ঢাকা, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩

জরিমানা ও আপিল খারিজ, তবু ঢাকা ব্যাংকের পর্ষদে মনির উদ্দিন

অর্থনীতি ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১২ ১১:৫৯:৪১
জরিমানা ও আপিল খারিজ, তবু ঢাকা ব্যাংকের পর্ষদে মনির উদ্দিন

বাংলাদেশ ব্যাংকের শাস্তিমূলক সিদ্ধান্ত ও পরিচালনা পর্ষদ থেকে অপসারণের নির্দেশের পরও ঢাকা ব্যাংক পিএলসির পরিচালকদের তালিকায় খন্দকার মনির উদ্দিনের নাম থাকার তথ্য সামনে এসেছে। ১১ অক্টোবর পর্যন্ত ব্যাংকটির ওয়েবসাইটে তাঁর নাম দেখা গেছে বলে এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাঁকে ১ লাখ টাকা এবং ঢাকা ব্যাংককে ৪ লাখ টাকা জরিমানা করেছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। শাস্তি মওকুফের আবেদনও প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। এরপরও অপসারণের নির্দেশ কার্যকর হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে।

শাস্তি বহাল, অপসারণের বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন

ঢাকা ব্যাংকের উদ্যোক্তা পরিচালক খন্দকার মনির উদ্দিনকে পরিচালনা পর্ষদ থেকে সরানোর বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক গত সেপ্টেম্বরেও নির্দেশ দিয়েছিল। এর আগে একই ধরনের নির্দেশ আরও কয়েকবার দেওয়া হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

তবে নির্দেশনার পরও ব্যাংকটির ওয়েবসাইটে তাঁর নাম থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশ ও জরিমানার বিরুদ্ধে করা আপিল খারিজ হওয়ার পরও তাঁকে পরিচালনা পর্ষদ থেকে অপসারণ করা হয়নি।

এই পরিস্থিতিতে শাস্তিমূলক সিদ্ধান্তের পরবর্তী কার্যক্রম কতটা বাস্তবায়িত হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে ওয়েবসাইটে নাম থাকার তথ্যের ভিত্তিতে অপসারণের নির্দেশ বাস্তবায়িত হয়নি—এমন সিদ্ধান্ত নিশ্চিতভাবে দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হালনাগাদ তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন।

কী কারণে জরিমানার মুখে পড়েন মনির উদ্দিন ও ঢাকা ব্যাংক

প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে বিভ্রান্ত করার অভিযোগে খন্দকার মনির উদ্দিনের বিরুদ্ধে ১ লাখ টাকার জরিমানা আরোপ করা হয়। অভিযোগের মধ্যে ছিল তথ্য গোপন ও প্রতারণার মাধ্যমে কর্তৃপক্ষকে বিভ্রান্ত করা।

অন্যদিকে, তাঁকে নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য দেওয়ার অভিযোগে ঢাকা ব্যাংক পিএলসিকে ৪ লাখ টাকা জরিমানা করে বাংলাদেশ ব্যাংক। অর্থাৎ, একই ঘটনায় ব্যক্তি ও ব্যাংক—দুই পক্ষের বিরুদ্ধেই আর্থিক শাস্তির কথা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

পরে মনির উদ্দিন এবং ঢাকা ব্যাংক কর্তৃপক্ষ উভয়েই শাস্তি ও জরিমানা মওকুফের আবেদন করেন। কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ আবেদন দুটি প্রত্যাখ্যান করে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে শাস্তি প্রত্যাহারের আবেদন সফল হয়নি।

দুটি প্রতিষ্ঠানে একসঙ্গে দায়িত্ব পালনের বিষয়টি সামনে আসে

বাংলাদেশ ব্যাংকের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঢাকা ব্যাংকের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় খন্দকার মনির উদ্দিন শান্তা লাইফ ইন্স্যুরেন্স পিএলসিরও পরিচালক ও চেয়ারম্যান ছিলেন।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিদর্শনে এ-সংক্রান্ত অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গিয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে তিনি শান্তা লাইফ ইন্স্যুরেন্স থেকে পদত্যাগ করেন।

তবে বিমা প্রতিষ্ঠানটির পদ ছাড়ার পর ঢাকা ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে তাঁর অবস্থানের বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তা নিয়ে স্পষ্টতা নেই। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অপসারণের নির্দেশ এবং সংশ্লিষ্ট আপিল খারিজ হওয়ার পরও ঢাকা ব্যাংকের পরিচালকদের তালিকায় তাঁর নাম দেখা গেছে।

আইন প্রয়োগে ব্যতিক্রমের সুযোগ নেই: বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র

ব্যাংকের পরিচালক হওয়ার যোগ্যতা, পদে থাকার শর্ত এবং এসব বিধান অমান্য করলে কী ধরনের শাস্তি হতে পারে, তা ব্যাংক কোম্পানি আইনে নির্ধারিত রয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান।

তাঁর বক্তব্য উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইন নির্ধারিত শর্ত লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রমের সুযোগ নেই। একই সঙ্গে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের প্রভাব বিবেচনা না করে আইনের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

আরিফ হোসেন খানের বক্তব্য অনুযায়ী, শাস্তির বিরুদ্ধে করা আপিল প্রত্যাখ্যাত হলে সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে হয়। এ বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে মনির উদ্দিনের নাম থাকার বিষয়টি নির্দেশ বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনাকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।

ব্যবসায়িক পরিচিতিতে শান্তা গ্রুপ ও এসটিএস গ্রুপ

খন্দকার মনির উদ্দিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে হিসাববিজ্ঞানে বিকম (সম্মান) ও এমকম ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৮৫ সালে ব্যবসায়িক জীবন শুরু করেন তিনি।

তাঁর ব্যবসায়িক পরিচয়ের সঙ্গে রয়েছে শান্তা হোল্ডিংস লিমিটেড ও শান্তা গ্রুপ। প্রতিষ্ঠান দুটির প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন। এ ছাড়া তিনি এসটিএস গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবেও পরিচিত।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এসটিএস গ্রুপের অধীনে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতাল এবং ইন্টারন্যাশনাল স্কুল ঢাকা পরিচালিত হয়।

এখন যে তথ্যগুলো নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশ, আর্থিক জরিমানা এবং শাস্তি মওকুফের আবেদন প্রত্যাখ্যানের পরও ঢাকা ব্যাংকের ওয়েবসাইটে খন্দকার মনির উদ্দিনের নাম থাকার বিষয়টি প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এ ঘটনা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন এবং ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রক বিধি পরিপালন নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে।

তবে বিষয়টির বর্তমান অবস্থা নির্ধারণে ঢাকা ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সর্বশেষ তালিকা, বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ বক্তব্য এবং অপসারণের নির্দেশ বাস্তবায়ন-সংক্রান্ত তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন। এসব তথ্য ছাড়া তাঁর বর্তমান অবস্থান বা নির্দেশ বাস্তবায়নের চূড়ান্ত অবস্থা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)

১. খন্দকার মনির উদ্দিনকে কত টাকা জরিমানা করা হয়েছিল?

প্রতিবেদন অনুযায়ী, তথ্য গোপন ও প্রতারণার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে বিভ্রান্ত করার অভিযোগে তাঁকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছিল।

২. ঢাকা ব্যাংকের জরিমানার পরিমাণ কত?

মনির উদ্দিনের বিষয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য দেওয়ার অভিযোগে ঢাকা ব্যাংক পিএলসিকে ৪ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।

৩. বাংলাদেশ ব্যাংক কেন তাঁকে অপসারণের নির্দেশ দিয়েছিল?

ব্যাংক কোম্পানি আইনের বিধান লঙ্ঘনের অভিযোগে তাঁকে পরিচালনা পর্ষদ থেকে সরানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

৪. শাস্তি মওকুফের আবেদন কী হয়েছিল?

খন্দকার মনির উদ্দিন ও ঢাকা ব্যাংক উভয়েই শাস্তি ও জরিমানা মওকুফের আবেদন করেছিল। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ সেই আবেদন প্রত্যাখ্যান করে।

৫. ঢাকা ব্যাংকের পর্ষদে তাঁর নাম এখনো রয়েছে কি?

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১১ অক্টোবর পর্যন্ত ব্যাংকটির ওয়েবসাইটে তাঁর নাম ছিল। তবে বর্তমান অবস্থা নিশ্চিত করতে হালনাগাদ পরিচালনা পর্ষদের তালিকা ও বাংলাদেশ ব্যাংকের বক্তব্য যাচাই করা প্রয়োজন।

তানভির ইসলাম/

পাঠকের মতামত:

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ