ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩

‘বাসা থেকে ডেকে নিয়ে মেরে ফেলা হয়েছে’, তাহসিফের মৃত্যুতে অভিযোগ

জাতীয় ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ অক্টোবর ২৯ ১৫:১৯:২১
‘বাসা থেকে ডেকে নিয়ে মেরে ফেলা হয়েছে’, তাহসিফের মৃত্যুতে অভিযোগ

তুরাগ নদ থেকে বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কেএম তাহসিফ সাউরির মরদেহ উদ্ধারের পর তার মৃত্যু নিয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে হত্যার অভিযোগ তোলা হয়েছে। তাহসিফের খালাতো বোন মোশফেকা জাহান ফেসবুকে দেওয়া এক আবেগঘন পোস্টে দাবি করেছেন, শেখ হাসিনার দেশত্যাগের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করার পর থেকেই তার ভাইকে মানসিক যন্ত্রণা দেওয়া হচ্ছিল। পোস্টে তিনি প্রশ্ন রেখেছেন, তাহসিফের কী অপরাধ ছিল যে তাকে প্রাণ হারাতে হলো।

মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) রাত থেকে নিখোঁজ ছিলেন তাহসিফ। বুধবার (২৯ অক্টোবর) বিকেলে তুরাগ নদের গাজীপুরের টঙ্গী এলাকার রাজাবাড়ী ঘাট থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার মৃত্যুর কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

ভিডিও শেয়ারকে ঘিরে হয়রানির অভিযোগ

মোশফেকা জাহানের বক্তব্য অনুযায়ী, আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশত্যাগের ভিডিও শেয়ার করার পর তাহসিফকে দীর্ঘদিন মানসিক যন্ত্রণা সহ্য করতে হয়েছে। অবসরে পাঠানোর পরও গোয়েন্দারা তাকে নিয়মিত অনুসরণ করতেন বলে তাহসিফ তাকে জানিয়েছিলেন।

ফেসবুক পোস্টে মোশফেকা প্রশ্ন তোলেন, শেখ হাসিনার দেশত্যাগের ভিডিও শেয়ার করাটাই কি তার ভাইয়ের অপরাধ ছিল? তার দাবি, তাহসিফ নিজে ভিডিওটি ধারণ করেননি; একজন নাগরিক হিসেবে সেটি শেয়ার করেছিলেন। ভিডিওটি তার কোনো সহকর্মী ধারণ করেছিলেন বলেও পোস্টে উল্লেখ করেন তিনি।

মোশফেকার অভিযোগ, অবসরে পাঠানো এবং দিনের পর দিন মানসিক চাপের মধ্যে রাখার পরও তার ভাইকে ছাড় দেওয়া হয়নি। দেশপ্রেমিক হওয়ার কারণেই তাহসিফকে এমন পরিণতির মুখোমুখি হতে হয়েছে কি না, সেই প্রশ্নও রেখেছেন তিনি।

‘সুস্থ তাহসিফকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে’

নিজের পোস্টে তাহসিফকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে গিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন তার খালাতো বোন। একই সঙ্গে জুলাই আন্দোলনের সময় তার খালার রাজপথে থাকার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, তার খালার অপরাধ কী ছিল।

পোস্টের শেষ দিকে মোশফেকা লেখেন, ‘কথা বলা আর হলো না.....!’ পুরো বক্তব্যে ভাইয়ের মৃত্যু নিয়ে শোকের পাশাপাশি ঘটনার বিচার এবং মৃত্যুর রহস্য উদ্‌ঘাটনের দাবি উঠে এসেছে।

তবে পরিবারের পক্ষ থেকে হত্যার অভিযোগ তোলা হলেও তাহসিফের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

৯৯৯-এ ফোন পেয়ে নদ থেকে মরদেহ উদ্ধার

নৌপুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বুধবার বিকেল ৪টার দিকে টঙ্গী নৌপুলিশ ফাঁড়ির একটি দল তুরাগ নদের রাজাবাড়ী ঘাট এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার করে।

পুলিশের অভ্যন্তরীণ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে নদে একটি মরদেহ ভাসতে থাকার খবর জানানো হয়। খবর পাওয়ার পর পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি উদ্ধার করে।

উদ্ধারের সময় তাহসিফের পরনে ছিল সাদা পায়জামা ও কালো পাঞ্জাবি। তার হাতে থাকা ঘড়ি এবং পকেটে পাওয়া আইফোনের সাহায্যে পরিচয় শনাক্ত করা হয়। পরে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়।

তাহসিফকে অবসরে পাঠানো নিয়ে আইএসপিআরের বক্তব্য

ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফকে অবসরে পাঠানোর বিষয়ে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) গত বছরের ৪ আগস্ট একটি বক্তব্য দিয়েছিল। সংস্থাটি তখন জানায়, কোনো ধরনের অভিযোগ ছাড়াই এবং সম্পূর্ণ প্রাতিষ্ঠানিক নিয়ম অনুসরণ করে অন্য একটি প্রেক্ষাপটে তাকে অবসরে পাঠানো হয়েছিল।

তাহসিফের মৃত্যুর পর তার স্বজনেরা ঘটনাটিকে হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করেছেন এবং বিচার চেয়েছেন। অন্যদিকে, মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হতে ময়নাতদন্তের ফল ও সংশ্লিষ্ট তদন্তের তথ্যের অপেক্ষা রয়েছে।

পাঠকের সাধারণ প্রশ্ন (FAQ)

১. কেএম তাহসিফ সাউরির মরদেহ কোথা থেকে উদ্ধার করা হয়?

গাজীপুরের টঙ্গী এলাকার তুরাগ নদের রাজাবাড়ী ঘাট থেকে বুধবার বিকেলে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

২. তাহসিফ কবে নিখোঁজ হন?

তিনি মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) রাত থেকে নিখোঁজ ছিলেন। বুধবার (২৯ অক্টোবর) বিকেলে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

৩. তাহসিফের পরিচয় কীভাবে শনাক্ত করা হয়?

তার হাতে থাকা ঘড়ি ও পকেটে পাওয়া আইফোনের মাধ্যমে পরিচয় শনাক্ত করা হয়।

৪. তাহসিফের মৃত্যু নিয়ে পরিবারের অভিযোগ কী?

তার খালাতো বোন মোশফেকা জাহানসহ স্বজনদের দাবি, তাহসিফকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। তারা ঘটনার বিচার ও মৃত্যুর রহস্য উদ্‌ঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।

৫. তাহসিফের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কোথায় পাঠানো হয়?

মরদেহটি রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়।

আল-সাদ/

পাঠকের মতামত: