ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩

নিজের নামে কত জমি আছে, অনলাইনে দেখার নিয়ম

জাতীয় ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১৫ ১১:৩৫:২১
নিজের নামে কত জমি আছে, অনলাইনে দেখার নিয়ম

নিজের নামে কতটুকু জমি রেকর্ড রয়েছে, কোন মৌজায় জমি আছে কিংবা খতিয়ানে নিজের নাম অন্তর্ভুক্ত হয়েছে কি না—এসব তথ্য জানতে এখন ঘরে বসেই অনলাইনে অনুসন্ধান করা যায়। বাংলাদেশে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটের মাধ্যমে জমির খতিয়ান ও রেকর্ডসংক্রান্ত তথ্য যাচাই করা সম্ভব। তবে শুধু নিজের নাম লিখে দেশের সব জেলা ও মৌজায় থাকা জমির সম্পূর্ণ তালিকা একসঙ্গে পাওয়া যাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।

পৈতৃক সম্পত্তি, উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া জমি কিংবা কেনা জমির হিসাব জানতে অনেকেই অনলাইনে খোঁজ করেন। কিন্তু কোথা থেকে শুরু করবেন, কোন তথ্য প্রয়োজন হবে এবং অনলাইনে জমির রেকর্ড না পাওয়া গেলে কী করতে হবে—এসব বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা না থাকায় অনেকে সমস্যায় পড়েন।

এ ক্ষেত্রে প্রথমে সরকারি ভূমি রেকর্ড পোর্টালে জমির তথ্য অনুসন্ধান করতে হবে। এরপর খতিয়ান, দাগ নম্বর, জমির পরিমাণ ও মালিকানাসংক্রান্ত তথ্য মিলিয়ে দেখতে হবে। প্রয়োজনে নামজারি, দলিল এবং সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিসের রেকর্ড যাচাই করে নিজের জমির হিসাব নিশ্চিত করা যাবে।

নিজের নামে জমি আছে কি না দেখবেন যে সরকারি ওয়েবসাইটে

অনলাইনে জমির রেকর্ড যাচাইয়ের জন্য প্রথমেই সরকারি ওয়েবসাইট ব্যবহার করা উচিত। জমির তথ্য অনুসন্ধান, খতিয়ানের কপি সংগ্রহ এবং নামজারি যাচাইয়ের জন্য আলাদা সেবা রয়েছে।

১. জাতীয় ভূমি তথ্য ও সেবা পোর্টাল

ভূমি মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন অনলাইন সেবার লিংক, নির্দেশনা ও ফি-সংক্রান্ত তথ্য পাওয়া যায়।

[সরকারি ভূমি পোর্টালে প্রবেশ করুন](https://land.gov.bd/)

২. অনলাইন খতিয়ান অনুসন্ধান

ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের পোর্টালে বিভাগ, জেলা, উপজেলা, মৌজা এবং মালিকের নামসহ বিভিন্ন তথ্য দিয়ে খতিয়ান খোঁজার সুবিধা রয়েছে।

অনলাইন ভূমি রেকর্ড ও জরিপ ব্যবস্থাপনা

[খতিয়ান অনুসন্ধান করুন](https://settlement.gov.bd/Khatian/)

[অনলাইনে সহজেই জমির নামজারি পদ্ধতি]

৩. ই-নামজারি সেবা

নামজারির আবেদন, আবেদনের অগ্রগতি এবং অনুমোদন-সংক্রান্ত তথ্য যাচাইয়ের জন্য এই পোর্টাল ব্যবহার করা যায়।

[ই-নামজারি পোর্টালে প্রবেশ করুন](https://mutation.land.gov.bd/)

মনে রাখবেন: চলমান জরিপের খসড়া খতিয়ান এবং চূড়ান্তভাবে প্রকাশিত খতিয়ান এক নয়। settlement.gov.bd পোর্টালে দৃশ্যমান কিছু খতিয়ান খসড়া হতে পারে। চূড়ান্ত রেকর্ডের জন্য সরকারি পোর্টালের নির্দেশনা অনুসরণ করে সংশ্লিষ্ট রেকর্ড যাচাই করুন।

ধাপে ধাপে অনলাইনে নিজের জমির তথ্য দেখার নিয়ম

ধাপ ১: খতিয়ান অনুসন্ধানের ওয়েবসাইট খুলুন

প্রথমে [সরকারি খতিয়ান অনুসন্ধান পোর্টালে](https://settlement.gov.bd/Khatian/) প্রবেশ করুন। সেখানে খতিয়ানের তথ্য অনুসন্ধানের ফর্ম দেখতে পাবেন।

ধাপ ২: জমির অবস্থান নির্বাচন করুন

ফর্মে প্রয়োজন অনুযায়ী বিভাগ, জেলা, জরিপ, উপজেলা বা থানা এবং মৌজা নির্বাচন করুন। জমিটি কোন এলাকায় অবস্থিত, তা জানা থাকলে সঠিক রেকর্ড খুঁজে পাওয়া সহজ হবে।

ধাপ ৩: নিজের নাম দিয়ে অনুসন্ধান করুন

অনুসন্ধান ফর্মে মালিকের নাম লেখার ঘর রয়েছে। সেখানে নিজের নাম লিখে অনুসন্ধান করতে পারেন। প্রয়োজনে পিতা, মাতা, স্বামী বা স্ত্রীর নাম, মালিকের ঠিকানা কিংবা অন্যান্য উপলভ্য তথ্য ব্যবহার করে অনুসন্ধান আরও নির্দিষ্ট করুন। পোর্টালে খতিয়ান নম্বর, দাগ নম্বর, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বরসহ একাধিক অনুসন্ধান-ঘরও রয়েছে।

অনলাইন ভূমি রেকর্ড ও জরিপ ব্যবস্থাপনা

তবে সব ঘরে তথ্য দেওয়া বাধ্যতামূলক নয়। কোন তথ্য দিয়ে অনুসন্ধান করা যাবে, তা নির্বাচিত রেকর্ড ও পোর্টালের নির্দেশনার ওপর নির্ভর করবে।

ধাপ ৪: পাওয়া রেকর্ড মিলিয়ে দেখুন

অনুসন্ধানের ফলাফলে আপনার নামের সঙ্গে মিল থাকা খতিয়ান পাওয়া গেলে মালিকের পরিচয়, খতিয়ান নম্বর, দাগ নম্বর এবং জমির পরিমাণ যাচাই করুন।

একই নামের একাধিক ব্যক্তি থাকতে পারেন। তাই শুধু নাম দেখে কোনো জমিকে নিজের বলে ধরে নেবেন না। পিতার নাম, ঠিকানা, মৌজা ও দলিলের তথ্য মিলিয়ে দেখুন।

ধাপ ৫: প্রয়োজন হলে খতিয়ানের কপি সংগ্রহ করুন

অনলাইনে রেকর্ড পাওয়ার পর প্রয়োজন অনুযায়ী খতিয়ানের কপি সংগ্রহের আবেদন করতে পারেন। সরকারি পোর্টালে প্রদর্শিত বর্তমান ফি ও আবেদনপ্রক্রিয়া অনুসরণ করে নির্ধারিত অর্থ পরিশোধ করুন। খতিয়ান অনুসন্ধান এবং খতিয়ানের কপি সংগ্রহ আলাদা বিষয়।

শুধু নাম দিয়ে কি নিজের সব জমির তালিকা পাওয়া যাবে?

এখানেই অনেকের ভুল ধারণা রয়েছে। অনলাইনে মালিকের নাম দিয়ে খতিয়ান অনুসন্ধানের সুবিধা থাকলেও শুধু নাম লিখে বাংলাদেশের সব জেলা ও মৌজায় থাকা নিজের সব জমির একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা পাওয়া যাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।

এর কারণ হতে পারে—

- জমি বিভিন্ন এলাকায় থাকা: প্রতিটি জমির জন্য সংশ্লিষ্ট মৌজা ও জরিপের রেকর্ড ধরে খোঁজার প্রয়োজন হতে পারে।

- পূর্বপুরুষের নামে রেকর্ড: উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া জমি এখনো বাবা, মা বা অন্য পূর্ববর্তী মালিকের নামে রেকর্ডভুক্ত থাকতে পারে।

- নামের বানানে পার্থক্য: দলিল ও খতিয়ানে নামের বানান আলাদা হলে অনুসন্ধানে সমস্যা হতে পারে।

- পুরোনো রেকর্ড অনলাইনে না থাকা: কিছু রেকর্ড অনলাইনে সহজে পাওয়া নাও যেতে পারে।

- যৌথ মালিকানা: একই খতিয়ানে একাধিক মালিকের নাম থাকলে নিজের প্রকৃত অংশ আলাদাভাবে যাচাই করতে হবে।

তাই নিজের নামে জমির সঠিক হিসাব করতে হলে একাধিক এলাকায় থাকা জমির রেকর্ড আলাদাভাবে খুঁজে দেখা প্রয়োজন।

খতিয়ান থেকে কীভাবে নিজের জমির পরিমাণ হিসাব করবেন?

খতিয়ানে জমির মোট পরিমাণ উল্লেখ থাকলে তা থেকে রেকর্ডভুক্ত জমির হিসাব পাওয়া যায়। কিন্তু যৌথ মালিকানার ক্ষেত্রে পুরো জমির পরিমাণ নিজের বলে ধরে নেওয়া যাবে না।

ধরা যাক, একটি খতিয়ানে মোট জমি ৬০ শতক। সেখানে আপনার বৈধ মালিকানার অংশ এক-চতুর্থাংশ হলে হিসাব অনুযায়ী আপনার অংশ ১৫ শতক। তবে প্রকৃত হিস্যা নির্ধারণে খতিয়ানের বিবরণ, দলিল, উত্তরাধিকারসংক্রান্ত নথি এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে বণ্টননামা যাচাই করতে হবে।

যে তথ্য যাচাই করবেনকেন প্রয়োজন
মালিকের নাম ও পরিচয় সঠিক ব্যক্তির ভূমি রেকর্ড শনাক্ত করতে
খতিয়ান নম্বর সংশ্লিষ্ট ভূমি রেকর্ড খুঁজে পেতে
দাগ নম্বর জমির নির্দিষ্ট প্লট শনাক্ত করতে
মোট জমির পরিমাণ খতিয়ানে রেকর্ডভুক্ত জমির পরিমাণ জানতে
মালিকানার অংশ যৌথ জমিতে নিজের প্রাপ্য হিস্যা বুঝতে
নামজারির তথ্য নামজারি-সংক্রান্ত রেকর্ড যাচাই করতে

খতিয়ানে নাম থাকলেই কি জমির মালিকানা নিশ্চিত?

খতিয়ান জমির রেকর্ড যাচাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ নথি। তবে শুধু খতিয়ানে নাম থাকা কিংবা নামজারি সম্পন্ন হওয়ার ভিত্তিতে সব ক্ষেত্রে চূড়ান্ত মালিকানা নিশ্চিত করা যায় না।

জমি কেনা, উত্তরাধিকার, দান বা অন্য কোনো বৈধ উপায়ে পাওয়া হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট দলিল, খতিয়ান, নামজারি এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য নথি মিলিয়ে দেখা উচিত। মালিকানা নিয়ে বিরোধ থাকলে আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন হতে পারে।

অনলাইনে জমির তথ্য না পেলে কী করবেন?

অনলাইনে নিজের নাম খুঁজে না পেলেই ধরে নেওয়া যাবে না যে আপনার নামে কোনো জমি নেই। ভুল মৌজা নির্বাচন, নামের বানানে পার্থক্য, পুরোনো রেকর্ড কিংবা জরিপের বিভিন্ন পর্যায়ের কারণে তথ্য পাওয়া নাও যেতে পারে।

এ ক্ষেত্রে যা করবেন—

1. পুরোনো দলিল, খতিয়ান, দাগ নম্বর বা জমির অন্যান্য কাগজপত্র সংগ্রহ করুন।

2. দলিলে উল্লেখিত জেলা, উপজেলা ও মৌজার তথ্য মিলিয়ে আবার অনুসন্ধান করুন।

3. উত্তরাধিকারসূত্রে জমি পেয়ে থাকলে পূর্ববর্তী মালিকের নামেও রেকর্ড খুঁজুন।

4. নামজারি করা থাকলে [ই-নামজারি পোর্টালে](https://mutation.land.gov.bd/) আবেদন ও অনুমোদনের অবস্থা যাচাই করুন।

5. তবু তথ্য না পেলে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন ভূমি অফিস, উপজেলা ভূমি অফিস বা রেকর্ড সংরক্ষণকারী দপ্তরে যোগাযোগ করুন।

ভূমিসেবা-সংক্রান্ত সহায়তার জন্য সরকারি পোর্টালে দেওয়া নির্দেশনা অনুসরণ করুন। ভূমি মন্ত্রণালয়ের ভূমিসেবা সহায়তা নম্বর ১৬১২২-এও যোগাযোগ করতে পারেন।

এক নজরে নিজের নামে জমি যাচাইয়ের উপায়

প্রথমে খতিয়ান অনুসন্ধান করুন

সরকারি পোর্টালে জমির অবস্থান ও মালিকের তথ্য দিয়ে অনুসন্ধান করুন।

রেকর্ডের তথ্য মিলিয়ে নিন

খতিয়ান নম্বর, দাগ নম্বর, মালিকের পরিচয় ও জমির পরিমাণ যাচাই করুন।

দলিল ও নামজারি যাচাই করুন

নিজের প্রকৃত মালিকানার অংশ বুঝতে সংশ্লিষ্ট নথির সঙ্গে রেকর্ড মিলিয়ে দেখুন।

প্রয়োজনে ভূমি অফিসে যান

অনলাইনে তথ্য না মিললে সংশ্লিষ্ট অফিস থেকে রেকর্ড যাচাই করুন।

নিজের নামে কত জমি আছে, তা জানার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো সরকারি ভূমি রেকর্ড পোর্টালে অনুসন্ধান করে পাওয়া তথ্য দলিল ও নামজারির নথির সঙ্গে মিলিয়ে দেখা। তবে একবারে সারাদেশে নিজের সব জমির তালিকা পাওয়া যাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। তাই পৈতৃক সম্পত্তি, কেনা জমি ও উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া জমির রেকর্ড প্রয়োজন অনুযায়ী আলাদাভাবে যাচাই করুন।

আমার নামে কত জমি আছে, নিজের নামে জমি দেখার নিয়ম, অনলাইনে জমির তথ্য, জমির খতিয়ান অনুসন্ধান, অনলাইনে জমি যাচাই, জমির মালিকানা যাচাই, জমির পরিমাণ জানার উপায়, ই-নামজারি, ভূমি রেকর্ড বাংলাদেশ, Online Land Record Bangladesh, Check Land Ownership Online, Online Khatian Search, e-Porcha Bangladesh, e-Mutation Bangladesh,

পাঠকের সাধারণ প্রশ্ন ও উত্তর (FAQ)

১. নিজের নামে কত জমি আছে, তা কি মোবাইল দিয়ে দেখা যায়?

হ্যাঁ। মোবাইলের ব্রাউজার থেকে [সরকারি খতিয়ান অনুসন্ধান পোর্টালে](https://settlement.gov.bd/Khatian/) প্রবেশ করে অনলাইনে উপলভ্য জমির রেকর্ড খুঁজতে পারবেন।

২. শুধু নাম দিয়ে কি নিজের সব জমি খুঁজে পাওয়া যাবে?

না, সব ক্ষেত্রে নয়। নাম দিয়ে খতিয়ান অনুসন্ধান করা গেলেও সারাদেশে নিজের নামে থাকা সব জমির পূর্ণাঙ্গ তালিকা একসঙ্গে পাওয়ার নিশ্চয়তা নেই। প্রয়োজনে প্রতিটি এলাকার রেকর্ড আলাদাভাবে খুঁজতে হবে।

৩. অনলাইনে নিজের নাম না পেলে কী করবেন?

প্রথমে মৌজা, জরিপ ও নামের বানান ঠিক আছে কি না যাচাই করুন। এরপর পুরোনো দলিল বা খতিয়ান দেখে আবার অনুসন্ধান করুন। তাতেও তথ্য না মিললে সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিসে যোগাযোগ করুন।

৪. খতিয়ান থেকে কি নিজের জমির পরিমাণ জানা যায়?

হ্যাঁ, খতিয়ানে জমির পরিমাণ উল্লেখ থাকলে তা দেখা যায়। তবে যৌথ খতিয়ানের মোট জমির পরিমাণ এবং আপনার ব্যক্তিগত মালিকানার অংশ আলাদা হতে পারে।

৫. অনলাইনে জমির তথ্য দেখতে কি টাকা লাগে?

অনলাইনে রেকর্ড অনুসন্ধান এবং খতিয়ানের কপি সংগ্রহ এক বিষয় নয়। নির্দিষ্ট কপি বা সার্টিফায়েড নথির জন্য সরকারি ফি প্রযোজ্য হতে পারে। আবেদন করার আগে [ভূমি মন্ত্রণালয়ের সরকারি ফি তালিকা](https://land.gov.bd/vumisheba-fee) দেখে নিন।

তানভির ইসলাম/

পাঠকের মতামত: