ঢাকা, শনিবার, ১৫ মে ২০২১, ১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮

‘আমি আর তামিম বাংলাদেশের সেরা উদ্বোধনী জুটি’

২০২১ এপ্রিল ১৩ ১৯:৩৫:২৯
‘আমি আর তামিম বাংলাদেশের সেরা উদ্বোধনী জুটি’

দীর্ঘ দিন ধরে একসাথে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলছেন তামিম ইকবাল ও ইমরুল কায়েস। তামিমকে কখনো দলে জায়গা হারাতে না হলেও আসা-যাওয়ার মধ্যেই থাকেন ইমরুল। তবুও তিনি মনে করেন বাংলাদেশের সেরা উদ্বোধনী জুটি তারা দুইজনে।

টেস্টে তামিম ও ইমরুল একসাথে উদ্বোধন করেছেন ৫৮টি ইনিংস। ৪ বার শতক ও ১১ বার অর্ধশতক পেরিয়েছে তাদের জুটি। বাংলাদেশের পক্ষে টেস্টে সর্বোচ্চ ৩১২ রানের জুটিও তামিম ও ইমরুলের দখলে। টেস্টে তারা দুইজনে জুটি বেঁধে করেছেন মোট ২৪৩৩ রান, যা বাংলাদেশের পক্ষে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।

ওয়ানডেতে তাদের জুটি বাংলাদেশের পক্ষে চতুর্থ সর্বোচ্চ। ৬২ ইনিংসে ১০ বার অর্ধশতক ও ২ বার শতক পেরিয়েছে তামিম-ইমরুল জুটি। রান এসেছে ১৯২৭। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সব মিলিয়ে ১২৫ ইনিংসে তাদের জুটির সংগ্রহ ৪৪২৫ রান। সাকিব আল হাসান ও মুশফিকুর রহিমের জুটির পরে এটাই আছে দ্বিতীয় স্থানে।

ইমরুল মনে করেন তামিমের সাথে তার উদ্বোধনী জুটিই বাংলাদেশের সেরা জুটি। বিডিক্রিকটাইমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইমরুল বলেন,

‘আমি আর তামিম যখন ঘরোয়া ক্রিকেটেও একসাথে খেলি, আমি মনে করি যেন আমরা বাংলাদেশ দলেই ইনিংস উদ্বোধন করছি। আমি এভাবে অনুভব করি যে বাংলাদেশে আমরাই সেরা জুটি, ইনিংস উদ্বোধনে।’

নিজের ক্যারিয়ারের উত্থান-পতন নিয়েও কথা বলেন এই ব্যাটসম্যান, ‘একজন ক্রিকেটার হিসেবে প্রতিটি বছরই আপনার ভালো যাবে না। কোনো বছর খুব ভালো যাবে, কখনো মোটামুটি আবার কখনো একদমই খারাপ যাবে। ওইসময়টা আপনি নিজেকে কতটুকু ধরে রাখতে পারছেন, কতটুকু সমর্থন পাচ্ছেন এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’

মাশরাফির আশ্বাসে আশাবাদী ইমরুল

‘একটা সময় ছিল আমি তিন সংস্করণেই খেলছি আবার কখনো একটিতে খেলছি। ২০০৯ সালে অভিষেকের পরে আমি দুইটি সংস্করণ দিয়ে শুরু করেছিলাম। ২০১১ সালের বিশ্বকাপের পরে টানা খেলেছিলাম। তারপর একসময় বাদ পড়লাম। এরপর থেকেই আসা-যাওয়ার ভেতরে আছি। কখন কোন সংস্করণে খেলতে হবে সেটা আমি নিজেও জানি না। একজন যদি জানে আসলে সে কোনো সংস্করণে খেলবে, এটা তারজন্য গুরুত্বপূর্ণ; তাহলে পারফর্ম করা সহজ হয়।’

ইমরুল জানান তার প্রিয় সংস্করণ ওয়ানডে। নিজের পারফর্ম কীভাবে ভালো হয় সেই ব্যাখ্যাও দেন তিনি,

‘আমি সবসময় ওয়ানডে খেলা বেশি পছন্দ করি। আমার রেকর্ড দেখেন ওয়ানডেতেই আমি সবসময়ই এগিয়ে আছি। আমি যখন ভালো খেলেছিলাম তার কারণ ছিল ধারাবাহিক ম্যাচ খেলতে পেরেছিলাম ২০০৯ থেকে ২০১১ পর্যন্ত। একটি সিরিজ খারাপ করলেও তখন পরের সিরিজে ভালো করেছি। কারণ তখন আমার বিশ্বাস ছিল যে বাদ পড়ব না। কিন্তু যখন একজন খেলোয়াড় জানে না যে পরের ম্যাচে সে থাকবে কিনা তখন তার কাছে আপনি শতভাগ পাবেন না। কারণ তখন তার মাথায় অনেককিছু কাজ করে।’

দর্শকরা সবসময় ক্রিকেটারদের কাছে সেরা পারফরম্যান্স চান, কিন্তু এটা বাস্তববাদী চিন্তা-ভাবনা নয় বলেই মন্তব্য করেন ইমরুল। সাকিবের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন,

‘হ্যা, দর্শকরা চান যেন খেলোয়াড়েরা সব ম্যাচে ভালো খেলে। এমনকি সাকিবও যদি এক ম্যাচ খারাপ খেলে মানুষ বলে কেন খারাপ খেলল। কিন্তু সাকিব তো আর মেশিন না যে সাকিব প্রতিদিন ভালো খেলবে। খারাপ দিন তো যেতেই পারে। এই জিনিসটা সবাইকেই মানতে হবে। তবে যখনই যেই সুযোগ পায়, তার টানা কিছু ম্যাচ খেলার সুযোগ পাওয়া উচিত। যখন পারবেই তখন আর হবে না, বাদ দেওয়া যাবে। কিন্তু দুই/তিনটা সিরিজ পরে এক ম্যাচ খেলে ভালো করা কারো পক্ষেই সম্ভব না।’

পাঠকের মতামত:

খেলা এর সর্বশেষ খবর

খেলা - এর সব খবর



রে