ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩

শাহরিয়ার আলমের দ্বিতীয় স্ত্রী সিলভিয়া লেনি সম্পর্কে যা জানা গেল

রাজনীতি ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১৩ ২০:২৬:১৭
শাহরিয়ার আলমের দ্বিতীয় স্ত্রী সিলভিয়া লেনি সম্পর্কে যা জানা গেল

আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের ব্যক্তিগত জীবন থেকে শুরু করে রাজনৈতিক যোগাযোগ ও সম্পদ নিয়ে নানা তথ্য সামনে এসেছে। তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী সিলভিয়া পারভীন লেনি একসময় টেলিভিশনে সংবাদ উপস্থাপনা করতেন। পরে গণমাধ্যমের পাশাপাশি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত হন তিনি। ২০১৯ সালের দিকে শাহরিয়ার আলমের সঙ্গে বিয়ের পর লালপুরে বাড়ি ও ঢাকার গুলশানে বিলাসবহুল ফ্ল্যাট পাওয়ার তথ্যও রয়েছে। ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সিলভিয়ার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি হয়। অন্যদিকে, শাহরিয়ার আলমের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা এবং তাঁর ব্যাংক হিসাবে ২৬০ কোটি ৯৪ লাখ ৯৬ হাজার ৩৭০ টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।

সংবাদ উপস্থাপক থেকে রাজনৈতিক অঙ্গনে সিলভিয়া

নাটোরের লালপুর উপজেলার গোপালপুরে বেড়ে ওঠা সিলভিয়া পারভীন লেনির পেশাগত জীবনের শুরু সংবাদ উপস্থাপনার মধ্য দিয়ে। একুশে টেলিভিশনে সংবাদ পাঠের মাধ্যমে তাঁর যাত্রা শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে একাত্তর টিভিতেও সংবাদ উপস্থাপক হিসেবে কাজ করেন তিনি। যুক্তরাজ্যের লন্ডন মেট্রোপলিটন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন সিলভিয়া। এ ছাড়া এফএম রেডিও ‘রেডিও ঢোল’-এর পরিচালক হিসেবেও তাঁর পরিচয় রয়েছে।

গণমাধ্যমের কাজের পাশাপাশি আওয়ামী লীগের রাজনীতিতেও তাঁর সম্পৃক্ততা ছিল। দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কলেজজীবন থেকেই দলটির রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হন সিলভিয়া। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাবেক কেন্দ্রীয় উপকমিটির সহসম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।

এ ছাড়া দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের গবেষণা ও যোগাযোগ প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনোভেশন (সিআরআই)-এর সঙ্গে তাঁর কাজের সম্পর্ক রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সক্রিয় সিলভিয়া।

২০১৯ সালের দিকে শাহরিয়ার আলমের সঙ্গে বিয়ে

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজশাহী-৬ আসন থেকে চারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন শাহরিয়ার আলম। দুই দফায় পালন করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব। দলীয় রাজনীতিতে প্রভাবশালী এই নেতার সঙ্গে ২০১৯ সালের দিকে সিলভিয়া পারভীন লেনির বিয়ে হয়।

সিলভিয়ার বাবা গোলাম মর্ত্তুজা বাবু নাটোরের লালপুর উপজেলার কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতা। সিলভিয়ার আগে একবার বিয়ে হয়েছিল। আগের সংসারে তাঁর একটি সন্তানও রয়েছে। অর্থাৎ শাহরিয়ার আলম ও সিলভিয়া—দুজনেরই এটি ছিল দ্বিতীয় বিয়ে।

শ্বশুরবাড়ির এলাকায় মেয়র পদ, লালপুরে বাড়ি ও গুলশানে ফ্ল্যাট

শাহরিয়ার আলমের সঙ্গে বিয়ের পর সিলভিয়ার পরিবারের সদস্যদের রাজনৈতিক অবস্থান ও সম্পদ ঘিরেও বিভিন্ন তথ্য উঠে এসেছে। ২০২১ সালে সিলভিয়ার মা রোকসানা মর্ত্তুজা লালপুরের গোপালপুর পৌরসভার মেয়র হন। মন্ত্রিত্বের সময় শাহরিয়ার আলম নিজের দলীয় প্রভাব কাজে লাগিয়ে তাঁকে ওই পদে বসিয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

সিলভিয়ার জন্য লালপুরে কোটি টাকা ব্যয়ে একটি বাড়ি নির্মাণ করে দেওয়ার তথ্যও রয়েছে। পাশাপাশি ঢাকার গুলশানে ৩ হাজার ৬০০ বর্গফুটের একটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট তাঁকে উপহার দেওয়া হয়েছিল বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে এসব সম্পদ কীভাবে অর্জিত হয়েছে, অর্থের উৎস কী ছিল এবং সংশ্লিষ্ট অভিযোগের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক তদন্তে কী পাওয়া গেছে—সে সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখানে নেই।

রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সিলভিয়া পারভীন লেনির দেশত্যাগের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। দুর্নীতি দমন কমিশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত এ নির্দেশ দেন।

তবে নিষেধাজ্ঞার নির্দিষ্ট তারিখ, আবেদনে উত্থাপিত অভিযোগের পূর্ণ বিবরণ এবং এ বিষয়ে পরবর্তী আইনি অগ্রগতির তথ্য সরবরাহ করা হয়নি।

৫ আগস্ট রাজশাহী ছেড়ে ভারতে যান শাহরিয়ার আলম

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দিন ভোরেই রাজশাহী ছাড়েন শাহরিয়ার আলম বলে দেওয়া তথ্যে উল্লেখ রয়েছে। রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তন আঁচ করে সরকারের পতনের কয়েক ঘণ্টা আগেই তিনি সড়কপথে গেদে সীমান্তে পৌঁছান। পরে ভারতে প্রবেশ করেন। ভারত থেকে থাইল্যান্ড হয়ে রাশিয়ায় যাওয়ার তথ্যও রয়েছে।

বর্তমানে শাহরিয়ার আলম ভারতের কলকাতার নিউটাউনে দ্বিতীয় স্ত্রী সিলভিয়া পারভীন লেনিকে নিয়ে বসবাস করছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁদের আবাসস্থল হিসেবে সাড়ে তিন হাজার বর্গফুটের একটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাটের কথা বলা হয়েছে। সেখানে তাঁরা স্থায়ী নিবাস গড়ে তুলেছেন বলেও দাবি করা হয়েছে।

কলকাতার বাসভবনে আওয়ামী লীগের নেতাদের যাতায়াতের দাবি

শাহরিয়ার আলমের কলকাতার বাসভবনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক যোগাযোগের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। দেওয়া তথ্যে দাবি করা হয়েছে, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য এবং কেন্দ্রীয় ও রাজশাহী অঞ্চলের নির্বাসিত নেতারা ওই ফ্ল্যাটে নিয়মিত যাতায়াত করেন।

সেখানে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার উদ্দেশ্যে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। তবে এসব বৈঠক ও সিদ্ধান্তের বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা নথি কিংবা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য সরবরাহ করা হয়নি।

এ ছাড়া হুন্ডির মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে শাহরিয়ার আলমের কাছে অর্থ পাঠানো হচ্ছে বলে দাবি রয়েছে। বাংলাদেশি পাসপোর্ট ব্যবহার করে তাঁর চীন, রাশিয়া ও ব্রাজিল সফরের তথ্যও দেওয়া হয়েছে।

চার মামলা ও ব্যাংক হিসাবে ২৬০ কোটি টাকার বেশি সন্দেহজনক লেনদেন

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর শাহরিয়ার আলমের বিরুদ্ধে রাজশাহীর তিনটি থানায় চারটি মামলা হয়। জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন গত বছরের ২৪ এপ্রিল তাঁর বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা করে বলে দেওয়া তথ্যে উল্লেখ রয়েছে।

এ ছাড়া তাঁর ছয়টি ব্যাংক হিসাবে মোট ২৬০ কোটি ৯৪ লাখ ৯৬ হাজার ৩৭০ টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের প্রমাণ পাওয়ার তথ্য রয়েছে।

এখানে উল্লেখিত অর্থের পরিমাণ সন্দেহজনক লেনদেনের সঙ্গে সম্পর্কিত। এটিকে আদালতে প্রমাণিত অবৈধ আয় বা আত্মসাতের অর্থ হিসেবে ব্যাখ্যা করা ঠিক হবে না। একইভাবে মামলা দায়ের বা সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য থেকে অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা সম্পর্কে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না।

শাহরিয়ার আলম ও সিলভিয়া পারভীন লেনিকে ঘিরে ব্যক্তিগত সম্পর্ক, সম্পদ, রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা এবং বিদেশে অবস্থানসংক্রান্ত এসব তথ্যের ক্ষেত্রে অভিযোগ ও প্রতিষ্ঠিত তথ্যের পার্থক্য বজায় রাখা জরুরি। সংশ্লিষ্ট নথি, তদন্তের ফলাফল এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া গেলে বিষয়গুলোর পূর্ণাঙ্গ চিত্র আরও স্পষ্ট হতে পারে।

পাঠকের সাধারণ প্রশ্ন (FAQ)

১. শাহরিয়ার আলমের দ্বিতীয় স্ত্রীর নাম কী?

সিলভিয়া পারভীন লেনি।

২. তাঁদের বিয়ে কবে হয়েছিল?

দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালের দিকে তাঁদের বিয়ে হয়।

৩. সিলভিয়া পারভীন লেনি কোন কোন গণমাধ্যমে কাজ করেছেন?

তিনি একুশে টেলিভিশন ও একাত্তর টিভিতে সংবাদ উপস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এ ছাড়া ‘রেডিও ঢোল’-এর পরিচালক হিসেবেও তাঁর পরিচয় রয়েছে।

৪. সিলভিয়ার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা কেন জারি হয়েছিল?

২০২৪ সালের আগস্টে দুর্নীতি দমন কমিশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত তাঁর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। আবেদনের বিস্তারিত কারণ সম্পর্কে এখানে পর্যাপ্ত তথ্য নেই।

৫. শাহরিয়ার আলমের ব্যাংক হিসাবে কত টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য রয়েছে?

দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তাঁর ছয়টি ব্যাংক হিসাবে ২৬০ কোটি ৯৪ লাখ ৯৬ হাজার ৩৭০ টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য রয়েছে। এই তথ্যকে চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না।

তানিভর ইসলাম/

পাঠকের মতামত:

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ