ঢাকা, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩

ইপিএস বেড়েছে, এবার ইবনে সিনার ডিভিডেন্ডে কী সিদ্ধান্ত?

শেয়ারনিউজ ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ২২ ১৬:২৯:১২
ইপিএস বেড়েছে, এবার ইবনে সিনার ডিভিডেন্ডে কী সিদ্ধান্ত?

একদিকে কয়েক বছর ধরে বাড়তে থাকা ডিভিডেন্ড, অন্যদিকে চলতি অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে শেয়ারপ্রতি আয় ও নগদ কার্যকরি প্রবাহে উন্নতি—এই দুই তথ্যই এখন ইবনে সিনা ফার্মাসিউটিক্যালস ইন্ডাস্ট্রিজের বিনিয়োগকারীদের নজরের কেন্দ্রে। কারণ, ৩০ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিতব্য পরিচালনা পর্ষদের সভাতেই জানা যাবে ৩০ জুন, ২০২৬ পর্যন্ত সমাপ্ত অর্থবছরের জন্য কোম্পানিটি কত শতাংশ ডিভিডেন্ড দিচ্ছে।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে জানা গেছে, ওই দিন বিকাল পৌনে ৩টায় ইবনে সিনা ফার্মাসিউটিক্যালসের বোর্ড সভা বসবে। সভায় ডিভিডেন্ড ঘোষণার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

ডিভিডেন্ডের ধারাবাহিকতায় এবার কী হয়

ইবনে সিনা ফার্মাসিউটিক্যালসের আগের কয়েক বছরের ডিভিডেন্ডের দিকে তাকালেও এবারের সিদ্ধান্ত নিয়ে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহের কারণ পাওয়া যায়। ২০২১ সালে কোম্পানিটি ৪৭ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ড দিয়েছিল। ২০২২ ও ২০২৩ সালে সেই হার ছিল ৬০ শতাংশ করে। ২০২৪ সালে তা বেড়ে ৬৩ শতাংশ এবং ২০২৫ সালে ৬৪ শতাংশে পৌঁছায়।

অর্থাৎ গত পাঁচ বছরের হিসাব অনুযায়ী ডিভিডেন্ডে ধারাবাহিক বৃদ্ধির তথ্য রয়েছে। এবারও সেই প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে বলে প্রত্যাশা করছেন বিনিয়োগকারীরা।

এই প্রত্যাশার পেছনে চলতি অর্থবছরের ব্যবসায়িক তথ্যও রয়েছে।

আয় ও নগদ প্রবাহ—দুটিই বেড়েছে

জুলাই ২০২৫ থেকে মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত নয় মাসে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে ১৯ টাকা ৯৪ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় এই আয় ৪ টাকা ৯২ পয়সা বেশি।

শুধু ইপিএস নয়, একই সময় শেয়ারপ্রতি নগদ কার্যকরি প্রবাহও বেড়েছে। মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত নয় মাসে এ প্রবাহ দাঁড়িয়েছে ২৯ টাকা ৫২ পয়সায়, যা এক বছর আগের একই সময়ের তুলনায় ৩ টাকা ৩৬ পয়সা বেশি।

আর ৩১ মার্চ, ২০২৬ পর্যন্ত হিসাব অনুযায়ী কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্য হয়েছে ১৩৯ টাকা ১০ পয়সা।

চলতি অর্থবছরের এসব আর্থিক সূচক এবং আগের বছরের ডিভিডেন্ডের ধারাবাহিকতাই এবার ডিভিডেন্ড বাড়ার প্রত্যাশাকে সামনে এনেছে।

মূলধনের তুলনায় রিজার্ভ অনেক বেশি

১৯৮৯ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়া ‘এ’ ক্যাটাগরির ইবনে সিনা ফার্মাসিউটিক্যালসের অনুমোদিত মূলধন ৫০ কোটি টাকা। পরিশোধিত মূলধন ৩১ কোটি ২৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা।

অন্যদিকে কোম্পানিটির মোট রিজার্ভ রয়েছে ৩৬০ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। বাজার সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যেও কোম্পানিটির আর্থিক অবস্থার এই দিকটি গুরুত্ব পেয়েছে।

তাদের মতে, আর্থিক প্রতিবেদন ও কোম্পানির সামগ্রিক কার্যক্রম বিবেচনায় এর ভিত্তি শক্তিশালী। মূলধনের তুলনায় রিজার্ভ বেশি এবং কয়েক বছর ধরে বিনিয়োগকারীদের সন্তোষজনক ডিভিডেন্ড দেওয়ার ধারাবাহিকতাও রয়েছে।

শেয়ারের মালিকানায় কার কত অংশ

কোম্পানিটির মোট শেয়ারের সংখ্যা ৩ কোটি ১২ লাখ ৪৩ হাজার ৬২৭টি। এর মধ্যে উদ্যোক্তা পরিচালকদের মালিকানা ৪৪.৬৮ শতাংশ।

প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে ২৫.৩৭ শতাংশ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে রয়েছে ২৯.৯৫ শতাংশ শেয়ার।

বাজারে শেয়ারদর ও পিই রেশিও

আজ ডিএসইতে ইবনে সিনা ফার্মাসিউটিক্যালসের প্রতি শেয়ার সর্বশেষ ৩১৫ টাকা ৯০ পয়সায় লেনদেন হয়েছে। কোম্পানিটির বর্তমান পিই রেশিও ১১.৮৬ পয়েন্ট, যা বিনিয়োগের জন্য উপযোগী বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, আগের বছরগুলোর মতো এবারও ডিভিডেন্ডের ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে এর পরিমাণ বাড়তে পারে। একই সঙ্গে কোম্পানিটির পিই রেশিও বিনিয়োগের অনুকূলে রয়েছে বলেও তারা মনে করছেন। তাদের মতে, এসব বিষয় বিবেচনায় এই শেয়ারে বিনিয়োগকারীরা লাভবান হতে পারেন।

তবে ৩০ সেপ্টেম্বরের বোর্ড সভার সিদ্ধান্তের পরই চলতি অর্থবছরের ডিভিডেন্ডের প্রকৃত পরিমাণ জানা যাবে।

এক নজরে ইবনে সিনা ফার্মাসিউটিক্যালস

বিষয়তথ্য
বোর্ড সভা ৩০ সেপ্টেম্বর, বিকাল পৌনে ৩টা
ডিভিডেন্ডের হিসাবের সময় ৩০ জুন, ২০২৬ পর্যন্ত সমাপ্ত অর্থবছর
৯ মাসের ইপিএস ১৯ টাকা ৯৪ পয়সা
আগের বছরের তুলনায় ইপিএস বৃদ্ধি ৪ টাকা ৯২ পয়সা
শেয়ারপ্রতি নগদ কার্যকরি প্রবাহ ২৯ টাকা ৫২ পয়সা
আগের বছরের তুলনায় নগদ কার্যকরি প্রবাহ বৃদ্ধি ৩ টাকা ৩৬ পয়সা
শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্য ১৩৯ টাকা ১০ পয়সা
অনুমোদিত মূলধন ৫০ কোটি টাকা
পরিশোধিত মূলধন ৩১ কোটি ২৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা
মোট রিজার্ভ ৩৬০ কোটি ৭৫ লাখ টাকা
মোট শেয়ার ৩ কোটি ১২ লাখ ৪৩ হাজার ৬২৭টি
সর্বশেষ শেয়ারদর ৩১৫ টাকা ৯০ পয়সা
পিই রেশিও ১১.৮৬ পয়েন্ট

তানভির ইসলাম/

পাঠকের মতামত:

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ