ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩

Apple MacBook Pro-এর দাম কত? নতুন মডেল ও ফিচার জানুন

তথ্য ও প্রযুক্তি ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ অক্টোবর ২৯ ১৭:১৯:৩০
Apple MacBook Pro-এর দাম কত? নতুন মডেল ও ফিচার জানুন

Apple MacBook Pro-এর নতুন প্রজন্মে এসেছে বড় পরিবর্তন। ২০২৬ সালের ২৭ ও ২৮ অক্টোবর নতুন ১৪ ইঞ্চির MacBook Pro-তে M6 চিপ এবং M5 Pro ও M5 Max-চালিত নতুন পেশাদার মডেল ঘোষণা করেছে Apple। নতুন Pro মডেলে রয়েছে PROLED XDR ডিসপ্লে, টাচ নিয়ন্ত্রণ এবং উন্নত গ্রাফিকস ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক কাজের সুবিধা। নতুন মডেলগুলোর প্রি-অর্ডার শুরু হলেও সরবরাহের নির্ধারিত তারিখ ৬ নভেম্বর।

বাংলাদেশে MacBook Pro কিনতে আগ্রহীদের জন্য তাই এখন দুটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ—নতুন মডেলের জন্য অপেক্ষা করবেন, নাকি বর্তমানে বাজারে থাকা M5-চালিত সংস্করণ কিনবেন? স্থানীয় বিক্রেতাদের তালিকায় M5 MacBook Pro-এর দাম প্রায় ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা থেকে শুরু হলেও কনফিগারেশন, স্টোরেজ, মেমোরি ও বিক্রেতাভেদে দাম অনেকটা বাড়তে পারে। নতুন M6 মডেলের বাংলাদেশি মূল্যও কনফিগারেশন অনুযায়ী নিশ্চিত করে নিতে হবে।

Apple MacBook Pro-এর নতুন মডেলে কী পরিবর্তন এসেছে?

Apple-এর ২৭ অক্টোবরের ঘোষণায় নতুন ১৪ ইঞ্চির MacBook Pro-তে M6 চিপের কথা জানানো হয়। পরদিন ২৮ অক্টোবর কোম্পানি M5 Pro ও M5 Max-চালিত নতুন MacBook Pro মডেলও উন্মোচন করে। ফলে পেশাদার কাজের জন্য উচ্চক্ষমতার ল্যাপটপ খুঁজছেন এমন ব্যবহারকারীদের সামনে নতুন বিকল্প এসেছে।

নতুন ১৪ ইঞ্চির M6 মডেলে রয়েছে ১২-কোর CPU ও ১২-কোর GPU। Apple-এর দাবি, আগের M5 মডেলের তুলনায় এতে গ্রাফিকসের পারফরম্যান্স সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ এবং অন-ডিভাইস AI কাজের গতি সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ বাড়তে পারে। এই উন্নতি ভিডিও সম্পাদনা, কোড কম্পাইল, ছবি নিয়ে কাজ এবং AI-ভিত্তিক কিছু কাজের ক্ষেত্রে সুবিধা দিতে পারে।

অন্যদিকে নতুন M5 Pro ও M5 Max মডেলগুলো আরও ভারী পেশাদার কাজের জন্য তৈরি। বিশেষ করে জটিল 3D গ্রাফিকস, উচ্চ রেজল্যুশনের ভিডিও সম্পাদনা এবং বড় AI মডেল নিয়ে কাজ করা ব্যবহারকারীদের জন্য এগুলো বেশি উপযোগী হতে পারে।

MacBook Pro-এর দাম কত?

বাংলাদেশে Apple MacBook Pro-এর একক কোনো দাম নেই। স্ক্রিনের আকার, চিপ, Unified Memory, SSD স্টোরেজ এবং ডিসপ্লে অপশনের ভিত্তিতে দাম পরিবর্তিত হয়।

স্থানীয় বিক্রেতাদের অনলাইন তালিকায় পাওয়া কয়েকটি দামের উদাহরণ নিচে দেওয়া হলো।

MacBook Pro M5 14-inch, 16GB RAM ও 512GB SSD: প্রায় ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা থেকে।

MacBook Pro M5 14-inch, 16GB RAM ও 1TB SSD: প্রায় ২ লাখ ৬০ হাজার টাকা থেকে।

MacBook Pro M5 Pro 14-inch, 24GB RAM ও 1TB SSD: প্রায় ৩ লাখ ১০ হাজার থেকে ৩ লাখ ৫৫ হাজার টাকা।

MacBook Pro M5 Pro 16-inch, 24GB RAM ও 1TB SSD: প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা বা তার বেশি।

এগুলো বিভিন্ন বাংলাদেশি বিক্রেতার প্রকাশিত তালিকামূল্যের উদাহরণ, কোনো নির্দিষ্ট জাতীয় খুচরা মূল্য নয়। স্টক, বিক্রেতা, ওয়ারেন্টি এবং চলমান অফারের কারণে দাম পরিবর্তিত হতে পারে।

নতুন M6 MacBook Pro-এর বাংলাদেশি দামও বিক্রেতার কাছে নিশ্চিত করে নেওয়া প্রয়োজন। নতুন M5 Pro ও M5 Max মডেলের ক্ষেত্রেও একইভাবে নির্দিষ্ট কনফিগারেশন অনুযায়ী মূল্য যাচাই করা উচিত।

নতুন MacBook Pro M6-এর প্রধান ফিচার

১৪ ইঞ্চির নতুন MacBook Pro M6-এ Apple বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার সুবিধা যুক্ত করেছে।

M6 চিপ: এতে ১২-কোর CPU, ১২-কোর GPU এবং ডুয়াল ১৬-কোর Neural Engine রয়েছে। প্রসেসিং, গ্রাফিকস ও AI-ভিত্তিক কাজের জন্য এই সমন্বয় তৈরি করা হয়েছে।

Liquid Retina XDR ডিসপ্লে: ১৪ ইঞ্চির মডেলে রয়েছে উচ্চ উজ্জ্বলতা ও কনট্রাস্টসমৃদ্ধ ডিসপ্লে। HDR কনটেন্টে সর্বোচ্চ ১,৬০০ নিট উজ্জ্বলতা এবং ১০,০০,০০০:১ কনট্রাস্ট রেশিওর কথা জানিয়েছে Apple। নির্দিষ্ট কনফিগারেশনে ন্যানো-টেক্সচার ডিসপ্লের বিকল্পও রয়েছে।

ব্যাটারি: Apple-এর ঘোষিত হিসাব অনুযায়ী, নতুন M6 মডেলে ভিডিও স্ট্রিমিংয়ে সর্বোচ্চ ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত ব্যাটারি ব্যাকআপ পাওয়া যেতে পারে। এটি পরীক্ষাগারভিত্তিক সর্বোচ্চ হিসাব; বাস্তবে সফটওয়্যার, স্ক্রিনের উজ্জ্বলতা ও কাজের ধরন অনুযায়ী ব্যাটারির স্থায়িত্ব কমবেশি হবে।

ক্যামেরা ও অডিও: এতে রয়েছে ১২ মেগাপিক্সেলের Center Stage ক্যামেরা এবং ছয়টি স্পিকারের সাউন্ড সিস্টেম। ভিডিও কল, অনলাইন মিটিং এবং কনটেন্ট তৈরিতে এগুলো কাজে লাগতে পারে।

সংযোগব্যবস্থা: M6 মডেলে Wi-Fi 7 ও Bluetooth 6 রয়েছে। পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী একাধিক পোর্ট ব্যবহার করে বাইরের ডিসপ্লে ও অন্যান্য ডিভাইস সংযুক্ত করা যায়।

নতুন MacBook Pro-তে PROLED XDR ডিসপ্লে ও টাচ সুবিধা

Apple-এর ২৮ অক্টোবরের ঘোষণায় নতুন M5 Pro ও M5 Max MacBook Pro-তে PROLED XDR ডিসপ্লের কথা বলা হয়েছে। এই ডিসপ্লেতে ট্যান্ডেম OLED প্রযুক্তি ব্যবহারের দাবি করেছে কোম্পানিটি।

ঘোষণা অনুযায়ী, নতুন ডিসপ্লেতে সর্বোচ্চ ২,০০০ নিট উজ্জ্বলতা, ১০,০০,০০০০:১ কনট্রাস্ট রেশিও এবং সর্বোচ্চ ১২০ হার্টজ পরিবর্তনশীল রিফ্রেশ রেট রয়েছে। এ ছাড়া MacBook Pro-তে প্রথমবারের মতো টাচ নিয়ন্ত্রণ যুক্ত করা হয়েছে বলে Apple জানিয়েছে।

টাচ সুবিধাটি গ্রাফিকস, 3D মডেলিং ও সৃজনশীল কাজের কিছু ক্ষেত্রে নতুনভাবে কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণের সুযোগ তৈরি করতে পারে। তবে কেনার আগে নির্দিষ্ট মডেলে কোন ডিসপ্লে ও টাচ ফিচার রয়েছে, তা যাচাই করা জরুরি।

১৪ ইঞ্চি নাকি ১৬ ইঞ্চি MacBook Pro—কোনটি ভালো?

MacBook Pro কেনার সময় স্ক্রিনের আকার শুধু দেখার সুবিধা নয়, বহনযোগ্যতা ও কাজের ধরনেও প্রভাব ফেলে।

১৪ ইঞ্চির মডেল তুলনামূলক ছোট ও বহন করা সহজ। নিয়মিত অফিসে যাওয়া, বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যবহার, ভ্রমণ বা বাইরে বসে কাজ করার জন্য এটি সুবিধাজনক হতে পারে।

১৬ ইঞ্চির মডেলে বড় স্ক্রিন পাওয়া যায়। দীর্ঘ সময় ভিডিও এডিটিং, টাইমলাইনভিত্তিক কাজ, একসঙ্গে একাধিক উইন্ডো খোলা রাখা কিংবা বড় প্রকল্প নিয়ে কাজ করার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত জায়গা কাজে আসতে পারে। তবে বড় মডেল সাধারণত বেশি ভারী এবং বহন করাও তুলনামূলক কঠিন।

কোনটি ভালো হবে, তা নির্ভর করবে আপনি কোথায় বেশি কাজ করেন এবং বড় স্ক্রিনের জন্য বাড়তি অর্থ ব্যয় করা আপনার কাছে কতটা যৌক্তিক।

M6, M5 Pro নাকি M5 Max—কোন চিপ বেছে নেবেন?

M6: সাধারণ পেশাগত কাজ, প্রোগ্রামিং, ছবি সম্পাদনা, পড়াশোনা এবং মাঝারি মাত্রার সৃজনশীল কাজের জন্য নতুন ১৪ ইঞ্চির M6 মডেল বিবেচনা করা যেতে পারে।

M5 Pro: একাধিক পেশাদার অ্যাপ চালানো, দীর্ঘ ভিডিও সম্পাদনা, কোড কম্পাইল এবং তুলনামূলক জটিল কাজের জন্য M5 Pro উপযোগী হতে পারে।

M5 Max: উচ্চমাত্রার 3D রেন্ডারিং, জটিল ভিজ্যুয়াল ইফেক্টস, একাধিক 8K ভিডিও স্ট্রিম এবং বড় AI ওয়ার্কলোডের জন্য M5 Max বেশি ক্ষমতা দিতে পারে।

তবে শুধু চিপের নাম দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়। মেমোরি ও স্টোরেজও কাজের গতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। একবার কেনার পর Unified Memory সাধারণত বাড়ানো যায় না, তাই ভবিষ্যতে কী ধরনের কাজ করবেন তা ভেবে কনফিগারেশন বেছে নেওয়া ভালো।

MacBook Pro কি সবার জন্য প্রয়োজন?

MacBook Pro শক্তিশালী হলেও সবার জন্য সবচেয়ে ভালো বা সাশ্রয়ী বিকল্প নয়। ওয়েব ব্রাউজিং, অনলাইন ক্লাস, সাধারণ অফিসের কাজ, ই-মেইল ও ডকুমেন্ট সম্পাদনার মতো কাজে MacBook Air-ও যথেষ্ট হতে পারে।

অন্যদিকে নিয়মিত ভিডিও সম্পাদনা, পেশাদার সফটওয়্যার, উন্নত গ্রাফিকস বা ভারী মাল্টিটাস্কিংয়ের প্রয়োজন হলে MacBook Pro-এর বাড়তি ক্ষমতা কাজে লাগতে পারে। তাই শুধু ব্র্যান্ড বা নতুন চিপের আকর্ষণে নয়, নিজের কাজের চাহিদা অনুযায়ী ল্যাপটপ বেছে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।

বাংলাদেশে MacBook Pro কেনার আগে যা যাচাই করবেন

বাংলাদেশের বাজারে কেনার আগে কয়েকটি বিষয় নিশ্চিত করা জরুরি।

প্রথমত, মডেলটি M5, M5 Pro, M5 Max নাকি নতুন M6—তা মিলিয়ে নিন। দ্বিতীয়ত, RAM বা Unified Memory এবং SSD স্টোরেজ কত, তা যাচাই করুন। তৃতীয়ত, ওয়ারেন্টি আন্তর্জাতিক নাকি বিক্রেতার নিজস্ব, সেটি স্পষ্টভাবে জেনে নিন।

এ ছাড়া নতুন ঘোষিত মডেলের ক্ষেত্রে প্রি-অর্ডার ও সরবরাহের তারিখ নিশ্চিত করুন। বিক্রেতার কাছে পণ্য হাতে আছে কি না এবং দাম চূড়ান্ত কি না, তা যাচাই না করে অগ্রিম অর্থ দেওয়া উচিত নয়।

Apple MacBook Pro-এর নতুন প্রজন্মে M6 চিপ, উন্নত AI ক্ষমতা এবং M5 Pro ও M5 Max-চালিত পেশাদার মডেলের মাধ্যমে একাধিক বিকল্প এসেছে। যারা ভারী কাজ করেন, তাদের জন্য নতুন Pro মডেলগুলো গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তবে বাংলাদেশের ক্রেতাদের ক্ষেত্রে দাম, ওয়ারেন্টি ও সরবরাহের বিষয়টিও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

যদি এখনই ল্যাপটপ প্রয়োজন হয়, বাজারে থাকা M5 মডেলের দাম ও কনফিগারেশন যাচাই করে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। আর নতুন M6 বা উন্নত ডিসপ্লের Pro মডেল চাইলে বাংলাদেশে সরবরাহ ও চূড়ান্ত মূল্য নিশ্চিত হওয়ার পর কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া ভালো।

প্রাসঙ্গিক প্রশ্নোত্তর (FAQ)

১. Apple MacBook Pro-এর দাম বাংলাদেশে কত?

বাংলাদেশি বিক্রেতাদের তালিকায় M5-চালিত MacBook Pro-এর দাম প্রায় ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা থেকে শুরু হতে দেখা যাচ্ছে। চিপ, মেমোরি, স্টোরেজ ও স্ক্রিনের আকার অনুযায়ী দাম বাড়ে। কেনার আগে বর্তমান মূল্য যাচাই করা উচিত।

২. নতুন MacBook Pro M6 কবে পাওয়া যাবে?

Apple-এর ঘোষণায় M6-চালিত ১৪ ইঞ্চির MacBook Pro-এর সরবরাহ ৬ নভেম্বর ২০২৬ থেকে শুরু হওয়ার কথা বলা হয়েছে। বাংলাদেশে কবে পাওয়া যাবে, তা স্থানীয় বিক্রেতার কাছে নিশ্চিত করতে হবে।

৩. MacBook Pro M6-এর প্রধান ফিচার কী?

এতে ১২-কোর CPU, ১২-কোর GPU, ডুয়াল ১৬-কোর Neural Engine, Liquid Retina XDR ডিসপ্লে, Wi-Fi 7, Bluetooth 6 এবং ঘোষিত সর্বোচ্চ ২৪ ঘণ্টার ভিডিও স্ট্রিমিং ব্যাটারি লাইফ রয়েছে।

৪. MacBook Pro-এর ১৪ ইঞ্চি ও ১৬ ইঞ্চি মডেলের মধ্যে কোনটি ভালো?

বহনযোগ্যতা ও বাইরে কাজের জন্য ১৪ ইঞ্চি মডেল সুবিধাজনক হতে পারে। বড় স্ক্রিনে দীর্ঘ সময় ভিডিও এডিটিং বা জটিল প্রকল্পে কাজ করতে হলে ১৬ ইঞ্চি মডেল ভালো লাগতে পারে।

৫. সাধারণ অফিসের কাজের জন্য MacBook Pro কেনা কি জরুরি?

না। সাধারণ অফিসের কাজ, অনলাইন ক্লাস ও ওয়েব ব্রাউজিংয়ের জন্য MacBook Air-ও যথেষ্ট হতে পারে। ভারী ভিডিও সম্পাদনা, গ্রাফিকস, প্রোগ্রামিং বা পেশাদার কাজের প্রয়োজন হলে MacBook Pro বিবেচনা করা যুক্তিযুক্ত।

তানভির ইসলাম/

পাঠকের মতামত: