ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩

এআই দিয়ে অপমানজনক কনটেন্ট বানানো অপরাধ, বললেন মেহজাবীন

বিনোদন ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১৫ ১৫:৫৪:১২
এআই দিয়ে অপমানজনক কনটেন্ট বানানো অপরাধ, বললেন মেহজাবীন

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিউ, লাইক ও শেয়ার বাড়াতে গিয়ে একজন মানুষের সম্মানহানিকে উপার্জনের কৌশল হিসেবে ব্যবহার করা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী। তাঁর মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে কারও নামে মিথ্যা কনটেন্ট তৈরি করে তাঁকে হেয় করা বিনোদন নয়, অপরাধ। এমন কনটেন্ট তৈরি করে ছড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি সেগুলো আরও মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রেও ব্যবহারকারীদের দায়িত্ব রয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকালে নিজের ফেসবুক পোস্টে এ বিষয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন মেহজাবীন। সামান্য অর্থ উপার্জন কিংবা অনলাইনে জনপ্রিয়তা পাওয়ার জন্য একজন মানুষের অপমানকে কনটেন্টের উপকরণ বানানো কতটা গ্রহণযোগ্য, সেই প্রশ্ন সামনে এনেছেন তিনি।

জনপ্রিয়তার জন্য অন্যের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করা কেন?

মেহজাবীনের বক্তব্যে গুরুত্ব পেয়েছে কনটেন্ট তৈরির উদ্দেশ্য ও তার সামাজিক প্রভাব। তাঁর মতে, এআই ব্যবহার করে কারও সম্পর্কে মিথ্যা ও বানোয়াট উপাদান তৈরি করে তা অপমানের উদ্দেশ্যে ছড়িয়ে দেওয়াকে নিছক বিনোদন বলে চালিয়ে দেওয়া যায় না।

এ ধরনের কনটেন্ট যখন শত শত বা হাজার হাজার মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে, তখন বিষয়টি আর শুধু নির্মাতার কর্মকাণ্ডে সীমাবদ্ধ থাকে না। যারা সেগুলো শেয়ার করে বিস্তার ঘটান, তাঁদের ভূমিকাও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। এমন আচরণ মানুষের মানসিকতা ও সামাজিক দায়িত্ববোধ নিয়েও প্রশ্ন তোলে বলে মনে করেন অভিনেত্রী।

সম্মান দেখাতে হলে নিজের মানুষ হতে হবে কেন?

কাউকে মানুষ হিসেবে সম্মান করার জন্য তিনি নিজের পরিবারের সদস্য হতে হবে কেন—এ প্রশ্নও তুলেছেন মেহজাবীন। কারও মা বা বোনের সঙ্গে এমন ঘটনা ঘটলে কী হতো, শুধু সেই বিবেচনায় অন্যের প্রতি সম্মান দেখানোর যুক্তি যথেষ্ট নয় বলে তাঁর বক্তব্য।

অর্থাৎ, অন্যের অপমানকে ভুল মনে করার জন্য ভুক্তভোগীর সঙ্গে ব্যক্তিগত বা পারিবারিক সম্পর্ক থাকার প্রয়োজন নেই। প্রত্যেক মানুষের প্রতি স্বাভাবিক সম্মানবোধ থেকেই এমন আচরণ এড়িয়ে চলা উচিত—এ বিষয়টিই তুলে ধরেছেন তিনি।

কনটেন্ট তৈরি জীবিকা হলেও অপমানের অধিকার নেই

অনেকের কাছে কনটেন্ট তৈরি আয়ের মাধ্যম—এ বাস্তবতা স্বীকার করেছেন মেহজাবীন। মানুষের সংগ্রাম ও জীবনযাপনের বাস্তবতা সম্পর্কে তিনি সচেতন বলেও উল্লেখ করেছেন। তবে সেই জীবিকার জন্য অন্য একজনকে অপমানিত করা কতটা ন্যায়সংগত, তা নিয়ে প্রশ্ন রেখেছেন অভিনেত্রী।

ভিউ, লাইক, শেয়ার এবং ট্রেন্ডিংয়ে থাকার প্রতিযোগিতায় কনটেন্টের গ্রহণযোগ্যতা ও তার প্রভাব বিবেচনা করা জরুরি—তাঁর বক্তব্যে এই বিষয়টিও উঠে এসেছে। জনপ্রিয়তা বা উপার্জনের লক্ষ্য যেন অন্যের সম্মানহানির কারণ না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক করেছেন তিনি।

এআইয়ের অপব্যবহারে যে কেউ হতে পারেন ভুক্তভোগী

মেহজাবীনের পর্যবেক্ষণ, ক্ষতিকর কনটেন্ট তৈরির প্রবণতা এখন নারী বা পুরুষ—কোনো একটি গোষ্ঠীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। অনলাইনে এনগেজমেন্ট বাড়ানোর প্রতিযোগিতায় যে কেউ এমন কনটেন্ট তৈরির বা ছড়িয়ে দেওয়ার অংশ হয়ে উঠতে পারেন। একইভাবে, যে কেউ এর শিকারও হতে পারেন।

তাই শুধু কে কনটেন্টটি তৈরি করেছেন, তা জানলেই দায়িত্বের প্রশ্ন শেষ হয়ে যায় না। বানোয়াট উপাদান স্বেচ্ছায় শেয়ার করা, তা নিয়ে আলোচনা করা কিংবা আরও মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে এর বিস্তারে নিজের ভূমিকা তৈরি হচ্ছে কি না, সেটিও বিবেচনা করতে বলেছেন অভিনেত্রী।

শেয়ার করার আগে নিজের ভূমিকা নিয়ে ভাবার আহ্বান

নিজের ফেসবুক পোস্টের শেষাংশে মেহজাবীন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে পরোক্ষভাবে অংশ নেওয়ার বিষয়টি নিয়ে আত্মসমালোচনার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্যের মূল কথা, অন্যের অপমানের সঙ্গে যুক্ত কোনো কনটেন্ট ছড়িয়ে দিয়ে একজন ব্যবহারকারী নিজেও অন্যায়ের অংশ হয়ে উঠছেন কি না, তা ভেবে দেখা দরকার।

ভিউ বা শেয়ার বাড়ানোর তাগিদে বিবেক ও দায়িত্ববোধকে উপেক্ষা করা উচিত কি না, সেই সিদ্ধান্ত প্রত্যেকের নিজের বলে মনে করিয়ে দিয়েছেন তিনি।

FAQ

১. এআই দিয়ে বানোয়াট কনটেন্ট নিয়ে মেহজাবীন কী বলেছেন?

তিনি বলেছেন, কাউকে হেয় করার উদ্দেশ্যে এআই ব্যবহার করে মিথ্যা কনটেন্ট তৈরি ও প্রচার বিনোদন নয়, অপরাধ।

২. মেহজাবীন কখন এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানান?

বৃহস্পতিবার সকালে নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানান।

৩. বানোয়াট কনটেন্ট শেয়ার করলেও কি দায়িত্বের প্রশ্ন আসে?

মেহজাবীনের বক্তব্য অনুযায়ী, এসব কনটেন্ট শেয়ার করা, তা নিয়ে আলোচনা করা এবং আরও মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রেও ব্যবহারকারীদের ভূমিকা বিবেচনা করা প্রয়োজন।

৪. এ ধরনের কনটেন্টের শিকার কারা হতে পারেন?

তাঁর পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, নারী-পুরুষ নির্বিশেষে যে কেউ এমন কনটেন্ট তৈরির বা ছড়িয়ে দেওয়ার অংশ হতে পারেন, আবার যে কেউ এর শিকারও হতে পারেন।

৫. সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের প্রতি তাঁর আহ্বান কী?

অন্যকে অপমান করে তৈরি কনটেন্ট ছড়িয়ে দেওয়ার মাধ্যমে নিজেরাও অন্যায়ের অংশ হচ্ছেন কি না, তা ভেবে দেখা এবং আত্মসমালোচনা করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

তানভির ইসলাম/

পাঠকের মতামত: