ঢাকা, রবিবার, ২৮ নভেম্বর ২০২১, ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৮

এক ডেলিভারি ম্যানের কাছেই হেরে গেল পুরো বাংলাদেশ দল, লজ্জার রেকর্ড

২০২১ অক্টোবর ১৮ ১১:৩৩:০৯
এক ডেলিভারি ম্যানের কাছেই হেরে গেল পুরো বাংলাদেশ দল, লজ্জার রেকর্ড

যদি এই বছরের টি -টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রথম ইভেন্টের নাম উল্লেখ করতে হয়, তাহলে প্রথমেই মনে আসে স্কটল্যান্ডের হাতে বাংলাদেশ বধের ঘটনা। ২০১২ সালের মতো আবারও স্কটদের কাছে মাথা নত করল বাংলাদেশ। যাইহোক, শুরুটা ছিল একেবারেই ভিন্ন, যেমনটা বাংলাদেশের সমর্থক বা ক্রিকেটারদের প্রত্যাশা। ম্যাচের শুরু থেকেই স্কটল্যান্ড দখল করে বাংলাদেশ।

যেখানে টাইগার স্পিনারদের ঘূর্ণিতে কাঁপছিল স্কটিশ ব্যাটসম্যানরা। ৫২ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে স্কটল্যান্ড যখন ১০০ রানের নিচে অলআউট হওয়ার শঙ্কায় তখন ক্রিজে আসেন গ্রিভস। এলেন, দেখলেন এবং জয় করলেন। ব্যাপারটা ঠিক যেন এমনই। বাংলাদেশের বিপক্ষে খেলতে নামার আগে মাত্র একটি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি খেলার অভিজ্ঞতা ছিল গ্রিভসের।

তবে দলের বিপর্যয়ের সময় ব্যাটিংয়ে এসে যে বিস্ফোরক ইনিংসটি খেললেন তাতে বোঝার উপায় ছিল ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ম্যাচ খেলতে নেমেছেন ডানহাতি এই ব্যাটসম্যান।

৫৩ রানে ৬ উইকেট হারানো স্কটল্যান্ডকে শেষ পর্যন্ত ১৪০ রানের পুঁজি দেন গ্রিভস। নিজের ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস খেলার দিনে ২৮ বলে দুই ছক্কা ও চারটি চারে করেছেন ৪৫ রান।

এরপর বল হাতেও দাপট দেখালেন গ্রিভস। বাংলাদেশের সাকিব আল হাসান ও ‍মুশফিকুর রহিমকে সাজঘরে ফিরিয়ে ম্যাচের লাগামটা টেনে ধরেন তিনি। শেষ পর্যন্ত গ্রিভসের অলরাউন্ড পারফরম্যান্সে আরও একবার বাংলাদেশকে হারানোর স্বাদ নিল স্কটিশরা।

গ্রিভসের জীবনের সেরা সুযোগের কথা বলছিলাম। স্কটল্যান্ডের হয়ে বিশ্বকাপ খেলতে নামার আগেও নামটা খুব একটা পরিচিত ছিল না।

গ্রিভস নিজেও হয়তো কল্পনা করেননি স্কটল্যান্ডের হয়ে ২০২১ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলবেন। ছোটবেলা থেকে ক্রিকেটের প্রতি আলাদা প্যাশন থাকলেও জীবনের কঠিন সময় পার করতে গিয়ে ২২ গজ থেকে নিজেকে খানিকটা দূরে সরিয়ে নিয়েছিলেন তিনি।

করোনা প্রকোপে নিজের পরিবার চালাতে যোগ দিয়েছিলেন অ্যামাজনের ডেলিভারি ম্যান হিসেবে। যেখানে বিভিন্ন মানুষের অর্ডারকৃত পণ্য বাসায় পৌঁছে দেয়াই ছিল গ্রিভসের প্রধান কাজ। কয়েক মাস আগেও যে গ্রিভস মানুষের বাসায় ডেলিভারি পৌঁছে দিতেন সেই তিনিই কিনা বাংলাদেশের বিপক্ষে জয়ের নায়ক হয়ে গেলেন।

স্কটিশদের স্বপ্নের শুরু এনে দেয়া গ্রিভসের জীবনের গল্প বলতে গিয়ে খানিকটা আবেগি হয়ে উঠেছিলেন দলটির অধিনায়ক কাইল কোয়েটজার। ম্যাচের নায়ককে গর্বের কথাও জানিয়েছেন তিনি। ম্যাচ শেষে এ প্রসঙ্গে কোয়েটজার বলেছেন, ‘গ্রিভসকে নিয়ে আমি সত্যিই গর্বিত। সে অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছে। খুব বেশিদিন আগের কথা নয় সে অ্যামাজনের পার্সেল বিতরণ করতো। এখন সে বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচের সেরা খেলোয়াড় হয়েছে।’

দলের সেরা এবং সারা বছর স্কোয়াডে থাকতে পারেন এমন ক্রিকেটারদের নিয়েই মূলত বোর্ডগুলো কেন্দ্রীয় চুক্তির তালিকা প্রকাশ করে। চলতি বছরের কেন্দ্রীয় চুক্তির জন্য স্কটল্যান্ড ক্রিকেট যে ১৩জন ক্রিকেটারের তালিকা প্রকাশ করেছিল সেখানে নাম নেই গ্রিভসের। স্কটিশ এই অলরাউন্ডার যখন বিশ্বকাপ মাতাতে ব্যস্ত তখন বোর্ডের চুক্তিতে নেই তাঁর। অথচ তিনিই স্কটিশর পূর্ণ ২ পয়েন্ট এনে দেয়ার নায়ক তিনি।

যদিও তাঁর নামটি থাকার কথাও না। কারণ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ক্যারিয়ারের শুরুটাই যে কদিন আগে। নিজের পরিশ্রমের ফল হিসেবেই গ্রিভস বিশ্বকাপ খেলছেন বলে মনে করেন কোয়েটজার। সেই সঙ্গে সহযোগী দেশগুলোতে গ্রিভসের মতোর আরও অনেক প্রতিভা রয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি। তবে তাঁদের সেই প্রতিভা প্রকাশ করার জন্য প্লাটফর্ম প্রয়োজন বলেও জানিয়েছেন কোয়েটজার।

তিনি বলেন, ‘গ্রিভস স্কটল্যান্ডের চুক্তিবদ্ধ খেলোয়াড় নন। সে পরিকল্পায় ছিলেন। সে পরিশ্রম করেছে এবং নিজেকে বিবেচনার জন্য রেখেছিলেন। মাসখানেক আগে পেছনে ফিরে গেলে সে একটি ম্যাচও খেলেনি। কিন্তু দেখুন সে কি করেছে। এটা প্রমাণিত যে সহযোগী দেশগুলোর ক্রিকেটেও মানসম্পন্ন খেলোয়াড় আছে। এখন শুধু এটা দেখানোর জন্য তাদের প্লাটফর্ম দরকার।’

পাঠকের মতামত:

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

খেলা এর সর্বশেষ খবর

খেলা - এর সব খবর



রে