ঢাকা, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩

মিউচুয়াল ফান্ডেও এবার লাইসেন্সধারী এজেন্ট, কীভাবে মিলবে সুযোগ?

শেয়ারনিউজ ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১২ ২০:৫৪:৪৪
মিউচুয়াল ফান্ডেও এবার লাইসেন্সধারী এজেন্ট, কীভাবে মিলবে সুযোগ?

বিমা ব্রোকারদের মতো করে মিউচুয়াল ফান্ডের জন্যও আলাদা লাইসেন্সধারী এজেন্ট থাকবেন, এমন ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নিচ্ছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ক্যাপিটাল মার্কেটে (বিআইসিএম) স্বল্প মেয়াদি প্রশিক্ষণ ও সার্টিফিকেশন শেষ করলেই কাজ শুরুর সুযোগ মিলবে, এমন পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন কমিশনের চেয়ারম্যান মাসুদ খান।

ভারতের অভিজ্ঞতাই ভরসা

এ ব্যবস্থার পক্ষে যুক্তি দিতে গিয়ে প্রতিবেশী ভারতের কথা টেনেছেন মাসুদ খান। তাঁর বর্ণনায়, সেখানে লাইসেন্সপ্রাপ্ত মিউচুয়াল ফান্ড এজেন্টরা বিমা ব্রোকারদের ধরনেই কাজ করেন, আর এর ফলেই দেশটির মিউচুয়াল ফান্ড শিল্প বড় আকারে বিকশিত হয়েছে। সামনের দিনে বাংলাদেশেও ওপেন-এন্ড মিউচুয়াল ফান্ডের প্রসার গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে বলে মত তাঁর।

সেমিনারের মঞ্চ থেকে ঘোষণা

সোমবার (১২ অক্টোবর) রাজধানীর ডিএসই টাওয়ারে এসব কথা বলেন তিনি। বিশ্ব বিনিয়োগকারী সপ্তাহ-২০২৬-এর সমাপনী আয়োজন হিসেবে সেখানে বসেছিল ‘ডিজিটাল ডিসেপশন অ্যান্ড স্ক্যাম অ্যালার্ট’ শীর্ষক সেমিনার। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিবিএ) যৌথভাবে এর আয়োজক ছিল। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির আসনে ছিলেন বিএসইসি চেয়ারম্যান।

প্রশিক্ষণ-সনদের পর মাঠে নামা

বক্তব্যে মাসুদ খান জানান, নির্ধারিত প্রশিক্ষণ ও সার্টিফিকেশনের ধাপ পেরোলেই লাইসেন্সধারী এজেন্টরা এই খাতে কাজ করতে পারবেন। দক্ষ এজেন্ট গড়ে তুলে মিউচুয়াল ফান্ডের পরিধি বাড়ানোই কমিশনের লক্ষ্য। পুঁজিবাজারের বিনিয়োগ কাঠামো সম্প্রসারণের বড় পরিকল্পনারই একটি অংশ হিসেবে তিনি এ উদ্যোগকে তুলে ধরেন।

সরাসরি শেয়ারের বাইরেও তাকাতে হবে

চেয়ারম্যানের মতে, মিউচুয়াল ফান্ড এগোলে শেয়ার বিশ্লেষণ ও বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনায় দক্ষ মানুষের অংশগ্রহণ বাজারে বাড়বে। এ কারণে কেবল সরাসরি শেয়ার কেনাবেচার ওপর ভর করে থাকলে চলবে না; মিউচুয়াল ফান্ডের মতো বিকল্প মাধ্যমকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে।

নীতিমালা হবে বাজারের চাহিদা মিলিয়ে

বাজারের গভীরতা ও বাজার মূলধন বাড়ানোকে তিনি পুঁজিবাজারের সার্বিক উন্নয়নের জন্য জরুরি বলে উল্লেখ করেন। সেই লক্ষ্যে মিউচুয়াল ফান্ডসহ বিভিন্ন বিনিয়োগ পণ্যের বিকাশ দরকার। বাজারসংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার ভিত্তিতে নীতিমালা তৈরির চেষ্টা করছে কমিশন, যাতে সেগুলো বাস্তব চাহিদার সঙ্গে খাপ খায়।

একার দায় নয়, সবার দায়িত্ব

মাসুদ খান বলেন, পুঁজিবাজারকে এগিয়ে নেওয়া শুধু নিয়ন্ত্রক সংস্থার একার কাজ নয়। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান, সংবাদমাধ্যম ও বিনিয়োগকারী, সবাইকেই দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে। বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশে তাঁর আহ্বান, মৌলভিত্তিসম্পন্ন শেয়ার বেছে নিয়ে বুঝে-শুনে বিনিয়োগ করুন।

প্রাসঙ্গিক FAQ

১. মিউচুয়াল ফান্ডের জন্য কী ধরনের নতুন ব্যবস্থা আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে?

লাইসেন্সধারী মিউচুয়াল ফান্ড এজেন্ট চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বিমা ব্রোকারদের মতো করে এঁরা কাজ করবেন।

২. এজেন্টরা কাজ শুরুর আগে কী করতে হবে?

বিআইসিএমের মাধ্যমে সংক্ষিপ্ত প্রশিক্ষণ ও সার্টিফিকেশন সম্পন্ন করতে হবে। এরপর তাঁদের কাজ শুরুর সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

৩. এ কথা কে, কোথায় বলেছেন?

বিএসইসি চেয়ারম্যান মাসুদ খান। সোমবার (১২ অক্টোবর) রাজধানীর ডিএসই টাওয়ারে বিশ্ব বিনিয়োগকারী সপ্তাহ-২০২৬-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে ‘ডিজিটাল ডিসেপশন অ্যান্ড স্ক্যাম অ্যালার্ট’ সেমিনারে তিনি এ কথা জানান।

৪. ভারতের উদাহরণ কেন তোলা হয়েছে?

চেয়ারম্যানের বক্তব্য অনুযায়ী, ভারতে লাইসেন্সধারী এজেন্টরা বিমা ব্রোকারদের মতো কাজ করেন এবং এর ফলে সেখানে মিউচুয়াল ফান্ড শিল্প বড় পরিসরে বিকশিত হয়েছে।

৫. বিনিয়োগকারীদের প্রতি বিএসইসি চেয়ারম্যানের আহ্বান কী?

মৌলভিত্তিসম্পন্ন শেয়ার বেছে নেওয়া এবং বুঝে-শুনে বিনিয়োগ করা।

আল-মামুন/

পাঠকের মতামত:

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ