ঢাকা, রবিবার, ১৬ মে ২০২১, ১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮

শ্রীলঙ্কা সফরে বাংলাদেশের সামনে তিনটি প্রশ্ন সব সময় ঘুর পাক খাচ্ছে

২০২১ এপ্রিল ২০ ১৩:০০:০০
শ্রীলঙ্কা সফরে বাংলাদেশের সামনে তিনটি প্রশ্ন সব সময় ঘুর পাক খাচ্ছে

বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে পয়েন্ট টেবিলের তলানির দুই দল বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কা। পাঁচ ম্যাচ খেলেও পয়েন্টের খাতা খুলতে পারেনি বাংলাদেশ। বিপরীতে দশ ম্যাচে ১২০ পয়েন্ট পেলেও টেবিলের ৮ নম্বরে রয়েছে বাংলাদেশ। এবার মুখোমুখি লড়াইয়ে অবতীর্ণ হচ্ছে এ দুই দল।

আগেই দুই ফাইনালিস্ট নির্ধারণ হয়ে যাওয়ায়, বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কার মধ্যকার সিরিজের ফল কোনো প্রভাব ফেলবে না টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে। তবে পয়েন্ট টেবিলে নিজেদের অবস্থান খানিক শক্ত করে এ সিরিজের ১২০ পয়েন্ট দুই দলের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ।

কিন্তু সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স বিবেচনায় দুই দলের কেউই খুব একটা ভালো অবস্থায় নেই। বাংলাদেশ গত তিন বছরে নয়টি টেস্ট খেলেছে জিতেছে মাত্র ১টি, পরাজয় বাকি সবগুলোতে। এসময় তারা হেরেছে টেস্ট ক্রিকেটে নবাগত আফগানিস্তান ও তুলনামূলক আনকোরাদের নিয়ে গড়া ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে।

প্রায় একই অবস্থা শ্রীলঙ্কারও। নিজেদের গত নয় ম্যাচে একটিই জয় লঙ্কানদের। বাংলাদেশের মতো তারাও এই একমাত্র জয়টি পেয়েছে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। তবে তিনটি ম্যাচ ড্র করতে পেরেছে লঙ্কানরা। যার মধ্যে রয়েছে সবশেষ ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরের দুই ম্যাচেই ড্র করার স্মৃতি।

ফলে এখন দুই দলের সামনেই এটি ঘুরে দাঁড়ানোর সিরিজ। সাম্প্রতিক ব্যর্থতা ভুলে এ সিরিজে ভালো করার লক্ষ্যেই মাঠে নামবে দুই দল। তবে সিরিজ শুরুর আগে দুই দলের সামনেই রয়েছে তিনটি করে প্রশ্ন। সেগুলোর উত্তর দিতে পারলেই মিলবে সিরিজের সফলতা।

জনপ্রিয় ক্রিকেটভিত্তিক ওয়েবসাইট ক্রিকইনফোর প্রতিবেদনে লেখা হয়েছে এ কথা। দেখে নেয়া যাক দুই দলের সামনে কোন তিনটি প্রশ্ন দাঁড়িয়ে আছে:

শ্রীলঙ্কা

স্পিন বোলিংশ্রীলঙ্কার মাটিতে জেতার জন্য সাধারণত স্পিনারদের রাখতে হয় বড় ভূমিকা। কিন্তু রঙ্গনা হেরাথের অবসরের পর থেকে শ্রীলঙ্কা স্পিন বোলিং নিয়ে বড়সড় সমস্যায়ই পড়েছে। হেরাথ যাওয়ার পর ঘরের মাঠে লঙ্কান স্পিনারদের গড় ৩২.৬২! অর্থাৎ প্রতিটি উইকেটের জন্য ৩২ রান খরচ করছেন তারা। যা আগে ছিল ২৫-র কাছাকাছি।

এর সঙ্গে আবার যোগ হয়েছে ইনজুরি সমস্যা। গুরুতর চোটের কারণে বাংলাদেশের বিপক্ষে খেলতে পারবেন না বাঁহাতি প্রতিভাবান স্পিনার লাসিথ এম্বুলদেনিয়া। এছাড়া অভিজ্ঞ অফস্পিনার দিলরুয়ান পেরেরাকেও এ সিরিজে পাচ্ছে না তারা। ফলে ভানিন্দু হাসারাঙ্গা, লাকশান সান্দাকান এবং ধনঞ্জয় ডি সিলভাদেরই নিতে হবে স্পিন বোলিংয়ের দায়িত্ব।

ব্যাটিংয়ে বিপর্যয়গতবছরের ডিসেম্বরের পর থেকে খানিক ঘুরে দাঁড়িয়েছে শ্রীলঙ্কার ব্যাটিং। বিশেষ করে দক্ষিণ আফ্রিকায় সেঞ্চুরিয়ন টেস্টের প্রথম ইনিংস কিংবা ওয়েস্ট ইন্ডিজে অ্যান্টিগা টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে ভালো করেছেন ব্যাটসম্যানরা। তবে সার্বিক চিত্রটা হতাশারই বলা চলে।

টেস্ট ক্রিকেটে সবশেষে ১২ ইনিংসে পাঁচ ২০০ রানের নিচে অলআউট হয়েছে লঙ্কানরা। এর মধ্যে রয়েছে ঘরের মাঠে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ১৩৫ ও ১২৬ রানে গুটিয়ে যাওয়ার ঘটনাও। যার ফলে ঘরের মাঠে সিরিজটিও হেরেছিল তারা। একই জিনিসের পুনরাবৃত্তি ঘটলে তাদের সামনে খারাপ সময়ই অপেক্ষা করছে।

ফিটনেসদলের হেড কোচ মিকি আর্থুর বারবার একটি দিকেই জোর দিচ্ছেন। তা হলো খেলোয়াড়দের ফিটনেস। শুধুমাত্র ফিটনেস ঠিক না থাকায় খেলোয়াড়দের বাদ দেয়ার নজিরও সৃষ্টি করেছেন আর্থুর। তবু ফিটনেস সমস্যা ঠিক হয়নি লঙ্কান খেলোয়াড়দের।

সফট টিস্যুর ইনজুরির কারণে এম্বুলদেনিয়া খেলতে পারবেন না। এছাড়া পেসার কাসুন রাজিথাকেও পাওয়া যাচ্ছে না সিরিজে। এমনকি হালকা চোট রয়েছে তরুণ ব্যাটসম্যান পাথুম নিসাঙ্কারও। এই ইনজুরি সম্যসা যেন লেগেই থাকে লঙ্কানদের। আসন্ন সিরিজে এ থেকে মুক্তি পাওয়ার প্রত্যাশাই থাকবে তাদের।

বাংলাদেশ

বিদেশের মাঠে নাজুক পারফরম্যান্সটেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশ দলের সার্বিক পারফরম্যান্স এমনিতেই খুব খারাপ। তবু গত পাঁচ বছরে ঘরের মাঠে বেশ কিছু ম্যাচ ও সিরিজ জিতেছে তারা। কিন্তু দেশের বাইরে এখনও তথৈবচ অবস্থায় টাইগাররা। গত পাঁচ বছরে দেশের বাইরে একটি টেস্টই জিতেছে বাংলাদেশ। সেটি ছিল শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ২০১৭ সালের সিরিজের ম্যাচ। এছাড়া বাকি ৯ ম্যাচেই বড় ব্যবধানে হেরেছে বাংলাদেশ।

বিদেশের মাটিতে নাজুক পারফরম্যান্সের অন্যতম বড় একটি কারণ হলো প্রতিপক্ষের ২০ উইকেট নিতে পারার অক্ষমতা। নিজেদের টেস্ট ইতিহাসে মাত্র পাঁচবার বিদেশের মাটিতে কোনো দলের পুরো ২০ উইকেট নিতে পেরেছে বাংলাদেশ। ঘরের মাঠে স্পিন সহায়ক উইকেটে স্পিনাররা ভালো করেন। কিন্তু বাইরে গেলে তারাই হয়ে যান বিবর্ণ। পেসারদেরও করার থাকে না বিশেষ কিছু। এরই মধ্যে বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের কোনো পেসারের টেস্ট জেতানোর প্রায় ৮ বছর হয়ে গেছে।

সাকিবের শূন্যতাআইপিএলে খেলার জন্য সিরিজটি থেকে ছুটি নিয়েছেন বাংলাদেশ দলের সেরা ক্রিকেটার ও অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। টেস্টে তার অলরাউন্ড সার্ভিসের বিকল্প পাওয়া বাংলাদেশের জন্য প্রায় অসম্ভবই বলা চলে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে মেহেদি হাসান মিরাজের অলরাউন্ড পারফরম্যান্স ছিল প্রশংসাযোগ্য। তবে পুরোপুরি অলরাউন্ডার হিসেবে দায়িত্ব নিতে আরও অনেকদূর যেতে হবে তাকে।

এদিকে এই সিরিজের জন্য ৩৪ বছর বয়সী শুভাগত হোমকে ব্যাটিং অলরাউন্ডার শুভাগত হোমকে দলে নিয়েছে বাংলাদেশ। অথচ পাঁচ বছর আগে সবশেষ বোলিং অলরাউন্ডার হিসেবে টেস্ট খেলেছিলেন শুভাগত। মূলত সাকিব না থাকার কারণেই এখন এমন সমস্যায় পড়েছে বাংলাদেশ। সাকিব আল হাসানের অনুপস্থিতি যেকোনো দলের জন্যই বড় সুবিধা।

ক্যাচিংসম্প্রতি নিউজিল্যান্ড সফরে বাংলাদেশের দলের বড় মাথাব্যথার কারণ ছিল ক্যাচিং। ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি সিরিজের ছয় ম্যাচে অন্তত ১০টি হাতের ক্যাচ ছেড়েছেন ফিল্ডাররা। এছাড়া সুযোগ নষ্ট হয়েছে অন্তত আরও ৭-৮টি। সফর শেষে ফেরার সময় ক্যাচিং ব্যর্থতার কারণ হিসেবে পরিষ্কার আকাশের অজুহাত দিয়েছিলেন দলের বাঁহাতি স্পিনার নাসুম আহমেদ। তবে আসল ঘটনা ছিল অন্য জায়গায়। মূলত ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে হোয়াইটওয়াশ হওয়ায় আত্মবিশ্বাস নেমে গিয়েছিল তলানিতে। যার ফলে ফিল্ডিংয়ে স্বাভাবিক রুপে থাকতে পারেনি বাংলাদেশ।

পাঠকের মতামত:

খেলা এর সর্বশেষ খবর

খেলা - এর সব খবর



রে