মুনাফার ধারাবাহিকতার পর বিএসআরএম স্টিলে আসছে বড় সিদ্ধান্ত
বিএসআরএম স্টিলের পরবর্তী ডিভিডেন্ড নিয়ে বিনিয়োগকারীদের অপেক্ষার অবসান হতে যাচ্ছে ১৪ অক্টোবর। ওই দিন বিকাল ৪টায় কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদের সভা বসবে। ৩০ জুন, ২০২৬ পর্যন্ত সমাপ্ত অর্থবছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনার পাশাপাশি সভায় ডিভিডেন্ড ঘোষণার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
ডিভিডেন্ড ঘোষণার আগে কোম্পানিটির সর্বশেষ আর্থিক চিত্রও বিনিয়োগকারীদের জন্য বেশ কিছু ইতিবাচক তথ্য সামনে এনেছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় শেয়ারপ্রতি আয় এবং শেয়ারপ্রতি নগদ পরিচালন প্রবাহ বেড়েছে। একই সময়ে শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্যও ৯৭ টাকা ৩৬ পয়সায় পৌঁছেছে।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
আগেরবার ছিল ৫০ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ড
বিএসআরএম স্টিল সর্বশেষ ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জন্য ৫০ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ড দিয়েছিল। এবার ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ফলাফল সামনে রেখে ডিভিডেন্ডের পরিমাণ নিয়ে বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।
এর পেছনে রয়েছে কোম্পানিটির চলতি অর্থবছরের প্রথম নয় মাসের মুনাফার ধারাবাহিকতা। জুলাই ২০২৫ থেকে মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত সময়ে শেয়ারপ্রতি আয় দাঁড়িয়েছে ১১ টাকা ৪৯ পয়সা। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এই আয় ছিল ৯ টাকা ১২ পয়সা।
অর্থাৎ আগের বছরের তুলনায় প্রথম নয় মাসে শেয়ারপ্রতি আয় বেড়েছে ২ টাকা ৩৭ পয়সা।
নয় মাসের হিসাবে নগদ প্রবাহেও ঘুরে দাঁড়ানোর চিত্র
কোম্পানিটির নগদ পরিচালন প্রবাহের হিসাবেও শেষ পর্যন্ত ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা গেছে। জুলাই ২০২৫ থেকে মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত শেয়ারপ্রতি নগদ পরিচালন প্রবাহ দাঁড়িয়েছে ২৮ টাকা ৮৯ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে এটি ছিল ২৩ টাকা ৭৫ পয়সা।
তবে পুরো নয় মাসের এই উন্নতির আগে দুই প্রান্তিকে নগদ পরিচালন প্রবাহ কমেছিল। প্রথম প্রান্তিকে জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে এটি ছিল ৩ টাকা ৫৭ পয়সা, যেখানে আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৫ টাকা ১৩ পয়সা।
আবার জুলাই-ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত প্রথম ছয় মাসে শেয়ারপ্রতি নগদ পরিচালন প্রবাহ দাঁড়ায় ১০ টাকা ৭১ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে এ প্রবাহ ছিল ১৫ টাকা ৬১ পয়সা।
কোম্পানির ব্যাখ্যা অনুযায়ী, সরবরাহকারীদের অর্থ পরিশোধের পরিমাণ বেড়ে যাওয়া এবং বাকিতে বিক্রয় বা ঋণ বিক্রয় বাড়ার কারণে ওই সময়গুলোতে নগদ পরিচালন প্রবাহ কমেছিল।
সম্পদমূল্যেও পরিবর্তন এসেছে
বিএসআরএম স্টিলের শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্যও সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হয়েছে। ৩০ জুন ২০২৫ শেষে এ মূল্য ছিল ৯০ টাকা ৫২ পয়সা। এরপর ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ শেষে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৯৩ টাকা ৭৪ পয়সা।
৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ শেষে শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য ছিল ৯০ টাকা ৪৮ পয়সা। পরে ৩১ মার্চ ২০২৬ শেষে সেটি আবার বেড়ে দাঁড়ায় ৯৭ টাকা ৩৬ পয়সায়।
তিন প্রান্তিকের প্রতিটিতেই বেড়েছে ইপিএস
চলতি অর্থবছরের প্রান্তিকভিত্তিক ফলাফলেও মুনাফার ধারাবাহিকতা দেখা যায়। জুলাই-সেপ্টেম্বর ২০২৫ সময়ে বিএসআরএম স্টিলের শেয়ারপ্রতি আয় ছিল ২ টাকা ৬০ পয়সা। ২০২৪ সালের একই সময়ে এই আয় ছিল ২ টাকা ২৬ পয়সা।
অক্টোবর-ডিসেম্বর ২০২৫ সময়ে দ্বিতীয় প্রান্তিকে ইপিএস হয় ২ টাকা ৫৪ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে, অর্থাৎ ২০২৪ সালে, ইপিএস ছিল ২ টাকা ৪১ পয়সা।
তৃতীয় প্রান্তিকে এসে ব্যবধান আরও বড় হয়েছে। জানুয়ারি-মার্চ ২০২৬ সময়ে শেয়ারপ্রতি আয় দাঁড়ায় ৬ টাকা ৩৫ পয়সা। ২০২৫ সালের একই সময়ে তা ছিল ৪ টাকা ৪৫ পয়সা।
এই তিন প্রান্তিকের ফল মিলিয়ে জুলাই ২০২৫ থেকে মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত ইপিএস দাঁড়িয়েছে ১১ টাকা ৪৯ পয়সায়।
ঋণমানেও সর্বোচ্চ রেটিং
আর্থিক সূচকের পাশাপাশি বিএসআরএম স্টিলের ঋণমানও নির্ধারণ করেছে ক্রেডিট রেটিং ইনফরমেশন অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (ক্রিসল)।
দীর্ঘমেয়াদি ঋণমান হিসেবে কোম্পানিটিকে ‘এএএ’ এবং স্বল্পমেয়াদি হিসেবে ‘এসটি-১’ রেটিং দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কোম্পানিটির দৃষ্টিভঙ্গি বা ভবিষ্যৎ অবস্থানকে ‘স্থিতিশীল’ বলা হয়েছে।
এই রেটিং নির্ধারণের ক্ষেত্রে ২০২৫ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত কোম্পানির নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত অনিরীক্ষিত আর্থিক তথ্য এবং রেটিং ঘোষণার তারিখ পর্যন্ত অন্যান্য প্রাসঙ্গিক পরিমাণগত ও গুণগত তথ্য পর্যালোচনা করা হয়েছে।
ডিভিডেন্ডের দিকে এখন বিনিয়োগকারীদের নজর
বিএসআরএম স্টিলের চলতি অর্থবছরের প্রথম নয় মাসের হিসাবে ইপিএসের পাশাপাশি নগদ পরিচালন প্রবাহও আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে বেশি হয়েছে। মার্চ ২০২৬ শেষে শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য দাঁড়িয়েছে ৯৭ টাকা ৩৬ পয়সা। এর সঙ্গে রয়েছে দীর্ঘমেয়াদে ‘এএএ’ এবং স্বল্পমেয়াদে ‘এসটি-১’ ঋণমান।
আগের অর্থবছরে ৫০ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ড দেওয়ার পর এবার এই আর্থিক ধারাবাহিকতার মধ্যে ১৪ অক্টোবরের বোর্ডসভা ঘিরে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ তৈরি হয়েছে। ওই সভাতেই ৩০ জুন, ২০২৬ পর্যন্ত সমাপ্ত অর্থবছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে ডিভিডেন্ড ঘোষণার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। কোম্পানিটির আর্থিক সূচকের উন্নতির কারণে ডিভিডেন্ড বাড়তে পারে বলে প্রত্যাশা করছেন বিনিয়োগকারীরা।
তানভির ইসলাম/
পাঠকের মতামত:
আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ
- ব্রাজিলের পরের দুই ম্যাচ কবে, জানুন সময়সূচি ও প্রতিপক্ষ
- Vivo V80: ৭,২০০mAh ব্যাটারি ও ZEISS ক্যামেরার চমক
- এনসিসি ব্যাংকের শেয়ার বিক্রি, বাজারমূল্য ১ কোটি ৩০ লাখ টাকা
- Vivo V80 কেনার আগে জেনে নিন এর ভালো-মন্দ, কার জন্য সেরা
- ডোমিনেজ স্টিলে মালিকানা বদল, এবার পর্ষদেও বড় রদবদল
- আয়-সম্পদে বড় উত্থান অ্যাপেক্স ফুডসের, ডিভিডেন্ড কেন একই?
- সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীদের জন্য সুখবর