ঢাকা, শুক্রবার, ২৮ জানুয়ারি ২০২২, ১৫ মাঘ ১৪২৮

আজকের দিনের ব্যাটিং শেষ পিচ নিয়ে যা বললেন আবিদ আলি

২০২১ নভেম্বর ২৭ ২২:৩৫:২৬
আজকের দিনের ব্যাটিং শেষ পিচ নিয়ে যা বললেন আবিদ আলি

খালি চোখে পাকিস্তান সুবিধাজনক অবস্থায়। কারণ তাদের ওপেনিং জুটি এখনো অপরাজিত। বোর্ডে রান ১৪৫। তবে ৯৩ রানে নট আউট পাকিস্তানি ওপেনার আবিদ আলি দিন শেষে অনেক কথার ভিড়ে একটি তাৎপর্যপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। যা শুনে বাংলাদেশ ভক্ত ও সমর্থকরা আশাবাদী হতেই পারেন।

বাংলাদেশের বোলাররা ৫৭ ওভারেও পাকিস্তানের উদ্বোধনী জুটি ভাঙ্গতে পারেননি। দুই পেসার ইবাদত আর আবু জায়েদ রাহীর বলে তেমন ধার ছিল না। বাঁহাতি তাইজুল এবং অফস্পিনার মেহেদি হাসান মিরাজও ব্যাটসম্যানদের অস্তস্তিতে ফেলতে পারেননি। কিন্তু তারপরও পাকিস্তানের রানের গতি খুব কম (২.৫৪)।

যত সময় গড়িয়েছে, পাকিস্তানের দুই ব্যাটসম্যান আবিদ আলি আর শফিক আব্দুল্লাহর ব্যাট ততই স্লথ হয়েছে। তারা পরাস্ত হননি তেমন। অস্বস্তি বোধও করেননি। তবে বেশিরভাগ ডেলিভারিই রক্ষণাত্মক কৌশলে খেলেছেন এবং শেষ ঘণ্টায় রান উঠেছে খুব মন্থর গতিতে।

অনেকেরই ধারণা, সেটা পাকিস্তানিদের স্ট্র্যাটেজি। তারা আজ ঠান্ডা মাথায় দেখে-শুনে খেলে বাংলাদেশের বোলারদের একটু ক্লান্ত করে কাল রান গতি বাড়ানোর চেষ্টা করবে। কিন্তু আবিদ আলির কথা শুনে মনে হলো, ব্যাপারটা মোটেই তা নয়।

আসলে পাকিস্তানিরা উইকেট না হারালেও পিচ তত সহজ ছিল না। বরং সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে তা বোলারদের দিকে চলে গেছে। আবিদ আলির কথা, ‘সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে উইকেটের আচরণও বদলেছে এবং স্বচ্ছন্দে ব্যাট করা, হাত খুলে রান গতি বাড়ানো সহজ ছিল না মোটেই।’

তার ব্যাখ্যা, ‘বিকেল ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে সুর্যের তাপ কমে গিয়েছিল। বল পুরনো হয়ে গিয়েছিল। স্পিন করছিল। বল গ্রিপও করছিল এবং ভিতরেও আসছিল। মানে উইকেটে অনেক কিছুই হচ্ছিল। তাই আমাদের পরিকল্পনা ছিল, আমরা উইকেটেই থাকবো। আর আলগা বল পেলেই মারবো। কাল তৃতীয় দিন সকালেও আমাদের এই টার্গেটই থাকবে। সেশন টু সেশন খেলার পাশাপাশি আগে বাংলাদেশের স্কোর টপকে যাওয়া, তারপর যত বেশি রান করে বড় ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বোলারদের কিছু করার সুযোগ তৈরি করে দিতে চেষ্টা থাকবে।’ টেস্ট ক্যারিয়ারটা খুবই ছোট। মাত্র ২৩ মাসের। এটা তার ১৫ নম্বর ম্যাচ। কিন্তু এরই মধ্যে অর্জনের ভান্ডারটাকে মোটামুটি সমৃদ্ধ করে ফেলেছেন আবিদ আলি। ২০১৯ সালে রাওয়ালপিন্ডিতে অভিষেকে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে শতরান (১০৯)। তারপর আর পিছন ফিরে তাকাননি। পরের টেস্টে লঙ্কানদের সাথে আবারও বিগ হান্ড্রেড (১৭৪)। আর এ বছর মে মাসে হারারে স্পোর্টস ক্লাবে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে করেছেন ডাবল সেঞ্চুরি (২১৫*)।

তারপর ওয়েষ্ট ইন্ডিজের সাথে ২ টেস্টে রান পাননি (৯, ৩৪, ১, ২৯)। আর আজ বাংলাদেশের বিপক্ষে ব্যাট হাতে নেমেই শতরানের খুব কাছাকাছি পৌঁছে যাওয়া। মাত্র ৭ রান হলেই টেস্টে নিজের চতুর্থ শতরান পূর্ণ হবে লাহোরের এ ৩৪ বছর বয়সী ওপেনারের।

স্বাভাবিকের চেয়ে দেরিতে ৩২ বছর বয়সে ক্যারিয়ার শুরু করেও কিভাবে রান ক্ষুধাটা ভিতরে পুষে এগিয়ে যাচ্ছেন? আবিদ আলি নিজেই দিয়েছেন এ কৌতুহলি প্রশ্নের জবাব। জানিয়ে দিলেন, আসলে তিনি পাকিস্তানের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট খেলে খেলেই নিজেকে তৈরি করেছেন। ঘরোয়া দীর্ঘ পরিসরের ক্রিকেটে তার বেশ কিছু দীর্ঘ ইনিংস আছে। সেগুলোই সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বড় ইনিংস খেলার কার্যকর রসদ।

আবিদ আলির কথা, ‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আমাদের ঘরোয়া প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট। সেখানে খেলে খেলেই আমি নিজেকে তৈরি করেছি। এখনো করছি। আমি সেখানে পাঞ্জাব-এর হয়ে অনেক খেলেছি। লম্বা লম্বা ইনিংস খেলেছি। যা আমার অনেক কাজে দিয়েছে। এতে করে আমার অনেক আস্থা বেড়েছে।’ ‘তারপর প্রতিপক্ষ বোলিংকে পর্যালোচনা করে খেলেছি। সেই যে ফার্স্ট ক্লাস ক্রিকেটে পাওয়া কনফিডেন্স, তা কাজে লাগিয়ে আমি মনের দিক থেকে তৈরি করেছি। কিভাবে আরও উন্নতি করা যায়। এভাবে আমি সাফল্যও পেয়েছি। আলহামদুল্লিল্লাহ।’

পাঠকের মতামত:

খেলা এর সর্বশেষ খবর

খেলা - এর সব খবর



রে