ঢাকা, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩

নোবেল সাহিত্য পুরস্কার ২০২৬: আলোচনায় বিশ্বের যেসব লেখক

বিশ্ব ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ অক্টোবর ০২ ২০:২৬:৫২
নোবেল সাহিত্য পুরস্কার ২০২৬: আলোচনায় বিশ্বের যেসব লেখক

সাহিত্যের নোবেল ঘিরে প্রতিবছরই অক্টোবরের শুরুতে শুরু হয় অনুমান আর জল্পনার পালা। এবারও তার ব্যতিক্রম নয়। তবে অন্য অনেক সাহিত্য পুরস্কারের মতো নোবেল সাহিত্য পুরস্কারের সম্ভাব্য বিজয়ীদের কোনো আনুষ্ঠানিক প্রাথমিক বা চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হয় না। ফলে কোন লেখক শেষ পর্যন্ত সুইডিশ একাডেমির স্বীকৃতি পেতে পারেন, তা নিয়ে আলোচনাই হয়ে ওঠে আগ্রহের বড় উৎস। ৮ অক্টোবর ঘোষণার আগ পর্যন্ত লাতিন আমেরিকা, ইউরোপ, আমেরিকা, আফ্রিকা ও ইংরেজিভাষী বিশ্বের বেশ কয়েকজন লেখককে ঘিরেই চলছে সেই আলোচনা।

শান্তি ও সাহিত্য—নোবেলের এই দুই বিভাগ সাধারণত সবচেয়ে বেশি জনআগ্রহ তৈরি করে। বিশেষ করে সাহিত্যের পুরস্কারটির ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের গোপনীয় নির্বাচনপ্রক্রিয়া কৌতূহল আরও বাড়িয়ে দেয়। এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে দেওয়া এই পুরস্কার একই সঙ্গে সাহিত্যিক মর্যাদা ও অর্থমূল্যের স্বীকৃতি এনে দেয়। অন্যদিকে বুকার পুরস্কারের দুই সংস্করণ, প্রিঁ গঁকু কিংবা ইন্টারন্যাশনাল ডাবলিন লিটারারি অ্যাওয়ার্ডের মতো বিখ্যাত পুরস্কারগুলো প্রাথমিক ও চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করে আগ্রহ তৈরি করে। নোবেল সাহিত্য পুরস্কারের পদ্ধতিটি সেই তুলনায় সম্পূর্ণ ভিন্ন।

এবার কেন লাতিন আমেরিকা নিয়ে এত আলোচনা

সম্ভাব্যদের আলোচনায় এবার লাতিন আমেরিকার গুরুত্ব আলাদা করে সামনে এসেছে। সুইডিশ একাডেমি পুরস্কার দেওয়ার ক্ষেত্রে অঞ্চল ও ভাষার বিষয়ও বিবেচনায় রাখে। দীর্ঘ সময় ধরে লাতিন আমেরিকার প্রতি একাডেমির অনুকূল না থাকার বিষয়টিও এ বছরের আলোচনায় বিশেষভাবে উঠে আসছে।

এই অঞ্চলের সমসাময়িক লেখকদের মধ্যে সিজার আইরার নাম উল্লেখযোগ্যভাবে আলোচিত হচ্ছে। তিনি হোর্হে লুইস বোর্হেসের দেশের লেখক। বহুবার জল্পনা তৈরি হলেও বোর্হেস শেষ পর্যন্ত সাহিত্যের নোবেল পাননি।

আইরার বই সাধারণত বড় কলেবরের নয়। কিন্তু তার সাহিত্যকর্ম বুদ্ধিজীবী ও নিবেদিত পাঠকদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। লাতিন আমেরিকার অন্য যেসব নাম আলোচনায় রয়েছে, তাদের মধ্যে আছেন মেক্সিকোর কবি ওমেরো আরিদজিস, লেখক হুয়ান ভিলোরা এবং ঔপন্যাসিক ক্রিস্তিনা রিভেরা গারজা। ব্রাজিলের মিল্টন হাতুম ও চিলির কবি রাউল জুরিতাও রয়েছেন সম্ভাব্যদের আলোচনায়।

ইউরোপের দীর্ঘ উপস্থিতির মধ্যেই নতুন জল্পনা

নোবেল সাহিত্য পুরস্কারের ক্ষেত্রে ইউরোপের প্রভাব নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা রয়েছে। সমালোচকদের একটি অংশ মনে করেন, পুরস্কারটি এখনো পুরোপুরি ‘ইউরোপ-কেন্দ্রিকতা’ থেকে বেরিয়ে আসতে পারেনি। ফলে ইউরোপে পুরস্কারটি গেলে কারা আলোচনায় থাকবেন, সেই প্রশ্নেও কয়েকজন লেখকের নাম সামনে এসেছে।

ইতালির ক্লাউদিও মাগরিস ও রোমানিয়ার মির্চা কার্তারেস্কু তাদের মধ্যে অন্যতম। মাগরিসের ক্ষেত্রে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয় ‘দানিউব’ উপন্যাসটির কথা। মাত্র এই একটি উপন্যাসের মাধ্যমেই তিনি বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পেয়েছেন। তার হাতে পুরস্কার উঠলে সেটিকে বিস্ময়কর ঘটনা হিসেবে দেখা হবে না।

ইউরোপের আরও দুটি দেশ—স্পেন ও জার্মানি—এবার আলাদা গুরুত্ব পাচ্ছে। গত দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে এই দুই দেশের কোনো লেখক সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পাননি, যদি মারিও ভার্গাস ইয়োসাকে পেরুর লেখক হিসেবে গণ্য করা হয়।

স্পেনের সম্ভাব্যদের তালিকায় রয়েছেন এনরিক ভিলা-মাতাস, আন্তোনিও মুনোজ মলিনা ও এদুয়ার্দো মেনদোজা। জার্মানি থেকে আলোচনায় রয়েছেন বোথো স্ট্রাউস।

এর বাইরে রাশিয়ার লুদমিলা উলিৎস্কায়া, মিখাইল শিশকিন ও ভ্লাদিমির সরোকিনের নামও রয়েছে। ইউরোপের বিস্তৃত তালিকায় আরও আছেন লেবানন-বংশোদ্ভূত ফরাসি লেখক আমিন মালুফ, ইউক্রেনীয় আন্দ্রে কুরকভ এবং বুকার ইন্টারন্যাশনাল পুরস্কারজয়ী ইসরায়েলি ঔপন্যাসিক ডেভিড গ্রসম্যান।

আমেরিকান উত্তর-আধুনিক সাহিত্যের অপেক্ষা

আমেরিকান উত্তর-আধুনিক সাহিত্যে অবদান রাখা কোনো লেখককে এখনো নোবেল সাহিত্য পুরস্কার দেওয়া হয়নি। ভনেগাট ও বার্থ দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও এই স্বীকৃতি পাননি।

তবে সেই ধারার লেখকদের সম্ভাবনা পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি। উইলিয়াম টি ভোলমান, আশিতোর্ধ্ব ডন ডেলিলো ও টমাস পিনচনের মতো লেখকদের নাম সেই প্রসঙ্গে সামনে আসছে।

ইংরেজি ভাষায় সাহিত্যচর্চা করা আরও কয়েকজন লেখকও এবারের আলোচনায় জায়গা করে নিয়েছেন। তাদের মধ্যে ভারতীয় বংশোদ্ভূত কানাডিয়ান লেখক রোহিন্তন মিস্ত্রি, বুকারজয়ী কানাডিয়ান লেখক মাইকেল ওন্দাচি, আইরিশ ঔপন্যাসিক জন ব্যানভিল, ব্রিটিশ লেখক ইয়ান ম্যাকইউয়ান ও জুলিয়ান বারনেস এবং অস্ট্রেলিয়ান লেখক রিচার্ড ফ্লানাগান রয়েছেন।

ইংরেজি ভাষার কোনো লেখক প্রতি পাঁচ বা ছয় বছর অন্তর পুরস্কার পেলে সেটি অস্বাভাবিক নয়—এমন সম্ভাবনার কথাও আলোচনায় রয়েছে। এর পেছনে বিশ্বজুড়ে ইংরেজিতে লেখা অভিবাসী ও ডায়াসপোরা সাহিত্যের পাঠক ও সমালোচকদের কাছে পাওয়া মনোযোগকে কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

অস্ট্রেলিয়ার জেরাল্ড মারনেইনের নামও তাই আলোচনার বাইরে নেই। চমৎকার সব উপন্যাসের এই লেখক নোবেল পেলে দুই শতাব্দীর ভিন্ন প্রজন্মের পাঠকের জন্য সেটি আনন্দের ঘটনা হবে। অস্ট্রেলিয়া থেকে এর আগে একমাত্র ঔপন্যাসিক প্যাট্রিক হোয়াইট ১৯৭৩ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন।

আফ্রিকা থেকেও একাধিক নাম

সম্ভাব্যদের তালিকায় আফ্রিকার সাহিত্যিকদের উপস্থিতিও রয়েছে। মোজাম্বিকের ‘অ্যানিমিস্ট রিয়েলিস্ট’ লেখক মিয়া কুতো তাদের মধ্যে অন্যতম।

দক্ষিণ আফ্রিকার উত্তর-আধুনিকতাবাদী লেখক ইভান ভ্লাদিস্লাভিচ, মরিশাসের আনন্দা দেবী এবং মরক্কোর তাহার বেন জেলুন ও আবদেললাতিফ লাবিও আলোচনায় রয়েছেন।

হান কাংয়ের পর এশিয়ার সম্ভাবনা

এবার এশিয়ার কোনো লেখক নোবেল সাহিত্য পুরস্কার পাবেন কি না, সেই সম্ভাবনাকে তুলনামূলকভাবে কম হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর কারণ হিসেবে সামনে রয়েছে দুই বছর আগে হান কাংয়ের নোবেলজয়।

তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোর বিজয়ীদের সাহিত্যকর্মের দিকে তাকালে আরেকটি বিষয়ও চোখে পড়ে। নোবেল কমিটি পরীক্ষামূলক এবং প্রচলিত রীতির বাইরে থাকা সাহিত্যকর্মের প্রতি আগ্রহ দেখিয়েছে। এ বছরের নির্বাচনের ক্ষেত্রেও সেই প্রবণতা অব্যাহত থাকবে কি না, তা এখনো অনিশ্চিত।

অতএব সম্ভাব্য লেখকদের নিয়ে যত আলোচনা বা অনুমানই থাকুক, চূড়ান্ত উত্তর মিলবে ৮ অক্টোবর। সেদিনই জানা যাবে এবারের নোবেল সাহিত্য পুরস্কারের জন্য সুইডিশ একাডেমির পছন্দ কার দিকে গেছে।

FAQ

প্রশ্ন: ২০২৬ সালের নোবেল সাহিত্য পুরস্কার কবে ঘোষণা হবে?

উত্তর: দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ৮ অক্টোবর এবারের নোবেল সাহিত্য পুরস্কারের ফল জানা যাবে।

প্রশ্ন: লাতিন আমেরিকা থেকে কারা আলোচনায় রয়েছেন?

উত্তর: সিজার আইরা, ওমেরো আরিদজিস, হুয়ান ভিলোরা, ক্রিস্তিনা রিভেরা গারজা, মিল্টন হাতুম ও রাউল জুরিতার নাম আলোচনায় রয়েছে।

প্রশ্ন: ইউরোপ থেকে কোন লেখকদের নাম উঠে এসেছে?

উত্তর: ক্লাউদিও মাগরিস, মির্চা কার্তারেস্কু, এনরিক ভিলা-মাতাস, আন্তোনিও মুনোজ মলিনা, এদুয়ার্দো মেনদোজা ও বোথো স্ট্রাউসসহ বেশ কয়েকজন ইউরোপীয় লেখক আলোচনায় রয়েছেন।

প্রশ্ন: আফ্রিকা থেকে কারা সম্ভাব্যদের আলোচনায় আছেন?

উত্তর: মিয়া কুতো, ইভান ভ্লাদিস্লাভিচ, আনন্দা দেবী, তাহার বেন জেলুন ও আবদেললাতিফ লাবির নাম রয়েছে।

প্রশ্ন: অস্ট্রেলিয়া থেকে এর আগে কে সাহিত্যে নোবেল পেয়েছেন?

উত্তর: ১৯৭৩ সালে ঔপন্যাসিক প্যাট্রিক হোয়াইট একমাত্র অস্ট্রেলীয় লেখক হিসেবে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার অর্জন করেছিলেন।

তানভির ইসলাম/

পাঠকের মতামত:

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ