ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১, ৮ আশ্বিন ১৪২৮

ব্রেকিং নিউজ: আবারও বিসিবির বিপক্ষে মাঠে নামছে ক্রিকেটাররা

২০২১ জুলাই ২৫ ১৪:২৭:২৯
ব্রেকিং নিউজ: আবারও বিসিবির বিপক্ষে মাঠে নামছে ক্রিকেটাররা

বছর দুয়েক আগে দেশের ক্রিকেট কাঁপিয়ে দিয়েছিল ক্রিকেটারদের বিদ্রোহ। এমন কিছু তখন হতে যাচ্ছে এইটা কেউ জানতো না। এক রকম বিনা মেঘে ব্রজপাতের মত ঘটনাটা ঘটেছিল। কিন্তু বর্তমানে বাংলাদেশের ক্রিকেট আকাশে প্রচন্ড মেঘের ঘনঘাটা দেখতে পাওয়া যাচ্ছে। এইবার যে আরো একটি ক্রিকেটারদের বিদ্রোহ বাংলাদেশ ক্রিকেটে আসবে না এইটা কিন্তু মোটেও বলা যাবে না।

বিশেষ করে মাহমুদউল্লাহর ঘটনার পর এটি আরেকবার প্রমাণিত যে ক্রিকেটার ও ক্রিকেট বোর্ড মুখোমুখি অবস্থানে আছে।

চলুন এই বিষয়ে আমরা বিস্তারিত আলোচনা থেকে জেনে নিই:

১। মাহমুদউল্লাহর অবসর: মাহমুদউল্লাহ যে অবসর নিয়েছে ক্রিকেটাররা জানে, ক্রিকেট বোর্ড জানে, মিডিয়া কর্মী হিসেবে আমি জানি, আপনারা জানেন, কিন্তু দেখুন আফিসিয়ালী আসলে কি মাহমুদউল্লাহ অবসর নিয়েছেন। অবসর বিষয়টা কি নিজে নিজে নেয়া যায়। সে বিষয়টা অবশ্যই প্রকাশ্যে আনতে হয়। কিন্তু মাহমুদউল্লাহ কি সেটা করেছে। না জানিয়েছে মাহমুদউল্লাহ, না জানিয়েছে ক্রিকেট বোর্ড।

জানানো যখন হয়নি সেখানেই আসছে অনেক প্রশ্ন। এই ঘটনা থেকেই বোঝা যাচ্ছে ক্রিকেট বোর্ড ও মাহমুদউল্লাহ মুখোমুখি অবস্থানে আছে। আর এইখানে মাহমুদউল্লাহর পক্ষে আছে ক্রিকেটাররা। কিভাবে সেই আলোচনাটা এইবার করছি।

মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ গত বছর পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট খেলার পর তাকে টেস্ট দল থেকে বাদ দেয়া হয়। বিশেষ করে বাংলাদেশ দলের হেড কোচ তাকে বলে দিয়েছে যে সে আর টেস্ট দলের ভাবনায় নেই সে যেন ওয়ানডে ও টি-২০ তে মনোযোগ দেয়।

এই পর্যন্ত ঠিক ছিল কারন তখন মাহমুদউল্লাহর যে ফর্মছিলো তাতে সে টেস্ট দল থেকে বাদ পড়তেই পারে। কিন্তু তাকেই দল থেকে ছুড়ে ফেলে দেয়া হল আর রাসেল ডোমিঙ্গ রিয়াদকে বললেন সে যেন টেস্ট থেকে অবসর নিয়ে নেয়।

এখানেই যত সমস্যা কারন মাহমুদউল্লাহ একজন সিনিয়ার ক্রিকেটার সে যে কোনো সময় ঘরোয়ালিগে ভালো খেলে আবারও টেস্ট দলে ডুকতে পারতো কিন্তু তাকে একে বারে বাদ দেয়া হলো। এতেই রাগ ক্ষোভ জন্ম নেয় তার।

আর তার এই ক্ষোভ প্রকাশ পায় জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টে ডাক পেয়ে ক্যারিয়ার সেরা ১৫০ রান করার পর। কেননা তিনি তার সতীর্থদের ড্রেসিং রুমে জানিয়ে দিলেন যে সে আর টেস্ট খেলবেন না। এই পর্যন্ত সব কিছু ঠিক ছিলো কিন্তু ক্রিকেট বোর্ডের প্রতিক্রিয়া কি এখানেই ঘটলো যত অঘটন।

কিন্তু এর আগে যখন কোন্দ্রিয় চুক্তির জন্য সবার কাছে লিখিত নেয় হয় যে কে কোন ফরম্যাটে খেলতে চাই। সেখানে মাহমুদউল্লাহ লিখেছিলেন সুযোগ পেলে টেস্টও খেলতে চান। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে কি এমন হলো যে লিখিত দেয়ার ১৫ দিন পর মাহমুদউল্লাহ টেস্ট থেকে অবসর নিলেন।

কিন্তু আপনি যদি বা আমরা যদি বলি যে রিয়াদ প্লান করেই জিম্বাবুয়ে সফরে গিয়েছিল তাহলো সেটা ভুল। সেটা মেনে নেয়ার মত না। এখানে মেইন পয়েন্ট হলো রিয়াদ যদি ১৫০ রানের ইনিংস না খেলতেন তাহলো টেস্ট থেকে অবসর নিতেন না।

কিন্তু প্রশ্ন হলো মাহমুদউল্লাহর সিদ্ধান্তটা কি ঠিক আছে। তবে ব্যাক্তিগত ভাবে আমার কাছে এইটা ঠিক ছিলো না কেননা একটা টেস্ট ম্যাচ চলছে এর মাঝে এমন সিদ্ধান্ত মোটেও সঠিক না। কেননা এখানে দেশের স্বার্থের থেকে ব্যাক্তি রাগ ক্ষোভকে বেশি প্রাধান্য দিয়েছেন রিয়াদ।

কিন্তু এখানে আমাদের মাথায় রাখতে হবে রিয়াদকে এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করলো কে। এতো প্রচন্ড ক্ষোভ তার মধ্যে থাকবে কোনো ক্রিকেট এই বিষয় গুলো দেখবে না। তাহলে কি রিয়াদকে এই সিদ্ধান্ত নিতে ক্রিকেট বোর্ড বাধ্য করেনি। কিন্তু এখানে মেইন পয়েন্ট হচ্ছে রিয়াদ যদি ১৫০ রানের ইনিংস না খেলতেন তাহলে কিন্তু অবসর নিতেন না। এই ঘোষণা টা তিনি কেন দিলেন কারন তিনি একটা আপারহান্ডে ছিলেন। ঠিক এই জায়গাটা থেকেই তিনি এই ঘোষণাটা দিলেন।

কিন্তু ক্রিকেট বোর্ড এই ব্যাপারটা খুব সহজভাবে নেয়নি। তারাই যখন সুযোগ পাবে এর প্রতিশোধ নিতে চাইবে তারাও এই বিষয়টা কোড আনকোড করবে। ঠিক এই জায়গাটাতেই ক্রিকেট বোর্ড ক্রিকেটাররা মুখোমুখি অবস্থানে আছে।

২। মাশরাফি ও ক্রিকেট বোর্ড:

মাশরাফির অবসর নিয়েতো আর কম নাঠক হয়নি। এখানেই ক্রিকেট বোর্ড ও মাশরাফি মুখোমুখি অবস্থানে ছিলেন। বিশেষ করে মাশরাফির টি-২০ অবসর জোর করে দিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। আর এর আগে মাশরাফি বলেছিলেন যে বিসিবি প্রেসিডেন্ট বক্সে ক্রিকেটারদের উলঙ্গ করা হয়।

৩। সাকিবের আইপিএল ইসু:

সাকিব যখন আইপিএল খেলার জন্য ছুটি চেয়ে ক্রিকেট বোর্ডের কাছে চিঠি দিলো তখন থেকেই নাঠকের শুরু। ক্রিকেট বোর্ড কর্মকার্তারা বলা শুরু করলেন নাকি সাকিব টেস্ট খেলতে চান না আইপিএল খেলতে চান। কিন্তু সাকিবের চিঠিতে তেমন কোনো কিছুই ছিলো না। সাকিব চিঠি লিখেছিল সে ২০২১ টি-২০ বিশ্বকাপের প্রস্তুতি হিসেবে আইপিএল খেলতে চায়। কিন্তু ক্রিকেট বোর্ড তার উল্টোটা শোনালো।

তারপর সাকিবের চিঠি গন্যমাধ্যমে আশার পর ক্রিকেট বোর্ড চলে যায় ব্যাকফুটে। এখানেই সাকিব ক্রিকেট বোর্ড ও কর্মকার্তাদের সমলোচনা করে কিন্তু বোর্ড সাকিবের কিছু করতে পারেনি কারন সাকিব ছিল আপারহান্ডে। এখানেইও সাকিব ও ক্রিকেট বোর্ড মুখোমুখি অবস্থানে।

৪। তামিমের ইনজুরি ইসু নিয়ে নাঠক: তামিম নাকি ইনজুরি নিয়ে নাঠক করছেন। আর এই কথা বলছে সরাসরি বিসিবি। তামিম হাঠুর ইনজুরি নিয়ে খেলছে সেই শ্রীলঙ্কা সিরিজ থেকেই। এরপর ডিপিএল খেলেছেন তামিম শুধু খেলতে পারেনি সুপার লিগ। আর এই ইনজুরির কারনে অস্ট্রেলিয়ার সার্জন ডেভিট ইয়ান তামিমকে বলেছিলেন তুমি খেলতে পারবে কিন্তু ৮-১০ সপ্তাহ বিশ্রাম নিলেই ঠিক হয়ে যাবে।

কিন্তু বিসিবির প্রশ্ন হলো তামিম আগে পিছে খেললো না কিন্তু জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ খেললো এবং সেঞ্চুরি করলো এটা কি সম্ভব। তাই ক্রিকেট বোর্ড বলছে তামিম ইনজুরি নিয়ে নাঠক করছে। এবং তামিমকে টি-২০ থেকে বাদ দেয়ার চিন্তা ভাবনা নিয়েছে। কিন্তু এই খবর চলে যায় তামিমের কানে এবং সে অবসরের সিদ্ধান্ত নিয়েই নিয়েছিলেন। কিন্তু শেষ মূহুর্তে ফিরে এসেছেন। তাই বলাই যায় ক্রিকেট বোর্ড ক্রিকেটারদের মধ্যে সম্পর্ক ভালো নাই। যেকোনো মূহুর্তে ঘটতে পারে ক্রিকেট বিদ্রোহ।

৫। মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের পক্ষে ক্রিকেটাররা:

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টেস্টের শেষ দিন রিয়াদতকে গার্ড অফ অর্নার দেয়া হয়। ক্রিকেটাররা তার সাথে ছবি তোলে। এর আগে অধিনায়ক মুমিনুলকে প্রশ্ন করলো সে বলো রিয়াদের অবসর বিষয়ে আমি কিছু জানিনা। অথচো তার সাথে ছবি তুলছে গার্ড অফ অর্নার দিচ্ছে। বিশেষ করে তামিম অফিসিয়ালী রিয়াদের অবসরের ঘোষণা তার ফেসবুক ভেরিফাইড পেজে জানিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে এখানে ক্রিকেটাররা এই বিষয় গুলো কেন করলো অবশ্যই তাদের রাগ থেকে। তাই রিয়াদ ও ক্রিকেট বোর্ড মুখোমুখি দাড়ালে রিয়াদের পক্ষেও নেবে ক্রিকেটাররা।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে যদি সিনিয়ার ক্রিকেটার বা আইকনিক ক্রিকেটাররা যদি কোনো সময় ক্রিকেট বোর্ডে মুখোমুখি হয় তাহলো ক্রিকেটাররা ক্রিকেটারদের পক্ষেই দাড়াবেন। বিদ্রোহের আশঙ্কাটা এখানেই।

আরো কিছু কারন আছে যেমন বিসিবি বলেছেন যে ক্রিকেটারদের অনেক ছাড় দেয়া হয়েছে আর হবে না। যেমন ধরেন রিয়াদ বর্তমানে টি-২০ দলের অধিনায়ক। বাংলাদেশের পরবর্তি ম্যাচ গুলো আছে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৫ ম্যাচ টি-২০ সিরিজ তারপর ইংল্যান্ড ও পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ এগুলোর একটিতে যদি দল খারাপ করে তাহলো রিয়াদকে বাদ দেয়া হবে অধিনায়ক থেকে এমন কি দল থেকেও বাদ দেয়া হতে পারে।

আর এখানেই মাহমুদউল্লাহর পক্ষে নিবে ক্রিকেটাররা। আর হতে আর হতে পারে ক্রিকেটার বিদ্রোহ। আরো অনেক কারন আছে যার কারনে ঘটতে পারে ক্রিকেটার বিদ্রোহ যেগুলো সময় সল্পতার কারনে জানাতে পারছি না।

পাঠকের মতামত:

খেলা এর সর্বশেষ খবর

খেলা - এর সব খবর



রে