ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৫ জানুয়ারি ২০২২, ১২ মাঘ ১৪২৮

ভেট্টরি-হেরাথ যা করতে পারেনি তাইজুলকে নিয়ে তাই করে দেখালেন কোচ সোহেল

২০২১ নভেম্বর ২৮ ২১:১৫:৫৪
ভেট্টরি-হেরাথ যা করতে পারেনি তাইজুলকে নিয়ে তাই করে দেখালেন কোচ সোহেল

দিন শেষে ব্যাটিং বিপর্যয় ভাবিয়ে তুলেছে সবাইকে। কী হয়, শেষ পর্যন্ত কত রানে এগিয়ে থাকা সম্ভব হবে? এসব নিয়ে রাজ্যের চিন্তা ভক্ত ও সমর্থকদের মনে।

তারপরও অতিবড় সমালোচকও মানছেন চট্টগ্রাম টেস্টে মুমিনুল বাহিনী খেলায় ফিরেছে তাইজুল ইসলামের হাত ধরে। তৃতীয় দিনের নায়কই তাইজুল ইসলাম। উইকেটে টার্ন ছিল। বল গ্রিপ করেছে। এক কথায় স্পিন সহায়ক পিচ।

কিন্তু তারপরও স্পিনে বিশেষ পারদর্শি পাকিস্তানীদের এমন টার্নিং পিচে ঘায়েল করা সহজ কাজ নয়। তাইজুল বুদ্ধি খাটিয়ে দক্ষতার সঙ্গে টার্ন করিয়ে, সোজা ডেলিভারি দিয়ে আবার কখনো বা ফ্লাইটে বৈচিত্র্য এনেই আজ বাবর আজম বাহিনীকে বেসামাল করে ছেড়েছেন। টেস্টে নবমবার ৫ বা তার বেশি উইকেট শিকারী হলেন রাজশাহীর এ বাঁ-হাতি স্পিনার।

এদিন তাইজুলের ঝুলিতে জমা পড়েছে ১১৬ রানে ৭ উইকেট। এটা তার টেস্ট ক্যারিয়ারে নিজের দ্বিতীয় সেরা বোলিং ফিগার।

শুরু থেকে সাকিবের ছায়াসঙ্গী তাইজুলের দিনকাল চলছিল ভালই; কিন্তু বার বার স্পিন কোচের রদ-বদলে তার বোলিং অ্যাকশনটাও বদলে গিয়েছিল। যে কারণে শেষ দিকে তাইজুলের বলের টার্ন কমে গিয়েছিল। বোলিং কারিশমাটাও সেভাবে চোখে পড়েনি।

টেস্ট পিছু উইকেটও কমে যাচ্ছিল। সেই ২০১৮ সালের নভেম্বর চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৩৩ রানে ৬ উইকেট শিকারের পর গত আড়াই বছর আর টেস্টে ৫ উইকেট পাননি। তারপর এ বছর এপ্রিলে শ্রীলঙ্কার পাল্লেকেল্লেতে স্বাগতিকদের বিপক্ষে ৭২ রানে ৫ উইকেট পেয়েছেন।

মাঝখানে বোলিংয়ের ধার কমে যাবার কারন কী? অথচ এ সময় ড্যানিয়েল ভেট্টরি আর রঙ্গনা হেরাথের মত বিশ্বমানের দু’ দুজন বাঁ-হাতি স্পিনার ছিলেন স্পিন কোচ। খুব চাঁছাছোলা হলেও সত্য, তাদের অধীনেই আসলে তাইজুলের উন্নতির চেয়ে অবনতি হয়েছিল বেশি।

পরিসংখ্যানই তার প্রমান দিচ্ছে। সেই ২০১৮ সালের নভেম্বরের পর থেকে এ বছর এপ্রিল- ২৯ মাসে একবারও ৫ উইকেটের দেখা পাননি তাইজুল। তারপর যখন থেকে স্থানীয় কোচ সোহেল ইসলাম তার সঙ্গে কাজ করতে শুরু করেছেন, তারপর থেকে আবার সেই চিরচেনা ছন্দ ফিরে পেয়েছেন তাইজুল।

এটাই সত্য। এটাই বাস্তবতা। আজ চট্টগ্রাম টেস্টে ৭ উইকেট শিকারের পর তাইজুল নিজ মুখে বলেছেন, ‘সোহেল ভাইয়ের সাথে কাজ করে উপকার পেয়েছি। আমি যখন কামব্যাক করতে পেরেছি সোহেল ভাই তখন দারুণ হেল্প করেছেন। কারণ উনি আমার বোলিংয়ের খুঁটিনাটি সব কিছু খুব ভালো জানেন। তাই সমস্যা হয়নি।’

তাইজুলকে যিনি ফর্মে ফেরাতে পারেন, যার স্পর্শে সাকিবের পর টেস্টে দেশের দ্বিতীয় সেরা স্পিনার আবার নিজেকে ফিরে পান, সেই সোহেল ইসলামও তাইজুলকে সাহসী ক্রিকেটার বলে অভিহিত করেছেন।

সোহেলের ব্যাখ্যা, ‘তাইজুলেরর অ্যাকশন পরিবর্তন নিয়ে অনেকে অনেক কথা বলেছেন। তবে সে ক্যারিয়ারের এই পর্যায়ে অনেক সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছিল। প্রথমে অ্যাকশন বদলে সে সফল হয়নি। পরে তার পুরনো অ্যাকশনে চলে এসেছে। পুরনো ছন্দে ফিরে এসেছে।’

পাঠকের মতামত:

খেলা এর সর্বশেষ খবর

খেলা - এর সব খবর



রে