ঢাকা, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩

১৫৮ কোটি ইউরো হারাল বাংলাদেশ, আয় বাড়াল ভিয়েতনাম

অর্থনীতি ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১৮ ২০:০১:১৪
১৫৮ কোটি ইউরো হারাল বাংলাদেশ, আয় বাড়াল ভিয়েতনাম

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পোশাক আমদানি ২০২৬ সালের প্রথম আট মাসে (জানুয়ারি-আগস্ট) সংকুচিত হয়েছে ৩.৮৩ শতাংশ। কিন্তু বাংলাদেশের রপ্তানি কমেছে এর প্রায় তিনগুণ গতিতে। শীর্ষ রপ্তানিকারকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বাজার-শেয়ার হারিয়েছে বাংলাদেশই। এই আট মাসে দেশের আয় কমেছে প্রায় ১.৫৮ বিলিয়ন ইউরো (১৫৮ কোটি ইউরো)।

বাংলাদেশের আট মাসের হিসাব

ইউরোস্ট্যাটের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে এ তথ্য দিয়েছে ‘বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েস’ (বিএভি)। সংস্থাটির হিসাবে, ইইউর ২৭ দেশে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি ১১.৬৭ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ১১.৯৩ বিলিয়ন ইউরোতে। আগের বছরের একই সময়ে এ অঙ্ক ছিল ১৩.৫০ বিলিয়ন ইউরো।

রপ্তানি কমার সঙ্গে ইইউ বাজারে বাংলাদেশের অংশীদারিত্বও নেমেছে। ২১.৫৪ শতাংশ থেকে তা এখন ১৯.৭৮ শতাংশ।

বাজারের ফাঁকা জায়গা নিয়েছে কারা

বাংলাদেশ যখন পিছিয়েছে, তখন চীন ও ভিয়েতনাম নিজেদের অবস্থান আরও মজবুত করেছে। তবে দুই দেশের পথ আলাদা।

সবচেয়ে বড় সরবরাহকারী চীন ইইউর সামগ্রিক চাহিদা কম থাকার মধ্যেও রপ্তানি ২.৩৮ শতাংশ বাড়িয়েছে। তাদের রপ্তানি এখন ১৯.৭১ বিলিয়ন ইউরো। বাজার-শেয়ার ৩০.৭১ থেকে বেড়ে হয়েছে ৩২.৭০ শতাংশ।

ভিয়েতনাম গেছে অন্য পথে। দেশটির রপ্তানির পরিমাণ (ওজন) কমেছে ৫.১৩ শতাংশ। তবু কম পণ্য বেশি দামে বেচে আয় বাড়িয়েছে তারা। প্রতি কেজি পোশাকের গড় দাম ১০.১১ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ২৮.৮২ ইউরো। মোট আয় পৌঁছেছে ৩.০০ বিলিয়ন ইউরোতে, আর ইইউ বাজারে শেয়ার হয়েছে ৪.৯৮ শতাংশ।

আসল চাপ অর্ডারে নয়, দামে

বিএভির প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও মহিউদ্দিন রুবেল বলছেন, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় উদ্বেগ অর্ডারের পরিমাণ নয়, পোশাকের অতিরিক্ত দরপতন।

পরিসংখ্যানও তা-ই বলছে। পরিমাণের দিক থেকে রপ্তানি কমেছে ৪.৫৮ শতাংশ, নেমেছে ৮৬৬.৭৬ মিলিয়ন কেজিতে। কিন্তু প্রতি কেজি পোশাকের গড় মূল্য কমেছে তার চেয়ে বেশি, ৭.৪৩ শতাংশ। গত বছর এ দাম ছিল ১৪.৮৭ ইউরো, এখন ১৩.৭৬ ইউরো।

প্রতি কেজির এই দাম চীনের (১৯.৮২ ইউরো) তুলনায় অনেক কম, ভিয়েতনামের (২৮.৮২ ইউরো) তুলনায় তো আরও বেশি।

অন্য প্রতিযোগীরাও কমেছে, তবে এত নয়

শ্রীলঙ্কা, ইন্দোনেশিয়া, তুরস্ক, ভারত ও পাকিস্তানের রপ্তানিও এই সময়ে নিম্নমুখী ছিল। কিন্তু বিশ্লেষণে দেখা গেছে, শতকরা আয়ের বিচারে বাংলাদেশের মতো বড় ধস এদের কারও হয়নি।

আগস্টে মিলল সামান্য ইঙ্গিত

আট মাসের মন্দার মধ্যেও আগস্টে কিছুটা ভালো খবর এসেছে। ২০২৫ সালের আগস্টের তুলনায় ২০২৬ সালের আগস্টে ইইউর মোট পোশাক আমদানির মূল্য বেড়েছে ০.৭২ শতাংশ।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ক্ষতির পরিমাণ কমতে শুরু করেছে। তবে বিশ্ববাজারে ঘুরে দাঁড়াতে হলে বাংলাদেশকে দুটি কাজ করতে হবে। শিপমেন্টের পরিমাণ বাড়াতে হবে, আর পণ্যের দরপতন ঠেকাতে নিতে হবে কঠোর কৌশলগত পদক্ষেপ।

প্রাসঙ্গিক FAQ

১. ইইউ বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি কতটা কমেছে?

২০২৬ সালের জানুয়ারি-আগস্টে ১১.৬৭ শতাংশ কমে ১১.৯৩ বিলিয়ন ইউরোতে নেমেছে। আগের বছর একই সময়ে ছিল ১৩.৫০ বিলিয়ন ইউরো।

২. বাংলাদেশের বাজার-শেয়ার কত কমেছে?

২১.৫৪ শতাংশ থেকে ১৯.৭৮ শতাংশে।

৩. প্রতি কেজি পোশাকের গড় দাম কত?

বাংলাদেশের ১৩.৭৬ ইউরো, চীনের ১৯.৮২ ইউরো, ভিয়েতনামের ২৮.৮২ ইউরো।

৪. চীন ও ভিয়েতনাম কীভাবে ভালো করল?

চীন রপ্তানি ২.৩৮ শতাংশ বাড়িয়েছে। ভিয়েতনামের রপ্তানির ওজন কমলেও গড় দাম ১০.১১ শতাংশ বাড়ায় আয় বেড়েছে।

৫. ঘুরে দাঁড়াতে বাংলাদেশকে কী করতে হবে?

বিশ্লেষকদের মতে, শিপমেন্টের পরিমাণ বাড়াতে হবে এবং দরপতন ঠেকাতে কঠোর কৌশলগত পদক্ষেপ নিতে হবে।

তানভির ইসলাম/

পাঠকের মতামত: