ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১, ৮ আশ্বিন ১৪২৮

বাংলাদেশ খেলতে নামলেই ভাবতাম বাংলাদেশ হেরে যাবে: পাপন

২০২১ আগস্ট ০৫ ১৫:৫০:০৩
বাংলাদেশ খেলতে নামলেই ভাবতাম বাংলাদেশ হেরে যাবে: পাপন

পাঁচ ম্যাচ টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলতে ঢাকায় অবস্থান করছে অস্ট্রেলিয়া দল। প্রথম দুই ম্যাচ জিতে সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেছে বাংলাদেশ। এমন সময় শেখ কামাল জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ পুরস্কার ফেডারেশন/অ্যাসোসিয়েশন/সংস্থা ক্যাটাগরিতে সেরা হয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।

বৃহস্পতিবার (৫ আগস্ট) গণভবন থেকে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত মূল অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি অংশগ্রহণ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিসিবি’র পক্ষ থেকে পদক গ্রহণ করেন বোর্ড প্রধান নাজমুল হাসান পাপন।

পুরস্কার পেয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি।

তিনি বলেন, ‘সময়টাও আমার কাছে অনেক বেশি ভালো লাগছে, এমন একটা সময় যখন নাকি আমরা অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে সিরিজে পরপর দুটো ম্যাচ জিতেছি, উল্টাটাও তো হতে পারতো। তখনও খুবই ভাল লাগতো এই পদকটা পেয়ে কিন্তু আজকের অনুভূতিটা একটু অন্যরকম।’

সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটের এই সিরিজ জিততে কতটা আশাবাদী দেশের ক্রিকেটের সর্বোচ্চ এই অভিভাবক।

নাজমুল হাসান পাপনের ভাষায়, ‘বলা, মুশকিল। অস্ট্রেলিয়া অনেক প্রফেশনাল একটা দল। ওরা শেষ পর্যন্ত লড়ে যাবে এ ব্যাপারে কোনও সন্দেহ নেই কাজেই আমরা যদি যেভাবে খেলে আসছি এবং আমাদের সর্বোচ্চটা দিয়ে খেলতে পারি আমি মনে করি আমাদের সিরিজ জেতার আর কোন কারণ না থেকে পারেনা।

কিন্তু আমরা যদি কখনও মনে করি, একবারও যদি আমাদের মনে হয় যে আমরা দুটো জিতেছি আর বাকিগুলোর যে কোনও একটিতে এমনি এমনি আমরা জিতে যাবো তাহলে এ ধরনের চিন্তা নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার মত দলের সঙ্গে জেতা যাবে না। আমাদের অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হবে।’

নাঈম হাসান, আফিফ হোসেন, নাসুম আহমেদ ও শরিফুল ইসলামের মতো তরুণ সদস্য দলের জয়ে ভূমিকা রাখছেন।

‘একটা সময় ছিল যখন নাকি একজন ক্রিকেটার একটা টিমকে জিতিয়ে দিতে পারতো। কিন্তু এখনকার ক্রিকেট এতই কম্পিটিটিভ, এখন কিন্তু একজন দুইজনে হয় না, দলগত প্রচেষ্টা লাগে। আমাদের সমস্যাটা হচ্ছে যে অনেক সময় আমরা দেখেছি বেশিরভাগ সময়ে আমাদের যারা অভিজ্ঞ প্লেয়ার আছে বেশিরভাগ সময়ে তারাই ভালো পারফম করে।

এবং ম্যাচ জিতে গেলে ওরা বাদে আর কে কি করলো সেটা নিয়ে আমরা মাথা ঘামাই না। কিন্তু যখন হেরে যায় তখন ওরা পারফম করে অন্যরা পারফম করেনি, নতুন যারা তুলনামূলক তরুণ তখন এদের নিয়ে আমরা হুলুস্থুল করি।

আরেকটা দিক খেয়াল করবেন, অনেক ম্যাচে তরুণদের অবদানের জন্য কত ম্যাচ জিতেছি তার হিসেব নেই। হতে পারে তারা ম্যান অব দ্য ম্যাচ হতে পারেনি কিন্তু তাদের কন্ট্রিবিউশন ছিল না এটা খুব রেয়ার।’

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি মনে করেন, যুব বিশ্বকাপ জয়ের পর আত্মবিশ্বাস বেড়েছে তরুণদের।

‘নতুন কেউ এসেই টানা ভাল করবে এটা তো প্রত্যাশা করাই উচিত না। আমাদের কিছু অভিজ্ঞ ক্রিকেটার আছে যারা ২০০ এর মতো ম্যাচ খেলে ফেলেছে।

আমাদের যে টিমটা খেলছে, আপনি যদি এক এক করে দেখেন। সৌম্য, নাইম, সাকিবের পর রিয়াদ, এরপর সোহান আছে, আফিফ আছে , আফিফের পর শামীম আছে । এই শামীম, আফিফ, নাইম, মেহেদি এরা তো এসব বড় প্লেয়ারের সামনে খেলা তো দূরে থাক দেখা হয়েছে কি না সন্দেহ। মিশেল স্টার্ক, হ্যাজলউড, জাম্পা, তাদের টপ ক্লাস বোলার - প্রথমে নেমে সাহস করে খেলছে এটাই তো অনেক ব্যাপার। আগে তো বাংলাদেশ খেলতে নামলেই আমরা ভাবতাম বাংলাদেশ হেরে যাবে।

হারা মেনে নিয়েই খেলতাম । কিন্তু এখন এই যে হার জিত বড় কথা না, ছোট ছোট ইয়ং ছেলেগুলো যে সাহস নিয়ে মাঠে না, ফিল্ডিং যে দেই তাদের সবটা দিয়ে ফিল্ডিং করছে। এই সিরিজে বোলিং এবং ফিল্ডিং অনেক ভাল করেছে আমাকে যদি বলেন। ব্যাটিং কিন্তু ভাল হয়নি। কিন্তু আশা করি সামনে ভাল হবে আরও।

তবে আমার যেটা ভাল লেগেছে যে মাঠে নামলে যে জিততে পারি জেতার জন্য খেলবো এই বিশ্বাসটা থাকা অনেক গুরত্বপূর্ণ। এই জিনিসটা ছিল মাঠে, মাঝের একটা বছর একটু কেমন যেন হয়ে গেছে, এখন ঠিক হয়ে গেছে। অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জেতার পর আমার মনে হয় তরুণদের বিশ্বাসটা আরও বেড়ে গেছে। ওরা এখন নামেই জেতার জন্য, যার সঙ্গে হোক ভয় পায়না।’ যোগ করেন নাজমুল হাসান পাপন।

পাঠকের মতামত:

খেলা এর সর্বশেষ খবর

খেলা - এর সব খবর



রে