ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩

ব্রাজিল বনাম অস্ট্রেলিয়া: ৯০ মিনিটের খেলা শেষ, জানুন ফলাফল

খেলা ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ২৯ ১৭:৫৮:৫০
ব্রাজিল বনাম অস্ট্রেলিয়া: ৯০ মিনিটের খেলা শেষ, জানুন ফলাফল

ব্রিসবেনের সানকর্প স্টেডিয়ামে অস্ট্রেলিয়া ও ব্রাজিলের ম্যাচে একের পর এক নাটকীয়তার পর এখন বড় ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে ব্রাজিল। প্রথমে পিছিয়ে পড়া, এরপর অস্ট্রেলিয়ার ২-১ লিড এবং পরে ব্রাজিলের পাল্টা ঘুরে দাঁড়ানো—সব মিলিয়ে ম্যাচটি ছিল ঘটনাবহুল। ৭০ মিনিটে ব্রুনো গিমারায়েসের গোলে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়ার পর ৮২ মিনিটে ব্যবধান আরও বাড়ান ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। ৯০ মিনিটের নির্ধারিত সময় শেষ হয়ে এখন চলছে লস টাইম। এই মুহূর্তে স্কোর অস্ট্রেলিয়া ২-৪ ব্রাজিল।

শুরুতেই ব্রাজিলের এগিয়ে যাওয়া

ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে ব্রাজিল। অস্ট্রেলিয়া নিজেদের গুছিয়ে নেওয়ার আগেই ভান্দেরসনের গোলে এগিয়ে যায় তারা।

গোল হজমের পর অবশ্য দ্রুত ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে অস্ট্রেলিয়া। ব্রাজিলের রক্ষণে চাপ তৈরি করতে থাকে তারা এবং কয়েকটি আক্রমণ থেকে গোলের সুযোগও তৈরি হয়।

১৮ মিনিটে ইরানকুন্ডা বক্সের মধ্যে পড়ে গেলেও রেফারি পেনাল্টির নির্দেশ দেননি। এরপর ২১ মিনিটেও তার পড়ে যাওয়াকে ঘিরে ফাউলের দাবি ওঠে, কিন্তু রেফারি খেলা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

পাঁচ মিনিটে দুই গোল অস্ট্রেলিয়ার

২৮ মিনিটে ম্যাচে সমতা ফেরায় অস্ট্রেলিয়া। কর্নার থেকে আসা বলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে আলেসান্দ্রো সিরকাতি গোল করেন। অফসাইডের সন্দেহে গোলটি প্রথমে অনিশ্চিত হয়ে পড়লেও ভিএআর পর্যালোচনার পর গোলটি বৈধ ঘোষণা করা হয়।

এর মাত্র পাঁচ মিনিট পরই অস্ট্রেলিয়া ম্যাচে লিড নেয়। ৩৩ মিনিটে কনর মেটক্যালফ বাঁ পায়ের দুর্দান্ত শটে বল পাঠান ব্রাজিলের গোলের ওপরের ডান কোণে। গোলরক্ষক কোস্তার নাগালের বাইরে চলে যায় শটটি।

ফলে মাত্র পাঁচ মিনিটের ব্যবধানে ০-১ থেকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় অস্ট্রেলিয়া।

পেনাল্টিতে সমতায় ব্রাজিল

প্রথমার্ধের শেষদিকে ম্যাচে ফেরার সুযোগ খুঁজতে থাকে ব্রাজিল। ৪৪ মিনিটে অস্ট্রেলিয়ার বক্সে ডানিলো সান্তোসের পায়ে ফাউলের ঘটনা ভিএআর পর্যালোচনা করা হয়।

এরপর ব্রাজিল পেনাল্টি পায়। রাফিনহা স্পট কিক থেকে বাঁ পায়ের শটে বল পাঠান গোলের নিচের ডান কোণে। বিচকে পরাস্ত করে ব্রাজিল সমতায় ফেরে।

প্রথমার্ধের খেলা শেষ হয় ২-২ সমতায়।

দ্বিতীয়ার্ধে এন্ড্রিককে নামায় ব্রাজিল

বিরতির পর রাফিনহার পরিবর্তে এন্ড্রিককে মাঠে নামানো হয়। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই অস্ট্রেলিয়া আক্রমণে উঠে এলেও গোলের সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি।

৫৮ মিনিটে সান্তোসকে ফাউল করায় ইরানকুন্ডা হলুদ কার্ড দেখেন। অন্যদিকে এন্ড্রিক মাঠে নামার পর থেকেই সাউটার ও বেহিচের সঙ্গে লড়াইয়ে জড়িয়ে পড়েন। ফলে ম্যাচের উত্তেজনাও বাড়তে থাকে।

৬১ মিনিটে ইরানকুন্ডার ক্রস থেকে জ্যাকসন আরভিন গোলের সুযোগ পেলেও শেষ মুহূর্তে ব্রাজিলের এক খেলোয়াড় বাধা দেন। মেটক্যালফের কর্নার থেকে সিরকাতিও হেডে সুযোগ পেয়েছিলেন, কিন্তু বল চলে যায় লক্ষ্যের ওপর দিয়ে।

সাইডলাইনে উত্তেজনার পর ব্রাজিলের তৃতীয় গোল

৬৪ মিনিটে ব্রাজিল একসঙ্গে তিনটি পরিবর্তন করে। রায়ানের জায়গায় এস্তেভাও, ভান্দেরসনের জায়গায় মাতেউজিনহো এবং আন্দ্রে সান্তোসের বদলে গ্যাব্রিয়েল বোনতেম্পো মাঠে নামেন।

এরপর ৬৮ মিনিটে ম্যাচের উত্তাপ আরও বেড়ে যায়। সাউটার ও এন্ড্রিকের সংঘর্ষের পর সাইডলাইনে দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। কয়েকজন অস্ট্রেলিয়ান খেলোয়াড়ও এতে জড়িয়ে পড়েন।

এন্ড্রিক একপর্যায়ে মাটিতে পড়ে মুখ চেপে ধরেন। পরিস্থিতি থামাতে এগিয়ে আসা অস্ট্রেলিয়ার সহকারী কোচ পল ওকন সিনিয়রও ধস্তাধস্তির মধ্যে পড়ে যান। পরে খেলোয়াড়রা শান্ত হলে খেলা আবার শুরু হয় এবং কাউকেই শাস্তি দেওয়া হয়নি।

ঘটনার পরপরই ম্যাচে আবার বড় পরিবর্তন আসে। ৭০ মিনিটে এন্ড্রিকের সহায়তায় ব্রুনো গিমারায়েস বাঁ পায়ের শটে কাছ থেকে বল পাঠিয়ে দেন গোলের নিচের ডান কোণে।

এই গোলেই ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ব্রাজিল।

৮২ মিনিটে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের গোল

ব্রুনো গিমারায়েসের গোলের পরও ব্রাজিল আক্রমণের ধার কমায়নি। শেষদিকে অস্ট্রেলিয়ার রক্ষণে চাপ ধরে রাখার ফল আসে ৮২ মিনিটে।

এই সময় ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ব্রাজিলের হয়ে আরও একটি গোল করেন। তার গোলের ফলে ম্যাচের ব্যবধান বেড়ে দাঁড়ায় দুই গোলে।

অর্থাৎ ৩-২ থেকে ব্রাজিলের লিড এখন ৪-২।

শেষ মুহূর্তে অস্ট্রেলিয়ার চেষ্টা

চার গোল করার পরও ব্রাজিল ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখে। এর আগে এস্তেভাও একাধিকবার গোলের চেষ্টা করেন এবং অস্ট্রেলিয়ার গোলরক্ষক বিচকে সেভ করতে হয়।

অস্ট্রেলিয়াও ব্যবধান কমানোর চেষ্টা চালিয়ে যায়। ৭৬ মিনিটে কনর মেটক্যালফের জায়গায় রাইলি ম্যাকগ্রিকে মাঠে নামানো হয়েছিল।

তবে ৮২ মিনিটের পর আর কোনো গোল হয়নি।

৯০ মিনিট শেষ, চলছে লস টাইম

নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষ হয়ে গেছে। এখন ম্যাচ চলছে লস টাইমে। শেষ মুহূর্তে অস্ট্রেলিয়া ব্যবধান কমানোর চেষ্টা করছে, অন্যদিকে ৪-২ লিড ধরে রেখে ম্যাচ শেষ করার পথে ব্রাজিল।

এই মুহূর্তে স্কোরলাইন অস্ট্রেলিয়া ২-৪ ব্রাজিল। ৮২ মিনিটে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের গোলের পর আর কোনো দল গোল করতে পারেনি।

তানভির ইসলাম/

পাঠকের মতামত: