ঢাকা, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩

ডিসেম্বরে বাংলাদেশে ফিরবেন শেখ হাসিনা, যা জানালেন জয়

রাজনীতি ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ অক্টোবর ২০ ১৪:৪১:৩২
ডিসেম্বরে বাংলাদেশে ফিরবেন শেখ হাসিনা, যা জানালেন জয়

বাংলাদেশে ফেরার সময় হিসেবে আগামী ডিসেম্বরের কথা জানিয়েছেন ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দেশে ফিরলে তাঁকে গ্রেপ্তার, নির্যাতন কিংবা হত্যার ঝুঁকির মুখে পড়তে হতে পারে—এমন আশঙ্কার কথা উল্লেখ করেও তিনি বলেছেন, দেশে ফেরা তাঁর দায়িত্ব। তবে ফেরার সুনির্দিষ্ট দিন এখনো নির্ধারিত হয়নি। শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় জানিয়েছেন, সময় ঘনিয়ে এলে এ বিষয়ে ঘোষণা দেওয়া হবে।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর ২০২৬) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। ওয়াশিংটনভিত্তিক এক সংবাদ সম্মেলনে ভার্চুয়ালি অংশ নিয়ে শেখ হাসিনা বাংলাদেশে ফেরার পরিকল্পনার কথা জানান। তিনি বলেন, সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে তিনি সচেতন, কিন্তু সেই কারণে দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত থেকে পিছিয়ে আসতে চান না।

শেখ হাসিনার ভাষ্য, দেশে ফিরে নিজের সমর্থকদের পাশে দাঁড়ানো তাঁর দায়িত্ব। ফেরার বিষয়টি কতটা ঝুঁকিপূর্ণ, তা নিয়ে তিনি চিন্তিত নন বলেও জানান।

ডিসেম্বরেই কি দেশে ফিরছেন শেখ হাসিনা?

শেখ হাসিনা ডিসেম্বর মাসে বাংলাদেশে ফেরার কথা জানালেও নির্দিষ্ট কোনো তারিখ উল্লেখ করেননি। এ বিষয়ে তাঁর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় সাংবাদিকদের বলেছেন, ফেরার দিন এখনো চূড়ান্ত হয়নি। সময় কাছাকাছি এলে এ নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।

২০২৪ সালের আগস্টে তাঁর সরকারের পতনের পর বাংলাদেশ ছেড়ে ভারতে চলে যান শেখ হাসিনা। এরপর থেকে তিনি ভারতেই অবস্থান করছেন। এবার ডিসেম্বরকে দেশে ফেরার সম্ভাব্য সময় হিসেবে উল্লেখ করলেও ঠিক কবে ফিরবেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

দেশে ফেরা নিয়ে কী বলেছেন শেখ হাসিনা?

সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনা বলেন, তিনি জানেন বাংলাদেশে ফিরলে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হতে পারে, নির্যাতনের শিকার হতে পারেন, এমনকি প্রাণহানির ঝুঁকিও রয়েছে। তবু তিনি দেশে ফিরতে চান।

নিজের বক্তব্যে তিনি বলেন, “আমি ডিসেম্বরে বাংলাদেশে ফিরব। আমি ভয় পাই না। আমি জানি, তারা আমাকে হত্যা করতে পারে, গ্রেপ্তার করতে পারে এবং নির্যাতন করতে পারে... দেশে ফেরা আমার দায়িত্ব।”

তিনি আরও জানান, দেশে ফেরার সঙ্গে ঝুঁকি জড়িত থাকলেও সেই ঝুঁকির কারণে তিনি নিজের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করবেন না।

আশ্রয় দেওয়ায় ভারত সরকার ও জনগণকে ধন্যবাদ

বাংলাদেশ ছাড়ার পর ভারতে অবস্থান করছেন শেখ হাসিনা। রাজনৈতিক অস্থিরতার সময়ে তাঁকে আশ্রয় দেওয়ার জন্য ভারত সরকার ও দেশটির জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, ভারত সরকার ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মানুষ তাঁকে যেভাবে গ্রহণ করেছেন, তা ১৯৭৫ সালের পরিস্থিতির কথা মনে করিয়ে দেয়। ওই বছর তাঁর পরিবারের একাধিক সদস্য হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। সে সময় তিনি ও তাঁর বোন প্রাণে বেঁচে যান বলে উল্লেখ করেন তিনি।

আগেও হুমকি উপেক্ষা করে দেশে ফেরার নজির তুলে ধরলেন

বাংলাদেশে ফেরার সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে নিজের রাজনৈতিক জীবনের আগের কয়েকটি ঘটনার কথা উল্লেখ করেন শেখ হাসিনা।

১৯৭৫ সালে তাঁর বাবা শেখ মুজিবুর রহমানসহ পরিবারের অন্য সদস্যদের হত্যাকাণ্ডের পর তিনি দীর্ঘ সময় বিদেশে ছিলেন। পরে ১৯৮১ সালে বাংলাদেশে ফিরে আসেন। এ ছাড়া ২০০৭ সালে রাজনৈতিক জরুরি অবস্থার সময় ফৌজদারি অভিযোগের মুখোমুখি হয়েও দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বলে জানান তিনি।

এসব ঘটনার উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বোঝাতে চেয়েছেন, অতীতেও নিরাপত্তার ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও তিনি বাংলাদেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।

বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক মামলা ব্যবহারের অভিযোগ

বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক নেতৃত্বের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের বিরুদ্ধে তাঁর ও আওয়ামী লীগের সদস্যদের ওপর রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করতে ফৌজদারি মামলা ব্যবহারের অভিযোগ করেন তিনি।

শেখ হাসিনা এসব মামলার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, রাজনৈতিক নেতাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের নিষ্পত্তি হওয়া উচিত ন্যায়সংগত বিচারপ্রক্রিয়ার মাধ্যমে। তাঁর মতে, অভিযোগের বিচার হতে হবে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে।

তবে সংবাদ সম্মেলনে তিনি শুধু নিজের ও দলের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়েই কথা বলেননি; বাংলাদেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কীভাবে নির্ধারিত হওয়া উচিত, সে বিষয়েও বক্তব্য দিয়েছেন।

অবাধ নির্বাচন ও নাগরিক অধিকার নিশ্চিতের আহ্বান

বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ সরকার নির্ধারণে জনগণের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন শেখ হাসিনা। তাঁর বক্তব্য, অবাধ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দেশের মানুষকে নিজেদের সরকার বেছে নেওয়ার সুযোগ দিতে হবে।

এ ছাড়া স্বাধীন বিচারব্যবস্থা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, রাজনৈতিক সংগঠন করার অধিকার, সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা এবং যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, তাঁর রাজনৈতিক অবস্থানের বিরোধিতা করেন এমন ব্যক্তিরাও বাংলাদেশের নাগরিক। তাই তাঁদের অধিকারও সম্মান করতে হবে। কোনো রাজনৈতিক দলকে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার সুযোগ থেকে বাদ দিলে বিভাজন আরও বাড়তে পারে এবং জাতীয় পুনর্মিলন বাধাগ্রস্ত হতে পারে বলে তিনি মনে করেন।

তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ প্রতিশোধের পরিবর্তে সমঝোতা ও পুনর্মিলনের ভিত্তিতে গড়ে তোলা প্রয়োজন।

২০২৪ সালের আন্দোলন নিয়েও বক্তব্য

২০২৪ সালের আন্দোলন এবং এর পরবর্তী ঘটনাবলি নিয়ে নিজের সরকারের ভূমিকা সম্পর্কে ওঠা প্রশ্নের কথাও স্বীকার করেছেন শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, তাঁর সরকার, ২০২৪ সালের ঘটনাবলি এবং পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে কঠিন প্রশ্ন রয়েছে। এসব বিষয় এড়িয়ে না গিয়ে অভিযোগের স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ আইনি নিষ্পত্তির পক্ষে অবস্থান জানান তিনি।

শেখ হাসিনার বক্তব্য অনুযায়ী, অভিযোগ যার বিরুদ্ধেই উঠুক—এমনকি তাঁর নিজের বিরুদ্ধেও—সেগুলোর সমাধান হতে হবে নিরপেক্ষ আইনি প্রক্রিয়ায়।

শেখ হাসিনার দেশে ফেরার তারিখ কি চূড়ান্ত?

এখন পর্যন্ত শেখ হাসিনার বাংলাদেশে ফেরার নির্দিষ্ট দিন ঘোষণা করা হয়নি। তিনি ডিসেম্বর মাসে ফেরার ইচ্ছা জানিয়েছেন, আর তাঁর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় বলেছেন, সময় ঘনিয়ে এলে এ বিষয়ে ঘোষণা দেওয়া হবে।

তাই আপাতত ডিসেম্বরকে তাঁর সম্ভাব্য ফেরার সময় হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে ঠিক কোন তারিখে তিনি বাংলাদেশে ফিরবেন, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য নেই।

সচরাচর জিজ্ঞাসা

১. শেখ হাসিনা কবে বাংলাদেশে ফিরবেন?

শেখ হাসিনা ২০২৬ সালের ডিসেম্বর মাসে বাংলাদেশে ফেরার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। তবে ফেরার নির্দিষ্ট তারিখ এখনো জানানো হয়নি।

২. সজীব ওয়াজেদ জয় দেশে ফেরার তারিখ নিয়ে কী বলেছেন?

তিনি জানিয়েছেন, শেখ হাসিনার ফেরার দিন এখনো নির্ধারণ করা হয়নি। সময় ঘনিয়ে এলে এ বিষয়ে ঘোষণা দেওয়া হবে।

৩. শেখ হাসিনা বর্তমানে কোথায় রয়েছেন?

২০২৪ সালের আগস্টে তাঁর সরকারের পতনের পর থেকে শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করছেন।

৪. দেশে ফিরলে কী ধরনের ঝুঁকির কথা বলেছেন শেখ হাসিনা?

তিনি বলেছেন, দেশে ফিরলে তাঁকে গ্রেপ্তার, নির্যাতন কিংবা হত্যার ঝুঁকির মুখে পড়তে হতে পারে। তবে এসব আশঙ্কা তাঁর দেশে ফেরার সিদ্ধান্তকে বদলাবে না বলে জানিয়েছেন।

৫. ২০২৪ সালের আন্দোলন নিয়ে শেখ হাসিনার বক্তব্য কী?

তিনি তাঁর সরকারের ভূমিকা, ২০২৪ সালের ঘটনাবলি এবং পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে কঠিন প্রশ্ন থাকার কথা স্বীকার করেছেন। একই সঙ্গে সব অভিযোগের স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ আইনি প্রক্রিয়ায় নিষ্পত্তির আহ্বান জানিয়েছেন।

তানভির ইসলাম/

পাঠকের মতামত: