ঢাকা, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩

শেয়ারদর অস্বাভাবিক বাড়ায় বিনিয়োগকারীদের জন্য ডিএসইর সতর্কবার্তা

শেয়ারনিউজ ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ২৮ ১২:৩৩:৫৪
শেয়ারদর অস্বাভাবিক বাড়ায় বিনিয়োগকারীদের জন্য ডিএসইর সতর্কবার্তা

মাত্র ২২ টাকা ৪০ পয়সা থেকে উঠে একটি শেয়ারের দাম পৌঁছেছে ৫৩ টাকা ৮০ পয়সায়। ৫২ সপ্তাহের হিসাবে মার্কেন্টাইল ইসলামী ইন্স্যুরেন্সের এই উত্থান প্রায় ১৪০ শতাংশ। এমন পরিস্থিতিতে কোম্পানিটির শেয়ারে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। কারণ, শেয়ারটির দামে এতটা বৃদ্ধির পেছনে কোনো কারণ কোম্পানির জানা নেই।

সর্বনিম্ন দর থেকে বড় উত্থান

বাজারে মার্কেন্টাইল ইসলামী ইন্স্যুরেন্সের শেয়ারদরের গতিপথে সাম্প্রতিক সময়ে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা গেছে। গত ৫২ সপ্তাহে ২২ টাকা ৪০ পয়সা ছিল শেয়ারটির সর্বনিম্ন দর। সেই অবস্থান থেকে বাড়তে বাড়তে একপর্যায়ে দাম ৫৪ টাকা ৫০ পয়সায় পৌঁছায়।

সর্বশেষ লেনদেনে অবশ্য শেয়ারটির দাম কিছুটা কমে ৫৩ টাকা ৮০ পয়সায় স্থির হয়েছে। তবু ৫২ সপ্তাহের সর্বনিম্ন দরের সঙ্গে তুলনা করলে বর্তমান মূল্য প্রায় ১৪০ শতাংশ বেশি।

মূল্যবৃদ্ধির ব্যাখ্যা নেই কোম্পানির কাছে

শেয়ারটির এমন মূল্যবৃদ্ধির কারণ জানতে চেয়ে বিষয়টি নিয়ে কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ করেছে ডিএসই। এর জবাবে গত ২৭ সেপ্টেম্বর কোম্পানিটি স্বপ্রণোদিত হয়ে ডিএসইকে চিঠি দিয়েছে।

চিঠিতে মার্কেন্টাইল ইসলামী ইন্স্যুরেন্স জানিয়েছে, তাদের শেয়ারদর অস্বাভাবিকভাবে বাড়ার কোনো কারণ কোম্পানির জানা নেই। এরপরই শেয়ারটিতে বিনিয়োগের আগে বিনিয়োগকারীদের সচেতন হওয়ার বিষয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছে ডিএসই।

বাজারদরের সঙ্গে এনএভিপিএস ও পিই রেশিও

কোম্পানিটির আর্থিক সূচকের মধ্যে শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য বা এনএভিপিএস রয়েছে ২১ টাকা ৭০ পয়সা। অন্যদিকে নিরীক্ষিত আয়ের ভিত্তিতে শেয়ারটির মূল্য-আয় অনুপাত বা পিই রেশিও ৩২.৬১।

বদলেছে শেয়ারহোল্ডিং কাঠামোও

এদিকে একই সময়ে মার্কেন্টাইল ইসলামী ইন্স্যুরেন্সের শেয়ারহোল্ডিং কাঠামোতেও পরিবর্তন হয়েছে। ৩১ জুলাই থেকে ৩১ আগস্ট, ২০২৬ সময়ের হিসাব অনুযায়ী উদ্যোক্তা-পরিচালকদের হাতে থাকা শেয়ারের পরিমাণ বেড়েছে।

৩১ জুলাই উদ্যোক্তা-পরিচালকদের শেয়ার ধারণের হার ছিল ৩১.৪৩ শতাংশ। ৩১ আগস্টে সেটি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৩.৪৩ শতাংশে।

অন্যদিকে এই সময়ে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের অংশ কমেছে। ৩১ জুলাই তাদের শেয়ার ধারণ ছিল ৩০.৮৬ শতাংশ, যা ৩১ আগস্টে কমে ২৯.৫১ শতাংশ হয়েছে।

শেয়ারদরের দ্রুত উত্থানের কারণ সম্পর্কে কোম্পানির কোনো ব্যাখ্যা না থাকা এবং ৫২ সপ্তাহের সর্বনিম্ন দরের তুলনায় বর্তমান মূল্য প্রায় ১৪০ শতাংশ ওপরে থাকার প্রেক্ষাপটেই বিনিয়োগকারীদের জন্য সতর্কবার্তা দিয়েছে ডিএসই।

আল-মামুন/

পাঠকের মতামত: