ঢাকা, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩

সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীদের জন্য সুখবর

জাতীয় ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ অক্টোবর ০৪ ১৫:১০:১১
সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীদের জন্য সুখবর

নতুন জাতীয় বেতনকাঠামো অনুযায়ী সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন নির্ধারণের কাজ শুরু হচ্ছে আগামী সোমবার, ৫ অক্টোবর। অর্থ বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী ২০ অক্টোবরের মধ্যে এই প্রক্রিয়া শেষ করার কথা রয়েছে। পে ফিক্সেশন চূড়ান্ত হওয়ার পর অক্টোবরের নিয়মিত বেতনের সঙ্গে প্রায় তিন মাসের এরিয়ার বা বকেয়া বেতন একসঙ্গে পাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের।

নতুন বেতন নির্ধারণের পুরো কার্যক্রম সম্পন্ন হবে অনলাইনে। এর জন্য ব্যবহার করা হবে সমন্বিত বাজেট ও হিসাবরক্ষণ পদ্ধতি ‘আইবাস প্লাস প্লাস’ (iBAS++)-এর পে ফিক্সেশন মডিউল। অর্থ বিভাগের পরিকল্পনা অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই চাকরিজীবীদের তথ্য যাচাই করে নতুন বেতন ও বকেয়ার হিসাব চূড়ান্ত করা হবে।

পে ফিক্সেশনে যে তথ্য দিতে হবে

নির্দিষ্ট পোর্টালে প্রবেশ করে সরকারি চাকরিজীবীদের প্রথমে নিজেদের প্রয়োজনীয় তথ্য দিতে হবে। এর মধ্যে থাকবে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি), জন্মতারিখ, বর্তমান পদবি, গ্রেড, চাকরিতে যোগদানের তারিখ এবং বর্তমান মূল বেতনের সুনির্দিষ্ট তথ্য।

এখানেই শেষ নয়। চাকরিজীবনের আগের বেতন-সংক্রান্ত তথ্যও সঠিকভাবে মিলিয়ে নিতে হবে। অতীতে কারও পদোন্নতি, বদলি, টাইম স্কেল, সিলেকশন গ্রেড কিংবা উচ্চতর গ্রেড হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট অফিস আদেশের নথি প্রস্তুত রাখতে হবে। অনলাইনে দেওয়া তথ্যের সঙ্গে এসব নথির তথ্যও মিলিয়ে দেখা হবে।

যেসব চাকরিজীবীর এনআইডি নেই, তাদের চাকরির নথিতে থাকা তথ্য হালনাগাদ করে আবেদন সম্পন্ন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

তথ্য জমার পর হবে যাচাই-বাছাই

অনলাইনে তথ্য এন্ট্রি করার পর সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ কার্যালয় তা পরীক্ষা করবে। চাকরিজীবীর দেওয়া তথ্যে কোনো অসঙ্গতি থাকলে সেটি সংশোধনের সুযোগ থাকবে।

পে ফিক্সেশন কার্যক্রম যাতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করা যায়, সে জন্য হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ের কর্মকর্তাদেরও প্রস্তুত করা হচ্ছে। অর্থ বিভাগের ‘এসপিএফএমএস’ কর্মসূচির আওতায় বিভাগীয় হিসাব নিয়ন্ত্রক (ডিসিএ), জেলা ও উপজেলা হিসাব কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় অনলাইন প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।

যাচাই-বাছাই শেষে বেতন নির্ধারণ চূড়ান্ত হলে নতুন মূল বেতনের ভিত্তিতে নিয়মিত বেতন বিল এবং বকেয়া পাওনার হিসাব স্বয়ংক্রিয়ভাবে তৈরি হবে।

১১ বছর পর নতুন জাতীয় বেতনকাঠামো

দীর্ঘ ১১ বছরের ব্যবধানের পর গত ১৯ সেপ্টেম্বর সরকার নতুন জাতীয় বেতনকাঠামোর প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। এতে সরকারি চাকরিজীবীদের সর্বনিম্ন মূল বেতন ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

নতুন কাঠামোর মূল বেতন একবারে পুরোপুরি কার্যকর হবে না। ২০২৬-২৭ ও ২০২৭-২৮ অর্থবছরের মধ্যে মোট তিনটি ধাপে এটি বাস্তবায়নের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে বিদ্যমান মূল বেতনের ভিত্তিতে বেতন সমন্বয় করা হবে।

প্রথম ধাপে চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত নতুন ও পুরোনো মূল বেতনের পার্থক্যের ৪০ শতাংশ দেওয়া হবে। এরপর দ্বিতীয় ধাপে ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত ওই পার্থক্যের ৭০ শতাংশ কার্যকর হবে। আর ২০২৭ সালের ১ জুলাই থেকে সরকারি চাকরিজীবীরা পুরো নতুন মূল বেতন পাবেন।

চলতি অর্থবছরে মূল বেতনের বর্ধিত অংশ পরিশোধের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে ৩৭ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। তবে নতুন কাঠামোর বিভিন্ন ভাতা এখনই কার্যকর হচ্ছে না। এসব ভাতা কার্যকর হবে ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে।

উচ্চতর গ্রেডের নিয়মেও রয়েছে পরিবর্তন

নতুন বেতন আদেশে পদোন্নতি ছাড়া সন্তোষজনক চাকরির আট বছর পূর্ণ হলে প্রথম উচ্চতর গ্রেড দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। এরপর আরও ছয় বছর চাকরি পূর্ণ হলে দ্বিতীয় উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার সুযোগ থাকবে।

তবে অতীতে একই পদে একাধিকবার টাইম স্কেল বা সিলেকশন গ্রেড পাওয়া কর্মীদের নতুন কাঠামোয় বেতন সমন্বয়ের ক্ষেত্রে কিছু জটিলতা দেখা দিয়েছে। এসব জটিলতা নিরসনে কাজ করছে অর্থ বিভাগ।

নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, একই পদে অতীতে একাধিক উচ্চতর সুবিধা নেওয়া থাকলে নতুন কাঠামোয় আর কোনো সুবিধা পাওয়া যাবে না। তবে আগে একটি উচ্চতর স্কেল পাওয়া থাকলে পরবর্তী ছয় বছর পূর্ণ হওয়ার পর দ্বিতীয় উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার প্রাপ্যতা তৈরি হবে।

২০ অক্টোবরের মধ্যেই চূড়ান্ত হবে হিসাব

নতুন পে-স্কেলে কার বেতন কত হবে, তা নির্ধারণের ক্ষেত্রে চাকরিজীবীর বর্তমান বেতন ও আগের বেতন-সংক্রান্ত ইতিহাস সঠিকভাবে যাচাই করা হবে। বিশেষ করে পদোন্নতি, বদলি, টাইম স্কেল, সিলেকশন গ্রেড এবং উচ্চতর গ্রেডের তথ্য সঠিকভাবে মিলিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

অর্থ বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী, ২০ অক্টোবরের মধ্যে এই যাচাই প্রক্রিয়া শেষ করে প্রত্যেক সরকারি চাকরিজীবীর নতুন বেতন ও বকেয়া পাওনার চূড়ান্ত হিসাব নিষ্পত্তি করা হবে।

পে ফিক্সেশন সম্পন্ন হওয়ার পর নতুন মূল বেতনের ভিত্তিতে নিয়মিত বেতন বিল তৈরি হবে। একই সঙ্গে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তৈরি হবে বকেয়া পাওনার হিসাব। ফলে নির্ধারিত প্রক্রিয়া শেষ হলে অক্টোবরের বেতনের সঙ্গে প্রায় তিন মাসের এরিয়ার পাওয়ার সুযোগ পাবেন সরকারি চাকরিজীবীরা।

তানভির ইসলাম/

পাঠকের মতামত:

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ