাকা, চট্টগ্রাম মহানগরসহ গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা, রাজশাহী, খুলনা, সিলেট, বরিশাল, রংপুর ও ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন এলাকার সড়কে বুধবার থেকে সকাল ৬টা-সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত অর্ধেক আসন খালি রেখে গণপরিবহন চলাচলের কথা জানানো হয়।

এদিকে শুক্রবার সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের জানিয়েছেন, ১৪ এপ্রিল থেকে ‘কঠোর লকডাউন’ আসছে। সিদ্ধান্তের কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, ‘লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার, সঙ্গে বাড়ছে জনগণের অবহেলা ও উদাসীনতা। এমতাবস্থায় চলমান এক সপ্তাহের লকডাউনে জনগণের উদাসীন মানসিকতার কোনো পরিবর্তন না হওয়ায়, সরকার জনস্বার্থে আগামী ১৪ এপ্রিল থেকে এক সপ্তাহের জন্য সর্বাত্মক লকডাউনের বিষয়ে সক্রিয় চিন্তা-ভাবনা করছে।’

সেই ‘লকডাউন’ কেমন হতে পারে- তার আভাস দিয়ে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বলেন, ১৪ এপ্রিল থেকে সাত দিনের জন্য জরুরি সেবার প্রতিষ্ঠান ছাড়া সরকারি-বেসরকারি সব অফিস বন্ধ থাকবে।

সর্বাত্মক লকডাউনের ঘোষণা কবে আসতে পারে জানতে চাইলে ফরহাদ হোসেন বলেন, ‘রোববারও ঘোষণা হতে পারে। তবে নিশ্চিত নই।’

কভিড-১৯ জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি ১৪ দিনের লকডাউন দেওয়ার জোর সুপারিশ করেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ জানানো হয়েছে ১৪ দিনের পূর্ণ লকডাউনের জন্য। ফলে সাত দিনের লকডাউন ঠিক থাকে নাকি ১৪ দিনের হবে সেটি নির্ভর করছে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের ওপর।

সর্বাত্মক লকডাউন যেমন হতে পারে : ওষুধের দোকান ও নিত্যপণ্যের দোকান জরুরি সেবার মধ্যে পড়বে। নিত্যপণ্যের দোকান খোলা রাখার জন্য নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দেওয়া হতে পারে। আর সরকারের অন্যান্য জরুরি সেবা হলো বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি, ফায়ার সার্ভিস, টেলিফোন, স্বাস্থ্য, ত্রাণ বিতরণ, স্থলবন্দর, ইন্টারনেট, অত্যাবশ্যকীয় পণ্য আনা-নেওয়া ও এর সঙ্গে জড়িত অফিসগুলো। এগুলোর বাইরে সবই বন্ধ থাকবে।

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে