ঢাকা, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩

iPhone Duo Review: দাম, ফিচার, পারফরম্যান্স ও ব্যাটারি কেমন?

তথ্য ও প্রযুক্তি ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ অক্টোবর ২১ ২০:২৫:৩৭
iPhone Duo Review: দাম, ফিচার, পারফরম্যান্স ও ব্যাটারি কেমন?

অ্যাপলের প্রথম ফোল্ডেবল স্মার্টফোন iPhone Duo নকশা, ডিসপ্লে ও সফটওয়্যারের সমন্বয়ে নতুন অভিজ্ঞতা দেওয়ার দাবি রাখছে। ভাঁজ করা অবস্থায় ৫.৪ ইঞ্চির স্ক্রিনে সাধারণ স্মার্টফোনের মতো ব্যবহার করা যায়, আবার খুললেই পাওয়া যায় ৭.৬ ইঞ্চির বড় ডিসপ্লে। সঙ্গে রয়েছে ৪৮ মেগাপিক্সেলের দুটি পেছনের ক্যামেরা, Apple A20 Pro চিপসেট, দ্রুত চার্জিং এবং IP68 মানের পানি ও ধুলা প্রতিরোধী সুরক্ষা।

তবে উন্নত নকশা ও পারফরম্যান্সের পাশাপাশি ফোনটিতে কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। এতে Face ID নেই, টেলিফটো ক্যামেরা পাওয়া যায় না এবং একসঙ্গে একাধিক অ্যাপ ব্যবহারের সুবিধাও প্রত্যাশার তুলনায় সীমিত। সবচেয়ে বড় বিষয়, যুক্তরাষ্ট্রে ফোনটির দাম শুরু হয়েছে ১ হাজার ৯৯৯ ডলার থেকে।

প্রযুক্তিবিষয়ক সংবাদমাধ্যম CNET-এর জ্যেষ্ঠ প্রযুক্তি প্রতিবেদক Abrar Al-Heeti এক সপ্তাহ ব্যবহারের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে iPhone Duo-কে ৮.৭ রেটিং দিয়েছেন। ফোনটি CNET Editors’ Choice Award-ও পেয়েছে। তাঁর পর্যালোচনা অনুযায়ী, অ্যাপল ফোল্ডেবল ফোনের বাজারে দেরিতে এলেও হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যারের সমন্বয়ে ব্যবহারিক অভিজ্ঞতা তৈরির ক্ষেত্রে ভালো করেছে।

২১ অক্টোবর ২০২৬, সকাল ৮টা EDT-তে হালনাগাদ করা পর্যালোচনায় ফোনটির নকশা, ডিসপ্লে, ক্যামেরা, ব্যাটারি, পারফরম্যান্স ও ব্যবহারিক সীমাবদ্ধতাগুলো তুলে ধরা হয়েছে।

iPhone Duo-এর দাম কত?

iPhone Duo-এর ২৫৬ জিবি স্টোরেজ সংস্করণের যুক্তরাষ্ট্রের প্রারম্ভিক দাম ১ হাজার ৯৯৯ ডলার। অন্যদিকে, ২ টেরাবাইট স্টোরেজের সংস্করণ কিনতে খরচ হবে ৩ হাজার ১৯৯ ডলার।

ফোল্ডেবল ফোনের বাজারে এই দাম প্রতিদ্বন্দ্বী কয়েকটি মডেলের কাছাকাছি। Samsung Galaxy Z Fold 8-এর দাম শুরু ১ হাজার ৯০০ ডলার থেকে। Galaxy Z Fold 8 Ultra-এর প্রারম্ভিক দাম ২ হাজার ১০০ ডলার এবং Google Pixel 11 Pro Fold-এর দাম ১ হাজার ৮৯৯ ডলার থেকে।

দাম বেশি হলেও iPhone Duo-র প্রতি ক্রেতাদের আগ্রহ দেখা গেছে। CNET-এর পর্যালোচনা অনুযায়ী, গত সপ্তাহে প্রি-অর্ডার শুরু হওয়ার পর ফোনটির মজুত প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই শেষ হয়ে যায়। তবে উচ্চমূল্য ও সীমিত প্রাপ্যতার কারণে এটি সব ধরনের ক্রেতার জন্য উপযুক্ত নয়।

নকশায় iPhone Duo কেন আলাদা?

iPhone Duo-র অন্যতম আকর্ষণ এর কমপ্যাক্ট নকশা। ফোনটি বন্ধ থাকলে সহজে হাতে ধরা যায় এবং পকেটে রাখা সুবিধাজনক। আবার প্রয়োজন অনুযায়ী খুলে বড় পর্দায় কাজ করা যায়। ফলে একই ডিভাইসে সাধারণ স্মার্টফোন ও ছোট ট্যাবলেটের মতো ব্যবহারের অভিজ্ঞতা পাওয়া সম্ভব।

ভাঁজ করা অবস্থায় ফোনটির পুরুত্ব ১১.৩ মিলিমিটার। পুরোপুরি খুললে পুরুত্ব কমে হয় ৫.২ মিলিমিটার। খোলা অবস্থায় এটি ছোট iPad Mini-এর মতো দেখায় বলে পর্যালোচনায় উল্লেখ করা হয়েছে।

ফোনটির ভেতরের ডিসপ্লেতে ম্যাট ফিনিশ ব্যবহার করা হয়েছে। এতে বাইরের আলোর প্রতিফলন কম হয় এবং মাঝখানের ভাঁজের দাগও তুলনামূলক কম চোখে পড়ে। বিশেষ করে ভিডিও দেখা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার কিংবা লেখা পড়ার সময় এই নকশা সুবিধা দেয়।

ফোনটি পুরোপুরি সমতল করে খোলা যায়। তবে পেছনের ক্যামেরার অংশ কিছুটা উঁচু হওয়ায় টেবিলে রাখলে পুরো ফোনটি পৃষ্ঠের সঙ্গে সমানভাবে লেগে থাকে না।

অ্যাপলের দাবি, ভেতরের ডিসপ্লে আঁচড় ও চাপের কারণে তৈরি হওয়া ক্ষতির বিরুদ্ধেও প্রতিরোধী। CNET-এর পর্যালোচকের ব্যবহারের সময় দুই ডিসপ্লেতেই দৃশ্যমান আঁচড় দেখা যায়নি।

ফোনটির ফ্রেমে টাইটানিয়াম, ডিসপ্লেতে Ceramic Shield 2 এবং পেছনে Ceramic Shield সুরক্ষা ব্যবহার করা হয়েছে। খোলা অবস্থায় চাপ প্রয়োগ করলেও ফোনটির কাঠামো নড়বড়ে মনে হয়নি বলে জানিয়েছেন পর্যালোচক।

দুই ডিসপ্লেতে ব্যবহারের অভিজ্ঞতা কেমন?

iPhone Duo-তে দুই আকারের ডিসপ্লে থাকায় কাজের ধরন অনুযায়ী পর্দা বেছে নেওয়া যায়। বাইরের ৫.৪ ইঞ্চির স্ক্রিনে দ্রুত বার্তা পাঠানো, নোটিফিকেশন দেখা, ইমেইল পরীক্ষা করা কিংবা ছবি তোলার মতো কাজ করা যায়।

এই ডিসপ্লেতে কিবোর্ডের জায়গাও যথেষ্ট প্রশস্ত। ফলে ছোট পর্দা হলেও টাইপ করা কঠিন মনে হয়নি বলে পর্যালোচনায় জানানো হয়েছে।

অন্যদিকে, ভেতরের ৭.৬ ইঞ্চির ডিসপ্লে দীর্ঘ সময়ের কাজের জন্য বেশি উপযোগী। Google Docs-এ লেখা সম্পাদনা, YouTube ভিডিও দেখা, ছবি ঘাঁটা কিংবা বিভিন্ন অ্যাপ ব্যবহার করার সময় বড় পর্দা সুবিধা দেয়। ম্যাট ফিনিশের কারণে বাইরে আলোতেও লেখা পড়া স্বাচ্ছন্দ্যকর।

ভেতরের ডিসপ্লেতে থাকা FaceTime ক্যামেরাটি ব্যবহার না করার সময় প্রায় অদৃশ্য থাকে। ফলে ভিডিও দেখা বা অন্য কনটেন্ট ব্যবহারের সময় পর্দার মধ্যে আলাদা কালো অংশ চোখে পড়ে না।

তবে বড় ডিসপ্লে থাকলেও মাল্টিটাস্কিংয়ের কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। ফোনটি আড়াআড়ি অবস্থায় রাখলে একসঙ্গে দুটি অ্যাপ চালানো যায়। দুই অ্যাপের জন্য সমান ৫০ শতাংশ করে জায়গা বরাদ্দ থাকে। কিন্তু ব্যবহারকারী চাইলে একটি অ্যাপকে বড় করে অন্যটিকে ছোট করার সুযোগ পান না।

এখানে Samsung Galaxy Z Fold 8 এগিয়ে রয়েছে। ওই ফোনে একসঙ্গে তিনটি অ্যাপ চালানোর পাশাপাশি অ্যাপগুলোর আকারও পরিবর্তন করা যায়।

আরও পড়ুন:

Tecno Spark 50s 5G: ৬৫০০mAh ব্যাটারি ও ১২০Hz ডিসপ্লে

OPPO Reno 17 Pro: লঞ্চ কবে, দাম কত ও কী থাকছে নতুন ফিচারে?

POCO X8s: 100W চার্জিং ও 6,330mAh ব্যাটারি, দাম কত?

iPhone Duo-তে ভিডিও কল চালু রেখে অন্য পাশে iMessage ব্যবহার করা কিংবা YouTube ভিডিও দেখার পাশাপাশি অনলাইনে কেনাকাটা করা সম্ভব। একটি অ্যাপ থেকে অন্য অ্যাপে ছবি ও ফাইল টেনে নেওয়ার সুবিধাও রয়েছে। এ ছাড়া দুটি অ্যাপকে একসঙ্গে সংরক্ষণ করে পরে App Switcher থেকে দ্রুত চালু করা যায়।

তবে ফোনটি সোজা বা পোর্ট্রেট অবস্থায় রাখলে সাধারণভাবে পাশাপাশি দুটি অ্যাপ ব্যবহারের সুবিধা পাওয়া যায় না। এ ক্ষেত্রে Picture-in-Picture সুবিধায় পর্দার ওপরের অংশে ভিডিও চালু রেখে নিচে অন্য অ্যাপ ব্যবহার করা সম্ভব। ফোনটি আংশিক ভাঁজ করলেও দুই অ্যাপের জন্য সমান জায়গা পাওয়া যায়।

iOS 27-এর সঙ্গে সফটওয়্যারের সমন্বয়

iPhone Duo-র বড় শক্তি হলো এর হার্ডওয়্যার ও iOS 27-এর সমন্বয়। ফোনটি খোলার সময় বাইরের ডিসপ্লেতে থাকা কনটেন্ট ধীরে ধীরে ভেতরের পর্দায় চলে যায়। বন্ধ করার সময়ও একইভাবে কনটেন্ট এক পর্দা থেকে অন্য পর্দায় স্থানান্তরিত হয়।

এই পরিবর্তন শুধু দৃষ্টিনন্দন নয়, ব্যবহারের অভিজ্ঞতাকেও মসৃণ করে। ফোনটি আংশিক ভাঁজ করলে কিবোর্ড দুই ভাগে বিভক্ত হয়, যাতে টাইপ করা সহজ হয়। ক্যামেরার মতো অ্যাপ খোলা থাকলে নিয়ন্ত্রণের অপশনগুলো এমনভাবে সরে যায়, যাতে মাঝের ভাঁজের কাছে সেগুলো ব্যবহার করতে সমস্যা না হয়।

ডিসপ্লের ডান পাশে গুরুত্বপূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ও নেভিগেশন অপশন রাখা হয়েছে। ব্যাটারির চার্জ, মোবাইল নেটওয়ার্ক ও Wi-Fi-এর তথ্য দেখানো একটি গোলাকার মডিউলে চাপ দিলে Control Center খোলে। তবে বাঁহাতি ব্যবহারকারীদের জন্য এটি অসুবিধার কারণ হতে পারে, কারণ নিয়ন্ত্রণগুলো অন্য পাশে সরিয়ে নেওয়ার সুযোগ নেই।

ফোনটিতে Dynamic Island-ও রয়েছে। এর মাধ্যমে সর্বোচ্চ দুটি অ্যাপের কার্যক্রমে দ্রুত ফিরে যাওয়া যায়। তুলনায় iPhone 18 Pro-তে এই সুবিধায় তিনটি অ্যাপ ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে।

আরেকটি উল্লেখযোগ্য ফিচার StandBy Mode। অন্যান্য আইফোনের মতো চার্জে যুক্ত না রেখেও iPhone Duo-তে এই মোড চালু করা যায়। ফোনটি দাঁড় করিয়ে বা আংশিক ভাঁজ করে ঘড়ি, ক্যালেন্ডার, আবহাওয়ার তথ্য ও Live Activities দেখা সম্ভব। ফলে ফোনটি পাশে রেখে প্রয়োজনীয় তথ্য দ্রুত দেখে নেওয়া যায়।

তবে সব অ্যাপ এখনো iPhone Duo-র দুই ডিসপ্লের জন্য পুরোপুরি অপ্টিমাইজ করা হয়নি। CNET-এর পরীক্ষায় বাইরের ডিসপ্লেতে YouTube ভিডিও চালানোর সময় নিয়ন্ত্রণের জায়গায় কালো অংশ দেখা গেছে। Kindle অ্যাপে বইয়ের লেখা ও পৃষ্ঠার বিন্যাসও পর্দার সঙ্গে ঠিকভাবে মানানসই ছিল না।

অন্যদিকে Netflix, Edits ও OpenTable-এর মতো অ্যাপ দুই ডিসপ্লেতেই ভালোভাবে কাজ করেছে। Netflix ও Apple TV-এর মতো স্ট্রিমিং অ্যাপে ফোনটি অর্ধেক ভাঁজ করলে ওপরের অংশে ভিডিও এবং নিচের অংশে নিয়ন্ত্রণের অপশন দেখা যায়। এতে ভিডিও চালানো, থামানো কিংবা সামনে-পেছনে নেওয়া সহজ হয়।

পানি ও ধুলা প্রতিরোধে IP68 রেটিং

ফোল্ডেবল ফোনের ক্ষেত্রে স্থায়িত্ব গুরুত্বপূর্ণ। একাধিক চলমান অংশ থাকায় এ ধরনের ডিভাইসে পানি ও ধুলা প্রতিরোধের সক্ষমতা নিয়ে ক্রেতাদের আগ্রহ থাকে।

iPhone Duo-তে IP68 রেটিং দেওয়া হয়েছে। নির্দিষ্ট পরীক্ষার শর্তে ফোনটি সর্বোচ্চ ৬ মিটার পানির নিচে ৩০ মিনিট পর্যন্ত থাকার সক্ষমতা রাখে। একই সঙ্গে এটি ধুলা প্রতিরোধী।

Google Pixel 11 Pro Fold-এও IP68 রেটিং রয়েছে, তবে সেটির পানি প্রতিরোধের পরীক্ষার গভীরতা ১.৫ মিটার। অন্যদিকে Samsung Galaxy Z Fold 8 ও Z Fold 8 Ultra-তে IP48 রেটিং ব্যবহার করা হয়েছে।

এই সুরক্ষা iPhone Duo-কে প্রতিদ্বন্দ্বীদের তুলনায় একটি উল্লেখযোগ্য সুবিধা দেয়। তবে IP68 রেটিং থাকলেই সব পরিস্থিতিতে পানির ক্ষতি থেকে সম্পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত হয় না। তাই ফোনটিকে ইচ্ছাকৃতভাবে পানিতে ডোবানো থেকে বিরত থাকাই ভালো।

iPhone Duo-এর ক্যামেরা কেমন?

iPhone Duo-র পেছনে রয়েছে দুটি ৪৮ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা। একটি ওয়াইড-অ্যাঙ্গেল, অন্যটি আলট্রাওয়াইড। CNET-এর পর্যালোচনায় বিভিন্ন পরিস্থিতিতে তোলা ছবিতে ভালো শার্পনেস ও প্রাণবন্ত রং পাওয়া গেছে।

তবে ফোনটিতে টেলিফটো ক্যামেরা নেই। ফলে অপটিক্যাল জুমের সুবিধা পাওয়া যায় না। এ ছাড়া ProRAW ছবি ধারণ এবং ProRes ভিডিও রেকর্ডিংয়ের মতো উন্নত ফরম্যাটও নেই। উচ্চমূল্যের ফোন হিসেবে এসব সীমাবদ্ধতা ক্যামেরাপ্রেমীদের হতাশ করতে পারে।

সেলফি তোলার জন্য বাইরের ডিসপ্লেতে ১২ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা রয়েছে। ভেতরের ডিসপ্লেতে রয়েছে একটি FaceTime ক্যামেরা, যার রেজল্যুশন অ্যাপল প্রকাশ করেনি।

ভেতরের ক্যামেরাটি ভিডিও কলের জন্য যথেষ্ট হলেও এর ছবির বিস্তারিত অংশ বাইরের সেলফি ক্যামেরার মতো স্পষ্ট নয়। তাই সেলফি তোলার ক্ষেত্রে বাইরের ক্যামেরা ব্যবহার করাই বেশি সুবিধাজনক।

ছবি তোলার বিশেষ ফিচার

দুই ডিসপ্লে ব্যবহার করে ছবি তোলার অভিজ্ঞতা উন্নত করতে iPhone Duo-তে কয়েকটি বিশেষ ফিচার রয়েছে।

Duo Preview: পেছনের ক্যামেরা দিয়ে ছবি তোলার সময় বাইরের ডিসপ্লেতে ছবির ফ্রেম দেখা যায়। ফলে অন্য কাউকে দিয়ে ছবি তোলানোর সময়ও ছবির অবস্থান ও পোজ ঠিক করা যায়। পেছনের ক্যামেরা দিয়ে নিজের ছবি তোলার ক্ষেত্রেও এটি কাজে আসে।

Smart Take: গ্রুপ ছবি তোলার সময় টাইমার দিয়ে দ্রুত ফ্রেমে ঢোকার প্রয়োজন কমায়। ফিচারটি চালু করে ফোনটি স্থির জায়গায় রাখলে মানুষের পোজ পরিবর্তন শনাক্ত করে ছবি তোলে। এটি প্রায় ২ মিনিট পর্যন্ত অথবা আনুমানিক ২০টি ছবি ধারণ না হওয়া পর্যন্ত কাজ করতে পারে। পরে Photos অ্যাপ থেকে পছন্দের ছবি বেছে নেওয়া যায়।

Kid Cue: বাইরের ডিসপ্লেতে Snoopy-র অ্যানিমেশন দেখিয়ে শিশুদের ক্যামেরার দিকে মনোযোগী করতে সাহায্য করে।

Duo FaceTime: ভিডিও কলে নিজের মুখের পাশাপাশি পেছনের ক্যামেরায় সামনে থাকা ব্যক্তি বা পরিবেশ দেখানো যায়। বড় ভেতরের ডিসপ্লেতে দুই দিকের দৃশ্য একসঙ্গে দেখার সুবিধা পাওয়া যায়।

iPhone Duo-এর ব্যাটারি কতক্ষণ চলে?

iPhone Duo-তে দুই অংশে বিভক্ত ডুয়াল-ব্যাটারি ব্যবস্থা ব্যবহার করা হয়েছে। ফোনটির বড় ডিসপ্লে ও পাতলা কাঠামোর কারণে ব্যাটারির স্থায়িত্ব নিয়ে শুরুতে সংশয় থাকলেও CNET-এর পরীক্ষায় এটি ভালো ফল দিয়েছে।

এক দিন সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে পূর্ণ চার্জ নিয়ে ব্যবহার শুরু করে রাত ১১টায় ২৯ শতাংশ চার্জ অবশিষ্ট ছিল। ওই দিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার, Google Docs-এ কাজ, ইমেইল ও বার্তা পাঠানো, ছবি তোলা, YouTube দেখা, ফোন কল এবং একটি ভিডিও কল করা হয়েছিল।

অন্য দিন সকাল ৭টায় পূর্ণ চার্জ নিয়ে ভিডিও সম্পাদনা, Instagram ব্যবহার, বার্তা পাঠানো, ছবি দেখা, YouTube ভিডিও চালানো এবং এক ঘণ্টার ভিডিও কলে অংশ নেওয়ার পর রাত সাড়ে ১২টার দিকে ফোনটির চার্জ শেষ হয়।

দুই দিনেই অধিকাংশ সময় Wi-Fi ব্যবহার করা হয়েছিল, যদিও কয়েক ঘণ্টা 5G নেটওয়ার্কেও ফোনটি চালানো হয়।

CNET-এর ৪৫ মিনিটের ব্যাটারি পরীক্ষায় স্ট্রিমিং, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার, ভিডিও কল ও গেম খেলার পর iPhone Duo-তে ৯৯ শতাংশ চার্জ অবশিষ্ট ছিল। একই পরীক্ষায় Samsung Galaxy Z Fold 8-এ ৯৩ শতাংশ এবং Google Pixel 11 Pro Fold-এ ৯৬ শতাংশ চার্জ ছিল।

তবে তিন ঘণ্টার ভিডিও স্ট্রিমিং পরীক্ষায় ফল কিছুটা আলাদা ছিল। ভেতরের ডিসপ্লেতে সর্বোচ্চ উজ্জ্বলতায় Wi-Fi দিয়ে YouTube ভিডিও চালানোর পর iPhone Duo-র চার্জ ১০০ শতাংশ থেকে ৮৪ শতাংশে নেমে আসে। Galaxy Z Fold 8-এ তখন ৮৬ শতাংশ এবং Pixel 11 Pro Fold-এ ৮২ শতাংশ চার্জ অবশিষ্ট ছিল।

চার্জিংয়ের গতি কেমন?

iPhone Duo-তে USB-C কেবল ব্যবহার করে দ্রুত চার্জ দেওয়া যায়। ৬৭ ওয়াটের অ্যাডাপ্টার দিয়ে পরীক্ষায় মাত্র ৩০ মিনিটে ব্যাটারি শূন্য থেকে ৬৫ শতাংশে পৌঁছেছে।

তবে অ্যাপলের দ্রুত তারযুক্ত চার্জিং সুবিধা পেতে কমপক্ষে ৬০ ওয়াটের অ্যাডাপ্টার প্রয়োজন, যা ফোনের সঙ্গে দেওয়া হয় না।

ফোনটি সর্বোচ্চ ২৫ ওয়াটের MagSafe ও Qi2 ওয়্যারলেস চার্জিং সমর্থন করে। Apple MagSafe চার্জার দিয়ে ৩০ মিনিটে চার্জ শূন্য থেকে ৩৯ শতাংশে পৌঁছেছে।

A20 Pro চিপে পারফরম্যান্স কতটা ভালো?

iPhone Duo-তে Apple A20 Pro চিপ ব্যবহার করা হয়েছে। একই প্রসেসর iPhone 18 Pro ও iPhone 18 Pro Max-এও রয়েছে। চিপটির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ভেপার চেম্বারভিত্তিক তাপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা।

অ্যাপলের দাবি, এই ব্যবস্থা iPhone 17 Pro-এর তুলনায় দীর্ঘ সময় ধরে সর্বোচ্চ ৩৫ শতাংশ বেশি পারফরম্যান্স দিতে পারে। ক্যামেরার উন্নত ফিচার, গেম খেলা এবং দুই ডিসপ্লের মধ্যে দ্রুত পরিবর্তনের মতো কাজ সামলাতে এটি সহায়তা করে।

CNET-এর Geekbench 7 পরীক্ষায় CPU পারফরম্যান্সে iPhone Duo, Samsung Galaxy Z Fold 8, Z Fold 8 Ultra এবং Google Pixel 11 Pro Fold-এর চেয়ে এগিয়ে ছিল।

গ্রাফিক্স পারফরম্যান্স যাচাইয়ের 3DMark Wild Life Extreme পরীক্ষাতেও ফোনটি Galaxy Z Fold 8 ও Z Fold 8 Ultra-কে ছাড়িয়ে যায় এবং Pixel 11 Pro Fold-এর তুলনায় উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে এগিয়ে থাকে।

iPhone Duo-এর প্রধান সুবিধা ও অসুবিধা

যেসব কারণে ফোনটি আকর্ষণীয়

iOS 27-এর সঙ্গে দুই ডিসপ্লের মসৃণ সমন্বয়।

ভাঁজ করা অবস্থায় কমপ্যাক্ট নকশা, খুললে বড় পর্দা।

৪৮ মেগাপিক্সেলের ওয়াইড ও আলট্রাওয়াইড ক্যামেরা।

ম্যাট ভেতরের ডিসপ্লে, যা আলোর প্রতিফলন ও ভাঁজের দাগ কম চোখে পড়তে সাহায্য করে।

IP68 মানের পানি ও ধুলা প্রতিরোধী সুরক্ষা।

আন্ডার-ডিসপ্লে FaceTime ক্যামেরা।

ভালো ব্যাটারি স্থায়িত্ব ও দ্রুত চার্জিং।

A20 Pro চিপের শক্তিশালী পারফরম্যান্স।

যেসব সীমাবদ্ধতা বিবেচনায় নিতে হবে

Face ID নেই; আনলক করতে Touch ID বা পাসকোড ব্যবহার করতে হয়।

টেলিফটো ক্যামেরা, ProRAW ও ProRes সুবিধা নেই।

ভেতরের FaceTime ক্যামেরায় ছবির শার্পনেস তুলনামূলক কম।

মাল্টিটাস্কিংয়ে একসঙ্গে সর্বোচ্চ দুটি অ্যাপ চালানো যায়, সেগুলোর আকার পরিবর্তন করা যায় না।

পোর্ট্রেট অবস্থায় পাশাপাশি দুটি অ্যাপ ব্যবহারের সুবিধা সীমিত।

কিছু অ্যাপ এখনো দুই ডিসপ্লের জন্য পুরোপুরি অপ্টিমাইজ করা হয়নি।

বাঁহাতি ব্যবহারকারীদের জন্য ডান পাশে থাকা নিয়ন্ত্রণগুলো অসুবিধাজনক হতে পারে।

প্রারম্ভিক দাম ১ হাজার ৯৯৯ ডলার, যা অনেক ক্রেতার জন্য ব্যয়বহুল।

সব মিলিয়ে iPhone Duo কেনা কি উচিত?

iPhone Duo মূলত তাঁদের জন্য, যাঁরা সাধারণ স্মার্টফোনের পাশাপাশি বড় ডিসপ্লেতে কাজ করার সুবিধাও চান। ফোনটি বন্ধ রেখে দ্রুত বার্তা পাঠানো বা ছবি তোলা যায়। আবার খুলে নথি সম্পাদনা, ভিডিও দেখা এবং একাধিক অ্যাপ ব্যবহারের সুযোগ পাওয়া যায়।

এর ম্যাট ডিসপ্লে, মসৃণ সফটওয়্যার অভিজ্ঞতা, ভালো ব্যাটারি পারফরম্যান্স ও শক্ত কাঠামো ফোনটিকে আকর্ষণীয় করে তুলেছে। বিশেষ করে iOS ব্যবহার চালিয়ে যেতে চান, কিন্তু ফোল্ডেবল ফোনের সুবিধাও নিতে চান—এমন ক্রেতাদের কাছে এটি উল্লেখযোগ্য বিকল্প হতে পারে।

তবে সবার জন্য ফোল্ডেবল ফোন প্রয়োজনীয় নয়। যাঁরা উন্নত জুম, পেশাদার ছবি ও ভিডিও ধারণ কিংবা আরও নমনীয় মাল্টিটাস্কিং চান, তাঁদের কাছে ফোনটির সীমাবদ্ধতাগুলো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

সব মিলিয়ে, প্রথম প্রজন্মের ফোল্ডেবল ফোন হিসেবে iPhone Duo নকশা ও সফটওয়্যারের সমন্বয়ে ভালো করেছে। ভবিষ্যৎ সংস্করণে Face ID, উন্নত ক্যামেরা এবং আরও কার্যকর মাল্টিটাস্কিং যুক্ত হলে এর অভিজ্ঞতা আরও উন্নত হতে পারে।

সাধারণ প্রশ্ন ও উত্তর (FAQ)

১. iPhone Duo-এর দাম কত?

যুক্তরাষ্ট্রে ২৫৬ জিবি স্টোরেজের iPhone Duo-এর প্রারম্ভিক দাম ১ হাজার ৯৯৯ ডলার। ২ টেরাবাইট সংস্করণের দাম ৩ হাজার ১৯৯ ডলার।

২. iPhone Duo-এর ডিসপ্লে কত ইঞ্চি?

ফোনটিতে ৫.৪ ইঞ্চির বাইরের ডিসপ্লে এবং ৭.৬ ইঞ্চির ভেতরের ফোল্ডেবল ডিসপ্লে রয়েছে। দুই ডিসপ্লেতেই ১২০ হার্টজ রিফ্রেশ রেট পাওয়া যায়।

৩. iPhone Duo-তে কোন প্রসেসর রয়েছে?

ফোনটিতে Apple A20 Pro চিপ ব্যবহার করা হয়েছে। CNET-এর Geekbench 7 ও 3DMark Wild Life Extreme পরীক্ষায় এটি উল্লেখিত প্রতিদ্বন্দ্বী ফোল্ডেবল ফোনগুলোর তুলনায় ভালো ফল করেছে।

৪. iPhone Duo-এর ক্যামেরা কত মেগাপিক্সেলের?

পেছনে ৪৮ মেগাপিক্সেলের ওয়াইড ও ৪৮ মেগাপিক্সেলের আলট্রাওয়াইড ক্যামেরা রয়েছে। বাইরের ডিসপ্লেতে ১২ মেগাপিক্সেলের সেলফি ক্যামেরা এবং ভেতরে একটি FaceTime ক্যামেরা রয়েছে, যার রেজল্যুশন প্রকাশ করা হয়নি।

৫. iPhone Duo কি পানি প্রতিরোধী?

হ্যাঁ, ফোনটিতে IP68 রেটিং রয়েছে। নির্দিষ্ট পরীক্ষার শর্তে এটি সর্বোচ্চ ৬ মিটার পানির নিচে ৩০ মিনিট পর্যন্ত থাকার সক্ষমতা রাখে। তবে এই রেটিং সব পরিস্থিতিতে পানির ক্ষতি থেকে সম্পূর্ণ সুরক্ষার নিশ্চয়তা দেয় না।

তানভির ইসলাম/

পাঠকের মতামত:

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ