ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৮ অক্টোবর ২০২১, ১৩ কার্তিক ১৪২৮

বিকেএসপি থেকে বহিষ্কার হওয়া সেই ছেলেটি, এবার বাংলাদেশের হয়ে খেলবে বিশ্বকাপে

২০২১ সেপ্টেম্বর ২২ ১১:৪১:১৭
বিকেএসপি থেকে বহিষ্কার হওয়া সেই ছেলেটি, এবার বাংলাদেশের হয়ে খেলবে বিশ্বকাপে

পঞ্চ পাণ্ডবের পর বাংলাদেশ ক্রিকেটের প্রতিনিধিত্বকারী তরুণ ক্রিকেটারদের মধ্যে আফিফ হুসেন ধ্রুব অন্যতম। আফিফ বর্তমান সময়ের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার। যাইহোক, আফিফ, যিনি খুলনার একটি ছোট শহর করিমনগরে জন্মগ্রহণ করেছিলেন, শুরুর আগেই তার ক্রিকেট ক্যারিয়ারের প্রথম দিকেই শেষ হতে বসেছিল।

২০১২ সালে বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে (বিকেএসপি) অধ্যয়নরত অবস্থায় নিয়ম ভাঙার জন্য তাকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। পরে জরিমানা দিয়ে ফের বিকেএসপিতে ভর্তি করা হয় ক্রিকেট পাগল আফিফকে। এরপর আর ফিরে আসা হয়নি, এগিয়ে যাওয়ার পথে যুক্ত হয়েছে সাফল্যের নতুন নতুন পালক।

আফিফের বাবার নাম মো. জাহাঙ্গীর হোসেন, মা হেলেনা বেগম। ধ্রুব তাদের একমাত্র ছেলে। খুব ছোটবেলা মাকে হারানো ছেলেটা এবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ দলে জায়গা করে নিয়েছেন। অলরাউন্ডার আফিফ হোসেন ধ্রুবর জন্ম খুলনায় হলেও ক্রিকেট ক্যারিয়ার গড়ে ওঠে বিকেএসপিতে।

বিভিন্ন বয়সভিত্তিক দলে খেলেছেন বিকেএসপির হয়ে। যদিও বয়সভিত্তিক অনূর্ধ্ব-১৪ দলে খেলেছিলেন খুলনার হয়ে। পরবর্তীতে খুলনা বিভাগের হয়ে জাতীয় দলেও খেলেছেন এই ক্রিকেটার। ইতোমধ্যে দেশের হয়ে ২৭টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলে ব্যাট হাতে করেছেন ৩২৪ রান, আর ঝুলিতে রয়েছে ছয় উইকেট।

আফিফের বাবা মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, তৃতীয় শ্রেণিতে থাকা অবস্থায় সে ক্রিকেটের জন্য পাগলামি শুরু করে। এ সময় তাকে মোহামেডান ক্লাবের সেলিম স্যারের কাছে নিয়ে ভর্তি করি।

এরপর ২০১০ সালে বিকেএসপিতে ক্রিকেটের অডিশন দিয়ে শীর্ষ স্থান নিয়ে ভর্তি হয় আফিফ। সেখান থেকে ২০১৬ সালে এইচএসসি পাশ করে বের হয়। পরে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এআইইউবিতে বিবিএতে ভর্তি হয় আফিফ। পাশাপাশি চলে তার খেলাধুলা।

২০১৮ সালে জাতীয় দলে তার অভিষেক হয়। এরপর ধারাবাহিক সাফল্যের অংশ হিসেবে বিশ্ব আসরে খেলার সুযোগ পেয়েছে সে। ক্রিকেটার হওয়ার তার স্বপ্ন পূরণ হ লো। এখন তার সামনে এগিয়ে যাওয়ার পালা। আমি বাবা হিসেবে তার সাফল্য কামনা করি।

তবে আফিফের ক্রিকেট ক্যারিয়ার হয়তো বিকেএসপিতেই শেষ হয়ে যেতো। শৃঙ্খলা ভঙ্গের অপরাধে তাকে বহিষ্কার করা হয়েছিল।

এ বিষয়ে আফিফের বাবা জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ২০১২ সালের মাঝামাঝি সময়ে আফিফ বিকেএসপি থেকে বহিষ্কার হয়। কারণ ছিল নিষেধ থাকার পরও আফিফ সেখানে মোবাইল ব্যবহার করে এবং ধরা পড়ে। সে ঘটনার পর আমি, ওর নানা, বড় খালা বিকেএসপিতে গিয়ে অধ্যক্ষের সঙ্গে কথা বলি।

আমরা যাওয়ার পর জানা যায়, বিকেএসপির মধ্যে আগে বহিষ্কার হওয়া এক ছেলে ব্যট দিয়ে আফিফকে প্রহার করে। সব মিলিয়ে আফিফ গো ধরে আর বিকেএসপিতে পড়বে না। শিক্ষকরা সে ঘটনা জানার পর ওই বহিষ্কৃত ছেলেকে বিকেএসপির মাঠ থেকে বের করে দেয়।

আর আলোচনার পর ৩০ হাজার টাকা জরিমানা দিয়ে আফিফকে পুনরায় বিকেএসপিতে ভর্তি করানো হয়। এরপর আফিফকে নিয়ে আমরা বান্দরবান ঘুরতে যাই এবং সেখানে এক সপ্তাহ থেকে তাকে স্বাভাবিক করি। এটা ছিল সবচেয়ে কষ্টকর ঘটনা।

ছেলের সাফল্যের টুকরো স্মৃতির কথা বলতে গিয়ে তিনি আরও বলেন, খুলনার জোড়াগেটে একটি স্পোর্টসে লটারিতে প্রথম পুরস্কার ছিল টিভি। আফিফ সে সময় পাঁচটি টিকিট কেটেছিল।

আর আমি ছিলাম লটারি তোলার দায়িত্বে। আফিফ আমার হাতে দায়িত্ব দেখে বলেছিল ‘দেখো বাবা প্রথম পুরস্কারটা তোমার হাত ধরে আমিই পাবো। লটারির শেষে দেখা গেলো প্রথম পুরস্কারের টিকিটটা ছিল আফিফের হাতেই।

পাঠকের মতামত:

খেলা এর সর্বশেষ খবর

খেলা - এর সব খবর



রে