ইপিএস ২.৩৫ থেকে ৫.০৮ টাকা! সিভিওর ডিভিডেন্ডে এবার চমক আসবে?
বছরের হিসাব চূড়ান্ত করতে ২৪ অক্টোবর বসছে সিভিও পেট্রোকেমিক্যাল রিফাইনারি লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদ। তার আগেই কোম্পানির নয় মাসের আর্থিক ফল ডিভিডেন্ড নিয়ে প্রত্যাশা বাড়িয়ে দিয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে মার্চ সময়ে শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণের বেশি হয়েছে।
বৈঠকের এজেন্ডা
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করতেই ২৪ অক্টোবরের সভা। বার্ষিক ফলাফল দেখার পাশাপাশি ওই বৈঠকে বিনিয়োগকারীদের জন্য ডিভিডেন্ড নিয়েও সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
মাপকাঠি গত বছরের ডিভিডেন্ড
২০২৫ সালের ৩০ জুন শেষ হওয়া অর্থবছরের জন্য পর্ষদ ১১ শতাংশ ক্যাশ ও ৯ শতাংশ স্টক ডিভিডেন্ডের সুপারিশ করেছিল। শেয়ারের অভিহিত মূল্য ১০০ টাকা ধরলে এর অর্থ, প্রতি শেয়ারে ১১ টাকা নগদ এবং প্রতি ১০০টি শেয়ারে ৯টি বোনাস শেয়ার।
নয় মাসে যা বদলেছে
২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত সময়ের অনিরীক্ষিত হিসাবে তিনটি সূচকেই অগ্রগতি দেখা গেছে:
| সূচক (শেয়ারপ্রতি) | চলতি অর্থবছর (জুলাই ২০২৫–মার্চ ২০২৬) | আগের বছর (একই সময়) |
|---|---|---|
| আয় (ইপিএস) | ৫.০৮ টাকা | ২.৩৫ টাকা |
| নিট পরিচালন নগদ প্রবাহ | ৯.১৩ টাকা | ৭.০৫ টাকা |
ইপিএস বেড়েছে ২ টাকা ৭৩ পয়সা, যা প্রায় ১১৬ শতাংশ। নগদ প্রবাহ বেড়েছে ২ টাকা ৮ পয়সা। এ ছাড়া ৩১ মার্চ ২০২৬ তারিখে শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভি) দাঁড়িয়েছে ৩১ টাকা ৯০ পয়সায়, যা ৩০ জুন ২০২৫ তারিখে ছিল ২৭ টাকা ৭৯ পয়সা।
কোনো একটি প্রান্তিকের ওপর ভর করে এই উন্নতি আসেনি। জানুয়ারি–মার্চ প্রান্তিকে ইপিএস ছিল ১ টাকা ১২ পয়সা (আগের বছর ৬৩ পয়সা)। অক্টোবর–ডিসেম্বরে ২ টাকা ২৩ পয়সা (আগের বছর সমন্বিত ৮৮ পয়সা)। জুলাই–সেপ্টেম্বরে ১ টাকা ৮৮ পয়সা (আগের বছর ৯২ পয়সা)। ছয় মাসের হিসাবে ইপিএস ছিল ৩ টাকা ৯৬ পয়সা, আগের বছরের সমন্বিত ১ টাকা ৭২ পয়সার বিপরীতে।
কোম্পানি কী কারণ দেখাচ্ছে
প্রতিটি প্রতিবেদনে কোম্পানি একই কথা বলেছে। বিক্রির পরিমাণ বাড়ায় বিক্রয় আয় বেড়েছে, আর কাঁচামালের খরচ কমায় নিট মুনাফা ও ইপিএস বেড়েছে।
নগদ প্রবাহ ভালো হওয়ার পেছনে কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, গ্রাহকের কাছ থেকে আসা নগদ অর্থ সরবরাহকারী, পরিচালন ব্যয় ও অন্যান্য খাতে নগদ পরিশোধের চেয়ে বেশি ছিল। আর এনএভি বাড়ার কারণ ২০২৫ সালের ৩০ জুন কোম্পানির জমির পুনর্মূল্যায়ন।
তাহলে কত ডিভিডেন্ড আসতে পারে
আয় বৃদ্ধি, বিক্রয় আয়ের উন্নতি, কাঁচামালের ব্যয় হ্রাস ও নগদ প্রবাহের ভালো অবস্থা ডিভিডেন্ডের সম্ভাবনায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। সেই হিসাবে গত বছরের ১১ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ড ধরে রাখা, এমনকি বাড়ানোর সম্ভাবনাও একেবারে বাদ দেওয়া যায় না।
তবে নয় মাসের আয় দেখে ডিভিডেন্ডের হার ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে ভূমিকা রাখবে অর্থবছরের শেষ প্রান্তিকের আয়, বছর শেষে নগদ অর্থের অবস্থান, ভবিষ্যৎ পরিচালন ব্যয়ের চাহিদা এবং পর্ষদের বিবেচনার অন্যান্য বিষয়। স্টক ডিভিডেন্ডের ক্ষেত্রেও কোনো নিশ্চিত পূর্বাভাস দেওয়ার সুযোগ নেই। গত বছরের মতো ক্যাশ ও স্টকের অনুপাত থাকবে কি না, তা ঠিক করবে পর্ষদ।
সেপ্টেম্বরের বন্ধ কারখানা অক্টোবরে আবার চালু
জরুরি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ৭ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ কারখানা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। চট্টগ্রামের পাঁচলাইশের ৩৭, কাটালগঞ্জে কোম্পানির নিবন্ধিত ও করপোরেট কার্যালয়ে ৬ সেপ্টেম্বর বিকেল সাড়ে ৩টায় পর্ষদের ১৩৯তম সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কোম্পানির ভাষ্য অনুযায়ী, অনিবার্য পরিচালন পরিস্থিতিতে কারখানার কর্মদক্ষতা নিশ্চিত করা ও ব্যবসার টেকসই ধারাবাহিকতা রক্ষাই ছিল লক্ষ্য।
পরে কোম্পানি জানায়, ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে কাজ সফলভাবে শেষ হয়েছে এবং ১ অক্টোবর থেকে নিয়মিত কার্যক্রম আবার শুরু হয়েছে। পরিস্থিতি সামলে দ্রুত কারখানা স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছে তারা।
তবে এই ঘটনা ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সমাপ্ত ফলাফলের পরে ঘটেছে। তাই ওই অর্থবছরের মুনাফা বৃদ্ধির কারণ হিসেবে একে ধরা যাবে না।
ঋণমানে স্থিতিশীল দৃষ্টিভঙ্গি
কোম্পানির ঋণমান নির্ধারণ করেছে ক্রেডিট রেটিং এজেন্সি অব বাংলাদেশ লিমিটেড। দীর্ঘমেয়াদে এই মান ‘বিবিবি১’ ও স্বল্পমেয়াদে ‘এসটি-৩’, আর দৃষ্টিভঙ্গি স্থিতিশীল। ২০২৫ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী, ২২ ডিসেম্বর ২০২৫-এর ব্যাংক দায়সংক্রান্ত তথ্য এবং ঋণমান ঘোষণার তারিখ পর্যন্ত পাওয়া অন্যান্য পরিমাণগত ও গুণগত তথ্যের ভিত্তিতে মানটি ঠিক হয়েছে।
প্রাসঙ্গিক FAQ
১. সিভিও পেট্রোকেমিক্যালের পর্ষদ সভা কবে?
২৪ অক্টোবর। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা হবে, সেখানে ডিভিডেন্ড নিয়েও সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
২. গত বছর কোম্পানি কত ডিভিডেন্ডের সুপারিশ করেছিল?
১১ শতাংশ ক্যাশ ও ৯ শতাংশ স্টক।
৩. নয় মাসে ইপিএস কতটা বেড়েছে?
২ টাকা ৩৫ পয়সা থেকে ৫ টাকা ৮ পয়সায়, অর্থাৎ প্রায় ১১৬ শতাংশ।
৪. এবারের ডিভিডেন্ড কি নিশ্চিত?
না। চূড়ান্ত হার নির্ভর করবে পুরো বছরের নিরীক্ষিত আয়, আর্থিক সামর্থ্য ও পর্ষদের সিদ্ধান্তের ওপর।
৫. কারখানা এখন চালু আছে কি?
হ্যাঁ। ৭ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর বন্ধ থাকার পর ১ অক্টোবর থেকে নিয়মিত কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
আল-মামুন/
পাঠকের মতামত:
আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ
- Honor Magic9 Pro Max: ৮৮০০mAh ব্যাটারি ও ডুয়াল ২০০MP ক্যামেরা
- ৬ কোম্পানির ডিভিডেন্ড ঘোষণা
- ওয়ারিশ সনদ দিয়ে জমি নামজারি করবেন যেভাবে, জানুন নিয়ম
- আজকের সোনার দাম: ২২, ২১ ও ১৮ ক্যারেটের নতুন দর
- উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া জমির নামজারি করবেন যেভাবে
- আজকের সোনার দাম: প্রতি ভরি ১৮, ২১, ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম কত
- জিকিউ বলপেনের ১২.৫০% নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা
- Infinix Smart 20E: ১২০Hz ডিসপ্লে ও বড় ব্যাটারি?
- Samsung-এর সেরা ৫ ফোন: ক্যামেরা, ব্যাটারি ও দাম
- অনলাইনে জমির নামজারি করবেন যেভাবে, খরচ ১১৭০ টাকা
- iQOO Neo 12: ১৮৫Hz ডিসপ্লে ও ৯০০০mAh ব্যাটারির চমক
- লার্নার ড্রাইভিং লাইসেন্স করতে কত টাকা লাগে? জানুন নিয়ম
- ওয়ারিশি জমির নামজারি করতে কত টাকা লাগে, জানুন নিয়ম
- Galaxy S27 Ultra-এর ব্যাটারি, ক্যামেরা ও দাম নিয়ে যত তথ্য
- iPhone 18 Pro Max কেনার আগে সিম ও ওয়ারেন্টি যাচাই করুন