আর্জেন্টিনা পরবর্তী দুই ম্যাচ কবে, কখন ও প্রতিপক্ষ কারা?
লিওনেল মেসি ও নিকোলাস ওতামেন্দির বিদায়ের পর নতুন নেতৃত্বে এগিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে আর্জেন্টিনা। এরই মধ্যে বছরের শেষ আন্তর্জাতিক বিরতিতে দুটি প্রীতি ম্যাচের প্রতিপক্ষ ও ভেন্যু চূড়ান্ত করেছে দেশটির ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ)। আগামী ১৩ নভেম্বর বুয়েন্স আয়ার্সে উরুগুয়ে এবং ১৭ নভেম্বর কর্দোবায় কোস্টারিকার মুখোমুখি হবে বিশ্বকাপজয়ী দলটি। এই দুই ম্যাচে একদিকে যেমন নিজেদের সামর্থ্য যাচাইয়ের সুযোগ পাবে আর্জেন্টিনা, অন্যদিকে সামনে থাকা দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়েও কাজ করতে পারবেন কোচ লিওনেল স্কালোনি।
নভেম্বরে দুই ভেন্যুতে খেলবে আর্জেন্টিনা
বছরের শেষ আন্তর্জাতিক উইন্ডোতে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ কারা হবে, তা নিয়ে আগে থেকেই আলোচনা চলছিল দেশটির সংবাদমাধ্যমে। এবার সেই সম্ভাবনার অবসান ঘটিয়ে আনুষ্ঠানিক সূচি জানিয়েছে এএফএ।
সূচির প্রথম ম্যাচে ১৩ নভেম্বর বুয়েন্স আয়ার্সের লা বোম্বোনেরা স্টেডিয়ামে উরুগুয়ের বিপক্ষে খেলবে আর্জেন্টিনা। চার দিন পর, ১৭ নভেম্বর, কর্দোবার মারিও কেম্পেস স্টেডিয়ামে কোস্টারিকার মুখোমুখি হবে দলটি। অর্থাৎ নভেম্বরের দুই ম্যাচের জন্য দুটি আলাদা ভেন্যু নির্ধারণ করা হয়েছে, তবে দুটিই হবে আর্জেন্টিনার মাটিতে।
শেষ ম্যাচে মেসির বিদায়, এবার তাঁকে ছাড়াই পথচলা
আর্জেন্টিনার সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনগুলোর একটি হলো জাতীয় দল থেকে লিওনেল মেসির অবসর। গত ৬ অক্টোবর বেনিনের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলে নিজের গৌরবময় অধ্যায়ের সমাপ্তি টানেন ২০২২ বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক।
মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত সেই ম্যাচে মেসির বিদায় ঘিরে আবেগঘন পরিবেশ তৈরি হয়েছিল। মাঠের পারফরম্যান্সেও নিজের শেষ ম্যাচটিকে স্মরণীয় করে রাখেন তিনি। একটি গোল করার পাশাপাশি সতীর্থদের আরও দুটি গোলে সহায়তা করেন এলএমটেন। তাঁর দলও ম্যাচটি শেষ করে ৩-০ গোলের জয় নিয়ে।
মেসির বিদায়ের পর জাতীয় দলকে এখন নতুন বাস্তবতার সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে। বিশেষ করে আক্রমণভাগের সমন্বয়, নেতৃত্ব এবং দলীয় কাঠামো ধরে রাখার বিষয়গুলো সামনে আসবে। নভেম্বরের ম্যাচগুলোতে এই পরিবর্তনের মধ্যেও আর্জেন্টিনা নিজেদের খেলার ধারাবাহিকতা কতটা বজায় রাখতে পারে, তা দেখার সুযোগ থাকবে।
মেসি ছাড়াই বলিভিয়া ও বুরকিনা ফাসোর বিপক্ষে বড় জয়
জাতীয় দলের হয়ে মেসির শেষ ম্যাচের আগে অনুষ্ঠিত সেপ্টেম্বর-অক্টোবর উইন্ডোতেও তাঁকে ছাড়াই মাঠে নেমেছিল আর্জেন্টিনা। সেই দুই ম্যাচে ফলাফল ছিল স্কালোনির দলের পক্ষে।
কর্দোবায় বলিভিয়ার বিপক্ষে ৪-০ গোলের জয় দিয়ে শুরু হয় ওই পর্ব। এরপর রিভার প্লেটের মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামে বুরকিনা ফাসোর বিপক্ষে আরও দাপুটে পারফরম্যান্স দেখায় আর্জেন্টিনা। ম্যাচটি তারা জেতে ৭-০ গোলে।
দুটি ম্যাচেই অনুপস্থিত ছিলেন মেসি। ফলে তাঁর বিদায়ের আগেই তাঁকে ছাড়া খেলার অভিজ্ঞতা অর্জন করেছিল দলটি। উরুগুয়ে ও কোস্টারিকার বিপক্ষে আসন্ন লড়াইয়ে সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর সুযোগ পাবে আর্জেন্টিনা।
স্কালোনির দায়িত্ব চালিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা
শুধু খেলোয়াড়দের পরিবর্তন নয়, আর্জেন্টিনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় কোচের অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ। জাতীয় দলের সঙ্গে লিওনেল স্কালোনির বর্তমান দায়িত্বের মেয়াদ আগামী ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার কথা।
২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালের পর দায়িত্ব ছাড়ার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন তিনি। তবে পরে সেই অবস্থান থেকে সরে আসেন স্কালোনি। জানা গেছে, পরবর্তী বিশ্বকাপ পর্যন্ত তাঁর সঙ্গে নতুন চুক্তি হতে যাচ্ছে। সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে আসন্ন দুই প্রীতি ম্যাচ দিয়েই পরবর্তী বিশ্বকাপকে সামনে রেখে তাঁর নতুন পর্ব শুরু হতে পারে।
বেনিনের বিপক্ষে ম্যাচ শেষে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে স্কালোনি বলেছিলেন, ‘সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আমি কোচ হিসেবেই কাজ চালিয়ে যাব।’
নতুন অধিনায়ক ক্রিস্টিয়ান রোমেরোর সামনে দায়িত্ব
মেসির পাশাপাশি জাতীয় দলকে বিদায় জানিয়েছেন অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার নিকোলাস ওতামেন্দিও। তাঁদের অবসরের পর অধিনায়কত্বের দায়িত্ব পেয়েছেন ডিফেন্ডার ক্রিস্টিয়ান রোমেরো।
সর্বশেষ ফিফা আন্তর্জাতিক উইন্ডোতে রোমেরোর নেতৃত্বে খেলেছে আর্জেন্টিনা। ফলে দলের অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের বিদায়ের পর নতুন অধিনায়কের নেতৃত্বে দল কীভাবে নিজেদের গুছিয়ে নেয়, তা আগামী ম্যাচগুলোতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
২০৩০ বিশ্বকাপের আগে বাছাইপর্বের বাধা নেই আর্জেন্টিনার
আর্জেন্টিনার পরিকল্পনায় রয়েছে ২০৩০ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে দলকে প্রস্তুত করা। আগামী বছরের মার্চে এই আসরের বাছাইপর্ব শুরু হওয়ার কথা। তবে বিশ্বকাপের শতবর্ষী আয়োজনের অংশ হিসেবে উদ্বোধনী ম্যাচগুলো আর্জেন্টিনা, উরুগুয়ে ও প্যারাগুয়েতে বিশেষভাবে অনুষ্ঠিত হবে। এ কারণে আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপের বাছাইপর্ব খেলতে হবে না।
বাছাইপর্বের ম্যাচ না থাকায় আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচগুলো দলের প্রস্তুতির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। মেসি ও ওতামেন্দির অনুপস্থিতি, রোমেরোর নেতৃত্ব এবং স্কালোনির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা—সব মিলিয়ে নভেম্বরের দুই ম্যাচ আর্জেন্টিনার জন্য নতুন অধ্যায়ে প্রবেশের সুযোগ তৈরি করছে।
বছরের শেষ আন্তর্জাতিক উইন্ডোতে উরুগুয়ে ও কোস্টারিকার বিপক্ষে মাঠে নামার মধ্য দিয়ে আর্জেন্টিনা তাই শুধু দুটি ম্যাচ খেলবে না; বরং নতুন নেতৃত্ব ও পরিবর্তিত দলীয় বাস্তবতায় নিজেদের পরবর্তী পথচলাও এগিয়ে নেবে।
সচরাচর জিজ্ঞাসা
১. আর্জেন্টিনার নভেম্বরের ম্যাচ কবে?
আর্জেন্টিনা আগামী ১৩ নভেম্বর উরুগুয়ে এবং ১৭ নভেম্বর কোস্টারিকার বিপক্ষে খেলবে।
২. উরুগুয়ের বিপক্ষে ম্যাচ কোথায় হবে?
বুয়েন্স আয়ার্সের লা বোম্বোনেরা স্টেডিয়ামে ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে।
৩. কোস্টারিকার বিপক্ষে ম্যাচের ভেন্যু কোনটি?
কর্দোবার মারিও কেম্পেস স্টেডিয়ামে ১৭ নভেম্বর ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে।
৪. মেসির শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচে কত গোলে জিতেছিল আর্জেন্টিনা?
গত ৬ অক্টোবর বেনিনের বিপক্ষে ৩-০ গোলে জয় পায় আর্জেন্টিনা। ওই ম্যাচে মেসি একটি গোল করেন এবং আরও দুটি গোলে সহায়তা করেন।
৫. আর্জেন্টিনার নতুন অধিনায়ক কে?
মেসি ও নিকোলাস ওতামেন্দির অবসরের পর ক্রিস্টিয়ান রোমেরো অধিনায়কের দায়িত্ব পেয়েছেন।
আল-মামুন/