ঢাকা, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে কেন আটকে আছে অনেকের নিয়োগপত্র?

জাতীয় ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ২৭ ১৩:৫৯:০০
প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে কেন আটকে আছে অনেকের নিয়োগপত্র?

চূড়ান্ত ফল প্রকাশের পর চাকরিতে যোগ দেওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন তাঁরা। কিন্তু নিয়োগের জন্য সুপারিশ পাওয়ার পরও অনেক প্রার্থীর হাতে পৌঁছেনি নিয়োগপত্র। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগে এমন পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন জেলায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। প্রার্থীদের একাংশের অভিযোগ, ভেরিফিকেশনের নামে তাঁদের নিয়োগ আটকে দেওয়া হয়েছে এবং এর পেছনে গোয়েন্দা সংস্থার নেতিবাচক প্রতিবেদন কাজ করেছে।

সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা ২০২৫-এর ফলাফলের ভিত্তিতে ৬১ জেলায় ১৪ হাজার ৩৮৪ জনকে চূড়ান্তভাবে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হয়েছিল। তাঁদের ১ অক্টোবর কাজে যোগ দেওয়ার কথা। কিন্তু ২৪ সেপ্টেম্বর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসগুলো নিয়োগপ্রাপ্তদের তালিকা প্রকাশ করার পরই চূড়ান্ত সুপারিশ পাওয়া কয়েকজনের নাম তালিকায় না থাকার বিষয়টি সামনে আসে।

চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্তদের মোর্চার দাবি, ৬১ জেলার মধ্যে ৫৫টি জেলার নিয়োগের তথ্য তারা পেয়েছে। এসব হিসাবে ২ হাজার ৭০০ জনের বেশি প্রার্থী বাদ পড়েছেন বলে তাদের দাবি। তবে এই সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। পার্বত্য তিন জেলায় জেলা পরিষদের মাধ্যমে নিয়োগ হওয়ায় ওই তিন জেলা এই প্রক্রিয়ার বাইরে। এ ছাড়া ছয় জেলার নিয়োগের তালিকা গতকাল শনিবার রাত নয়টা পর্যন্ত প্রকাশ করা হয়নি।

মেধাক্রমে ৫৪তম হয়েও নিয়োগপত্র নেই জাহিদের

পিরোজপুরের মো. জাহিদ হাসানের ঘটনাটি এই অনিশ্চয়তার একটি উদাহরণ। মঠবাড়িয়া উপজেলায় সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্ত সুপারিশ পাওয়া ৮৩ জনের মধ্যে তাঁর অবস্থান ছিল ৫৪তম। পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পাশাপাশি নিয়োগের জন্য চূড়ান্ত সুপারিশও পেয়েছিলেন তিনি। শারীরিক প্রতিবন্ধী হিসেবে তাঁর কোটা ছিল।

তারপরও অন্য সুপারিশপ্রাপ্তরা নিয়োগপত্র পেলেও জাহিদের হাতে সেটি আসেনি। ভেরিফিকেশনের কারণে তাঁকে বাদ দেওয়া হয়েছে বলে সন্দেহ করছেন তিনি।

প্রথম আলোকে জাহিদ বলেন, নিয়োগপত্র না পাওয়ার বিষয়টি জানার পর তাঁর মা কাঁদতে শুরু করেন। তাঁর বাবাও ভেঙে পড়েছেন।

এ ধরনের অভিজ্ঞতা শুধু জাহিদের নয়। শত শত প্রার্থী যাচাইয়ের নামে নিয়োগ থেকে বাদ পড়েছেন—এমন অভিযোগ উঠেছে। সূত্রের দাবি, প্রার্থীদের যাচাইয়ে পুলিশের পাশাপাশি একটি গোয়েন্দা সংস্থাকেও কাজে লাগানো হয়েছে।

১১ জেলার হিসাবেই বাদ ৫৫৪

২ হাজার ৭০০ জনের বেশি বাদ পড়ার দাবির সত্যতা পুরোপুরি যাচাই করা না গেলেও ১১ জেলার প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে তথ্য সংগ্রহ করে ৫৫৪ জনের নিয়োগপত্র না পাওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।

এই ১১ জেলা হলো ময়মনসিংহ, রংপুর, দিনাজপুর, ঝালকাঠি, নীলফামারী, কুষ্টিয়া, জামালপুর, মৌলভীবাজার, চাঁদপুর, নড়াইল ও সুনামগঞ্জ।

ময়মনসিংহের চিত্রটিও উল্লেখযোগ্য। সেখানে চূড়ান্ত নিয়োগের জন্য সুপারিশ পেয়েছিলেন ২৫৯ জন। কিন্তু নিয়োগপত্র বা নিয়োগের তালিকায় জায়গা হয়েছে ২১৭ জনের। অর্থাৎ ৪২ জনের নাম নেই।

ময়মনসিংহের জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ১৮ জন প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেননি। তাঁর ধারণা, এসব ব্যক্তি হয়তো চাকরিতে যোগ দেবেন না। তবে তাঁদের বাইরে আরও ২৪ জন নিয়োগপত্র পাননি।

নিয়োগপত্র না পাওয়া কয়েকজন প্রার্থী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি জানিয়ে পোস্ট করেছেন।

সরকারের পক্ষ থেকে কী বলা হয়েছে

নিয়োগপত্র নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। গতকাল বিকেলে ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, ১ অক্টোবর পর্যন্ত সময়ের মধ্যে কোনো উত্তীর্ণ প্রার্থী নিয়োগপত্র না পেলে পরবর্তী সময়ে বিষয়টি যথাযথভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে। এরপর দ্রুততম সময়ের মধ্যে পর্যায়ক্রমে নিয়োগপত্র পাঠানোর কথাও জানান তিনি।

মন্ত্রী আরও বলেন, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগের ক্ষেত্রে ভেরিফিকেশন বা ভেটিং একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া।

এদিকে সূত্রের দাবি, চূড়ান্ত সুপারিশ পাওয়া প্রার্থীদের একটি বড় অংশের নিয়োগপত্র না পাওয়ার পেছনে গোয়েন্দা সংস্থার নেতিবাচক বা বিরূপ মন্তব্য রয়েছে।

যাচাইয়ের নিয়ম আর অভিযোগের জায়গা আলাদা

সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, পুলিশি যাচাইয়ের সময় প্রার্থীর বিরুদ্ধে ফৌজদারি, রাজনৈতিক বা অন্য কোনো মামলায় গ্রেপ্তার, অভিযুক্ত কিংবা দণ্ডিত হওয়ার ইতিহাস রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হয়। কেউ নজরবন্দী বা বহিষ্কৃত হয়ে থাকলে তার তারিখসহ পূর্ণ বিবরণও যাচাই করা হয়।

জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, সাধারণ নিয়মে কোনো প্রার্থীর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা এবং অপরাধে জড়িত থাকার তথ্য থাকলে তাঁকে নিয়োগের অনুপযুক্ত বিবেচনা করা যেতে পারে। কিন্তু তাঁদের বক্তব্য, বাস্তবে যাচাইয়ের সময় প্রার্থী ছাড়াও তাঁর পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়স্বজনের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা খোঁজা হয়। এরপর সেই তথ্যের ভিত্তিতে নিয়োগের বিষয়ে ইতিবাচক বা নেতিবাচক মন্তব্য করা হয়।

তাঁরা বলছেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় এমন চর্চা ছিল। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েও তা বন্ধ হয়নি। বর্তমান সরকারের সময়ও একই ধরনের বিষয় দেখা যাচ্ছে।

‘মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়ার কথা ছিল’

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক আবদুল কাদের প্রথম আলোকে বলেন, এমন অন্যায়ের বিরুদ্ধেই গণ-অভ্যুত্থান হয়েছিল এবং মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়ার কথা ছিল।

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগের মতো জায়গায় রাজনৈতিক বিবেচনা থাকাকে তিনি অশনিসংকেত হিসেবে উল্লেখ করেন।

দেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে ৬৫ হাজার ৫৬৭টি। এসব বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা এক কোটির বেশি। শিক্ষক রয়েছেন পৌনে চার লাখের মতো। এর মধ্যেই প্রধান শিক্ষকের ৩৬ হাজারের বেশি পদ খালি রয়েছে। সহকারী শিক্ষকেরও কয়েক হাজার পদ শূন্য।

কেন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে নিয়োগের বিষয়টি

সহকারী শিক্ষক পদটি সরকারি বেতনকাঠামোর ১৩তম ধাপের (গ্রেড)। নতুন বেতনকাঠামো অনুযায়ী, এই পদে শুরুতে ভাতাসহ মোট বেতন হবে সর্বনিম্ন ৩৬ হাজার টাকার মতো। ফলে চূড়ান্ত সুপারিশ পাওয়ার পর নিয়োগপত্র না পাওয়া প্রার্থীদের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে।

দেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ কম এবং বেসরকারি খাতেও মন্দাভাব রয়েছে—এমন পরিস্থিতিতে সরকারি চাকরির সুপারিশ পেয়েও নিয়োগ না পাওয়ায় অনেকে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।

কেউ কেউ মনে করছেন, গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনের কারণে যদি তাঁরা বাদ পড়ে থাকেন, তাহলে ভবিষ্যতে অন্য সরকারি চাকরিতেও একই সমস্যার মুখে পড়তে পারেন। কিন্তু তাঁদের কেন বাদ দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে স্পষ্ট তথ্যও তাঁরা পাচ্ছেন না।

দিনাজপুরের একজন চাকরিপ্রার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রথম আলোকে বলেন, তিনি কিংবা তাঁর পরিবারের কেউ কোনো রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নন। তারপরও তাঁকে কেন বাদ দেওয়া হয়েছে, সেটি তাঁর বোধগম্য নয়। ভবিষ্যতে অন্য চাকরির ক্ষেত্রেও সমস্যায় পড়ার আশঙ্কা করছেন তিনি।

নিয়োগে গোয়েন্দা যাচাইয়ের চর্চা কত পুরোনো

সরকারি চাকরিতে নিয়োগ ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে তথ্য যাচাইয়ের ব্যবস্থা নতুন নয়। এর শুরু ব্রিটিশ আমলে। সে সময় ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন দমনের উদ্দেশ্যে চাকরিপ্রার্থীদের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা যাচাই করা হতো।

স্বাধীনতার পরও এই ব্যবস্থা পুরোপুরি বিলুপ্ত হয়নি। পুলিশি যাচাইয়ের পাশাপাশি গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমেও প্রার্থীদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের চর্চা চলে আসছে।

জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য অনুযায়ী, দলীয় সরকারগুলোর সময়ে এই যাচাই ব্যবস্থাকে ব্যবহার করে বিরোধী দল ও মতের অনুসারী, তাঁদের পরিবারের সদস্য এবং স্বজনদের সরকারি চাকরি থেকে বঞ্চিত করার অভিযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে নিজেদের লোকদের নিয়োগ নিশ্চিত করা এবং জনপ্রশাসনে দলীয়করণের ক্ষেত্রেও এই প্রক্রিয়া ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে।

সংস্কার কমিশন যে পরিবর্তনের সুপারিশ করেছিল

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে গঠিত জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন পদোন্নতির ক্ষেত্রে পুলিশ বা কোনো গোয়েন্দা বিভাগের কাছে রাজনৈতিক পরিচয় জানতে চাওয়ার প্রথা বাতিলের সুপারিশ করেছিল। কমিশনের মতে, এই পর্যায় থেকেই জনপ্রশাসনে রাজনীতিকরণের সূত্রপাত হয়।

কমিশন লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার ফল প্রকাশের আগে কোনো প্রার্থীর পুলিশি যাচাই বন্ধ করারও সুপারিশ করে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর চূড়ান্ত নিয়োগের আগে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় পুলিশ বিভাগের কাছে শুধু প্রার্থীর বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি মামলা আছে কি না, সে বিষয়ে প্রতিবেদন চাইবে। প্রয়োজন হলে দুর্নীতি দমন কমিশনের কাছ থেকেও প্রতিবেদন নেওয়ার সুযোগ থাকবে।

বিসিএসেও একই ধরনের অভিযোগ উঠেছিল

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জানানো হয়েছিল, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২৮তম বিসিএস থেকে ৪২তম বিসিএস পর্যন্ত পিএসসির সুপারিশ পাওয়া অনেক প্রার্থী নিয়োগবঞ্চিত হয়েছিলেন। তাঁদের মধ্য থেকে ২৫৯ জনকে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় নিয়োগ দেওয়া হয়।

তবে ওই সময়ও গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে যাচাই করে প্রার্থী বাদ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ৪৩তম বিসিএসের ১ হাজার ৮৯৬ জনকে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে। ওই নিয়োগে পিএসসির সুপারিশ পাওয়া ২৬৭ জনকে বাদ দেওয়া হয়েছিল।

তখন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, ২২৭ জন প্রার্থীর বিষয়ে গোয়েন্দা সংস্থার বিরূপ মন্তব্য ছিল। সে কারণে তাঁদের সাময়িকভাবে নিয়োগের অনুপযুক্ত বিবেচনা করা হয়। বাকি ৪০ জন স্বাস্থ্য পরীক্ষায় অংশ নেননি। পরে মন্ত্রণালয় জানায়, নিয়োগের জন্য অনুপযুক্ত বিবেচিত ২২৭ জনের যে কেউ পুনর্বিবেচনার আবেদন করতে পারবেন।

সরকারি চাকরিবিষয়ক বিশেষজ্ঞ ও সাবেক অতিরিক্ত সচিব ফিরোজ মিয়া প্রথম আলোকে বলেন, চাকরিতে নিয়োগ ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদন দেওয়ার আইনগত কোনো সুযোগ নেই। তাঁর মতে, পুলিশ কোনো প্রার্থীর বিরুদ্ধে ফৌজদারি অপরাধ, দাগি অপরাধী হওয়া বা এ ধরনের অপরাধের তথ্য পেলে সেই ভিত্তিতে প্রার্থীকে বাদ দেওয়া যেতে পারে।

তবে তাঁর বক্তব্য, অতীতে নিয়োগ ও পদোন্নতিতে গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে যাচাই করা হয়েছে। রাজনৈতিক বিবেচনায় গোয়েন্দা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে চাকরিপ্রার্থীকে বাদ দেওয়ার সংস্কৃতি জনপ্রশাসনকে বিশৃঙ্খল করে তোলে। এখনো যদি এমন প্রক্রিয়া চলতে থাকে, সেটি কোনোভাবেই ভালো লক্ষণ নয়।

প্রধান শিক্ষক পদেও রয়েছে বড় শূন্যতা

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক সংকটের প্রেক্ষাপটও এই নিয়োগকে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। বর্তমান নিয়োগবিধি অনুযায়ী, প্রধান শিক্ষক পদের ৮০ শতাংশ পূরণ হওয়ার কথা সহকারী শিক্ষকদের পদোন্নতির মাধ্যমে। সরাসরি নিয়োগের সুযোগ রয়েছে ২০ শতাংশ পদে।

প্রধান শিক্ষক নিয়োগকে কেন্দ্র করে একটি মামলা চলছিল। গত বছরের জুলাইয়ে উচ্চ আদালতের রায়ের মাধ্যমে সেই জটিলতা দূর হয়। এরপর প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতির প্রক্রিয়া শুরু করার কথা জানিয়েছিল প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।

অন্যদিকে সহকারী শিক্ষক নিয়োগের কার্যক্রম শুরু হয়েছিল অন্তর্বর্তী সরকারের সময়। ওই সরকারের শেষ পর্যায়ে গত ৮ ফেব্রুয়ারি সহকারী শিক্ষক নিয়োগের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হয়।

এখন চূড়ান্ত সুপারিশ পাওয়া প্রার্থীদের একাংশের নিয়োগপত্র না পাওয়া নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন প্রশ্ন। একদিকে মন্ত্রণালয় বলছে, ১ অক্টোবর পর্যন্ত নিয়োগপত্র না পাওয়া প্রার্থীদের বিষয় পরবর্তী সময়ে যাচাই করে পর্যায়ক্রমে নিয়োগপত্র দেওয়া হবে; অন্যদিকে সূত্রের অভিযোগ, গোয়েন্দা সংস্থার বিরূপ মন্তব্যের কারণে অনেকের নিয়োগ আটকে আছে। ফলে নিয়োগের শেষ ধাপে থাকা প্রার্থীদের অনিশ্চয়তা এখনো কাটেনি।

FAQ

প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে কতজনকে চূড়ান্তভাবে সুপারিশ করা হয়েছিল?

সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা ২০২৫-এর ফলাফলের ভিত্তিতে ৬১ জেলায় ১৪ হাজার ৩৮৪ জনকে চূড়ান্ত নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হয়েছিল।

কতজন প্রার্থী বাদ পড়েছেন বলে দাবি করা হচ্ছে?

চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্তদের মোর্চার দাবি, ৫৫টি জেলার তথ্য অনুযায়ী ২ হাজার ৭০০ জনের বেশি প্রার্থী বাদ পড়েছেন। তবে এই সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

নিয়োগপত্র না পাওয়ার কারণ কী বলা হচ্ছে?

কিছু ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা না দেওয়ার কারণে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়নি। সূত্রের দাবি, আরও একটি বড় অংশ গোয়েন্দা সংস্থার বিরূপ মন্তব্যের কারণে নিয়োগপত্র পাননি।

চূড়ান্ত সুপারিশ পাওয়া প্রার্থীদের কবে যোগ দেওয়ার কথা?

চূড়ান্তভাবে নিয়োগের জন্য সুপারিশ পাওয়া প্রার্থীদের ১ অক্টোবর যোগ দেওয়ার কথা।

নিয়োগপত্র না পাওয়া প্রার্থীদের বিষয়ে মন্ত্রণালয় কী জানিয়েছে?

প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানিয়েছেন, ১ অক্টোবর পর্যন্ত কোনো উত্তীর্ণ প্রার্থী নিয়োগপত্র না পেলে বিষয়টি পরবর্তী সময়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে এবং দ্রুততম সময়ে পর্যায়ক্রমে নিয়োগপত্র পাঠানো হবে।

তানভির ইসলাম/

পাঠকের মতামত:

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ