ডিসেম্বরে বিএনপির সামনে বড় পরীক্ষা, একসঙ্গে বহু চাপ
দলীয় নেতৃত্ব নির্বাচন, নতুন রাজনৈতিক শক্তির উত্থান, বিচার বিভাগের পুনর্গঠন, সামরিক ও বেসামরিক প্রশাসনে সম্ভাব্য পরিবর্তন, আন্তর্জাতিক সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা—সব মিলিয়ে ডিসেম্বর মাস বিএনপি সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণা। ফলে বছরের শেষ দিকে একাধিক রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ইস্যুতে সরকারকে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের মুখোমুখি হতে হতে পারে।
‘দ্য প্রেস’-এর একটি ভিডিও বিশ্লেষণে বাংলাদেশের রাজনীতির এই সম্ভাব্য পরিস্থিতি তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, বিএনপিকে একদিকে নিজের দলের নেতৃত্ব নির্বাচন নিয়ে তৈরি হওয়া প্রতিযোগিতা সামলাতে হবে, অন্যদিকে বিভিন্ন রাজনৈতিক শক্তির তৎপরতা, বিচার বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগ, প্রতিবেশী ও প্রভাবশালী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক এবং অর্থনৈতিক চাপও মোকাবিলা করতে হতে পারে।
বিশ্লেষণটিতে ডিসেম্বরের ঘটনাপ্রবাহকে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে ভাগ করে দেখা হয়েছে। তবে এসব বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত আসবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। বিশেষ করে রাজনৈতিক নেতৃত্ব, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণাকে ঘিরে পরিস্থিতি কোন দিকে এগোবে, সেটিই হয়ে উঠতে পারে আগামী দিনের আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
বিএনপির কাউন্সিলে মহাসচিব পদ নিয়ে নজর
ডিসেম্বরের সম্ভাব্য রাজনৈতিক ঘটনাগুলোর মধ্যে প্রথমেই রয়েছে বিএনপির সপ্তম কাউন্সিল। ভিডিও বিশ্লেষণ অনুযায়ী, নয় বছর পর এই কাউন্সিল আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। সেখানে কাউন্সিলরদের ভোটে মহাসচিব নির্বাচনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যা দলটির জন্য নতুন অভিজ্ঞতা হতে পারে।
মহাসচিব পদে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সম্ভাবনার কথা তুলে ধরা হয়েছে। তবে কাউন্সিলের চূড়ান্ত তারিখ এখনো নির্ধারিত হয়নি।
ভিডিওতে বলা হয়েছে, ওয়ার্ড পর্যায় থেকে শুরু করে উন্মুক্ত নির্বাচনপ্রক্রিয়ার মাধ্যমে নতুন নেতৃত্ব বেছে নেওয়ার পরিকল্পনা করছে বিএনপির হাইকমান্ড। ক্ষমতায় থাকার সময় দলটির প্রথম কাউন্সিল হওয়ায় নেতৃত্ব নির্বাচন নিয়ে অভ্যন্তরীণ সমীকরণ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
হেফাজতের উদ্যোগে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের সম্ভাবনা
বিএনপির সামনে আরেকটি বিষয় হতে পারে ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর মধ্যে নতুন ঐক্যের চেষ্টা। ভিডিওতে বলা হয়েছে, হেফাজতে ইসলামের নেতৃত্বে সাতটি কওমি দলকে এক ছাতার নিচে আনার উদ্যোগ চলছে।
এ লক্ষ্যে ২৭ সেপ্টেম্বর বাবুনগর মাদ্রাসায় একটি বৈঠক হয়। সেখানে ২৪ সদস্যের লিয়াজোঁ কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় ২২ অক্টোবর।
বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, হেফাজত তাদের দাবির ক্ষেত্রেও কিছু পরিবর্তন এনেছে। নারীদের চলাফেরা বন্ধ করা কিংবা নারী নীতি বাতিলের মতো দাবির পরিবর্তে শাপলা চত্বরের বিচার এবং রাষ্ট্রীয় পুনর্গঠনে আলেমদের অংশীদারত্বের বিষয়গুলো সামনে এসেছে।
ভিডিওটির মূল্যায়ন অনুযায়ী, এই উদ্যোগের মাধ্যমে হেফাজত বৃহত্তর রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে নিজেদের অবস্থান তৈরির চেষ্টা করছে। এমন পরিস্থিতিতে জামায়াত, এনসিপি ও অন্যান্য রাজনৈতিক শক্তির তৎপরতাও বিএনপির রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশে প্রভাব ফেলতে পারে।
বিচার বিভাগে নিয়োগ ও মামলার কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে
ডিসেম্বরের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র বিচার বিভাগ। ভিডিও বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, আপিল বিভাগে নিয়োগ এবং বেঞ্চ পুনর্গঠনের বিষয়টি সামনে আসতে পারে। এর প্রভাব শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের নেতাদের আপিল মামলার শুনানির বেঞ্চ নির্ধারণের ক্ষেত্রেও পড়তে পারে বলে সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভিডিওতে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২৭ আগস্ট রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিচারপতি মোহাম্মদ হাবিবুল গনিকে আপিল বিভাগে নিয়োগ দেন। এর আগে বিচারপতি মোহাম্মদ আশফাকুল ইসলাম ও বিচারপতি একেএম আসাদুজ্জামান অবসরে যাওয়ায় আপিল বিভাগের দুটি পদ শূন্য হয়েছিল। ফলে আরও নিয়োগের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে।
এদিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রমও ডিসেম্বরজুড়ে গুরুত্বপূর্ণ থাকতে পারে। ভিডিওতে বলা হয়েছে, বিচারপতি গোলাম মর্তজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনাল-১ ২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড দেন। অন্যদিকে বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনাল-২ একই বছরের সেপ্টেম্বরে আরও সাতজন আওয়ামী লীগ নেতাকে তাঁদের অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড দেন।
ভিডিও বিশ্লেষণে দুই ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম ডিসেম্বরেও চলার কথা বলা হয়েছে। ফলে বিচার বিভাগে নিয়োগ ও চলমান মামলাগুলোর অগ্রগতি রাজনৈতিক আলোচনায় গুরুত্ব পেতে পারে।
সেনাবাহিনীতে পদোন্নতি ও অবসর নিয়ে আগ্রহ
সামরিক প্রশাসনের সম্ভাব্য পরিবর্তন নিয়েও ডিসেম্বর মাসে আগ্রহ থাকতে পারে বলে ভিডিওতে উল্লেখ করা হয়েছে। সেনাবাহিনীতে প্রতি বছর ডিসেম্বর মাসে বার্ষিক পদোন্নতি বোর্ডের সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়। এ সময় কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা স্বাভাবিক অবসরে যান এবং নতুন কর্মকর্তারা পদোন্নতি পান।
এবার কোন কোন মেজর জেনারেল বা জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) অবসরে যেতে পারেন, তা নিয়ে আগ্রহের কথা বলা হয়েছে। তবে ভিডিওতে নির্দিষ্ট করে কারা অবসরে যাবেন, সে বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত তথ্য দেওয়া হয়নি।
ভিডিওর তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর সামরিক নেতৃত্বে বড় ধরনের রদবদল হয়। সে সময় লেফটেন্যান্ট জেনারেল মিজানুর রহমান শামীম অবসরপূর্ব ছুটিতে যান এবং লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাইনুর রহমান নতুন চিফ অব জেনারেল স্টাফ হন। সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের মেয়াদ ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত বলে ভিডিওতে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভারত সফর ও পানি বণ্টন চুক্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা
কূটনীতির ক্ষেত্রে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক ডিসেম্বরের আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। ভিডিওতে বলা হয়েছে, ১৭ সেপ্টেম্বর ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল সংক্ষিপ্ত সফরে ঢাকায় আসেন। এর কয়েক দিন পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নভেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহে ভারত সফরের সম্ভাবনা নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়। টাইমস অব ইন্ডিয়া, দ্য হিন্দু ও টাইমস নাউয়ের প্রতিবেদনের কথাও ভিডিওতে উল্লেখ করা হয়েছে।
সম্ভাব্য সফরটি নভেম্বরের শেষ দিকে অথবা ডিসেম্বরের শুরুতে হলে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আলোচনায় আসতে পারে বলে বিশ্লেষণে বলা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে তিস্তার পানি বণ্টন, গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি নবায়ন, ট্রানজিট, সীমান্ত ও সড়ক যোগাযোগ এবং দুই দেশের বাণিজ্য স্বাভাবিক করা।
শেখ হাসিনার বিষয়টিও দুই দেশের আলোচনায় প্রভাব ফেলতে পারে বলে ভিডিওতে দাবি করা হয়েছে। দ্য হিন্দুর প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে সেখানে বলা হয়, উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি না হলে তারেক রহমানের ভারত সফর নাও হতে পারে। একই কৌশলগত পরিস্থিতির কারণে বাংলাদেশ বিমসটেকের দায়িত্বে থাকা সত্ত্বেও সাম্প্রতিক ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নেয়নি বলেও ভিডিওতে উল্লেখ করা হয়েছে।
গঙ্গা ও তিস্তার পানি বণ্টন কেন গুরুত্বপূর্ণ
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ চলতি বছরের ১২ ডিসেম্বর শেষ হওয়ার কথা বলে ভিডিওতে উল্লেখ করা হয়েছে। ১৯৯৬ সালের ১২ ডিসেম্বর স্বাক্ষরিত এই চুক্তির মেয়াদ ৩০ বছর।
ভিডিও অনুযায়ী, নতুন চুক্তিতে গ্যারান্টি ক্লজ বা পানিপ্রাপ্তির নিশ্চয়তাসংক্রান্ত শর্ত রাখতে চায় বাংলাদেশ। পানি সম্পদমন্ত্রীও কয়েক দিন আগে এ অবস্থানের কথা বলেছেন বলে সেখানে উল্লেখ করা হয়।
তবে কিছু নদী গবেষকের মত হিসেবে ভিডিওতে বলা হয়েছে, সময় কম থাকায় পুরোনো চুক্তি নবায়ন করাই ভালো হতে পারে। অন্যদিকে, বিএনপির ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতির কারণে জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে ছাড় না দেওয়ার অবস্থান চুক্তি নিয়ে সমঝোতাকে জটিল করতে পারে বলে বিশ্লেষণে ধারণা দেওয়া হয়েছে।
তিস্তার পানি বণ্টনও বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে ভিডিওতে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, তিস্তাকে ঘিরে বাংলাদেশ বড় পরিকল্পনা করছে। কিন্তু প্রয়োজনীয় পানি না এলে এসব প্রকল্পের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য চুক্তি ও আইএমএফের ঋণ
আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও অনিশ্চয়তার কথা তুলে ধরা হয়েছে। ভিডিও বিশ্লেষণে দাবি করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য চুক্তির আইনি ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট সম্পূরক শুল্ক আরোপের আইনি ভিত্তিকে অবৈধ বলে রায় দিয়েছে বলে সেখানে উল্লেখ করা হয়। এর ফলে ওই ভিত্তিতে করা চুক্তির ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হতে পারে বলে বিশ্লেষণে বলা হয়েছে।
এদিকে, অক্টোবরের শেষ দিকে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে আসার কথা রয়েছে বলে ভিডিওতে উল্লেখ করা হয়েছে। সরকার সংস্থাটির কাছ থেকে চার থেকে পাঁচ বিলিয়ন ডলার ঋণ চায়। প্রতিনিধি দল দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করবে বলে জানানো হয়েছে।
ভিডিওতে বলা হয়েছে, ডিসেম্বর বা জানুয়ারি নাগাদ আইএমএফের কাছ থেকে কিছু ঋণ পাওয়ার আশা করছে বাংলাদেশ। তবে ঋণ ছাড়ের বিষয়টি নিশ্চিত নয়; তা অর্থনৈতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা ও সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।
মূল্যস্ফীতির চাপও বাড়াতে পারে অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ
বছরের শেষ দিকে মূল্যস্ফীতিও সরকারের জন্য বড় অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে বলে ভিডিওতে বিশ্লেষণ করা হয়েছে। সরকারি কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধি ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধিসহ বিভিন্ন কারণে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে বলে সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ডিসেম্বরে মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ৪ শতাংশ থাকতে পারে বলে ভিডিওতে বলা হয়েছে। তবে কিছু অর্থনীতিবিদ মনে করেন, মূল্যস্ফীতি এই মাত্রার চেয়েও বেশি হতে পারে।
এ কারণে আন্তর্জাতিক ঋণ নিয়ে আলোচনা, বাণিজ্য চুক্তির অনিশ্চয়তা এবং দেশের অভ্যন্তরীণ মূল্যস্ফীতির চাপ—সব মিলিয়ে বছরের শেষ সময়ে অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা সরকারের জন্য কঠিন হতে পারে বলে বিশ্লেষণে ধারণা দেওয়া হয়েছে।
শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণা ঘিরে নজর
ডিসেম্বরের রাজনৈতিক আলোচনায় শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। ভিডিওতে বলা হয়েছে, ২২ সেপ্টেম্বর এনডিটিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি ডিসেম্বরের মধ্যে দেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণ করার কথা জানান। তবে ফেরার নির্দিষ্ট তারিখ প্রকাশ করেননি; দ্রুত রোডম্যাপ জানানোর কথা বলেছেন।
একই সময়ে আওয়ামী লীগ সাংগঠনিকভাবে নিজেদের গোছানোর চেষ্টা করছে বলে ভিডিওতে দাবি করা হয়েছে। দলটির কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় নতুন কমিটি ঘোষণা করা হচ্ছে বলে সেখানে উল্লেখ রয়েছে।
ভিডিও বিশ্লেষণে আরও বলা হয়েছে, শেখ হাসিনা বিভিন্ন দেশের সেমিনারে ভার্চুয়ালি বক্তব্য দিয়ে আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করছেন। তাঁর দেশে ফেরার ঘোষণা বাস্তবে কীভাবে এগোবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট সময়সূচি ভিডিওতে দেওয়া হয়নি।
ডিসেম্বর পেরিয়ে জানুয়ারিতেও গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা
ভিডিওটির সামগ্রিক মূল্যায়নে বলা হয়েছে, বিএনপি সরকারের সামনে একই সময়ে একাধিক রাজনৈতিক, প্রশাসনিক, কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিষয় এসে দাঁড়াতে পারে। দলীয় নেতৃত্ব নির্বাচন, নতুন রাজনৈতিক শক্তির তৎপরতা, বিচার বিভাগের পুনর্গঠন, সামরিক ও বেসামরিক প্রশাসনের সম্ভাব্য পরিবর্তন এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের পাশাপাশি শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণাও জাতীয় আলোচনার গতিপথে প্রভাব ফেলতে পারে।
ভিডিওতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকারের দশম মাসকে কঠিন সময় হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। ডিসেম্বরের পর জানুয়ারিতেও দুটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ঘটনা সামনে থাকতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়—স্থানীয় সরকার নির্বাচন এবং সংসদের উচ্চকক্ষ নির্বাচন। উচ্চকক্ষের নির্বাচন সাধারণ মানুষের সরাসরি ভোটে হবে না বলেও ভিডিওতে বলা হয়েছে।
সব মিলিয়ে, ডিসেম্বর বিএনপি সরকারের জন্য কতটা কঠিন হবে, তা নির্ভর করবে এসব ইস্যুতে নেওয়া সিদ্ধান্ত ও পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহের ওপর। দলীয় নেতৃত্বের প্রশ্ন থেকে শুরু করে অর্থনীতি ও কূটনীতি—কোন ক্ষেত্রটি সবচেয়ে বেশি চাপ তৈরি করবে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। তবে ভিডিও বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বছরের শেষ মাসে একাধিক অসমাপ্ত রাজনৈতিক ও নীতিগত প্রশ্নের সমাধান খোঁজার প্রয়োজন হতে পারে।
প্রাসঙ্গিক FAQ
১. ডিসেম্বরে বিএনপি সরকারের সামনে প্রধান চ্যালেঞ্জ কী কী?
ভিডিও বিশ্লেষণে দলীয় কাউন্সিল ও নেতৃত্ব নির্বাচন, নতুন রাজনৈতিক শক্তির তৎপরতা, বিচার বিভাগের পুনর্গঠন, সামরিক ও বেসামরিক প্রশাসনের সম্ভাব্য রদবদল, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, অর্থনীতি এবং শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণাকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
২. বিএনপির সপ্তম কাউন্সিল নিয়ে কী তথ্য দেওয়া হয়েছে?
ভিডিওতে বলা হয়েছে, নয় বছর পর ডিসেম্বরে বিএনপির সপ্তম কাউন্সিল আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। সেখানে কাউন্সিলরদের ভোটে মহাসচিব নির্বাচনের উদ্যোগ নেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে কাউন্সিলের চূড়ান্ত তারিখ নির্ধারিত হয়নি।
৩. ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ক্ষেত্রে কোন বিষয়গুলো আলোচনায় আসতে পারে?
ভিডিও বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তিস্তা ও গঙ্গার পানি বণ্টন, ট্রানজিট, সীমান্ত ও সড়ক যোগাযোগ, বাণিজ্য এবং শেখ হাসিনার বিষয়টি সম্ভাব্য আলোচ্য বিষয় হতে পারে।
৪. বাংলাদেশ আইএমএফের কাছ থেকে কত ঋণ চাইছে?
ভিডিওতে বলা হয়েছে, সরকার আইএমএফের কাছ থেকে চার থেকে পাঁচ বিলিয়ন ডলার ঋণ চায়। ডিসেম্বর বা জানুয়ারি নাগাদ কিছু ঋণ পাওয়ার আশা রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ঋণ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত নয়।
৫. শেখ হাসিনা দেশে ফেরার বিষয়ে কী বলেছেন বলে ভিডিওতে উল্লেখ করা হয়েছে?
ভিডিওর তথ্য অনুযায়ী, ২২ সেপ্টেম্বর এনডিটিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা ডিসেম্বরের মধ্যে দেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণ করার কথা বলেছেন। তবে ফেরার নির্দিষ্ট তারিখ জানাননি; দ্রুত রোডম্যাপ প্রকাশের কথা বলেছেন।
তানভির ইসলাম/
পাঠকের মতামত:
আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ
- দলিল রেজিস্ট্রি হয়েছে কি না যাচাই করবেন যেভাবে
- জমি রেজিস্ট্রির সময় কী কী দেখে স্বাক্ষর করবেন? জেনে নিন
- ওয়ারিশের জমি নামজারি ও আলাদা খতিয়ান করার নিয়ম
- আজকের টাকার রেট কত:বেড়েছে২টি দেশের টাকার বিনিময় হার
- OnePlus Turbo 7 Pro-তে ১৮৫Hz ডিসপ্লে, ১০,০০০mAh ব্যাটারি?
- জমির রেকর্ডে ভুল? সংশোধনের আবেদন করবেন যেখানে
- জমির দাগ, খতিয়ান ও নকশা যাচাইয়ের সহজ নিয়ম
- টেক্সটাইল খাতে সংকট, বন্ধ ১৪ কোম্পানির কারখানা,বিপাকে বিনিয়োগকারীরা
- আজকের টাকার রেট কত: কমেছে ৯টি দেশের টাকার মান
- ওয়ানডে দলে ফিরবেন মুশফিক-রিয়াদ? ব্যাটিং কোচ হচ্ছেন ডি ভিলিয়ার্স?
- আজকের মালয়েশিয়ান রিংগিত রেট কত (২৩ অক্টোবর ২০২৬)