ঢাকা, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩

“মামলা করুন, আইনের মুখোমুখি হব”: নাহিদকে ইশরাকের জবাব

রাজনীতি ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ অক্টোবর ২০ ১৪:৩৯:২৮
“মামলা করুন, আইনের মুখোমুখি হব”: নাহিদকে ইশরাকের জবাব

মামলার কথা উঠতেই ব্যঙ্গের সুরে জবাব দিয়েছেন ইশরাক হোসেন। বিএনপির এই নেতা বলেছেন, তাঁর বিরুদ্ধে ফৌজদারি অপরাধের অভিযোগ থাকলে আইন মেনে মামলা হোক, তিনি আইনের মুখোমুখি হতে প্রস্তুত। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর পদ ছাড়ার ঘোষণা দেওয়া ইশরাকের এই প্রতিক্রিয়া এসেছে এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের মন্তব্যের পর। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া পোস্টে এনসিপির ভবিষ্যৎ নিয়েও কড়া কথা লিখেছেন তিনি।

ভিডিও থেকে পদত্যাগের ঘোষণা

পুরো ঘটনার শুরু গেন্ডারিয়ায়। সেখানে মাদকবিরোধী অভিযানে ইশরাকের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র দেখা যাওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সমালোচনার ঝড় ওঠে। এরপরই তিনি জানান, প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে নিজের ইচ্ছায় অব্যাহতি চেয়ে আবেদন করবেন।

নাহিদের প্রশ্ন: কারণ কী, অভিযোগ কী

ইশরাকের সিদ্ধান্তের পর বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের কাছে প্রতিক্রিয়া চাওয়া হয়। তাঁর বক্তব্য ছিল দুই স্তরের। প্রথমত, কেন পদ ছাড়তে হলো, সরকারকে তা জানাতে হবে। ইশরাকের বিরুদ্ধে আসলে কোন অভিযোগ আছে, সেটাও এখন পর্যন্ত অস্পষ্ট। দ্বিতীয়ত, আইনের শাসন চাইলে অপরাধের অভিযোগ উঠলে আইনি প্রক্রিয়াতেই তার নিষ্পত্তি হওয়া দরকার। কেবল পদ ছেড়ে দেওয়াকে তিনি সমাধান মনে করেন না।

ফেসবুকে ইশরাকের তিন কথা

নাহিদের এই বক্তব্যই ইশরাককে ফেসবুকে লিখতে প্ররোচিত করে। তাঁর পোস্টের মূল কথাগুলো তিনটি ভাগে সাজানো যায়।

নাহিদের প্রতি হতাশা। ইশরাক জানান, একসময় তিনি নাহিদকে নতুন রাজনৈতিক ব্যবস্থা গড়ার এক অংশীদার বলে ভাবতেন। সেই ধারণা এখন নড়ে গেছে। কারণ, এক সাংবাদিকের প্রশ্নে মাদকসমস্যা ও তার সমাধান নিয়ে মুখ না খুলে নাহিদ তাঁর বিরুদ্ধে ফৌজদারি অপরাধ খুঁজে দেখার পরামর্শ দিয়েছেন। ইশরাকের মতে, ক্রম হওয়া উচিত ছিল উল্টো। আগে মাদক নিয়ে কথা হতো, তারপর তাঁর বিরুদ্ধে কোনো অপরাধের অভিযোগ থাকলে সেই প্রসঙ্গ।

এনসিপির ভবিষ্যৎ। তরুণ প্রজন্মকে উদ্দেশ করে ইশরাক বলেন, এনসিপিকে ঘিরে নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের যে আশা ছিল, তাতে তিনি নিরাশ। দলটির বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থান থেকে বড় কোনো বদল আনা সম্ভব হবে না বলেও দাবি করেন তিনি।

আইন ও অভিযান। মামলা করা এবং আইনের মুখোমুখি হওয়ার কথা তিনি বলেছেন ব্যঙ্গ করে। একই পোস্টে মাদকবিরোধী অভিযানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা এবং আইনি প্রক্রিয়া নিয়েও নিজের অবস্থান জানিয়েছেন।

মাদকের বিরুদ্ধে অবস্থান বদলাননি

পোস্টের শেষ অংশে ইশরাক আবার জানিয়েছেন, মাদকের বিরুদ্ধে তাঁর অবস্থান কঠোরই থাকছে। মাদক নির্মূলে চালু পথের বাইরে গিয়ে ভিন্ন উপায়ে প্রতিকারের ইঙ্গিতও দেন তিনি। বড় মাদক ব্যবসায়ী ও বিক্রেতাদের উদ্দেশে কড়া বার্তা দিয়ে বলেন, শিগগিরই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

যা এখনো অনিশ্চিত

বিতর্কের দুটি দিক এখন পাশাপাশি চলছে। একটি হলো মাদকবিরোধী কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা। অন্যটি হলো, অভিযানের সময় কোনো আইন ভাঙা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখার প্রশ্ন। ইশরাকের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট কোনো ফৌজদারি অভিযোগে মামলা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে প্রতিবেদনে কিছু বলা হয়নি।

প্রাসঙ্গিক FAQ

প্রশ্ন ১: ইশরাক হোসেন কেন প্রতিমন্ত্রীর পদ ছাড়ার ঘোষণা দেন?

উত্তর: গেন্ডারিয়ায় মাদকবিরোধী অভিযানে তাঁর হাতে আগ্নেয়াস্ত্র দেখা যাওয়ার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে বিতর্ক তৈরি হয়। এরপর তিনি স্বেচ্ছায় অব্যাহতি চেয়ে আবেদন করার ঘোষণা দেন।

প্রশ্ন ২: পদত্যাগ নিয়ে নাহিদ ইসলাম কী বলেছিলেন?

উত্তর: তাঁর মতে, কেন পদত্যাগ করতে হলো তা সরকারকে স্পষ্ট করতে হবে এবং ইশরাকের বিরুদ্ধে কী অভিযোগ, তাও পরিষ্কার নয়। অপরাধের অভিযোগ থাকলে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি; শুধু পদত্যাগ সমাধান নয়।

প্রশ্ন ৩: ফেসবুক পোস্টে ইশরাক নাহিদের সমালোচনা করলেন কেন?

উত্তর: ইশরাকের অভিযোগ, এক সাংবাদিকের প্রশ্নে মাদকসমস্যা ও তার সমাধান নিয়ে না বলে নাহিদ তাঁর বিরুদ্ধে ফৌজদারি অপরাধ খোঁজার পরামর্শ দিয়েছেন। তাঁর মতে, আগে মাদক নিয়ে আলোচনা হওয়া উচিত ছিল।

প্রশ্ন ৪: আইনের মুখোমুখি হওয়া নিয়ে ইশরাক কী বলেছেন?

উত্তর: ব্যঙ্গ করে তিনি বলেছেন, ফৌজদারি অপরাধের অভিযোগ থাকলে আইন অনুযায়ী মামলা করা যেতে পারে এবং তিনি আইনের মুখোমুখি হতে প্রস্তুত।

প্রশ্ন ৫: ইশরাকের বিরুদ্ধে কি নির্দিষ্ট কোনো মামলা হয়েছে?

উত্তর: প্রতিবেদনে এ বিষয়ে কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।

তানভির ইসলাম/

পাঠকের মতামত: