পুঁজি বাঁচিয়ে মুনাফার খোঁজে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা
শেয়ারবাজারে এখন তাড়াহুড়ো করে বিনিয়োগের বদলে অপেক্ষা করে পরিস্থিতি বোঝার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে। পুঁজির নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দিয়ে সম্ভাব্য মুনাফার হিসাব মিলিয়েই শেয়ার কেনাবেচা করছেন তারা। এর প্রভাব পড়েছে লেনদেনেও—ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) মঙ্গলবার টাকার অঙ্কে লেনদেন কমেছে এবং প্রধান সূচকসহ অন্য সূচকগুলোও কিছুটা নেমেছে।
তবে বাজার সংশ্লিষ্টরা বিনিয়োগকারীদের এই সতর্কতাকে নেতিবাচকভাবে দেখছেন না। তাদের মতে, আগের লোকসানের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে বিনিয়োগের আগে কোম্পানি ও শেয়ারের অবস্থা যাচাই করার প্রবণতা তৈরি হওয়া দীর্ঘমেয়াদে শেয়ারবাজারের জন্য ইতিবাচক হতে পারে।
লাভের আগে পুঁজির নিরাপত্তা
বাজার সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, শেয়ারের দাম বাড়তে দেখলেই বিনিয়োগ করার প্রবণতা এখন অনেকটাই কমেছে। বিনিয়োগকারীরা কোনো কোম্পানিতে অর্থ দেওয়ার আগে সেটির অবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট শেয়ারের পরিস্থিতি পর্যালোচনা করছেন। ফলে সিদ্ধান্ত নিতে সময় লাগছে, কিন্তু একই সঙ্গে যাচাই-বাছাই ছাড়া বিনিয়োগের ঝুঁকিও কমছে।
তাদের মতে, শেয়ারবাজারের স্থিতিশীলতা কেবল কোনো ব্যক্তি বা একটি প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। সাময়িকভাবে বাজার স্থির হলেও সেটি ধরে রাখতে বিনিয়োগকারীদের দায়িত্বশীল আচরণ প্রয়োজন। অর্থাৎ বাজারের পরিস্থিতি বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং ঝুঁকি বিবেচনা করাও স্থিতিশীলতার অংশ।
সূচক কিংবা শেয়ারের দাম বাড়তে শুরু করলেই যাচাই না করে যেকোনো শেয়ার কিনে ফেললে বিনিয়োগ করা মূলধন ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারে। আবার বাজারে দরপতন শুরু হলে আতঙ্কে লোকসান দিয়ে শেয়ার বিক্রি করলেও পরিস্থিতি আরও নেতিবাচক হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।
দরপতনের সময় ভালো শেয়ারের দাম কমে এলে বরং পরিস্থিতি বুঝে কেনার সুযোগ খোঁজা যেতে পারে। কিন্তু অনেক বিনিয়োগকারী এমন সময়ে ভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়ায় বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। তাই কেনা কিংবা বিক্রি—উভয় ক্ষেত্রেই সিদ্ধান্তের আগে সতর্কতা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
গুজবের বদলে কোম্পানির তথ্য
বিনিয়োগকারীদের মতে, শেয়ারবাজারে দীর্ঘস্থায়ী স্থিতিশীলতার জন্য সাধারণ বিনিয়োগকারীদের সচেতন হওয়া প্রয়োজন। এজন্য পুঁজিবাজার সম্পর্কে যথাযথ জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি কোনো কোম্পানিতে বিনিয়োগের আগে প্রয়োজনীয় তথ্য জানাও গুরুত্বপূর্ণ।
শুধু বাজারে ছড়িয়ে পড়া কোনো খবর বা গুজবের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত না নিয়ে কোম্পানির ব্যবসা, আর্থিক অবস্থা এবং অন্যান্য তথ্য যাচাই করার পর শেয়ার কেনার কথা বলছেন তারা। একই সঙ্গে কোনো শেয়ারের দাম কেন বাড়ছে বা কমছে, সেটির কারণও খতিয়ে দেখার প্রয়োজন রয়েছে।
বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, ভালো মৌলভিত্তির কোম্পানিতে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে পুঁজি সুরক্ষিত থাকার সম্ভাবনার পাশাপাশি মুনাফা পাওয়ার সুযোগও তৈরি হতে পারে।
অলস অর্থ থাকলে নজরে জুন ক্লোজিংয়ের কোম্পানি
বর্তমান পরিস্থিতিতে যেসব বিনিয়োগকারীর হাতে পর্যাপ্ত অলস অর্থ রয়েছে, তারা জুন ক্লোজিং হওয়া ভালো কোম্পানির শেয়ার নিয়ে যাচাই-বাছাই করতে পারেন বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, এ ধরনের শেয়ারে বিনিয়োগ করলে খুব শিগগিরই ভালো মুনাফা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।
তবে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আতঙ্কিত না হয়ে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির তথ্য যাচাই করার ওপরই গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
সাম্প্রতিক ধারাবাহিক দরপতনের কারণে অনেক শেয়ারের দাম এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা বিনিয়োগের জন্য অত্যন্ত অনুকূল হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে বাজারের ওপর নিয়ন্ত্রক সংস্থার নজরদারি আরও জোরদার করার প্রয়োজন রয়েছে বলেও তারা মনে করেন।
বিনিয়োগকারীদের পুঁজিবাজার সম্পর্কে ধারণা আরও পরিষ্কার করতে বিভিন্ন ধরনের সেমিনার আয়োজনের প্রয়োজনীয়তার কথাও বলা হয়েছে। এর মাধ্যমে বাজার সম্পর্কে বিনিয়োগকারীদের যথাযথ জ্ঞান অর্জনের সুযোগ তৈরি হবে।
মঙ্গলবারের বাজারে ডিএসইর তিন সূচকই নিচে
এই সতর্কতার মধ্যেই মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সূচক ও লেনদেনের চিত্রে পতন দেখা গেছে।
দিন শেষে ডিএসইএক্স ১ দশমিক ৪৯ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৫২৪ দশমিক ৩৬ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। ডিএসইএস সূচক ২ দশমিক ১৪ পয়েন্ট কমে হয়েছে ১ হাজার ৯৮ দশমিক ০৪ পয়েন্ট। আর ডিএসই-৩০ সূচক ৩ দশমিক ২৬ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ২ হাজার ৯৪ দশমিক ৬৭ পয়েন্টে।
মঙ্গলবার ডিএসইতে মোট ৩৯৫টি প্রতিষ্ঠান লেনদেনে অংশ নেয়। এর মধ্যে ১৪২টির শেয়ারদর বেড়েছে, ১৭৮টির কমেছে এবং ৭৫টির দর অপরিবর্তিত ছিল।
টাকার হিসাবে দিনটিতে ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে প্রায় ৬৩৪ কোটি ৫২ লাখ টাকার শেয়ার। আগের কার্যদিবসে লেনদেনের পরিমাণ ছিল প্রায় ৭৪৬ কোটি ৪৬ লাখ টাকা। অর্থাৎ এক দিনের ব্যবধানে লেনদেন কমেছে প্রায় ১১১ কোটি ৯৪ লাখ টাকা।
সিএসইতে লেনদেন বেড়েছে, সূচক কমেছে
ঢাকার বাজারে লেনদেন কমলেও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। মঙ্গলবার সেখানে শেয়ার ও ইউনিট মিলিয়ে লেনদেন হয়েছে ২৫ কোটি ৩১ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে এই পরিমাণ ছিল ১০ কোটি ৯৩ লাখ টাকা।
সিএসইতে এদিন ১৭০টি প্রতিষ্ঠান লেনদেনে অংশ নেয়। এর মধ্যে ৬৬টির শেয়ার ও ইউনিটের দর বেড়েছে, ৮২টির কমেছে এবং ২২টির দর অপরিবর্তিত ছিল।
তবে লেনদেন বাড়লেও সিএসইর সার্বিক সূচক সিএএসপিআই কমেছে। ৫ দশমিক ০২ পয়েন্ট কমে সূচকটি দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ৭৭২ দশমিক ৭৩ পয়েন্টে। এর আগের কার্যদিবসে সিএএসপিআই ৫ দশমিক ৫৫ পয়েন্ট কমেছিল।
বাজার দেখেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রবণতা
মঙ্গলবারের সামগ্রিক পরিস্থিতি সম্পর্কে বাজার সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য হলো, বিনিয়োগকারীরা বর্তমানে অনেক বেশি সতর্কতার সঙ্গে লেনদেন করছেন। একই সঙ্গে বাজারের গতিপ্রকৃতিও পর্যবেক্ষণ করছেন তারা।
তাদের মতে, পুঁজির সুরক্ষা, ভালো কোম্পানি নির্বাচন এবং দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের দৃষ্টিভঙ্গি বর্তমান পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ। ফলে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার বদলে তথ্য যাচাই করে শেয়ার কেনাবেচার যে প্রবণতা তৈরি হয়েছে, সেটিই এখন বাজারের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হয়ে উঠছে।
তানভির ইসলাম/
পাঠকের মতামত:
আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ
- আজ ব্রাজিল বনাম অস্ট্রেলিয়া: কখন, কোথায় ও কীভাবে লাইভ দেখবেন
- বাংলাদেশ বনাম সিঙ্গাপুর ম্যাচ: সরাসরি দেখুন Live
- কলা খাওয়ার সঠিক সময় কখন? সকাল নাকি রাত, জানুন
- ব্রাজিল বনাম অস্ট্রেলিয়া ম্যাচ: সরাসরি দেখুন Live
- চলছে বাংলাদেশ বনাম সিঙ্গাপুর ম্যাচ: সরাসরি দেখুন Live
- HONOR X9e Pro: ১১,০০০mAh ব্যাটারি ও ১০,০০০ নিটস ডিসপ্লে
- বাংলাদেশ বনাম সিঙ্গাপুর: শেষ হাসি হাসল কোন দল?
- বাংলাদেশ বনাম সিঙ্গাপুর ম্যাচ আজ, সময় ও লাইভ দেখার উপায়
- আজকের টাকার রেট কত: কমেছে ১৯টি দেশের টাকার মান