ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩

iQOO Neo 12 আসছে ২৮ অক্টোবর, থাকছে ৯০০০mAh ব্যাটারি

তথ্য ও প্রযুক্তি ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ অক্টোবর ২২ ১৩:০২:২০
iQOO Neo 12 আসছে ২৮ অক্টোবর, থাকছে ৯০০০mAh ব্যাটারি

গেমিং স্মার্টফোনের বাজারে নতুন চমক নিয়ে আসছে iQOO Neo 12। শক্তিশালী প্রসেসর, উচ্চ রিফ্রেশ রেটের ডিসপ্লে এবং বড় ব্যাটারির সমন্বয়ে ফোনটি ইতোমধ্যে প্রযুক্তিপ্রেমীদের আগ্রহের কেন্দ্রে রয়েছে। চীনা প্রযুক্তি ব্র্যান্ড iQOO জানিয়েছে, আগামী ২৮ অক্টোবর ২০২৬ চীনে ফোনটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হবে। একই দিন থেকে বিক্রিও শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

ফোনটির সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো Snapdragon 8 Elite Gen 5 প্রসেসর, 2K রেজল্যুশনের ১৮৫Hz ডিসপ্লে এবং ৯০০০mAh ব্যাটারি। পাশাপাশি গেম খেলার সময় তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে এতে বিল্ট-ইন কুলিং ফ্যান থাকার বিষয়টিও সামনে এসেছে। ফলে যারা দীর্ঘ সময় গেম খেলেন বা উচ্চ পারফরম্যান্সের স্মার্টফোন খুঁজছেন, তাদের কাছে iQOO Neo 12 গুরুত্বপূর্ণ একটি বিকল্প হয়ে উঠতে পারে।

তবে বাংলাদেশি ক্রেতাদের জন্য এখনো কয়েকটি বিষয় অজানা। ফোনটির বাংলাদেশি দাম, দেশে আনুষ্ঠানিকভাবে বিক্রি হবে কি না এবং ক্যামেরাসহ বাকি সব স্পেসিফিকেশন সম্পর্কে চূড়ান্ত তথ্যের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।

iQOO Neo 12 কবে লঞ্চ হবে?

iQOO Neo 12-এর উদ্বোধনের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ২৮ অক্টোবর ২০২৬। চীনের স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টায় ফোনটি উন্মোচনের কথা রয়েছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পরই বিক্রি শুরু হতে পারে বলে বিভিন্ন প্রযুক্তিবিষয়ক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

ফোনটির ডিজাইন ও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ফিচারও আগেভাগে প্রকাশ করেছে নির্মাতা প্রতিষ্ঠান। এর পেছনে বর্গাকার আকৃতির ক্যামেরা মডিউল এবং ধাতব ফ্রেম দেখা যাবে। Contest, Shadow Black ও Frost Blade Blue—এই তিনটি রঙে ফোনটি বাজারে আসার কথা রয়েছে।

iQOO Neo 12-এর সম্ভাব্য ও নিশ্চিত স্পেসিফিকেশন

১৮৫Hz রিফ্রেশ রেটের 2K ডিসপ্লে

iQOO Neo 12-এর অন্যতম প্রধান আকর্ষণ এর ডিসপ্লে। ফোনটিতে 2K রেজল্যুশনের একটি ফ্ল্যাট OLED প্যানেল থাকছে, যার রিফ্রেশ রেট সর্বোচ্চ ১৮৫Hz। ডিসপ্লেটি Visionox-এর তৈরি এবং এতে প্যানেলের আলো উৎপাদন প্রযুক্তিতে নতুন উপাদান ব্যবহারের কথা জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো।

উচ্চ রিফ্রেশ রেটের কারণে সমর্থিত গেমে অ্যানিমেশন ও চলাচল আরও মসৃণ দেখাতে পারে। তবে ১৮৫Hz রিফ্রেশ রেট সব অ্যাপ বা গেমে পাওয়া যাবে কি না, তা আলাদাভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন। সর্বোচ্চ রিফ্রেশ রেটের সুবিধা পেতে গেম ও সফটওয়্যারের সমর্থনও গুরুত্বপূর্ণ।

প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ডিসপ্লের সর্বোচ্চ উজ্জ্বলতা ২,২০০ নিট পর্যন্ত হতে পারে। নির্মাতা এ স্ক্রিনকে গেমিং ও ভিজ্যুয়াল অভিজ্ঞতার জন্য বিশেষভাবে গুরুত্ব দিচ্ছে।

Snapdragon 8 Elite Gen 5 প্রসেসর

পারফরম্যান্সের জন্য iQOO Neo 12-এ Qualcomm-এর Snapdragon 8 Elite Gen 5 চিপসেট ব্যবহার করা হচ্ছে। এর সঙ্গে থাকবে iQOO-এর নিজস্ব Q3 গেমিং চিপ।

এই সমন্বয় ফোনটিকে ভারী গেম, দ্রুত অ্যাপ চালানো এবং একসঙ্গে একাধিক কাজ করার ক্ষেত্রে শক্তিশালী পারফরম্যান্স দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে তৈরি করা হয়েছে। তবে বাস্তবে ফোনটির গতি, তাপমাত্রা ও ব্যাটারি ব্যবহারের অভিজ্ঞতা নির্ভর করবে সফটওয়্যার অপটিমাইজেশন এবং ব্যবহারের ধরনের ওপর।

৯০০০mAh ব্যাটারি ও ১০০W ফাস্ট চার্জিং

iQOO Neo 12-এর আরেকটি বড় আকর্ষণ ৯০০০mAh ব্যাটারি। সাধারণ ফ্ল্যাগশিপ স্মার্টফোনের তুলনায় এই ধারণক্ষমতা অনেক বেশি। ফলে দীর্ঘ সময় গেম খেলা, ভিডিও দেখা কিংবা অনলাইনে কাজ করার ক্ষেত্রে ফোনটি বাড়তি সুবিধা দিতে পারে।

ফোনটিতে ১০০W তারযুক্ত ফাস্ট চার্জিং সমর্থনের তথ্যও প্রকাশিত হয়েছে। তবে চার্জ হতে ঠিক কত সময় লাগবে, সে বিষয়ে নির্ভরযোগ্য চূড়ান্ত তথ্য প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত নির্দিষ্ট সময় দাবি করা ঠিক হবে না।

আরও পড়ুন:

Huawei Mate X8: ৮.১৫ ইঞ্চি ডিসপ্লে ও বড় ব্যাটারির গুঞ্জন

POCO X8s: 100W চার্জিং ও 6,330mAh ব্যাটারি, দাম কত?

OPPO Reno 17 Pro: লঞ্চ কবে, দাম কত ও কী থাকছে নতুন ফিচারে?

বড় ব্যাটারি থাকলেই সব পরিস্থিতিতে একই রকম ব্যাকআপ পাওয়া যায় না। ডিসপ্লের উজ্জ্বলতা, গেম খেলার সময়, নেটওয়ার্ক এবং অন্যান্য সেটিংস ব্যাটারির স্থায়িত্বে প্রভাব ফেলবে।

গেমিংয়ের জন্য বিল্ট-ইন কুলিং ফ্যান

দীর্ঘ সময় গেম খেলার সময় প্রসেসরের তাপমাত্রা বেড়ে যেতে পারে। এ সমস্যা মোকাবিলায় iQOO Neo 12-এ বিল্ট-ইন কুলিং ফ্যানসহ Ice Dome কুলিং সিস্টেম রাখা হচ্ছে।

এর লক্ষ্য হলো ভারী গেম চালানোর সময় ফোনের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং দীর্ঘক্ষণ পারফরম্যান্স ধরে রাখতে সহায়তা করা। গেমিংকে গুরুত্ব দিয়ে তৈরি স্মার্টফোনের ক্ষেত্রে এ ধরনের সক্রিয় কুলিং ব্যবস্থা বিশেষ আকর্ষণ হতে পারে।

ফোনটিতে ত্রিমাত্রিক আল্ট্রাসনিক ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর থাকার তথ্যও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। তবে সব ফিচারের বিস্তারিত চূড়ান্ত তালিকা ও বাজারভেদে পার্থক্য জানতে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেখা জরুরি।

iQOO Neo 12-এর ক্যামেরা কেমন হবে?

ফোনটির প্রসেসর, ডিসপ্লে, ব্যাটারি ও কুলিং ব্যবস্থা নিয়ে তুলনামূলকভাবে বেশি তথ্য প্রকাশিত হলেও ক্যামেরার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। প্রধান ক্যামেরার মেগাপিক্সেল, আলট্রাওয়াইড ক্যামেরা, সামনের ক্যামেরা এবং ভিডিও রেকর্ডিংয়ের সর্বোচ্চ সক্ষমতা সম্পর্কে চূড়ান্ত তথ্য প্রকাশের পরই ক্যামেরা পারফরম্যান্স মূল্যায়ন করা যাবে।

তাই শুধু ফোনটির গেমিং-কেন্দ্রিক স্পেসিফিকেশন দেখে ক্যামেরার মান সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক হবে না।

iQOO Neo 12-এর দাম কত?

২২ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত iQOO Neo 12-এর আনুষ্ঠানিক মূল্য প্রকাশিত হয়নি। ফলে চীনে ফোনটির দাম কত হবে, তা এখনো নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। একইভাবে বাংলাদেশে ফোনটির সম্ভাব্য দাম নির্ধারণের মতো নির্ভরযোগ্য আনুষ্ঠানিক তথ্যও পাওয়া যায়নি।

চীনের মূল্য প্রকাশের পরও বাংলাদেশের বাজারদর একই হবে না। আমদানি খরচ, কর, বিক্রেতার মুনাফা এবং ফোনটি আনুষ্ঠানিকভাবে নাকি অনানুষ্ঠানিকভাবে বিক্রি হচ্ছে—এসব বিষয়ের ওপর স্থানীয় দাম নির্ভর করতে পারে।

ক্রেতাদের তাই অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া অনিশ্চিত মূল্যতালিকার ওপর নির্ভর না করে নির্মাতার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এবং নির্ভরযোগ্য বিক্রেতার তথ্য যাচাই করা উচিত।

বাংলাদেশে iQOO Neo 12 পাওয়া যাবে কি?

বাংলাদেশে iQOO Neo 12 আনুষ্ঠানিকভাবে বাজারজাত করা হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত ঘোষণা পাওয়া যায়নি। চীনে ফোনটি উন্মোচনের পর আন্তর্জাতিক বাজারে এর প্রবেশ এবং বাংলাদেশে বিক্রির সম্ভাবনা সম্পর্কে আরও পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যেতে পারে।

বিদেশ থেকে আমদানি করা ফোন কেনার ক্ষেত্রে ওয়ারেন্টি, সফটওয়্যার সংস্করণ, নেটওয়ার্ক ব্যান্ড, বিক্রয়োত্তর সেবা এবং স্থানীয়ভাবে যন্ত্রাংশ পাওয়া যাবে কি না—এসব বিষয় যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ।

iQOO Neo 12 কেন আলোচনায়?

ফোনটির প্রতি আগ্রহ তৈরির পেছনে কয়েকটি বিষয় একসঙ্গে কাজ করছে। প্রথমত, Snapdragon 8 Elite Gen 5 প্রসেসর উচ্চ পারফরম্যান্সের প্রত্যাশা তৈরি করেছে। দ্বিতীয়ত, ১৮৫Hz রিফ্রেশ রেটের 2K ডিসপ্লে গেমিং ও ভিজ্যুয়াল অভিজ্ঞতায় বাড়তি সুবিধার ইঙ্গিত দিচ্ছে। তৃতীয়ত, ৯০০০mAh ব্যাটারি ও বিল্ট-ইন কুলিং ফ্যান ফোনটিকে সাধারণ স্মার্টফোনের তুলনায় আলাদা করে তুলছে।

তবে শুধু কাগজে-কলমে স্পেসিফিকেশন দেখে ফোনটিকে সেরা বলা যায় না। দাম, ক্যামেরা, সফটওয়্যার, বাস্তব ব্যাটারি ব্যাকআপ এবং দীর্ঘ সময় ব্যবহারের অভিজ্ঞতা জানার পরই এর সামগ্রিক মূল্যায়ন করা সম্ভব হবে।

সব মিলিয়ে, iQOO Neo 12-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের তারিখ যত এগিয়ে আসছে, ফোনটির প্রতি আগ্রহও বাড়ছে। বিশেষ করে গেমিংয়ের জন্য শক্তিশালী প্রসেসর, দ্রুত ডিসপ্লে ও বড় ব্যাটারি চান—এমন ক্রেতাদের নজরে থাকতে পারে ডিভাইসটি। তবে বাংলাদেশে কেনার পরিকল্পনা থাকলে দাম ও প্রাপ্যতা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করাই ভালো।

পাঠকের সাধারণ প্রশ্নোত্তর (FAQ)

১. iQOO Neo 12 কবে লঞ্চ হবে?

ফোনটি ২৮ অক্টোবর ২০২৬ চীনে উন্মোচনের কথা রয়েছে।

২. iQOO Neo 12-এর ব্যাটারি কত mAh?

প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ফোনটিতে ৯০০০mAh ব্যাটারি থাকছে।

৩. iQOO Neo 12-এ কোন প্রসেসর ব্যবহার করা হয়েছে?

ফোনটিতে Qualcomm Snapdragon 8 Elite Gen 5 প্রসেসরের সঙ্গে Q3 গেমিং চিপ থাকছে।

৪. iQOO Neo 12-এর ডিসপ্লে কত Hz?

ফোনটির 2K OLED ডিসপ্লেতে সর্বোচ্চ ১৮৫Hz রিফ্রেশ রেট থাকার কথা জানানো হয়েছে।

৫. বাংলাদেশে iQOO Neo 12-এর দাম কত?

২২ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত ফোনটির আনুষ্ঠানিক বাংলাদেশি দাম প্রকাশিত হয়নি। দাম ও বাজারে প্রাপ্যতা জানতে আনুষ্ঠানিক ঘোষণার জন্য অপেক্ষা করতে হবে।

তানভির ইসলাম/

পাঠকের মতামত: