২৭-৩০ হাজার টাকায় মিলছে যে ৫ স্মার্টফোন, দেখুন ফিচার”
৩০ হাজার টাকা বাজেটে স্মার্টফোন কিনতে গেলে এখন একাধিক অপশন সামনে আসে। তবে একই দামের সব ফোনে একই ধরনের সুবিধা নেই। কোনো ফোনে গুরুত্ব পেয়েছে AMOLED ডিসপ্লে, কোনোটি শক্তিশালী চিপসেটের কারণে এগিয়ে, আবার কোনো ফোনের বড় আকর্ষণ ব্যাটারি। ৩০ হাজার টাকা বা তার আশপাশের বাজেট বিবেচনায় এমন পাঁচটি স্মার্টফোনের ফিচার, পারফরম্যান্স ও সীমাবদ্ধতা তুলে ধরা হলো।
এই তালিকায় রয়েছে Samsung Galaxy M36/F36, Redmi K60E, Xiaomi 10S, iQOO Z1X এবং Redmi Note 14 Pro। এর মধ্যে কয়েকটি পুরোনো মডেল হলেও নতুন প্যাকেটেও পাওয়া যাচ্ছে এবং তুলনামূলক কম দামে কেনার সুযোগ রয়েছে।
Samsung Galaxy M36/F36
Samsung-এর ফোন পছন্দ হলে ২৯ থেকে ৩০ হাজার টাকার বাজেটে Galaxy M36 অথবা Galaxy F36 দেখা যেতে পারে। তথ্য অনুযায়ী, দুটি ফোন একই জিনিস এবং Galaxy M36-এর 8GB RAM ও 128GB স্টোরেজ ভ্যারিয়েন্ট এই দামের মধ্যে পাওয়া যায়।
ফোনটির অন্যতম আকর্ষণ Super AMOLED ডিসপ্লে। এর সঙ্গে রয়েছে 120Hz রিফ্রেশ রেট, ফলে সাধারণ ব্যবহার ও স্ক্রলিংয়ের ক্ষেত্রে ভালো অভিজ্ঞতা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।
তবে ডিজাইনের জায়গায় একটি সীমাবদ্ধতা হলো Waterdrop Notch। এই দামের ফোনে এমন নচ অনেকের কাছে পুরোনো ডিজাইনের মনে হতে পারে।
পারফরম্যান্সের জন্য রয়েছে Exynos 1380 চিপসেট এবং UFS 2.2 স্টোরেজ। চিপসেটটি খুব শক্তিশালী না হলেও নিয়মিত কাজের জন্য যথেষ্ট। Samsung-এর One UI-এর কারণে Samsung ব্যবহারকারীদের কাছে ফোনটি পছন্দের হতে পারে।
হালকা গেমিং করা গেলেও বেশি গেমিংয়ের জন্য ফোনটি উপযুক্ত নয়। কারণ ব্যবহারের সময় চিপসেটটি কিছুটা হিট তৈরি করতে পারে।
ব্যাটারিতে রয়েছে 5000mAh ক্ষমতা এবং 25W চার্জিং। ক্যামেরায় পাওয়া যাচ্ছে 50MP মেইন, 8MP আল্ট্রাওয়াইড, 2MP ম্যাক্রো এবং 13MP ফ্রন্ট ক্যামেরা।
বিশেষ করে আল্ট্রাওয়াইড ক্যামেরা থাকা এই ফোনের একটি ইতিবাচক দিক। মেইন ও আল্ট্রাওয়াইড—দুটিই এই দামের অন্যান্য অনেক ফোনের সঙ্গে তুলনা করার মতো আউটপুট দিতে পারে।
Redmi K60E
Redmi K60E নতুন মডেল নয়। ফোনটি ২০২১-২২ সালের দিকের হলেও এখনো ২৭ থেকে ২৮ হাজার টাকা দামে নতুন প্যাকেটেও পাওয়া যাচ্ছে।
ডিসপ্লেতে রয়েছে OLED প্যানেল ও 120Hz রিফ্রেশ রেট। ফ্ল্যাট ডিসপ্লের ডিজাইনও দেখতে আকর্ষণীয়।
পারফরম্যান্সের জায়গায় ফোনটির বড় শক্তি MediaTek Dimensity 8200 চিপসেট। সঙ্গে রয়েছে UFS 3.1 স্টোরেজ। এই কনফিগারেশনের কারণে গেমিংয়েও ভালো পারফরম্যান্স পাওয়া যেতে পারে। দীর্ঘ সময় ব্যবহারে সামান্য গরম হলেও পারফরম্যান্সের দিক থেকে ফোনটি ভালো ফল দিতে পারে।
ক্যামেরায় রয়েছে 48MP মেইন, 8MP আল্ট্রাওয়াইড ও 2MP ম্যাক্রো ক্যামেরা। সামনে রয়েছে 20MP ক্যামেরা।
Samsung Galaxy M36/F36-এর সঙ্গে তুলনা করলে মেইন ক্যামেরার জায়গায় Redmi K60E এগিয়ে থাকবে। তবে আল্ট্রাওয়াইড ক্যামেরার ক্ষেত্রে দুটির দাম কাছাকাছি।
ব্যাটারিতে রয়েছে 5500mAh এবং 67W চার্জিং।
তবে পুরোনো Android ভার্সন এই ফোনের অন্যতম সীমাবদ্ধতা। ফোনটি Android 12-এ চলছে এবং ভবিষ্যতে আপডেট পাওয়া যাবে কি না, সেটির নিশ্চয়তা নেই। তাই যারা নতুন Android ভার্সনকে গুরুত্ব দেন, তাদের বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে।
এছাড়া পুরোনো মডেল হওয়ায় কেনার সময় ফোনটি সিলপ্যাক নতুন কি না এবং রিফারবিশড বা রিকন্ডিশনড নয় কি না, তা নিশ্চিত হয়ে নেওয়া জরুরি।
Xiaomi 10S
২৭ থেকে ২৮ হাজার টাকার মধ্যে কার্ভড AMOLED ডিসপ্লে চাইলে Xiaomi 10S দেখা যেতে পারে। এটিও ২০২২ সালের মডেল এবং নতুন অবস্থায় পাওয়া যাচ্ছে।
ফোনটিতে রয়েছে কার্ভড AMOLED প্যানেল। তবে রিফ্রেশ রেট 90Hz, যা Redmi K60E-এর 120Hz-এর তুলনায় কম।
পারফরম্যান্সের জন্য রয়েছে Snapdragon 870। এটি একসময়কার ফ্ল্যাগশিপ চিপসেট। সঙ্গে রয়েছে UFS 3.0 স্টোরেজ। পুরোনো হলেও চিপসেটটির পারফরম্যান্স ক্ষমতা কম নয়। তাই গেমিংয়ের জন্যও ফোনটি বিবেচনায় রাখা যায়।
ক্যামেরা বিভাগে রয়েছে 108MP মেইন, 13MP আল্ট্রাওয়াইড ও 2MP রিয়ার ক্যামেরা। সামনে রয়েছে 20MP ক্যামেরা।
Redmi K60E-এর সঙ্গে তুলনা করলে ক্যামেরার ফলাফল অনেকটাই কাছাকাছি হতে পারে। তবে দুই ফোনের কালার টোনে কিছুটা পার্থক্য রয়েছে।
ব্যাটারিতে রয়েছে 4780mAh এবং 33W চার্জিং। সাধারণ ব্যবহারকারীর ক্ষেত্রে একদিন চালানো সম্ভব হলেও বেশি ব্যবহার করলে ব্যাটারি দ্রুত শেষ হতে পারে।
বর্তমানে ফোনটি Android 13-এ চলছে। এটিও পুরোনো মডেল হওয়ায় সফটওয়্যার আপডেটের বিষয়টি বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন।
iQOO Z1X
বাজেট কিছুটা বাড়ানো সম্ভব হলে এবং তুলনামূলক সাম্প্রতিক সময়ের ডিভাইস চাইলে iQOO Z1X দেখা যেতে পারে।
ফোনটিতে রয়েছে Full HD+ রেজলুশনের 120Hz ডিসপ্লে। তবে এটি AMOLED নয়, IPS LCD প্যানেল।
পারফরম্যান্সের জন্য রয়েছে MediaTek Dimensity 7400 Turbo এবং UFS 3.1 স্টোরেজ।
ক্যামেরায় রয়েছে 50MP মেইন ও 32MP ফ্রন্ট ক্যামেরা। তবে আগের তিনটি ফোনের তুলনায় ক্যামেরার পারফরম্যান্স একই পর্যায়ে থাকবে না।
iQOO Z1X-এর সবচেয়ে বড় আকর্ষণ 7200mAh ব্যাটারি। এর সঙ্গে রয়েছে 44W চার্জিং। তাই বড় ব্যাটারি প্রয়োজন হলে এই ফোনটি আলাদা করে বিবেচনায় রাখা যায়।
Redmi Note 14 Pro
যারা Redmi ফোন চান এবং তুলনামূলক সাম্প্রতিক মডেল খুঁজছেন, তাদের জন্য Redmi Note 14 Pro একটি বিকল্প। এর 256GB ভ্যারিয়েন্ট ২৮ থেকে ২৯ হাজার টাকার মধ্যে পাওয়া যায় বলে তথ্যটিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
ডিসপ্লেতে রয়েছে AMOLED প্যানেল, 120Hz রিফ্রেশ রেট এবং HDR10+ সাপোর্ট।
চিপসেট হিসেবে রয়েছে MediaTek Dimensity 7300 Ultra এবং স্টোরেজ হিসেবে UFS 2.2। এটি মিডরেঞ্জের একটি চিপসেট, যা নিয়মিত কাজের পাশাপাশি মোটামুটি গেমিংয়েও ব্যবহার করা যায়।
ব্যাটারিতে রয়েছে 5100mAh এবং 45W চার্জিং। সাধারণ ব্যবহারে একদিন চালানো সম্ভব হলেও ভারী ব্যবহারে চার্জ দ্রুত শেষ হতে পারে।
ক্যামেরায় রয়েছে 200MP মেইন, 8MP আল্ট্রাওয়াইড ও 2MP রিয়ার ক্যামেরা। সামনে রয়েছে 20MP ক্যামেরা। সামগ্রিকভাবে ক্যামেরা পারফরম্যান্সকে মোটামুটি ডিসেন্ট বলা হয়েছে।
এক নজরে পাঁচ স্মার্টফোন
| স্মার্টফোন | আনুমানিক দাম | ডিসপ্লে | চিপসেট | ব্যাটারি | চার্জিং |
|---|---|---|---|---|---|
| Samsung Galaxy M36/F36 | ২৯-৩০ হাজার টাকা | Super AMOLED, 120Hz | Exynos 1380 | 5000mAh | 25W |
| Redmi K60E | ২৭-২৮ হাজার টাকা | OLED, 120Hz | MediaTek Dimensity 8200 | 5500mAh | 67W |
| Xiaomi 10S | ২৭-২৮ হাজার টাকা | Curved AMOLED, 90Hz | Snapdragon 870 | 4780mAh | 33W |
| iQOO Z1X | বাজেট কিছুটা বেশি | Full HD+, 120Hz IPS LCD | MediaTek Dimensity 7400 Turbo | 7200mAh | 44W |
| Redmi Note 14 Pro | ২৮-২৯ হাজার টাকা | AMOLED, 120Hz, HDR10+ | MediaTek Dimensity 7300 Ultra | 5100mAh | 45W |
৩০ হাজার টাকায় ফোন কেনার আগে যা দেখবেন
এই পাঁচটি ফোনের প্রতিটিরই আলাদা বৈশিষ্ট্য রয়েছে। Samsung Galaxy M36/F36-এ গুরুত্ব পেয়েছে Super AMOLED ডিসপ্লে ও Samsung-এর সফটওয়্যার অভিজ্ঞতা। Redmi K60E এবং Xiaomi 10S পুরোনো মডেল হলেও শক্তিশালী চিপসেটের কারণে পারফরম্যান্সের জায়গায় নজর কাড়ে।
iQOO Z1X-এর সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক বড় 7200mAh ব্যাটারি। অন্যদিকে Redmi Note 14 Pro-তে রয়েছে AMOLED ডিসপ্লে, 120Hz রিফ্রেশ রেট এবং 256GB স্টোরেজের সুবিধা।
তাই ফোন কেনার আগে নিজের ব্যবহারের ধরন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো মিলিয়ে দেখা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে পুরোনো মডেল কেনার ক্ষেত্রে Android ভার্সন, আপডেট এবং ফোনটি সত্যিই নতুন সিলপ্যাক কি না—এসব নিশ্চিত হয়ে নেওয়া উচিত।
এই তালিকায় মূলত ৩০ হাজার টাকার আশপাশের ফোন রাখা হয়েছে। ৩০ হাজারের অনেক ওপরে না গিয়ে ২৫ হাজার টাকা বা তার কিছু বেশি বাজেটের ক্রেতারাও যাতে নিজেদের জন্য উপযুক্ত অপশন খুঁজে নিতে পারেন, সেই বিষয়টিই এখানে গুরুত্ব পেয়েছে।
FAQ
প্রশ্ন: ৩০ হাজার টাকার মধ্যে কোন ফোনগুলো নিয়ে এই প্রতিবেদনে আলোচনা করা হয়েছে?
উত্তর: Samsung Galaxy M36/F36, Redmi K60E, Xiaomi 10S, iQOO Z1X এবং Redmi Note 14 Pro।
প্রশ্ন: Redmi K60E-এর দাম কত?
উত্তর: তথ্য অনুযায়ী, Redmi K60E-এর দাম ২৭ থেকে ২৮ হাজার টাকা।
প্রশ্ন: সবচেয়ে বড় ব্যাটারি কোন ফোনে?
উত্তর: iQOO Z1X-এ 7200mAh ব্যাটারি রয়েছে।
প্রশ্ন: Redmi Note 14 Pro-এর 256GB ভ্যারিয়েন্টের দাম কত?
উত্তর: ২৮ থেকে ২৯ হাজার টাকার মধ্যে পাওয়া যায় বলে দেওয়া তথ্যে উল্লেখ রয়েছে।
প্রশ্ন: পুরোনো মডেলের ফোন কেনার সময় কী নিশ্চিত করতে হবে?
উত্তর: ফোনটি সিলপ্যাক নতুন কি না এবং রিফারবিশড বা রিকন্ডিশনড নয় কি না, তা নিশ্চিত হয়ে নেওয়া উচিত।
তানভির ইসলাম/
পাঠকের মতামত:
আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ
- বাংলাদেশ বনাম ইন্দোনেশিয়া: ১১ গোলের ম্যাচ শেষ, জানুন ফলাফল
- চলছে বাংলাদেশ বনাম ইন্দোনেশিয়া ম্যাচ: সরাসরি দেখুন Live
- বাংলাদেশ বনাম ইন্দোনেশিয়া ম্যাচ আজ, লাইভ দেখার উপায় ও সময়সূচি
- বাংলাদেশ বনাম ইন্দোনেশিয়া ম্যাচ: ৯০ মিনিটের খেলা শেষ, জানুন ফলাফল
- আজকের টাকার রেট কত: কমেছে ৫টি দেশের টাকার মান
- বাংলাদেশ বনাম ইন্দোনেশিয়া ম্যাচ: সরাসরি দেখুন LIVE
- ব্রাজিল বনাম ভারত: কখন, কোথায় ও কীভাবে দেখবেন লাইভ
- আর্জেন্টিনা বনাম বুরকিনা ফাসো ম্যাচ কখন, কোথায়, কীভাবে দেখবেন লাইভ
- বাংলাদেশ বনাম ইন্দোনেশিয়া ম্যাচ আজ, লাইভ দেখার সহজ উপায়
- আর্জেন্টিনা-বুরকিনা ফাসো ম্যাচ ৪ তারিখ সকালে, দেখবেন যেভাবে লাইভ
- চলছে ভারত-পাকিস্তান ফাইনাল: সরাসরি দেখুন Live