ঢাকা, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩

ইশরাকের পর ববি হাজ্জাজের কার্যালয়ের নাম জড়াল বিতর্কিত অভিযানে

রাজনীতি ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ অক্টোবর ২০ ১৪:৪৬:১১
ইশরাকের পর ববি হাজ্জাজের কার্যালয়ের নাম জড়াল বিতর্কিত অভিযানে

মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান দুই জায়গায়, কিন্তু পথ ভিন্ন। দয়াগঞ্জে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি) ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে ১৫ জনকে সাজা দিয়েছে। আর মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্পে থানাকে না জানিয়ে চালানো এক অভিযানে আরিফ হোসেন (৩০) নামের এক যুবকের মাথা ফেটেছে। এই দ্বিতীয় অভিযানের সঙ্গে শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজের কার্যালয়ের লোকজনের নাম জড়িয়েছে। ইশরাক হোসেনের অস্ত্র হাতে অভিযান নিয়ে আলোচনার মধ্যেই এ ঘটনা নতুন প্রশ্ন তুলল।

দয়াগঞ্জে আইন মেনে অভিযান

গতকাল সোমবার বিকেলে দয়াগঞ্জ ঘুণ্টিঘর রেলগেট এলাকার রেলওয়ে স্টেশন-সংলগ্ন বস্তিতে অভিযান চালায় ডিএনসি। এই এলাকাতেই আগে অস্ত্র উঁচিয়ে মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়েছিলেন ইশরাক হোসেন।

ডিএনসির ঢাকা মেট্রো দক্ষিণ কার্যালয়ের উপপরিচালক আনোয়ার হোসেন জানান, মাদক কেনাবেচা ও সেবনের অভিযোগে মোট ১৫ জনকে আটক করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত তাঁদের প্রত্যেককে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১০০ টাকা করে অর্থদণ্ড দেন। মাদক সেবনের নানা সরঞ্জামও জব্দ করা হয়েছে।

জেনেভা ক্যাম্পের ঘটনা

গত রবিবার রাত ১১টার দিকে জেনেভা ক্যাম্পের কলেজ গেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্র বলছে, ঢাকা-১৩ আসনের সংসদ সদস্য ববি হাজ্জাজের কার্যালয় থেকে অভিযানটি পরিচালিত হয়। তাঁর নির্বাহী সহকারী ইনতিশার মাশুক প্রধানের সরাসরি নির্দেশে সুদীন ও জিসানসহ চার-পাঁচজন যুবক এতে অংশ নেন বলে জানা গেছে। এলাকায় এই যুবকেরা সংসদ সদস্যের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত।

অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, মাদক সেবনরত অবস্থায় আরিফকে আটক করা হয়। এরপর মারধরের সময় আঘাত লেগে তাঁর মাথা ফেটে রক্ত বের হতে থাকে।

পুলিশ যা বলছে

মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হালিম জানান, এই অভিযানের কথা থানাকে বিন্দুমাত্র জানানো হয়নি। আরিফের মাথা ফেটে যাওয়ার পরই পুলিশকে ফোন করা হয়। পুলিশ গিয়ে জখম অবস্থায় তাঁকে নিজেদের গাড়িতে তুলে আনে।

চিকিৎসা থেকে কারাগার

পুলিশ আরিফকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাঁর মাথায় চারটি সেলাই লাগে। এরপর তাঁকে থানায় নেওয়া হয়। ডোপ টেস্টের জন্য চিকিৎসকের কাছে পাঠানো হলে তাঁর শরীরে মাদক সেবনের সত্যতা নিশ্চিত হয়। শেষে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়।

"এমপির অভিযান নয়": ইনতিশার মাশুক প্রধান

অভিযানের দায় পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন মাশুক প্রধান। তাঁর দাবি, সংসদ সদস্যের কার্যালয়ের কোনো দল বা নির্দেশনায় এটি হয়নি। এলাকায় একটি নাগরিক সংগঠন আছে, যারা মাঝেমধ্যে নিজেদের উদ্যোগে এ ধরনের কাজ করে বলে জানান তিনি। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, "ওই অভিযান এমপি মহোদয়ের নয় এবং তাঁর তরফ থেকেও এ রকম কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি।"

প্রাসঙ্গিক FAQ

প্রশ্ন ১: জেনেভা ক্যাম্পে আরিফ হোসেনের সঙ্গে কী ঘটেছিল?

উত্তর: রবিবার রাত ১১টার দিকে মাদক সেবনরত অবস্থায় তাঁকে আটক করা হয়। মারধরের সময় তাঁর মাথা ফেটে যায় এবং চারটি সেলাই দিতে হয়।

প্রশ্ন ২: এই অভিযানের দায় নিয়ে মাশুক প্রধান কী বলেছেন?

উত্তর: তিনি দায় অস্বীকার করে বলেছেন, অভিযানটি এমপির নয় এবং তাঁর পক্ষ থেকে কোনো নির্দেশনাও ছিল না। এলাকার একটি নাগরিক সংগঠন মাঝেমধ্যে নিজ উদ্যোগে এমন কাজ করে বলে তাঁর দাবি।

প্রশ্ন ৩: থানা কি অভিযানের কথা জানত?

উত্তর: না। ওসি আব্দুল হালিমের ভাষ্য, থানাকে বিন্দুমাত্র জানানো হয়নি। মাথা ফাটার পর ফোন পেয়ে পুলিশ গিয়ে আরিফকে তুলে আনে।

প্রশ্ন ৪: আরিফের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে?

উত্তর: ডোপ টেস্টে মাদক সেবনের সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার পর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

প্রশ্ন ৫: ডিএনসির অভিযানে কী হয়েছে?

উত্তর: সোমবার বিকেলে দয়াগঞ্জ ঘুণ্টিঘর রেলগেট এলাকার বস্তিতে ১৫ জনকে আটক করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত প্রত্যেককে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১০০ টাকা অর্থদণ্ড দেন।

আল-মামুন/

পাঠকের মতামত: