ঢাকা, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩

টানা ৩ সপ্তাহ পতনের পর শেয়ারবাজারে কি ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত?

শেয়ারনিউজ ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১৭ ১১:৫২:৪৫
টানা ৩ সপ্তাহ পতনের পর শেয়ারবাজারে কি ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত?

ঢাকার শেয়ারবাজারে সপ্তাহের শুরুটা হয়েছিল পতন দিয়ে, শেষটা সামান্য উত্থানে। তবে ১৫ অক্টোবর শেষ হওয়া সপ্তাহে ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া যায়নি। ফলে টানা তিন সপ্তাহ ধরে নিম্নমুখী থাকল প্রধান সূচক ডিএসইএক্স। সপ্তাহ শেষে তা দাঁড়িয়েছে ৫,৪৫২ পয়েন্টে। দীর্ঘ সংশোধনের পর অনেক শেয়ারের দাম আকর্ষণীয় স্তরে নেমে আসায় সস্তায় কিনতে ধীরে ধীরে ফিরছেন একদল বিনিয়োগকারী।

এক নজরে সপ্তাহের চিত্র

বিষয়অবস্থা
কার্যদিবস প্রথম ৩ দিন পতন, শেষ ২ দিন সামান্য উত্থান
ডিএসইএক্স ৫,৪৫২ পয়েন্ট (০.৪৩% কম)
মোট লেনদেন ২৩.৫৩ বিলিয়ন টাকা
বাজার মূলধন ৬.৮৪১ ট্রিলিয়ন টাকা
দর কমেছে ২২৩টি শেয়ারের
দর বেড়েছে ১২০টি শেয়ারের

সূচকের হিসাব

তিনটি প্রধান সূচকই নেমেছে।

সূচকসপ্তাহ শেষেপরিবর্তন
ডিএসইএক্স (প্রধান সূচক) ৫,৪৫২ ২৩.৫২ পয়েন্ট বা ০.৪৩% কম (আগের সপ্তাহে ৫,৪৭৫.৫৮)
ডিএস৩০ (শীর্ষ ৩০ কোম্পানি) ২,০৯৬.৫১ ৯.১৭ পয়েন্ট বা ০.৪৪% কম
ডিএসইএস (শরিয়াহ সূচক) ১,০৭৮ ০.৮৩% কম

বিক্রির চাপ কেন

বাজার-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কোম্পানির আয় ও লভ্যাংশ ঘোষণার মৌসুমে বিনিয়োগকারীরা সতর্ক। দেশের অর্থনীতির চলমান চ্যালেঞ্জ তাঁদের রক্ষণাত্মক করে রেখেছে। ফলে অদূর ভবিষ্যতে টেকসই ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা সীমিত।

সপ্তাহজুড়ে বিক্রির পেছনে ছিল তিনটি উদ্বেগ:

কর্পোরেট আয় নিয়ে অনিশ্চয়তা

ব্যবসার ব্যয় বৃদ্ধি

নতুন করে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা

ইবিএল সিকিউরিটিজের সাপ্তাহিক বিশ্লেষণেও একই কথা উঠে এসেছে। তাদের মতে, দুর্বল আয়, লভ্যাংশ ঘোষণা, সামষ্টিক অর্থনীতির প্রতিকূলতা ও ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা বিনিয়োগকারীদের আস্থায় চাপ ফেলেছে।

লেনদেনে ভাটা

এই সপ্তাহআগের সপ্তাহ
মোট লেনদেন ২৩.৫৩ বিলিয়ন টাকা ২৭.৮২ বিলিয়ন টাকা
দৈনিক গড় ৪.৭১ বিলিয়ন টাকা ৫.৫৬ বিলিয়ন টাকা

দৈনিক গড় লেনদেন কমেছে ১৫.৪ শতাংশ। বাজার মূলধন প্রায় একই আছে। তা ৬.৮৪২ ট্রিলিয়ন থেকে সামান্য কমে হয়েছে ৬.৮৪১ ট্রিলিয়ন টাকা।

পতন ছড়িয়েছে বিস্তৃত পরিসরে

ডিএসইর তথ্যে থাকা শেয়ারগুলোর মধ্যে ২২৩টির দাম কমেছে, বেড়েছে ১২০টির, অপরিবর্তিত ছিল ৩৯টি। আরও ২৮টির লেনদেন হয়নি। অ্যাডভান্স-ডিক্লাইন অনুপাত ০.৫৪, অর্থাৎ একটি শেয়ারের দাম বাড়ার বিপরীতে কমেছে তার চেয়ে অনেক বেশি শেয়ারের। এতে বোঝা যায়, পতন হাতে গোনা কয়েকটি ভারী কোম্পানিতে সীমাবদ্ধ ছিল না।

দরপতন বেশি দেখা গেছে টেক্সটাইল, সাধারণ বিমা, ওষুধ, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে। এর মধ্যে টেক্সটাইল, বিমা ও ওষুধ খাত বিনিয়োগকারীদের মনোভাবে বেশি চাপ ফেলেছে।

লেনদেনের হিসাবে শীর্ষে থাকা তিন খাত:

খাতমোট লেনদেনে অংশ
টেক্সটাইল ২৪.৩%
সাধারণ বিমা ১১.৪%
প্রকৌশল ৯.৫%

লেনদেনের শীর্ষে যারা

গড় লেনদেনে সবার ওপরে ছিল সাইহাম টেক্সটাইল মিলস। তাদের গড় লেনদেন ২০৪.৮৪ মিলিয়ন টাকা, যা বাজারের মোট লেনদেনের ৪.৩৫ শতাংশ। শেয়ারটির ক্লোজিং দাম ৪৬.৭০ টাকা।

এরপর আছে ব্র্যাক ব্যাংক (১০০.৪৩ মিলিয়ন টাকা) ও স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস (১০০.১৪ মিলিয়ন টাকা)। সক্রিয় ছিল শার্প ইন্ডাস্ট্রিজ, প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল ও আইপিডিসি ফাইন্যান্সও।

ব্লক ট্রেডে এগিয়ে স্কয়ার ফার্মা

কোম্পানিব্লক লেনদেন (মিলিয়ন টাকা)
স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস ২৭৫.৮১
সাইহাম টেক্সটাইল মিলস ২০১.৩৯
জিকিউ বল পেন ইন্ডাস্ট্রিজ ১৫৯.৬৮
এপেক্স স্পিনিং মিলস ১২৩.৫৬
ব্র্যাক ব্যাংক ১১৭.৪৯

তালিকায় আরও ছিল সেনা ইনস্যুরেন্স, গ্রামীণফোন, যমুনা ব্যাংক, গ্রিন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্স ও সোনারগাঁও টেক্সটাইলস।

পতনের বাজারেও যারা এগিয়েছে

কোম্পানিদাম বৃদ্ধিক্লোজিং দাম
রেনউইক যজ্ঞেশ্বর অ্যান্ড কোং ১৯.০১% ৮৪২.৭০ টাকা (আগে ৭০৮.১০)
অ্যানলিমা ইয়ার্ন ১৮.৩৬% ৩০.৩০ টাকা
ন্যাশনাল ব্যাংক ১৮.১৮% ৩.৯০ টাকা
আজিজ পাইপস ১৫.৭৬% ৯৯.৯০ টাকা
ফার্স্ট প্রুডেন্সিয়াল মিউচুয়াল ফান্ড ১৪.০৭% ৩০.৮০ টাকা

সামনে কী দেখার আছে

ডিএসইর বাজার মূল্য-আয় (পি/ই) অনুপাত ৮.৭১। এতে সামগ্রিক মূল্যায়ন তুলনামূলক কম মনে হতে পারে। তবে এটিকে আয়ের মান, কোম্পানির মৌলভিত্তি, খাতভিত্তিক গঠন এবং লোকসানি বা অপ্রচলিত ব্যবসার অনুপাতের সঙ্গে মিলিয়ে দেখতে হবে।

ডিএসইএক্স এখনো ২০২৫ সালের শেষ স্তরের ওপরে আছে। তবে এই সপ্তাহের চলনে গতি হারানোর ছাপ স্পষ্ট, বিশেষ করে টেক্সটাইল, বিমা ও ওষুধ খাতে।

আগামী সপ্তাহগুলোতে বাজারের গতি নির্ভর করবে তিনটি বিষয়ের ওপর:

লেনদেন স্থিতিশীল হচ্ছে কি না

দর বাড়ছে এমন শেয়ারের সংখ্যা বাড়ছে কি না

শীর্ষ খাতগুলো দামের শক্তি ফিরে পাচ্ছে কি না

বাজার-সংশ্লিষ্টদের পরামর্শ, বিনিয়োগকারীদের সাময়িক ওঠানামা ও কোম্পানির আয়, নগদ প্রবাহ এবং মৌলভিত্তির ওপর ভর করা পরিবর্তনের পার্থক্য বুঝে নিতে হবে।

প্রাসঙ্গিক FAQ

১. টানা কত সপ্তাহ ধরে ডিএসইর সূচক কমছে?

টানা তিন সপ্তাহ ধরে।

২. এই সপ্তাহে ডিএসইএক্স কত পয়েন্ট কমেছে?

২৩.৫২ পয়েন্ট (০.৪৩ শতাংশ) কমে ৫,৪৫২ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। আগের সপ্তাহে ছিল ৫,৪৭৫.৫৮ পয়েন্ট।

৩. দৈনিক গড় লেনদেন কতটা কমেছে?

১৫.৪ শতাংশ কমে ৪.৭১ বিলিয়ন টাকায় নেমেছে। আগের সপ্তাহে ছিল ৫.৫৬ বিলিয়ন টাকা।

৪. সপ্তাহে কোন শেয়ারের দাম সবচেয়ে বেশি বেড়েছে?

রেনউইক যজ্ঞেশ্বর অ্যান্ড কোং। দাম ১৯.০১ শতাংশ বেড়ে ৭০৮.১০ টাকা থেকে ৮৪২.৭০ টাকা হয়েছে।

৫. সপ্তাহে লেনদেনে কোন শেয়ার শীর্ষে ছিল?

সাইহাম টেক্সটাইল মিলস। গড় লেনদেন ২০৪.৮৪ মিলিয়ন টাকা, যা মোট লেনদেনের ৪.৩৫ শতাংশ।

তানভির ইসলাম/

পাঠকের মতামত: