Honda Dio 110: ইঞ্জিন, মাইলেজ ও দাম বাংলাদেশে
শহরের যানজটে সহজে চলাচল, স্বয়ংক্রিয় গিয়ার ব্যবস্থা এবং প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র রাখার সুবিধা—এসব বিষয় মাথায় রেখে Honda Dio 110-এর নতুন সংস্করণ এনেছে বাংলাদেশ হোন্ডা প্রাইভেট লিমিটেড। ১ লাখ ৫৭ হাজার টাকা দামের এই স্কুটারে রয়েছে ১০৯.৫১ সিসির PGM-FI ইঞ্জিন, আইডলিং স্টপ সিস্টেম, কম্বি ব্রেকিং সিস্টেম এবং ১৫ ওয়াটের Type-C চার্জিং পোর্ট।
২০২৬ সালের ৯ অক্টোবর বাংলাদেশে নতুন Honda Dio 110-এর বাজারজাতকরণ শুরু হয়। কম সিটের উচ্চতা, তুলনামূলক হালকা গঠন এবং গিয়ার পরিবর্তনের ঝামেলাহীন চালানোর ব্যবস্থা থাকায় দৈনন্দিন যাতায়াতের জন্য স্কুটারটি বিবেচনায় রাখতে পারেন ক্রেতারা। তবে কেনার আগে এর মাইলেজ, রক্ষণাবেক্ষণের খরচ এবং প্রয়োজনীয় ফিচার সম্পর্কে জেনে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
Honda Dio 110-এর দাম কত বাংলাদেশে?
বাংলাদেশে নতুন Honda Dio 110-এর বাজারমূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫৭ হাজার টাকা। স্কুটারটি দেশের অনুমোদিত হোন্ডা ডিলারদের মাধ্যমে বিক্রি করা হচ্ছে।
একই মডেলের পুরোনো সংস্করণ ও নতুন সংস্করণের স্পেসিফিকেশনে পার্থক্য থাকতে পারে। তাই কেনার সময় মডেলটির উৎপাদনসংক্রান্ত তথ্য, ফিচার, ওয়ারেন্টি এবং বিক্রয়মূল্য যাচাই করা উচিত। নিবন্ধন বা অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচ প্রযোজ্য হলে সেগুলোও বাজেটের মধ্যে রাখতে হবে।
Honda Dio 110-এর ইঞ্জিন ও পারফরম্যান্স
নতুন Honda Dio 110-এ রয়েছে ১০৯.৫১ সিসির PGM-FI ইঞ্জিন। এটি ৮,০০০ আরপিএমে সর্বোচ্চ ১০.৮২ পিএস শক্তি এবং ৫,৫০০ আরপিএমে ৯.০৩ নিউটন-মিটার টর্ক উৎপন্ন করে।
PGM-FI প্রযুক্তির মাধ্যমে ইলেকট্রনিকভাবে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করা হয়। এর সঙ্গে রয়েছে স্বয়ংক্রিয় ক্লাচ ও ট্রান্সমিশন ব্যবস্থা। ফলে প্রচলিত ম্যানুয়াল মোটরসাইকেলের মতো চালককে বারবার গিয়ার পরিবর্তন করতে হয় না। থ্রটল ঘুরিয়ে গতি নিয়ন্ত্রণ করেই স্কুটারটি চালানো যায়।
শহরের যানজট, স্বল্প দূরত্বের যাতায়াত এবং নিয়মিত অফিস বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাওয়া-আসার ক্ষেত্রে এই ব্যবস্থা সুবিধাজনক হতে পারে। তবে দীর্ঘ দূরত্বে চালানোর আরাম ও পারফরম্যান্স ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা এবং রাস্তার অবস্থার ওপর নির্ভর করবে।
এক লিটার পেট্রলে কত কিলোমিটার চলবে Honda Dio 110?
Honda Dio 110 কেনার আগে ক্রেতাদের অন্যতম আগ্রহের বিষয় হলো এর মাইলেজ। বিশেষ করে প্রতিদিন যাঁদের স্কুটার নিয়ে যাতায়াত করতে হয়, তাঁদের জন্য জ্বালানি খরচ গুরুত্বপূর্ণ।
নতুন বাংলাদেশি সংস্করণটির উদ্বোধনী তথ্যের সঙ্গে নির্দিষ্ট পরীক্ষিত মাইলেজের সংখ্যা প্রকাশ করা হয়নি। তাই এক লিটার পেট্রলে ঠিক কত কিলোমিটার চলবে, তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।
তবে স্কুটারটিতে রয়েছে PGM-FI প্রযুক্তি ও Idling Stop System। যানবাহন থামলে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে ইঞ্জিন বন্ধ করে দেওয়া এবং পুনরায় চলার সময় চালু করার মাধ্যমে অপ্রয়োজনীয় জ্বালানি খরচ কমাতে এই প্রযুক্তি সহায়তা করে।
বাস্তবে মাইলেজ নির্ভর করবে যানজট, গতি, রাস্তার অবস্থা, চালকের ওজন, টায়ারের চাপ এবং স্কুটারের রক্ষণাবেক্ষণের ওপর। তাই কেনার আগে অনুমোদিত ডিলারের কাছ থেকে মাইলেজসংক্রান্ত তথ্য এবং স্থানীয় ব্যবহারকারীদের অভিজ্ঞতা যাচাই করা ভালো।
জ্বালানি সাশ্রয়ে রয়েছে Idling Stop System
নতুন Honda Dio 110-এর উল্লেখযোগ্য ফিচারগুলোর একটি হলো Idling Stop System বা ISS। যানবাহন থামার সময় ইঞ্জিন অপ্রয়োজনীয়ভাবে চালু থাকার কারণে যে জ্বালানি খরচ হয়, তা কমাতে এই ব্যবস্থা সহায়তা করে।
এতে রয়েছে ACG Silent Starter প্রযুক্তিও। এর উদ্দেশ্য হলো ইঞ্জিন চালু করার সময় তুলনামূলক মসৃণ ও কম শব্দের স্টার্ট দেওয়া।
আরও পড়ুন:
Suzuki V-Strom SX 250: ইঞ্জিন, মাইলেজ ও দাম
Hero Xtreme 160R 4V: বাংলাদেশে দাম, মাইলেজ ও ফিচার
শহরের যানজটে বারবার থামতে হয় এমন চালকদের জন্য এই দুই প্রযুক্তি ব্যবহারিক সুবিধা দিতে পারে। তবে জ্বালানি সাশ্রয়ের প্রকৃত পরিমাণ নির্ভর করবে চালানোর পরিস্থিতি ও ব্যবহারের ধরনের ওপর।
ডিজাইন, ওজন ও সিটের উচ্চতা
Honda Dio 110-এর নতুন সংস্করণ তৈরি করা হয়েছে শহরে সহজে চালানোর কথা মাথায় রেখে। এর সিটের উচ্চতা ৭৬৫ মিলিমিটার এবং ওজন ১০১.৫ কেজি। স্কুটারটির প্রস্থ ৬৮০ মিলিমিটার।
তুলনামূলক নিচু সিটের কারণে অনেক চালকের জন্য মাটিতে পা রাখা সহজ হতে পারে। একই সঙ্গে ১০১.৫ কেজি ওজনের গঠন পার্কিং ও কম গতিতে নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে সুবিধা দিতে পারে। তবে চালকের উচ্চতা, শারীরিক গঠন ও অভিজ্ঞতার ওপর স্বাচ্ছন্দ্য নির্ভর করবে।
সামনে টেলিস্কোপিক সাসপেনশন এবং পেছনে ইউনিট সুইং সাসপেনশন ব্যবহার করা হয়েছে। শহরের স্বাভাবিক সড়কে চলাচলের জন্য এই বিন্যাস তৈরি করা হলেও ভাঙাচোরা রাস্তায় আরাম কেমন হবে, তা সরাসরি চালিয়ে দেখা ভালো।
স্টোরেজ, চার্জিং পোর্ট ও দৈনন্দিন সুবিধা
দৈনন্দিন ব্যবহারের সুবিধার দিকে নজর দিয়ে Honda Dio 110-এ কয়েকটি ব্যবহারিক ফিচার রাখা হয়েছে।
১৮ লিটারের আন্ডার-সিট স্টোরেজ: সিটের নিচের জায়গায় প্রয়োজনীয় ব্যক্তিগত জিনিসপত্র রাখা যায়। তবে হেলমেট বা অন্য কোনো নির্দিষ্ট জিনিস রাখা যাবে কি না, তা তার আকারের ওপর নির্ভর করবে।
১৫ ওয়াটের Type-C চার্জিং পোর্ট: সামঞ্জস্যপূর্ণ কেবল ব্যবহার করে মোবাইল ফোন চার্জ দেওয়ার সুবিধা রয়েছে।
ওপেন গ্লাভবক্স: ছোটখাটো প্রয়োজনীয় জিনিস হাতের কাছে রাখার জন্য সামনের অংশে খোলা স্টোরেজ স্পেস রয়েছে।
এক্সটার্নাল ফুয়েল লিড: জ্বালানি ভরার সময় সিট খুলতে হয় না। ফলে পেট্রল পাম্পে রিফুয়েলিংয়ের কাজ সহজ হতে পারে।
ফ্লোরবোর্ড স্পেস: পায়ের জন্য সমতল জায়গা থাকায় শহরে দৈনন্দিন যাতায়াতের সময় বসার ও পা রাখার সুবিধা পাওয়া যায়।
এই ফিচারগুলো স্কুটারটিকে শুধু যাতায়াতের বাহন নয়, বরং প্রতিদিনের ব্যবহারিক প্রয়োজন মেটানোর উপযোগী করে তুলতে পারে।
ব্রেকিং ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা
নতুন Honda Dio 110-এ Combi Brake System বা CBS রয়েছে। এই ব্যবস্থায় ব্রেক প্রয়োগের সময় সামনে ও পেছনের ব্রেকের মধ্যে সমন্বয় করা হয়, যা নিয়ন্ত্রিত ব্রেকিংয়ে সহায়তা করতে পারে।
এতে সাইড-স্ট্যান্ড ইঞ্জিন কাট-অফ সুবিধাও রয়েছে। সাইড স্ট্যান্ড নামানো থাকলে ইঞ্জিন চালু হওয়া বা চলতে থাকার ঝুঁকি কমাতে এই ব্যবস্থা কাজ করে।
সামনের অংশে DRL হেডল্যাম্পও রয়েছে। তবে CBS ও অন্যান্য নিরাপত্তা প্রযুক্তি থাকলেও নিরাপদ গতিতে চালানো, যথাযথ ব্রেকিং দূরত্ব রাখা এবং হেলমেট ব্যবহার করা জরুরি।
কোন কোন রঙে পাওয়া যাচ্ছে Honda Dio 110?
নতুন Honda Dio 110 বাংলাদেশের বাজারে তিনটি রঙে পাওয়া যাচ্ছে। রঙগুলো হলো—
Mat Marvel Blue Metallic
Mat Axis Gray Metallic
Imperial Red Metallic
রঙের প্রাপ্যতা ডিলার ও স্টকের ওপর নির্ভর করতে পারে। পছন্দের রং কেনার আগে নিকটস্থ অনুমোদিত শোরুমে খোঁজ নেওয়া ভালো।
ওয়ারেন্টি ও ফ্রি সার্ভিসের সুবিধা
বাংলাদেশ হোন্ডা প্রাইভেট লিমিটেড নতুন Honda Dio 110-এর সঙ্গে দুই বছর অথবা ২০ হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত ওয়ারেন্টি দিচ্ছে—যেটি আগে পূর্ণ হবে। এর সঙ্গে রয়েছে পাঁচটি ফ্রি সার্ভিস এবং দুটি পেইড সার্ভিস।
ওয়ারেন্টির সুবিধা পেতে নির্ধারিত নিয়ম মেনে সার্ভিসিং করা গুরুত্বপূর্ণ। কেনার সময় ওয়ারেন্টির আওতা, কোন কোন যন্ত্রাংশ এর বাইরে থাকবে এবং সার্ভিসের সময়সূচি সম্পর্কে লিখিত তথ্য সংগ্রহ করা উচিত।
Honda Dio 110 কাদের জন্য উপযোগী?
যাঁরা শহরের মধ্যে নিয়মিত যাতায়াত করেন এবং গিয়ার পরিবর্তনের ঝামেলা ছাড়াই স্কুটার চালাতে চান, তাঁদের জন্য Honda Dio 110 একটি বিবেচনাযোগ্য বিকল্প। কম সিটের উচ্চতা, আন্ডার-সিট স্টোরেজ, মোবাইল চার্জিং পোর্ট ও স্বয়ংক্রিয় ট্রান্সমিশন দৈনন্দিন ব্যবহারে সুবিধা দিতে পারে।
বিশেষ করে নতুন চালক, অফিসযাত্রী এবং স্বল্প দূরত্বে নিয়মিত চলাচলকারী ব্যক্তিরা স্কুটারটি বিবেচনা করতে পারেন। তবে কেনার আগে বসার আরাম, ব্রেকিং, হ্যান্ডলিং এবং বাস্তব মাইলেজ সম্পর্কে ধারণা নেওয়া প্রয়োজন।
সবশেষে, ১ লাখ ৫৭ হাজার টাকা দামের Honda Dio 110-এর মূল আকর্ষণ হলো সহজে চালানো, শহুরে ব্যবহার উপযোগী নকশা এবং দৈনন্দিন কাজের জন্য প্রয়োজনীয় সুবিধাগুলোর সমন্বয়। মাইলেজের নির্দিষ্ট পরীক্ষিত সংখ্যা প্রকাশিত না হওয়ায় শুধু জ্বালানি সাশ্রয়ের প্রতিশ্রুতির ওপর নির্ভর না করে নিজের ব্যবহারের ধরন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়াই ভালো।
সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)
১. বাংলাদেশে Honda Dio 110-এর দাম কত?
নতুন Honda Dio 110-এর ঘোষিত বাজারমূল্য ১ লাখ ৫৭ হাজার টাকা।
২. Honda Dio 110-এর ইঞ্জিন কত সিসির?
নতুন বাংলাদেশি সংস্করণে ১০৯.৫১ সিসির PGM-FI ইঞ্জিন রয়েছে।
৩. Honda Dio 110-এর মাইলেজ কত?
নতুন বাংলাদেশি সংস্করণের নির্দিষ্ট পরীক্ষিত মাইলেজের সংখ্যা প্রকাশ করা হয়নি। প্রকৃত মাইলেজ চালানোর ধরন, যানজট ও রক্ষণাবেক্ষণের ওপর নির্ভর করবে।
৪. Honda Dio 110-এ কি মোবাইল চার্জ দেওয়ার ব্যবস্থা আছে?
হ্যাঁ, এতে ১৫ ওয়াটের Type-C চার্জিং পোর্ট রয়েছে।
৫. Honda Dio 110-এর ওয়ারেন্টি কত দিনের?
বাংলাদেশে নতুন মডেলটির জন্য দুই বছর অথবা ২০ হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত ওয়ারেন্টি দেওয়া হচ্ছে—যেটি আগে পূর্ণ হবে। এর সঙ্গে পাঁচটি ফ্রি সার্ভিস ও দুটি পেইড সার্ভিস রয়েছে।
আল-মামুন/
পাঠকের মতামত:
আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ
- অন্যের নামে জমি রেকর্ড হয়ে গেলে নিজের নামে করবেন কীভাবে?
- আজকের স্বর্ণের দাম: ১৮, ২১ ও ২২ ক্যারেট স্বর্ণের ভরি দাম কত
- আজকের টাকার রেট কত: বেড়েছে ৬টি দেশের টাকার মান
- Honor Win RT2: ১২,০৭০mAh ব্যাটারির গেমিং ফোন
- আজকের টাকার রেট কত: বেড়েছে ২০টি দেশের টাকার বিনিময় হার
- আজকের টাকার রেট কত: কমেছে১৬টি দেশের টাকার মান
- দলিল, খতিয়ান ও নামজারি: জমির মালিকানা কীভাবে বুঝবেন?
- OnePlus Ace 7: ১৮৫Hz ডিসপ্লে ও ৯০০০mAh ব্যাটারি!
- বাংলাদেশ বনাম জিম্বাবুয়ে ম্যাচ আজ, কখন, কোথায় ও কীভাবে দেখবেন লাইভ
- বাংলাদেশ বনাম জিম্বাবুয়ে: টসের পর দুই দলের চূড়ান্ত একাদশ