ঢাকা, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩

ইরানে ‘মাদার অব অল বম্বস’ ফেললে কী হতে পারে

বিশ্ব ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১৬ ১৮:১৪:২৪
ইরানে ‘মাদার অব অল বম্বস’ ফেললে কী হতে পারে

ইরানের বিরুদ্ধে আবারও সামরিক অভিযান শুরু হলে প্রায় ১০ টন ওজনের বিধ্বংসী বোমা ব্যবহার করতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। ‘মাদার অব অল বম্বস’ নামে পরিচিত এই অস্ত্র দিয়ে দেশটির সামরিক অবস্থান ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোয় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ঘটানো সম্ভব। কিন্তু ইরানের মাটির গভীরে সুরক্ষিত পারমাণবিক স্থাপনা ধ্বংস করার ক্ষেত্রে বোমাটি কতটা সফল হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে মার্কিন প্রশাসনের মধ্যেই। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে পাল্টা হামলার আশঙ্কা—যার প্রভাব ইরানের বাইরেও ছড়িয়ে পড়তে পারে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন করে হামলার নির্দেশ দিলে ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো ও পারমাণবিক প্রকল্পগুলো লক্ষ্য করে জিবিইউ-৪৩/বি ম্যাসিভ অর্ডন্যান্স এয়ার ব্লাস্ট (এমওএবি) ব্যবহারের পরিকল্পনা বিবেচনায় রয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে সিএনএন।

তবে সামরিক বিশ্লেষকদের মূল্যায়নে, এত বড় বিস্ফোরক ব্যবহার করলেই ইরানের গভীরে থাকা পারমাণবিক স্থাপনাগুলো ধ্বংস করা যাবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। বরং প্রত্যাশিত ফল না মিললে হামলার সামরিক সাফল্যের চেয়ে এর রাজনৈতিক প্রভাবই বেশি আলোচনায় আসতে পারে। একই সঙ্গে ইরানের সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া আঞ্চলিক সংঘাতকে আরও জটিল করে তোলার ঝুঁকি তৈরি করছে।

আল-জাজিরার ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১৬টা ২৭ মিনিটে হালনাগাদ করা প্রতিবেদনে এসব বিষয় উঠে এসেছে।

বিশাল বিস্ফোরণক্ষমতা, কিন্তু সব লক্ষ্যবস্তুর জন্য নয়

এমওএবির প্রধান বৈশিষ্ট্য এর বিপুল বিস্ফোরক ক্ষমতা। বোমাটিতে প্রায় সাড়ে ৮ হাজার কেজি বা ১৮ হাজার পাউন্ড উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বিস্ফোরক রয়েছে। তবে পুরো অস্ত্রটির ওজন প্রায় ৯ হাজার ৮০০ কেজি, যা ২১ হাজার ৬০৫ পাউন্ডের সমান।

দৈর্ঘ্যে ৯ মিটারের বেশি, প্রায় ৩০ ফুটের এই বোমার আকার সাধারণ চারটি প্রাইভেট কারের সম্মিলিত ওজনের সঙ্গে তুলনীয়। এর বিশাল আকৃতির কারণে স্টিলথ বোমারু বিমানে এটি বহন করা যায় না। সাধারণত লকহিড সি-১৩০ হারকিউলিস মালবাহী বিমান থেকে বোমাটি নিক্ষেপ করা হয়।

২০০২ থেকে ২০০৩ সালের মধ্যে অস্ত্রটি প্রথম তৈরি করা হয়েছিল। এর কার্যকারিতা যাচাই করতে এ পর্যন্ত ১২টি বিস্ফোরণ পরীক্ষা চালানো হয়েছে।

‘মাদার অব অল বম্বস’ নামটির পেছনেও একটি ঐতিহাসিক ঘটনা রয়েছে। ১৯৯১ সালের উপসাগরীয় যুদ্ধের সময় ইরাকের সাবেক প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেন ‘মাদার অব অল ব্যাটেলস’ বা ‘সব যুদ্ধের মা’ কথাটি ব্যবহার করেছিলেন। সেই শব্দবন্ধের আদলেই বোমাটির নামকরণ করা হয়।

কোথায় আঘাত হানতে বেশি কার্যকর এমওএবি

এই অস্ত্রের নকশা মূলত বিস্তীর্ণ এলাকায় প্রচণ্ড বিস্ফোরণ ঘটানোর উপযোগী। মাটি থেকে কয়েক ফুট ওপরে বিস্ফোরিত হওয়ার মাধ্যমে এটি চারদিকে তীব্র ধ্বংসাত্মক তরঙ্গ ছড়িয়ে দেয়। এর ফলে ভবন, গুহার প্রবেশপথ এবং শক্ত পৃষ্ঠের বিভিন্ন স্থাপনা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

ব্রাসেলসভিত্তিক সামরিক বিশেষজ্ঞ এলিজাহ ম্যাগনিয়ারের মতে, একটি নির্দিষ্ট ভূপৃষ্ঠের বড় এলাকাজুড়ে প্রচণ্ড বিস্ফোরণ ঘটানোই এই বোমার মূল উদ্দেশ্য।

কর্নেল নিদাল আবু জাইদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, বিস্ফোরণের জন্য এমওএবিকে সরাসরি মাটিতে আঘাত করতে হয় না। এর বিস্ফোরণ তরঙ্গ ভূপৃষ্ঠের এক কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে থাকা সবকিছু ধ্বংস করতে সক্ষম।

তবে এই ধ্বংসক্ষমতা সব পরিস্থিতিতে একই রকম হবে না। ভূপ্রকৃতি, লক্ষ্যবস্তুর অবস্থান এবং এলাকার জনবসতির ওপর ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা নির্ভর করে। উন্মুক্ত স্থানে থাকা সেনাদল, সামরিক সরঞ্জাম ও অরক্ষিত স্থাপনা এই বোমার আঘাতে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। কিন্তু পাহাড়ি শিলা কিংবা গভীর কংক্রিটের নিচে থাকা স্থাপনা ধ্বংস করার ক্ষেত্রে একই ধরনের কার্যকারিতা নিশ্চিত নয়।

ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোই বড় পরীক্ষা

যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় রয়েছে ফোরদো পারমাণবিক প্রকল্প এবং পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনে নির্মাণাধীন একটি স্থাপনা। উভয়ই অত্যন্ত সুরক্ষিত এবং মাটির অনেক গভীরে অবস্থিত। ফলে এসব স্থাপনার বিরুদ্ধে এমওএবি ব্যবহার করলে প্রত্যাশিত ফল পাওয়া যাবে কি না, তা নিয়ে সামরিক বিশেষজ্ঞদের সংশয় রয়েছে।

এলিজাহ ম্যাগনিয়ারের মতে, এত বড় বোমা ব্যবহার করেও ইরানের ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক স্থাপনাগুলো ধ্বংস করার নিশ্চয়তা নেই। তিনি এমন হামলাকে ‘রাজনৈতিক নাটক’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যদি এর মাধ্যমে ঘোষিত সামরিক লক্ষ্য অর্জন করা না যায়।

এর কারণ হলো, এমওএবি মূলত বিস্তীর্ণ এলাকায় বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ব্যাপক ক্ষতি করার জন্য তৈরি। পাহাড়ের শিলা বা গভীর কংক্রিট ভেদ করে ভেতরে প্রবেশ করার জন্য এর নকশা করা হয়নি।

এই ধরনের লক্ষ্যবস্তুর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রাগারে রয়েছে জিবিইউ-৫৭ ম্যাসিভ অর্ডন্যান্স পেনিট্রেটর। এটি বিশেষভাবে তৈরি বাংকার বাস্টার বোমা। এর ওজন প্রায় ১৩ হাজার ৬০০ কেজি বা ৩০ হাজার পাউন্ড, অর্থাৎ প্রায় সাড়ে ১৩ টন। শক্তিশালী ইস্পাত দিয়ে তৈরি এই অস্ত্র বিস্ফোরণের আগে মাটির প্রায় ২০০ ফুট বা ৬১ মিটার গভীর পর্যন্ত প্রবেশ করতে পারে।

এমওএবি দিয়ে কোনো ভূগর্ভস্থ স্থাপনার প্রবেশপথ বা আশপাশের অবকাঠামো ধ্বংস করা সম্ভব হলেও ভেতরের মূল স্থাপনাটি অক্ষত থেকে যেতে পারে। আফগানিস্তানে গুহা ও সুড়ঙ্গের বিরুদ্ধে এর ব্যবহার সফল হয়েছিল বলে সব ধরনের ভূগর্ভস্থ স্থাপনার বিরুদ্ধেও এটি সমান কার্যকর হবে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।

আফগানিস্তানের অভিযানে একবারই ব্যবহার করেছে যুক্তরাষ্ট্র

এমওএবি ব্যবহারের ইতিহাসও সীমিত। যুক্তরাষ্ট্র এখন পর্যন্ত মাত্র একবার এই বোমা যুদ্ধে নিক্ষেপ করেছে। ২০১৭ সালে আফগানিস্তানে ইসলামিক স্টেট খোরাসান প্রভিন্সের (আইএসকেপি) গুহা ও সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক লক্ষ্য করে অভিযানটি চালানো হয়।

আফগান কর্তৃপক্ষের দাবি ছিল, ওই হামলায় আইএসের ৯৪ জন যোদ্ধা নিহত হন। তবে স্থানীয় কিছু অসমর্থিত সূত্রে বেসামরিক মানুষের হতাহত হওয়া এবং বহু বাড়িঘর ধ্বংসের খবরও প্রকাশিত হয়েছিল।

এই অভিজ্ঞতা দেখিয়েছে, গুহা ও সুড়ঙ্গের মতো লক্ষ্যবস্তুর বিরুদ্ধে বোমাটি ব্যবহার করা সম্ভব। কিন্তু ইরানের গভীরে অবস্থিত সুরক্ষিত পারমাণবিক স্থাপনার ক্ষেত্রে একই ফল পাওয়া যাবে কি না, তা এখনো অনিশ্চিত।

বোমা নিক্ষেপের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নেও বাধা রয়েছে

ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে এমওএবি ব্যবহার করার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে শুধু বিস্ফোরণক্ষমতা যথেষ্ট নয়। বোমাটি বহন করতে সক্ষম বিমানকে লক্ষ্যবস্তুর কাছাকাছি মোতায়েন করাও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

এলিজাহ ম্যাগনিয়ারের মতে, ইরানের যেসব এলাকায় পারমাণবিক স্থাপনাগুলো রয়েছে, সেখানে এত বড় বোমা বহনকারী বিমান মোতায়েন করা কঠিন হতে পারে। কারণ, ওই ধরনের ভৌগোলিক পরিবেশে উপযোগী স্টিলথ বোমারু বিমানগুলো এমওএবির মতো বিশাল অস্ত্র বহন করতে পারে না।

এ ছাড়া অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ঘটানো আর প্রতিপক্ষকে রাজনৈতিকভাবে ছাড় দিতে বাধ্য করা এক বিষয় নয়। ম্যাগনিয়ারের মতে, এমওএবি ব্যবহার করে একটি বড় সামরিক ঘটনা ঘটানো সম্ভব হলেও তা ওয়াশিংটনের জন্য সীমিত রাজনৈতিক ফল বয়ে আনতে পারে।

তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, অন্য অস্ত্র দিয়ে যা অর্জন করা সম্ভব নয়, এমওএবি ঠিক কী বাড়তি সাফল্য এনে দেবে? একই সঙ্গে এই বোমা ব্যবহারের মাধ্যমে রাজনৈতিক সমঝোতার পথ কীভাবে এগোবে, সেটিও ব্যাখ্যা করা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।

ম্যাগনিয়ারের মূল্যায়নে, যদি অস্ত্রটি ব্যবহারের প্রধান উদ্দেশ্য হয় বিস্ফোরণের নাটকীয় দৃশ্য তৈরি করা, তাহলে সেই পদক্ষেপ সামরিক কৌশলের তুলনায় রাজনৈতিক প্রদর্শনী হিসেবেই বেশি বিবেচিত হতে পারে।

সিএনএনের তথ্য অনুযায়ী, ব্যক্তিগত আলোচনায় ট্রাম্প চলমান যুদ্ধের একটি ‘চূড়ান্ত’ সমাপ্তি খুঁজছেন। এমন পরিণতি তাঁর কাছে গুরুত্বপূর্ণ, যা দেখাবে যে ওয়াশিংটন শেষ পর্যন্ত অপরাজিত রয়েছে। কিন্তু এমওএবি ব্যবহার সেই লক্ষ্য অর্জনে কতটা সহায়ক হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে।

হামলা হলে প্রতিবেশী দেশগুলোও ঝুঁকিতে পড়তে পারে

এমওএবি ব্যবহার করা হলে ইরানের প্রতিক্রিয়া শুধু দেশটির ভেতরে সীমাবদ্ধ থাকবে না—এমন আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, তেহরান প্রতিবেশী দেশগুলোতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালাতে পারে।

ইরানের নিরাপত্তা কর্মকর্তারা কয়েক মাস ধরেই কুয়েতের মতো দেশে সম্ভাব্য অভিযানের বিষয়ে কথা বলে আসছেন। তাঁদের বক্তব্যে এমন অভিযানের একটি উদ্দেশ্য হিসেবে মার্কিন সেনাদের বন্দী করে ওয়াশিংটনকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করার কথা উঠে এসেছে।

গত মে মাসে সংঘাত সাময়িকভাবে থামার সময় কুয়েত অভিযোগ করেছিল, ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) নৌসেনারা দেশটির বুবিয়ান দ্বীপে প্রবেশ করেছিলেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইরানি ও কুয়েতি বাহিনীর মধ্যে গোলাগুলি হয়। এতে একজন কুয়েতি নাগরিক আহত হন এবং ইরানের চার সেনাকে বন্দী করা হয়।

তবে ইরান অভিযোগটি প্রত্যাখ্যান করে জানায়, নৌসেনাদের নেভিগেশন বা দিকনির্ণয় ব্যবস্থা বিকল হয়ে যাওয়ায় ওই ঘটনা ঘটেছিল।

স্থল অভিযান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করল ইরান

গত মঙ্গলবার আইআরজিসির নিরাপত্তা উপদেষ্টা মোহাম্মদ রেজা নাগদি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র স্থলপথে হামলা শুরু করলে বিপুলসংখ্যক মার্কিন সেনাকে বন্দী করতে পারে ইরান।

তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, স্থল অভিযান চালালে এত বেশি মার্কিন সেনা বন্দী হবে যে শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রকে সাদা পতাকা ওড়াতে, অর্থাৎ আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হতে হবে।

অবশ্য ইরানের পাহাড়ি ভূপ্রকৃতির কারণে দেশটিতে মার্কিন স্থল অভিযান পরিচালনার সম্ভাবনা নিয়ে সামরিক বিশেষজ্ঞরা বরাবরই সংশয় প্রকাশ করে এসেছেন।

অন্যদিকে, ইরান সম্ভাব্য পরবর্তী সংঘাতের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। অস্ত্রের মজুত বাড়ানো, গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক ও প্রতিরক্ষা স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা জোরদার করা এবং মিত্রদের ঐক্যবদ্ধ করার মাধ্যমে দেশটি নিজেদের অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা করছে।

ডিজিটাল অবকাঠামোয় পাল্টা আঘাতের হুমকি

ইরানের সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়ার আরেকটি দিক হলো আঞ্চলিক ডিজিটাল অবকাঠামো। গত রোববার টেলিভিশনে প্রচারিত বক্তব্যে দেশটির সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের প্রধান মোহসেন রেজাই সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে হামলা শুরু করলে ইরান সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ এ অঞ্চলের ডিজিটাল অবকাঠামোয় আঘাত হানতে পারে।

সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে তিনি যোগাযোগ কেবল, ডেটা সেন্টার এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসংশ্লিষ্ট স্থাপনার কথা উল্লেখ করেন।

এই হুমকি ইঙ্গিত দেয়, সম্ভাব্য সংঘাতের প্রভাব সামরিক স্থাপনার বাইরেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। তবে এসব লক্ষ্যবস্তুতে হামলা হবে কি না, তা নিশ্চিত নয়।

শেষ পর্যন্ত কতটা বদলাবে যুদ্ধের পরিস্থিতি

এমওএবি ব্যবহারের সম্ভাবনা ঘিরে মূল প্রশ্নটি শুধু বোমাটির ধ্বংসক্ষমতা নিয়ে নয়; বরং এটি দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র তার কৌশলগত লক্ষ্য অর্জন করতে পারবে কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।

একদিকে, এই অস্ত্র উন্মুক্ত এলাকায় থাকা সামরিক অবস্থান ও বিভিন্ন অবকাঠামোর ওপর ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালাতে পারে। অন্যদিকে, ইরানের গভীরে সুরক্ষিত পারমাণবিক স্থাপনাগুলো ধ্বংস করার ক্ষেত্রে এর কার্যকারিতা নিশ্চিত নয়। বোমাটি বহনকারী বিমান মোতায়েনের জটিলতা এবং হামলার পর ইরানের সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়াও সিদ্ধান্তটিকে আরও কঠিন করে তুলছে।

বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, এমন হামলা হলে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি, প্রতিবেশী দেশ এবং আঞ্চলিক ডিজিটাল অবকাঠামো নতুন করে ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। ফলে এমওএবি ব্যবহারের সামরিক ফলাফল যতটা গুরুত্বপূর্ণ, তার সম্ভাব্য রাজনৈতিক ও আঞ্চলিক পরিণতিও ততটাই তাৎপর্যপূর্ণ।

যুক্তরাষ্ট্র শেষ পর্যন্ত এই বোমা ব্যবহার করবে কি না, তা নিশ্চিত নয়। তবে সামরিক বিশেষজ্ঞদের মূল্যায়ন অনুযায়ী, শুধু বিস্ফোরণের ব্যাপকতা দিয়ে ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা ধ্বংস কিংবা রাজনৈতিক ছাড় আদায়—কোনোটিই নিশ্চিত করা যায় না।

পাঠকের সাধারণ প্রশ্ন ও উত্তর

১. মাদার অব অল বম্বসের ওজন কত?

এমওএবির মোট ওজন প্রায় ৯ হাজার ৮০০ কেজি বা ২১ হাজার ৬০৫ পাউন্ড। এর দৈর্ঘ্য ৯ মিটারের কিছু বেশি।

২. যুক্তরাষ্ট্র আগে কখন এই বোমা ব্যবহার করেছিল?

২০১৭ সালে আফগানিস্তানে ইসলামিক স্টেট খোরাসান প্রভিন্সের গুহা ও সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র এমওএবি ব্যবহার করেছিল।

৩. এমওএবি কি ইরানের গভীর ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক স্থাপনা ধ্বংস করতে পারবে?

এমন নিশ্চয়তা নেই। বিশেষজ্ঞদের মতে, বোমাটি বড় বিস্ফোরণ ঘটাতে সক্ষম হলেও গভীর ভূগর্ভস্থ স্থাপনা ভেদ করে ধ্বংস করার জন্য বিশেষভাবে তৈরি নয়।

৪. যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে শক্তিশালী বাংকার বাস্টার কোনটি?

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, জিবিইউ-৫৭ ম্যাসিভ অর্ডন্যান্স পেনিট্রেটর যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে শক্তিশালী বাংকার বাস্টার। এর ওজন প্রায় ১৩ হাজার ৬০০ কেজি এবং এটি মাটির প্রায় ৬১ মিটার গভীর পর্যন্ত প্রবেশ করতে পারে।

৫. যুক্তরাষ্ট্র এমওএবি ব্যবহার করলে ইরান কী প্রতিক্রিয়া জানাতে পারে?

বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, ইরান প্রতিবেশী দেশগুলোতে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালাতে পারে। এ ছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ আঞ্চলিক ডিজিটাল অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করার হুমকিও দিয়েছে ইরানের এক শীর্ষ কর্মকর্তা। তবে সম্ভাব্য এসব পদক্ষেপের কোনটি বাস্তবে নেওয়া হবে, তা নিশ্চিত নয়।

আল-মামুন/

পাঠকের মতামত: